ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি হাজারো মানুষ


রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, পানিবন্দি হাজারো মানুষ

রাঙামাটিতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে এবং পানিবন্দি হাজারো মানুষ বিপর্যয়ে পড়েছেন।

টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠেছে। চারপাশে ব্যাপক এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। নদী, ছড়া এবং খাল উপচে মানুষের বসতিতে প্লাবনের অনুরোধে বাড়িঘর, কৃষিজমি ও খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পানির স্রোতে অনেকের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে এবং গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ওপরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ কঠোর দুর্ভোগে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অনুযায়ী, রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে ছয়টি উপজেলা নদীপথনির্ভর। এসব উপজেলার বেশিরভাগ মানুষের বসতি নদীতীরবর্তী অঞ্চলে বৃষ্ট season মৌসুমে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার বাসিন্দারা। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

আরও পড়ুন: বিএমপি কমিশনারের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সের পুকুরে মৎস্যপোনা অবমুক্ত, উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের প্রত্যাশা

বাঘাইছড়ি উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৩০টি গ্রামের ২,৩৬৬ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছেন। তাদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বিলাইছড়ি উপজেলায় চারটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৮৩ জন এবং বরকল উপজেলায় তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৫২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় রাঙামাটি জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও জেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠন ত্রাণ বিতরণ করছে। এছাড়াও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য বিশেষ চিকিৎসক দলের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়।

রাঙামাটি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাঘাইছড়ির বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৪৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১,০৪৪টি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিলাইছড়ির জন্য ২৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ অব্যাহত রয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ১৮৩ জনকে তিন বেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে। বরকলের তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ১৫২ জনের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর জন্য ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কাজ চলছে।

আরও পড়ুন: ৭নং জগদল ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীসভা অনুষ্ঠিত, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের দাবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামের সাবেক 'ডিসি’ নুসরাত সুলতানা পদোন্নতি পেয়ে এখন যুগ্ম সচিব, আনন্দে ভাসছে জেলার চরাঞ্চলের মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


কুড়িগ্রামের সাবেক

কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বর্তমান চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার নুসরাত সুলতানা সরকার যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। তাঁর এই সাফল্যে কুড়িগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। সোসাল মিডিয়ায় চলছে তাঁর সাফল্য কামনা করে বার্তা, বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত বাসিন্দাদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তন-পরবর্তী দেশের এক অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং সময়ে, ওই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক হিসেবে কুড়িগ্রামে যোগদান করেছিলেন নুসরাত সুলতানা। ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট বদলি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রায় এক বছরের কার্যকালে তিনি জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন এবং চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে অত্যন্ত সাহসী ও মানবিক ভূমিকা পালন করেন।

এসি রুমের মায়া ত্যাগ করে চরের তপ্ত বালুতে দেশের অন্যতম দরিদ্র জেলা কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন প্রায় সাড়ে ৮শ’ বর্গকিলোমিটার চরাঞ্চলে ৪ শতাধিক চরের মধ্যে প্রায় আড়াই শতাধিক চরে বসবাসকারী সাড়ে ৫ লক্ষ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এসি রুমের মায়া ত্যাগ করে কখনো ঘোড়ার গাড়ি, কখনো ভাঙা মোটরবাইক, আবার কখনো তপ্ত বালুচর পায়ে হেঁটে তিনি চিলমারীর অষ্টমীর চর, নাগেশ্বরীর দুর্গম নারায়ণপুর এবং তিস্তার বিদ্যানন্দ চরের মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে গেছেন।

চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, 'সাবেক জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানার মূল লক্ষ্যই ছিল কুড়িগ্রামকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা। চরাঞ্চলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংকটের পাশাপাশি বাল্যবিবাহের কারণে জেলায় প্রতিবন্ধী জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখে দাঁড়িয়েছিলো। তিনি বিশ্বাস করতেন চরের উন্নয়ন ছাড়া জেলার উন্নয়ন সম্ভব নয়।'

জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু জানান, নুসরাত সুলতানা কুড়িগ্রামের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশ কিছু দূরদর্শী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে: ডিসি পার্ক নির্মাণ: ধরলা নদীর পাড়ে ৩০ কোটি টাকার বালু ভরাট ও প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারি বরাদ্দে প্রস্তাবিত ‘ডিসি পার্ক নির্মাণ। তিনি আরও জানান, চরের মানুষের স্থায়ী দুঃখ দূর করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আদলে একটি স্বাধীন ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন নুসরাত সুলতানা, যা দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক দূরদর্শী ও অনন্য নজির।

