ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে কাজ করছে সরকার


স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে কাজ করছে সরকার

সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দুর্নীতির সুযোগ ক্রমাগত সংকুচিত করে সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং জনগণকে দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংসদ কার্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নয়; বরং এমন একটি প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে দুর্নীতির সুযোগ কমে আসবে এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

আজ জাতীয় সংসদে যশোর-৬ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. মোক্তার আলীর কার্যপ্রণালি বিধির ৭১-এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের সঙ্গে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ঘোষণা করেছে। এ দর্শনের ভিত্তিতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, ইনসাফভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ও সুশাসন সুদৃঢ় করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইতোমধ্যে ৪৯৫টি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দুর্নীতি সংঘটিত হওয়ার আগেই তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে দুর্নীতি দমন কমিশনের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার জন্য এনফোর্সমেন্ট ইউনিট কার্যকর রয়েছে। অভিযোগ গ্রহণে ১০৬ হটলাইনের পাশাপাশি ৯৯৯ ও ৩৩৩ জাতীয় হটলাইনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচয়, দায়িত্বে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালার আওতায় নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম বা অসদাচরণের তথ্য পাওয়া গেলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন আইন, ২০০৪, দণ্ডবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধিসহ প্রযোজ্য আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে সাংবাদিক এনাম সরকারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন রিজভী

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের বহুমুখী তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি), প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি (পিএসসি), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন সেল ও উন্নয়ন শাখা এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ এবং এডিপি, আরএডিপি মনিটরিং সিস্টেম (এএমএস)-এর মতো ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর মাধ্যমে জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস)-এর মাধ্যমে সরকারি সেবা সংক্রান্ত অসন্তোষ বা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি সরকারি দপ্তরে সিটিজেন চার্টারের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত সেবা, সেবা পাওয়ার স্থান, পদ্ধতি ও সময়সীমা সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিএনপির সারাদেশে র‍্যালির ঘোষণা ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে

মন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মসম্পাদনকে আরো ফলাফলভিত্তিক, কৌশলগত ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে গভর্নমেন্ট পারফরম্যান্স মনিটরিং সিস্টেম (জিপিএমএস) চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, প্রকল্প ও কর্মসূচির সময়মতো বাস্তবায়ন, সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি আরো জানান, সরকারি কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের পরিবীক্ষণ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক গঠিত এসব টিম ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবীক্ষণ টিম দৈবচয়নের ভিত্তিতে বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে কার্যক্রমের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করবে, উত্তম চর্চা চিহ্নিত ও সম্প্রসারণের সুপারিশ করবে এবং জনগণকে সেবা প্রদানের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দাখিল করবে।

আরও পড়ুন: মরক্কো-সিঙ্গাপুরসহ ৪ দেশের রাষ্ট্রদূত আনসার একাডেমী পরিদর্শন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বছরের শেষে দেশে টেকসই লিভার ট্রান্সপ্লান্ট চালুর আশা করছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৬ পি.এম


বছরের শেষে দেশে টেকসই লিভার ট্রান্সপ্লান্ট চালুর আশা করছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুতেই বাংলাদেশে টেকসইভাবে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থায়ী ও টেকসই লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৩৯ কোটি টাকার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।

আজ জাতীয় সংসদে মহিলা আসন-৩ এর সরকারি দলের সদস্য রাশেদা বেগম হীরার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১-এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে পাঁচ ধরনের যন্ত্রপাতি ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এসে পৌঁছেছে। আরও ১০ ধরনের যন্ত্রপাতি চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এসে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, এসব যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য সংশ্লিষ্ট টিমকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে আরও প্রায় দুই মাস সময় লাগবে। 

তিনি বলেন, ‘এ বছরের শেষে অথবা বড়জোর আগামী বছরের শুরুতেই বাংলাদেশে টেকসইভাবে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের ব্যবস্থা করতে পারব বলে আমরা আশা করছি।’

রাশেদা বেগম হীরা তার নোটিশে দেশে লিভারসহ জটিল রোগের চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং সামর্থ্যহীন রোগীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান। তিনি বলেন, তার স্বামীও লিভার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং বিদেশে নেওয়ার সময় চিকিৎসার আর সুযোগ ছিল না।

জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, লিভার ও কিডনিসহ জটিল রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এর ফলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায় এবং অনেককে জমিজমা পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়।

তিনি বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানুষের নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয় বা ‘আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার’ এবং বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয় বা ‘ক্যাটাস্ট্রফিক হেলথ এক্সপেন্ডিচার’ কমিয়ে আনার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।

