১২:১০ পি.এম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা এআই প্রযুক্তি নামে পরিচিত, এর মাধ্যমে ব্রিটেনের ৪৬১ বছরের সামুদ্রিক ইতিহাস উন্মোচন করেছেন গবেষকেরা। তাঁরা হাতে লেখা প্রায় এক লাখ পৃষ্ঠার ঐতিহাসিক নথি বিশ্লেষণ করে দেশটির বাণিজ্য, নৌপথ ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করেছেন। প্রচলিত পদ্ধতিতে এই কাজটি সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় লাগতো।
বিবিসির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের গবেষকেরা এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ষোড়শ শতকের এলিজাবেথীয় যুগ থেকে অষ্টাদশ শতকের শিল্পবিপ্লবের আগ পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর ফলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিভাবে ব্রিটেনের সাম্রাজ্য বিস্তারে সহায়ক হয়েছে, সে বিষয়ে নতুন ধারণা পাওয়া গেছে।
গবেষকেরা ন্যাশনাল আর্কাইভসের কিউ শাখায় সংরক্ষিত চামড়ায় বাঁধানো পার্চমেন্টের বই থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এআইকে পুরোনো দিনের নাবিক ও ব্যবসায়ীদের হাতের লেখা পড়া এবং শনাক্ত করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কে, কার সঙ্গে, কখন, কোথায় এবং কী পণ্য বাণিজ্য করতেন, তা বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্ত্রীকে সুনামিতে হারিয়ে ১৫ বছর ধরে সাগরে ডুব দিচ্ছেন স্বামী
প্রকল্পের প্রধান গবেষক ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ক্রেইগ ল্যামবার্ট মন্তব্য করেছেন, "নথিগুলো থেকে তথ্য সংকলন করা ছিল বিশাল এক কাজ। তবে এআই পুরো প্রক্রিয়াকে অনেক দ্রুত করেছে।"
গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রিটিশদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পণ্যের মধ্যে ছিল কয়লা ও বিয়ার। এছাড়াও চীন থেকে শিশুদের খেলনা, ভেড়ার অন্ত্র এবং ভেনিস ট্রিকল নামের একটি ভেষজ ওষুধ বাণিজ্য করা হতো। এই ওষুধকে এক সময় প্রায় সব ধরনের রোগের নিরাময় হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
গবেষণায় অতীতের সামুদ্রিক বাণিজ্যব্যবস্থা সম্পর্কেও নতুন তথ্য উঠে এসেছে। ইউরোপের সঙ্গে ব্রিটেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পূর্বে যতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হতো, গবেষকেরা মনে করছেন, বাস্তবে তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
নথি অনুযায়ী, ১৬৯৬ থেকে ১৬৯৭ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের নথিভুক্ত বৈদেশিক বাণিজ্যের মূল্যের প্রায় ৮০ শতাংশই ইউরোপের বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। ওই সময় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তার চলছিল।
আরও পড়ুন: কুয়েতে ডিজেল পাচারের মামলায় পৌর কর্মকর্তা ও ভারতীয় নাগরিকের ৭ বছরের কারাদণ্ড
এআইয়ের সাহায্যে অতীতের হারিয়ে যাওয়া শহর ও বিলুপ্ত বন্দরের সন্ধানও পেয়েছেন গবেষকেরা। এর মধ্যে রয়েছে ইংল্যান্ডের পূর্ব ইয়র্কশায়ারের রেভেনসপর্ন। এক সময় এটি ছিল একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্র। তবে উপকূলীয় ভূমিক্ষয়ের কারণে শহরটি পুরোপুরি উত্তর সাগরে বিলীন হয়ে যায়।
সামুদ্রিক ইতিহাস, বিশ্ব ইতিহাস ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রকল্পটি পরিচালিত হয়েছে। গবেষকদের দাবি, দুই শতাব্দীজুড়ে ইংল্যান্ডের বাণিজ্যপথের বিকাশ এবং বিশ্বে এর প্রভাব এত বিস্তারিতভাবে আগে কখনো মানচিত্রে তুলে ধরা হয়নি।
গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ মানচিত্রও তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আগ্রহীরা ঐতিহাসিক বাণিজ্যপথ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ঘুরে দেখতে পারবেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানে প্রতি ৩ জনে ১ জন মানসিক রোগী: জরিপ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন