নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
১০:০৭ এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সন্তান জন্মের পর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। দীর্ঘ সময় ধরে এ বিষয়ে নীরব থাকলেও, এবার তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, অন্যের নেতিবাচক মন্তব্যের মাধ্যমে নিজের আত্মসম্মান বিচার করা উচিত নয়। অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই।
গত বছরের নভেম্বরে পুত্রসন্তানের মা হন ক্যাটরিনা। এরপর তার শারীরিক গঠন ও ওজনের পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করতে থাকেন নেটিজেনদের একাংশ। এমনকি প্রকাশ্যে আসার পরও তাকে নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। তবে এতদিন এসব মন্তব্যের জবাবে সরাসরি কিছু বলেননি অভিনেত্রী।
সম্প্রতি লন্ডনে নিজের প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান ‘কে বিউটি’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। যদিও কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক মন্তব্যকে নিজের জীবনের চালিকাশক্তি হতে দিতে চান না তিনি।
ক্যাটরিনার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে কী বলছেন কিংবা কী ধরনের ধারণা ছড়াচ্ছেন, তার ভিত্তিতে নিজের আত্মসম্মান নির্ধারণ করা ঠিক নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সবাইকে খুশি করতে গিয়ে মানুষ নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলতে পারে। নেতিবাচক মন্তব্যকে জীবনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে দিলে হয়তো ভয়ে থমকে দাঁড়াতে হতো, ফলে সামনে এগোনো সম্ভব হতো না বলেও জানান তিনি।
নিজের প্রতি আস্থা রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে অভিনেত্রী আরও বলেন, পৃথিবী যখন আপনার প্রশংসা করবে না, তখন নিজেকেই নিজের সবচেয়ে বড় সমর্থক হতে হবে। জীবনের সব পর্যায় এক রকম যায় না। কখনো সবকিছু মনের মতো থাকে, আবার কখনো নিজের পছন্দের অবস্থায় পৌঁছাতে সময় লাগে। তাই পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা উচিত।
ক্যাটরিনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সন্তান জন্মের পর নারীর শরীর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। তার বার্তা স্পষ্ট, অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাস হারানোর কোনো কারণ নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবলের কিছু মুহূর্ত শেষ হলেও তা কখনোই সম্পূর্ণরূপে শেষ হয় না। সময়ের প্রবাহের সঙ্গে গ্যালারির উল্লাস থেমে যায়। তবে কিছু স্মৃতি অমলিন থেকে যায়। লিওনেল মেসির বিদায়ি ম্যাচের জার্সিও তেমনই একটি আবেগের স্মারক।
রিভার প্লেটের জাদুঘরে বর্তমানে আর্জেন্টাইন মহাতারকার সেই জার্সিটি সংরক্ষিত রয়েছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ফুটবল ইতিহাসের এই অধ্যায়কে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি জার্সি নয়, বরং এক কিংবদন্তির দীর্ঘ যাত্রা, অসংখ্য অর্জন এবং ভালোবাসার প্রতীক।
যদিও জার্সিটি জাদুঘরে রয়েছে, মেসির গল্প কোনো কাচের বাক্সে বন্দী হওয়ার নয়। তার বাঁ পায়ের জাদু, গোলের উল্লাস এবং সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার দৃশ্য ভক্তদের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে। সময়ের স্রোত পেরিয়ে মেসি ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্ত অধ্যায় হয়ে থাকবেন।
বিদায়ের ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিন গোলের প্রতিটিতেই ছিল মেসির স্পর্শ। বেনিনের বিপক্ষে ৪৮ মিনিটে নেওয়া তার কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে এই ডিফেন্ডারও শেষ ম্যাচটিকে গোলে রাঙান। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিকো পাজের অবিশ্বাস্য গোলেও মেসির অবদান ছিল। তার পাস থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জালের দেখা পান মেসির জার্সির উত্তরসূরি মনে করা এই তারকা। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের শেষটি রাঙান। ফলে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি।
৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে মেসির বিদায় ছিল অশ্রু এবং ভালোবাসায় মোড়ানো। নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার বিদায়ে গ্যালারিতে ছিল ভালোবাসা এবং বিষণ্নতা। কারণ বাঁ পায়ের ফুটবল জাদুকরকে আর কখনোই আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখতে না পাওয়ার হাহাকার ছিল। খেলাধুলা দেখতে আসা সমর্থক-ভক্তদের চোখের জল এবং কণ্ঠের উল্লাস একাকার হয়ে গিয়েছিল।
জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের পথ চলা শেষ করেছেন মেসি। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ এবং গোলের রেকর্ড নিয়ে বিদায় নিয়েছেন তিনি। ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোলের কীর্তি নিয়ে এমন স্মৃতিময় ম্যাচের পর ১০ নম্বর জার্সিটি রিভার প্লেটকে উপহার দেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। জার্সিতে তিনি লিখেছেন ভালোবাসার বার্তা। এখন সেটিই স্থান পেয়েছে রিভার প্লেট জাদুঘরে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রম্প যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো না মানলে ইরানের অস্তিত্ব মুছে ফেলার হুমকি প্রদান করেছেন। শুক্রবার নিউইয়র্কের সিরাকিউসে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এই হুমকি দেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি শীঘ্রই ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মীমাংসা করবেন এবং জয়ী হবেন। তিনি আবারও দাবি করেছেন যে, যেভাবেই হোক না কেন, খুব শিগগিরই ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।
তিনি ইরানের প্রতি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হয় তারা আমাদের সব দাবি মেনে নেবে, নতুবা তাদের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।’
ইরান ও ইউক্রেন সংঘাত সমাধানের প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায় জোরদার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
ঋণ আদায়ে গতি আনার পাশাপাশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমের তদারকি, ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের উৎসাহিত করা এবং ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব পরিকল্পনা ও উদ্যোগের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেই ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর আলোচনা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এসব আলোচনায় ঋণ আদায়ের পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং তা দূর করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে।
পাশাপাশি, ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।
যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেশি, তাদের জন্য ঋণ পুনরুদ্ধার কৌশলবিষয়ক বিশেষ নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং বিদ্যমান ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা হালনাগাদ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস-৯) অনুসরণ করে প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি বা ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ পদ্ধতিতে ঋণ শ্রেণিকরণ ও সংস্থান সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি আগেভাগে নিরূপণ ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে। খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের আইনগত দিকগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম মন্তব্য করেন, ব্যাংক খাতে ছাড় দেওয়ার বিদ্যমান প্রবণতা ধীরে ধীরে বন্ধ করতে এ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি মনে করেন, খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তার মতে, ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা— উভয় পক্ষকে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করার মতো প্রণোদনা তৈরি করতে হবে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই থেকে তিন বছরে খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ঋণ আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় করা এবং আদায় কার্যক্রমে গতি আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের চিহ্নিত করা এবং তাদের প্রণোদনা দেওয়ার বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে। এর ফলে নিয়মিত ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের উৎসাহ বাড়বে এবং ব্যাংক খাতে দায়িত্বশীল ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঋণ অনুমোদন, তদারকি, আদায় ও শ্রেণিকরণের প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ সৃষ্টির পেছনে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ঋণ খেলাপি হওয়ার পর শুধু আদায় তৎপরতা বাড়ানোর পরিবর্তে শুরু থেকেই ঋণঝুঁকি চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের সংস্কারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।
খেলাপি ঋণের এ চাপ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক আদায় কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাংক খাতের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আধুনিকায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদার করার উদ্দেশ্যে প্রণীত খসড়াটি গত ২২ এপ্রিলের আন্তঃমন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সভার সিদ্ধান্ত এবং ২৬ এপ্রিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার পর সংশোধন করা হয়।
সংশোধিত খসড়াটি গত ২৪ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সর্বশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর।
ঋণ আদায় প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগও চলছে।
এ আইন যুগোপযোগী করতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে ইতোমধ্যেই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে, গত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন ও বিচার বিভাগে পাঠায়।
বর্তমানে সংশোধিত আইনের খসড়া তৈরিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি কাজ করছে।
এ ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে ‘দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ১৯৯৭ সালের দেউলিয়াত্ব আইন আধুনিকায়ন করে ‘দেউলিয়াত্ব ও দেউলিয়া কার্যক্রম আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেউলিয়াত্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক করা, সামগ্রিক দেউলিয়া কাঠামো শক্তিশালী করা ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার (আইএফসি) সহায়তায় নতুন দেউলিয়াত্ব আইনের ইংরেজি খসড়া আধুনিক কাঠামোতে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
খসড়াটি বাংলায় অনুবাদের জন্য আইএফসির সহায়তা চেয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলা সংস্করণ চূড়ান্ত হলে, পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য তা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, খেলাপি ঋণ আদায়ে তদারকি জোরদার, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের উৎসাহিত করার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে আইনি কাঠামোর আধুনিকায়ন ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