সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৩ পি.এম
একটি রাজনৈতিক দলের বিরোধী অবস্থানে থাকা কালীন যদি তারা একজন মৃত মানুষের মর্যাদা, তার দাফনের অধিকার এবং তার পরিবারের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কতটুকু সুরক্ষিত থাকবে—এটি কি প্রশ্ন তোলা অন্যায়? বরং এটি বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের বিবেকের প্রশ্ন।
রাজনীতি শুধুমাত্র ক্ষমতা দখল নয়; বরং রাজনীতি মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং ভিন্নমতের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়। যে রাজনৈতিক দল বিরোধী দলে থেকেও মানুষের প্রতি সহনশীলতা, উদারতা ও ন্যায়বিচারের পরিচয় দিতে পারে না, সেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে কেমন আচরণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে আমাদের স্পষ্ট প্রশ্ন—মানবিক অধিকার কি শুধুমাত্র নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের জন্য, নাকি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য?
সম্প্রতি একজন মৃত ব্যক্তির দাফন ও কবর দেওয়া নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। একজন মানুষের রাজনৈতিক পরিচয়, অতীত কর্মকাণ্ড কিংবা মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন অনুযায়ী তদন্ত হতে পারে, বিচার হতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর পর তার মরদেহের প্রতি সম্মান, পরিবারের ধর্মীয় ও মানবিক অধিকার এবং আইনসম্মতভাবে দাফনের বিষয়টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়।
আমরা কোনো ব্যক্তির অতীত কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে চাই না। কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তার যথাযথ বিচার হওয়া জরুরি। তবে বিচার এবং প্রতিহিংসা এক বিষয় নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মানবিকতা বিসর্জন দেওয়া যায় না। একজন মানুষকে রাজনৈতিকভাবে অপছন্দ করা এবং তার মরদেহের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
জামায়াতে ইসলামীর কাছে প্রশ্ন, যদি আপনারা নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মৃত্যুর পরও মানবিকতার প্রশ্নে সংযম দেখাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে ভিন্নমতের জীবিত মানুষের অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করবেন? তখন কি নাগরিকদের প্রতিটি মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য রাস্তায় নামতে হবে? মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সামাজিক মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য কি মানুষকে প্রতিনিয়ত আন্দোলন করতে হবে?
অতীতে শেখ হাসিনার শাসনামলে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, বিচার ও দণ্ড কার্যকরের ঘটনাগুলো নিয়ে জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বিচার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। সেই সময়ের বিচারব্যবস্থা, সাক্ষ্য এবং রাজনৈতিক চাপ নিয়ে যেসব বিতর্ক রয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ পর্যালোচনা হওয়া উচিত। তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির স্বীকারোক্তি, সাক্ষ্য কিংবা ভূমিকা সম্পর্কে অভিযোগ উত্থাপন করলে তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে সত্য প্রতিষ্ঠা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা করার বিষয়ে জামায়াতের আমিরের বক্তব্য বা অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের আমিরের বক্তব্য নিজে থেকে রাষ্ট্রের আইনি ক্ষমা বা সাধারণ ক্ষমা হয়ে যায় না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া রয়েছে। অতএব, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির কিংবা অন্য যে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে, আর কেউ নির্দোষ হলে তার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বিচারের বাইরে রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়।
আমরা বিশ্বাস করি, যে ধর্মের মানুষই হোন, যে বর্ণ বা জাতিগোষ্ঠীর সদস্যই হোন, যে রাজনৈতিক মতাদর্শেই বিশ্বাস করুন—প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার। এই অধিকার কোনো রাজনৈতিক দল দয়া করে দেয় না; এটি মানুষের স্বীকৃত অধিকার এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব তা রক্ষা করা।
আমরা আমাদের ব্যক্তিগত শত্রুর সঙ্গেও ইনসাফ করতে চাই। কারণ ইনসাফের প্রশ্নে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কোনো স্থান নেই। যে মানুষটি আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তারও ন্যায্য অধিকার রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইন কথা বলবে, আদালত সিদ্ধান্ত দেবে। কোনো দল বা গোষ্ঠী নিজেরাই বিচারক, জল্লাদ ও অধিকার নির্ধারণকারী হয়ে উঠতে পারে না।
জামায়াতে ইসলামী যদি সত্যিই ইসলামের ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও ইনসাফের আদর্শে বিশ্বাস করে, তাহলে সেই আদর্শের প্রতিফলন তাদের আচরণেও দেখতে চাই। শুধুমাত্র বক্তৃতায় ন্যায়বিচারের কথা বললে হবে না; রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগ করতে হবে। মানবিকতা যদি কেবল নিজের দলের মানুষের জন্য হয়, আর প্রতিপক্ষের জন্য থাকে ঘৃণা ও প্রতিশোধ, তাহলে সেই মানবিকতার দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হবেই।
একজন মানুষ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মকাণ্ড এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করার অধিকার রাখেন। কিন্তু যারা এসব বিষয়ে সমালোচনা করেন, তাদের ভুলত্রুটি তুলে ধরার পরিবর্তে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি করা, এমনকি ফোন করে গালিগালাজ করাসহ বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর আচরণ তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তারা নিজেদের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা সহ্য করতে চান না। এ ধরনের আচরণ প্রমাণিত হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতার পরিপন্থী। সমালোচনার জবাব গালিগালাজ বা হয়রানির মাধ্যমে নয়, যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে দেওয়া উচিত।