কুড়িগ্রামের উন্নয়নে তিনি নানামুখী মহাপরিকল্পনা নিয়েছিলেনঃ রেলপথ সংযোগ: সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে ভূরুঙ্গামারী-নাগেশ্বরী-কুড়িগ্রাম-চিলমারী-গাইবান্ধা হয়ে ঢাকা পর্যন্ত সরাসরি রেলপথ সংযোগের মহাপরিকল্পনা।

অর্থনৈতিক অঞ্চল: কুড়িগ্রাম সদরের ধরলা ব্রিজ সংলগ্ন ভুটানিজ অর্থনৈতিক জোন দ্রুত চালুকরণ এবং সোনাহাট স্থলবন্দর আধুনিকায়নের উদ্যোগ।

নৌপথ সচল: নৌপথ সচল রাখতে ধরলা নদী ড্রেজিংয়ের কাজ শুরুকরণ।

এছাড়াও চরের নারীদের স্বাবলম্বী করা, যুবকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ এবং বন্যার সময় চরের শিশু ও প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নানামুখী টেকসই পরিকল্পনা করেছিলেন এই কর্মকর্তা।

কেন অকালে বদলি হতে হয়েছিলো? স্থানীয় সূত্র জানায়, কুড়িগ্রামে নুসরাত সুলতানার এই গতিশীল কর্মযজ্ঞ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি এক অদৃশ্য প্রশাসনিক টানাপোড়েনের কারণে।

অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু জানান, জেলা প্রশাসকের কিছু সাহসী কর্মকাণ্ডে স্থানীয় এনজিও নেতার সাথে তার দূরত্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাথে বনিবনা না হওয়ায় এক年的 মাথায় কুড়িগ্রাম থেকে তাঁকে বদলি করা হয়। তবে জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা একজন সম্পূর্ণ নিরহংকারী এবং মানবিক মানুষ ছিলেন। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তার ব্রত।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দূর সমুদ্র উপকূলে কর্মরত থাকলেও, যুগ্ম সচিব পদে তাঁর এই পদোন্নতিকে কুড়িগ্রামের অবহেলিত চরাঞ্চলের অধিকারবঞ্চিত মানুষেরা নিজেদের গৌরব হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যেখানেই থাকুন না কেন, এই মানবিক আমলা কুড়িগ্রাম ও চরের মানুষের কথা ভুলে যাবেন না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্মহার বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