ড. এম এ মুহিত বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কৌশল হিসেবে ‘স্ট্র্যাটেজিক পারচেজিং’ এবং ‘পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ (পিপিপি) মডেলের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, গুরুতর অসুস্থ ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য আগে যে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হতো, তা চলতি বছর থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে- অর্থের অভাবে এ দেশে যেন কেউ চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে মৃত্যুবরণ না করে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাগানে রেস্ট হাউজ উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৮ পি.এম


ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাগানে রেস্ট হাউজ উদ্বোধন

ঝালকাঠি, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জেলার সদর উপজেলায় আজ পর্যটকদের সুবিধার্থে ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাগান এলঅকায় রেস্ট হাউজের উদ্বোধন করা হয়েছে। 

একই সঙ্গে ভাসমান বর্জ্য শোধন ও গ্রীন বোট সার্টিফাইড ট্যুরিজম কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়েছে। 

আজ রোববার বিকেল ৫ টায় ভিমরুলীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন রেস্ট হাউজটি উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক  মো. মমিন উদ্দিন। পরে জেলা প্রশাসক পর্যটন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সুরক্ষায় ডাস্টবিন বিতরণ করেন।

এসময় জেলায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জুলিয়া সুকায়না, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো কাওছার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. তৌহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ জানান, উপজেলা প্রশাসন রেস্ট হাউজটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সাতলাখ ৫০ হাজার টাকা। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের বিষয়টি বিবেচনাধীন : অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১১ পি.এম


পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের বিষয়টি বিবেচনাধীন : অর্থমন্ত্রী

সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বিদেশে পাচার করা সম্পদ দক্ষ ও কার্যকরভাবে উদ্ধারের লক্ষ্যে অন্যান্য দেশের আদলে বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুসরণে পাচার করা সম্পদ উদ্ধারের কার্যক্রম দক্ষ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত সংস্থা গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’

জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মো. জালাল উদ্দিনের (চাঁদপুর-২) এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আজ এ কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, আগের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের সময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশে পাচার করা অর্থ দেশে ফেরত আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় ১১টি অগ্রাধিকার মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে।

মামলাগুলোর মধ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার, নাবিল গ্রুপ, এইচ বি এম ইকবাল এবং সামিট গ্রুপ সংশ্লিষ্ট মামলা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব মামলা তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে ১১টি জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দলে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জেআইটি গঠনের পর ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে ও বিদেশে আদালতের মাধ্যমে মোট প্রায় ৭৬ হাজার ৯৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও ফ্রিজ করা হয়েছে।’

আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশি আদালতের দেওয়া আদেশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে ২৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত পাচার করা অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে মোট ১৪২টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত ১০টি দেশের সঙ্গে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (এমএলএটি) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশগুলো হলো—কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড এবং হংকং-চীন।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও হংকং-চীনের সঙ্গে এমএলএটি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সম্পদ উদ্ধারের কার্যক্রমে সমন্বয় জোরদার করতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও বাংলাদেশ পরামর্শ, কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (আইএসিসিসি), বিশ্বব্যাংকের স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি (স্টার) ইনিশিয়েটিভ, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি), ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাসেট রিকভারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।

এছাড়া বাংলাদেশ অ্যান্টি-করাপশন ল’ এনফোর্সমেন্ট অথরিটিজের গ্লোবাল অপারেশনাল নেটওয়ার্ক (গ্লোবই নেটওয়ার্ক) এবং অ্যাসেট রিকভারি ইন্টারএজেন্সি নেটওয়ার্ক-এশিয়া প্যাসিফিক (এআরআইএন-এপি)-এ যোগ দিয়েছে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে প্রায় ২ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১২ পি.এম


সিলেটে প্রায় ২ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

সিলেট, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক কোটি ৮৬ লাখ টাকার মালামাল জব্দ করেছে সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)। আজ (রোববার) ৪৮ বিজিবির আওতাধীন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালায় বিজিবি।

বিজিবি জানায়, সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর আওতাধীন জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাবাজার, তামাবিল, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, সোনারহাট এবং কালাইরাগ বিওপি কর্তৃক চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ গরু, শাড়ি, জিরা, কসমেটিকস, বিড়ি, চকলেট, কম্বল, চা-পাতা, ফুচকা, চিনি, সবজি এবং বাংলাদেশ হতে পাচারকালে টি-শার্ট, সোয়েটার ও জিন্স প্যান্ট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চোরাই পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার ২৩০ টাকা।

সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট মো. নাজমুল হক বলেন, ‘সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান এবং মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বাত্মকভাবে অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণের এই চোরাচালানি মালামাল আটক করা হয়। আটককৃত পণ্যসমূহের বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%