পরিশেষে বলতে চাই, মৃত মানুষের মর্যাদা রক্ষা করতে না পারা কোনো রাজনৈতিক শক্তির জন্য গর্বের বিষয় নয়; আর জীবিত মানুষের অধিকার সংকুচিত করার আশঙ্কা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিচয় হতে পারে না। ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি কোনো রাজনৈতিক দলের আচরণ নিয়ে নাগরিকদের মনে অধিকার হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে সেই দলকে নিজেদের অবস্থান ও আচরণ দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
বাংলাদেশ কোনো একক রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এ দেশ সব নাগরিকের। এখানে ভিন্নমত থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, মতাদর্শের সংঘাত থাকবে—কিন্তু কোনো অবস্থাতেই মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কাছে জিম্মি করা যাবে না।
আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার— ক্ষমতা নয়, ইনসাফই হোক রাজনীতির মানদণ্ড। প্রতিপক্ষের প্রতি আচরণ দিয়েই প্রমাণ হোক একটি দলের প্রকৃত চরিত্র। আর যে দল মানুষের অধিকার রক্ষার দাবি করে, তাদের আগে প্রমাণ করতে হবে—তারা বিরোধী মতের মানুষের অধিকারও সমানভাবে সম্মান করতে প্রস্তুত।
লেখক: কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, আমজনতার দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনে গত ২০ সেপ্টেম্বর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আবুল হায়াত দিপুকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গ্রেফতার করেছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) স্পেশাল টিমের সহযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
রমনা মডেল থানার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ২ নম্বর গেটের পূর্ব পাশে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে রমনা মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আবুল হায়াদ দীপুকে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা অভিনয়ের পাশাপাশি ছবি আঁকা ও লেখালেখিতে তাঁর প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। সম্প্রতি হারিয়ে যেতে বসা কাকের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে তিনি আলোচনায় এসেছেন। নিজের আঁকা কাকের ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ছবি, কবিতা ও শব্দের মাধ্যমে এই পাখিকে বাঁচিয়ে রাখতে চান।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের আঁকা কাকের একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিটির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় ভাবনা জানান, তাঁর শিল্পকর্মে কাকেরা চিরকাল বেঁচে থাকবে। তিনি তাদের নিয়ে লিখবেন, ছবি আঁকবেন এবং নিজের সৃষ্টিতে তাদের জন্য জায়গা করে দেবেন।
ভাবনার ভাষায়, কাকের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা রয়েছে। তিনি এই পাখির সঙ্গে এক ধরনের নীরব সম্পর্ক অনুভব করেন। তাঁর বিশ্বাস, এই নীরব ভাষার মধ্যেই কোথাও কাকেরাও তাঁকে ভালোবাসে।
ঢাকা শহরের অলিগলিতে একসময় প্রচুর কাক দেখা গেলেও বর্তমানে সেগুলো আগের তুলনায় অনেক কম চোখে পড়ে। এই পরিবর্তন ভাবনাকে ভাবিয়ে তুলেছে। তাই তিনি এমন একটি শহরের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে কাকেরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে এবং তাদের আশ্রয় হারানোর ভয় থাকবে না।
ভাবনা এমন এক শহরের কল্পনা করেন, যেখানে আকাশ ও ছাদের কার্নিশ হবে কাকদেরও আপন ঠিকানা। সেখানে বেঁচে থাকার জন্য তাদের কাউকে জায়গা চাইতে হবে না এবং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ও থাকবে না।
অভিনয়ের ক্ষেত্রেও তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি তানবীর হাসানের পরিচালনায় ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিং করেছেন। এতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন আব্দুল নূর সজল, শহীদুজ্জামান সেলিমসহ আরও অনেকে। এ ছাড়া তাঁর হাতে রয়েছে আরও কয়েকটি সিনেমার কাজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তর প্রদেশের সুলতানপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত কংগ্রেস নেতা ও লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীকে মানহানির একটি মামলায় খালাস প্রদান করেছেন। এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে কথিত আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আদালতের বিচারক শুভম বর্মা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় রাহুল গান্ধী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির গণমাধ্যম বিভাগের চেয়ারম্যান কুনওয়ার সিং নিষাদ রাহুলের খালাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগকারী বিজয় মিশ্রের আইনজীবী সন্তোষ কুমার পাণ্ডেও আদালতের রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আদালত তাদের জমা দেওয়া সিডি ও তাতে থাকা বক্তব্য গ্রহণ করেছে। তবে আদালত ওই বক্তব্যকে মানহানিকর বলে মনে করেনি।
২০১৮ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের সময় বেঙ্গালুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে নিয়ে রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছিলেন। ওই মন্তব্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, মামলার শুনানিতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে রাহুল গান্ধীর কনভয়ের কয়েকটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়। উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে সুলতানপুর জেলার হালিয়াপুর থানা এলাকার ৯০ কিলোমিটার পয়েন্টের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে চারটি গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুল্যান্স জড়িত ছিল। তবে দুর্ঘটনাটি সামান্য ছিল এবং কেউ গুরুতর আহত হননি।