জন্মহার বাড়াতে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহার হ্রাস বর্তমানে জাতীয় সংকট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই সংকটের মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা বইছে, আবাসন সুবিধা ও ছুটি প্রদান করছে তবে কাঙ্খিত সাফল্য এখনো আসেনি। এবার দেশটির বৌদ্ধ সম্প্রদায় ভিন্ন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তরুণ ও তরুণীদের মধ্যে পরিচয়, প্রেম এবং বিয়ে উৎসাহিত করতে এই বিশেষ ‘ডেটিং রিট্রিট’ আয়োজন করা হচ্ছে যা শতাব্দীপ্রাচীন এক বৌদ্ধ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশে পালগংসান পাহাড়ের কোলে অবস্থিত প্রাচীন ডংহওয়াসা মন্দিরে এই বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তরুণ-তরুণীরা শুধু জীবনসঙ্গীই নয়, বরং নতুন বন্ধু এবং আত্মবিশ্বাসও খুঁজে পাচ্ছেন। অনুষ্ঠানের সূচনায় গেরুয়া কাপড় পরিহিত এক বৌদ্ধ ভিক্ষু অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা এখানে শুধু নিজেদের জন্যই আসেননি, দেশের ভবিষ্যতের জন্যও এখানে এসেছেন। তার কথায়, “আপনাদের লক্ষ্য শুধু একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া নয়, ভবিষ্যতে পরিবার গঠন করে দেশের জন্মহার বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখা।” ডংহওয়াসা মন্দিরের আয়োজক ইউ চোল-জু বলেন, অতীতের বিদেশি আগ্রাসনের সময় যেমন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তেমনিভাবে এখন জন্মহার হ্রাস একটি জাতীয় সংকট। তাই এই সমস্যার সমাধানে তাদেরও ভূমিকা রাখতে ইচ্ছুক। জন্মহার ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে কম জন্ম হারের দেশে একটি। ২০২৩ সালে দেশটিতে একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার নেমে ০.৭২-এ এসেছে, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ২.১ হারের অনেক নিচে। বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন ব্যয়ের বৃদ্ধি, সন্তান পালনের উচ্চ খরচ, নারীদের কর্মজীবনে অগ্রাধিকার এবং বিয়ে নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন একযোগে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে প্রেম ও সামাজিক মেলামেশার প্রবণতা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডেটিং রিট্রিটে অংশ নেওয়া সহজ নয়। আবেদনকারীদের প্রশ্নপত্র, ভিডিও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এবং বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তাদের আন্তরিকতা যাচাই করা হয়। এবারের আয়োজনে অংশ নিতে এক হাজার ৫৮০ জনের বেশি আবেদনকারীকে পেছনে ফেলে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র কয়েক ডজন তরুণ-তরুণী। উল্লেখযোগ্য যে, এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ব্যস্ত জীবনে সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। ২৮ বছর বয়সী কিম আহ-কিয়ং, যিনি ‘সুনহিয়েজি’ নামেও পরিচিত, উল্লেখ করেন যে, চাকরির কারণে রাজধানী সিউল ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার পর নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “অফিস আর বাসা- এই দুই জায়গার মধ্যে জীবন সীমাবদ্ধ। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগই নেই।” ৩০ বছর বয়সী কোয়ন সেউং-ওহ, যিনি এনিও নামে পরিচিত, জানান, বন্ধুদের উদ্যোগে প্রায় ১০টি ‘ব্লাইন্ড ডেট’-এ অংশ নিলেও কোন সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। তার কর্মস্থলে প্রায় ৯৭ শতাংশ সহকর্মীই পুরুষ। সুতরাং নতুন নারী সঙ্গী খুঁজে পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনভর পরিচয়, আড্ডা ও নানা আয়োজন রয়েছে। ৩০ ঘণ্টার এই রিট্রিটে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল পরিচয়পর্ব, জুটি বেঁধে হাঁটা, মধ্যাহ্নভোজ, দ্রুতগতির ‘স্পিড ডেটিং’, সাংস্কৃতিক পরিবেষ্ঠনা এবং দলীয় নানা কার্যক্রম। প্রথম পরিচয়পর্বেই এনিও নিজের হাতে তৈরি ফরাসি পেস্ট্রি সবার মধ্যে বিতরণ করে উপস্থিতদের প্রশংসা অর্জন করেন। অন্যদিকে সুনহিয়েজির প্রথম সঙ্গী হন ৩২ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা মিনহো। পরে মধ্যাহ্নভোজের জন্য মিনহো বেছে নেন ২৮ বছর বয়সী ডিজাইনার রুবিকে। দিনজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা তাদের পেশা, শখ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। দিনের সবচেয়ে অস্বস্তিকর কিন্তু প্রাণবন্ত আয়োজন ছিল ট্যালেন্ট শো। কেউ জনপ্রিয় কে-পপ গানের সঙ্গে নেচে, কেউ গান গেয়ে এবং কেউ স্প্যানিশ ভাষায় নিজেদের পরিচয় দেন। এক নারী অংশগ্রহণকারী বাঁশিতে কে-পপের জনপ্রিয় একটি সুর পরিবেশন করে সবার মন জয় করেন। সরকারও করছেন উৎসাহ প্রদান। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিয়ে ও সন্তান জন্মদানকে উৎসাহ দিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দীর্ঘ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি, নবজাতকের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা, নবদম্পতিদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত আবাসনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে ২০০৬ সাল থেকে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে সরকার। এছাড়া স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন নিয়মিতভাবে ‘ম্যাচমেকিং’ আয়োজন করছে। কোথাও কাঠের কাজ শেখানোর কর্মশালা আর কোথাও নদীর তীরে সঙ্গীতানুষ্ঠান- সবকিছুর লক্ষ্য হল তরুণদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা। ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জন্মহার কমতে থাকলেও ২০২৪ সাল থেকে কিছুটা উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ১.০-এ পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৫ সালের ০.৮ হার থেকে কিছুটা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগের ফল কি না সঠিকভাবে বলা সম্ভব না হলেও এটি সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তনের লক্ষণ। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র দুই বছরের মধ্যে অবিবাহিতদের মধ্যে বিয়ে এবং সন্তান নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। রিট্রিটের শেষ পর্যন্ত মোট আটটি নতুন জুটি গড়ে ওঠে। এর মধ্যে দুটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে অনুষ্ঠানের কর্মী এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে। যাদের সঙ্গী খুঁজে পাননি, তারাও হতাশায় ফেরেননি। এনিও জানান, সুযোগ পেলে তিনি পুনরায় এই আয়োজনে অংশ নেবেন। অন্যদিকে সুনহিয়েজি বলেন, তিনি জীবনসঙ্গী না পেলেও অনেক নতুন বন্ধু পেয়েছেন। তিনি রাত তিনটা পর্যন্ত সহঅংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে গল্প করেছেন এবং ইতোমধ্যে একসঙ্গে ব্রাঞ্চ করার পরিকল্পনাও করেছেন। আয়োজকদের মতে, যদিও সবাই জীবনসঙ্গী নিয়ে ফেরেননি, তবে প্রায় প্রত্যেকেই নতুন বন্ধুত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন আশাবাদ নিয়ে মন্দির ছাড়েন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শুরুতেই জিম্বাবুয়ে শিবিরে আঘাত হানলেন শরীফুল-তাসকিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ পি.এম