হালিয়াপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতুল কুমার শ্রীবাস্তব জানান, রাহুল গান্ধীর গাড়ির পেছনে থাকা চারটি গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুল্যান্সের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদরাসা শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং শিশুদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য। "কোনো শিক্ষার্থী যেন ভয়, নির্যাতন কিংবা অনিরাপদ পরিবেশের শিকার না হয়," সে জন্য সুস্পষ্ট শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি প্রয়োজন। এসব বিষয় নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন ইসলামি আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী।
শিশু সুরক্ষায় কার্যকর নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন আজহারী। তিনি বলেন, মাদরাসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে প্রতিটি মাদরাসায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা চালু করা এবং নির্যাতনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন আজহারী। তিনি উল্লেখ করেন, "ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে মাদরাসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।" তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পাঠদানের মান এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারও জরুরি।
আজহারীর মতে, মাদরাসায় ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং আত্মসমালোচনার সুযোগ থাকা উচিত। তিনি বলেন, "নিজেদের উদ্যোগে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ সমাধানের ব্যবস্থা না নিলে বাইরের পক্ষগুলো এসব বিষয়কে কাজে লাগাতে পারে।" এর ফলে পুরো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি মনে করেন, সমস্যা আড়াল করার পরিবর্তে সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতাও শক্তিশালী হবে।
আজহারী মাদরাসার অবকাঠামো, পাঠদানের মান, শিক্ষক নিয়োগ এবং তদারকি ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, কার্যকর নজরদারি এবং অভিযোগ জানানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখার কথা বলেন তিনি।
পাশাপাশি, শিক্ষকদের শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করলেই চলবে না; শিশু মনস্তত্ত্ব, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং শিশুদের মানসিক বিকাশ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, একজন শিক্ষকের আচরণ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
আজহারী শিশুদের শারীরিক শাস্তি, মারধর, নির্যাতন কিংবা অনুপযুক্ত স্পর্শের মতো আচরণকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। তিনি বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণের সুযোগ থাকা উচিত নয়।" বরং শাসন ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে মানবিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং শিশুর মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখতে হবে।
তিনি প্রতিটি মাদরাসায় কার্যকর শিশু সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়নের ওপর জোর দেন। এমন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভয়ভীতি ছাড়াই এবং নিজেদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যথাযথ সুরক্ষা বজায় রেখে অভিযোগ জানাতে পারে। অভিযোগ জানানোর পর শিক্ষার্থী যেন কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ বা হয়রানির শিকার না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
আজহারী মনে করেন, কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
গুরুতর অপরাধে জড়িত শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্বে নিয়োগের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে হবে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি— দুটিই জোরদার হবে।
আজহারী মাদরাসার অনুমোদন ও নিবন্ধন, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি মনে করেন, আলেম-ওলামা, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, অভিভাবক, শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এবং শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তার মতে, শিশুদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমিত সম্পদের কারণে যেসব মাদরাসা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হিমশিম খাচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
আজহারীর বক্তব্যের উদ্দেশ্য মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়। বরং শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদরাসার প্রতি মানুষের আস্থা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখাই তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য।
মাদরাসা শিক্ষার ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলোতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা আরও নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি একটি নৈতিক, মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বও। মাদরাসায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ, নিরপেক্ষ তদন্ত, যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক, কার্যকর তদারকি এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা— এসবের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা।
মাদরাসার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করতে হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আড়াল না করে সেগুলোর ন্যায়সংগত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা এবং অপরাধের ক্ষেত্রে যথাযথ জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা গেলে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা আরও দায়িত্বশীল, আস্থাশীল ও মানসম্মত হয়ে উঠবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হোক মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও সংস্কারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