শুরুতেই জিম্বাবুয়ে শিবিরে আঘাত হানলেন শরীফুল-তাসকিন

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে হারানোর পর, ওয়ানডে সিরিজেও টানা দুই ম্যাচ হারিয়ে ইতোমধ্যে সিরিজ খুইয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। তাই তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টাইগারদের লক্ষ্য অন্তত হোয়াইটওয়াশ এড়ানো। এমন গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণের ম্যাচে মাঠে নেমে জিম্বাবুয়ে শিবিরে শুরুতেই আঘাত হানছেন শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। দলের ১৭ রানের মাথায় স্বাগতিকদের দুই উইকেট তুলে নিয়ে শুরুটা দুর্দান্ত করেছে টাইগাররা।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ১২ ওভার শেষে ২৭ রান।

শনিবার হারারেতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে বাংলাদেশ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বেন কারেন আজ অল্পতেই ফিরে গেছেন। শরীফুল ইসলামের বলটি ডিফেন্স করতে গিয়ে তিনি ব্যর্থ হন। তিনি বলটি ঠিকঠাক ডিফেন্স করতে পারলেও, বলটি স্লোভাবে চলে যায় স্টাম্পের দিকে। ব্যাট দিয়ে যতক্ষণে কারান বলটি থামানোর চেষ্টা করেছেন, ততক্ষণে স্টাম্পে একটি বেইল পড়ে যাওয়ার মতো আঘাত লেগেছে।

এরপর দ্বিতীয় উইকেটের জন্যও বিশেষ অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। কারেনের আউট হওয়ার পরের ওভার করতে আসেন তাসকিন আহমেদ। তাঁর অফ স্টাম্পের বাইরে করা প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ব্রায়ান বেনেট।

শেষ ম্যাচে সফরকারী দলের দু’টি পরিবর্তন আনা হয়েছে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও তানভির ইসলাম একাদশে জায়গা পেয়েছেন। রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানা বাদ পড়েছেন।

বাংলাদেশ একাদশে রয়েছে: তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, নুরুল হাসান (উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও তানভির ইসলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার ও আর্থিক সহায়তা দিলেন এমপি দীপেন দেওয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার ও আর্থিক সহায়তা দিলেন এমপি দীপেন দেওয়ান

জেলা বরকল উপজেলায় বন্যার্তদের জন্য বিশেষ আয়োজন হিসেবে দীপেন দেওয়ান খাদ্য এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।

শনিবার সকালে, জেলা এবং উপজেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দদের সহিত দীপেন দেওয়ান বরকল উপজেলার ভূষনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এ সময় বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব দাস, পিআইও মো. আব্দুল কাইউম খান, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির, কোষাধ্যক্ষ জসিম উদ্দীন, পৌর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলাল উদ্দিন এবং বরকল উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিদ্দিক বেপারী, সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সওদাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় দীপেন দেওয়ান বক্তব্যে বলেছেন, বর্তমান দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে সরকার যথাসম্ভব বরাদ্দ প্রদান করাসহ দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্বত্য এলাকায়ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মনিটরিং করে যাচ্ছেন। তিনি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা চিন্তা করবেন না, আমরা সকলেই একত্রে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করবো এবং আপনাদের জন্য যা কিছু দরকার সবকিছুই করা হবে।

পরে তিনি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়া ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাবার এবং আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%