ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেসির বিদায়ী জার্সি রিভার প্লেটের জাদুঘরে সংরক্ষিত


মেসির বিদায়ী জার্সি রিভার প্লেটের জাদুঘরে সংরক্ষিত

ফুটবলের কিছু মুহূর্ত শেষ হলেও তা কখনোই সম্পূর্ণরূপে শেষ হয় না। সময়ের প্রবাহের সঙ্গে গ্যালারির উল্লাস থেমে যায়। তবে কিছু স্মৃতি অমলিন থেকে যায়। লিওনেল মেসির বিদায়ি ম্যাচের জার্সিও তেমনই একটি আবেগের স্মারক।

রিভার প্লেটের জাদুঘরে বর্তমানে আর্জেন্টাইন মহাতারকার সেই জার্সিটি সংরক্ষিত রয়েছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ফুটবল ইতিহাসের এই অধ্যায়কে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একটি জার্সি নয়, বরং এক কিংবদন্তির দীর্ঘ যাত্রা, অসংখ্য অর্জন এবং ভালোবাসার প্রতীক।

যদিও জার্সিটি জাদুঘরে রয়েছে, মেসির গল্প কোনো কাচের বাক্সে বন্দী হওয়ার নয়। তার বাঁ পায়ের জাদু, গোলের উল্লাস এবং সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার দৃশ্য ভক্তদের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে। সময়ের স্রোত পেরিয়ে মেসি ফুটবলের ইতিহাসে এক অনন্ত অধ্যায় হয়ে থাকবেন।

আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে

বিদায়ের ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিন গোলের প্রতিটিতেই ছিল মেসির স্পর্শ। বেনিনের বিপক্ষে ৪৮ মিনিটে নেওয়া তার কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে এই ডিফেন্ডারও শেষ ম্যাচটিকে গোলে রাঙান। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিকো পাজের অবিশ্বাস্য গোলেও মেসির অবদান ছিল। তার পাস থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জালের দেখা পান মেসির জার্সির উত্তরসূরি মনে করা এই তারকা। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজের শেষটি রাঙান। ফলে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি।

৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে মেসির বিদায় ছিল অশ্রু এবং ভালোবাসায় মোড়ানো। নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার বিদায়ে গ্যালারিতে ছিল ভালোবাসা এবং বিষণ্নতা। কারণ বাঁ পায়ের ফুটবল জাদুকরকে আর কখনোই আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখতে না পাওয়ার হাহাকার ছিল। খেলাধুলা দেখতে আসা সমর্থক-ভক্তদের চোখের জল এবং কণ্ঠের উল্লাস একাকার হয়ে গিয়েছিল।

জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের পথ চলা শেষ করেছেন মেসি। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ এবং গোলের রেকর্ড নিয়ে বিদায় নিয়েছেন তিনি। ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোলের কীর্তি নিয়ে এমন স্মৃতিময় ম্যাচের পর ১০ নম্বর জার্সিটি রিভার প্লেটকে উপহার দেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। জার্সিতে তিনি লিখেছেন ভালোবাসার বার্তা। এখন সেটিই স্থান পেয়েছে রিভার প্লেট জাদুঘরে।

আরও পড়ুন: ঢাকা টেস্ট বাংলাদেশের জন্য নিজেদের প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাবি না মানলে ইরানের অস্তিত্ব মুছে ফেলার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৮ এম


দাবি না মানলে ইরানের অস্তিত্ব মুছে ফেলার হুমকি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রম্প যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো না মানলে ইরানের অস্তিত্ব মুছে ফেলার হুমকি প্রদান করেছেন। শুক্রবার নিউইয়র্কের সিরাকিউসে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এই হুমকি দেন।

ট্রাম্প বলেন, তিনি শীঘ্রই ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মীমাংসা করবেন এবং জয়ী হবেন। তিনি আবারও দাবি করেছেন যে, যেভাবেই হোক না কেন, খুব শিগগিরই ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে।

তিনি ইরানের প্রতি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হয় তারা আমাদের সব দাবি মেনে নেবে, নতুবা তাদের আর কোনো অস্তিত্বই থাকবে না।’

ইরান ও ইউক্রেন সংঘাত সমাধানের প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র: আল জাজিরা

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমানো, ঋণ আদায় জোরদার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ঋণ আদায়ে গতি আনার পাশাপাশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমের তদারকি, ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী গ্রাহকদের উৎসাহিত করা এবং ব্যাংক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব পরিকল্পনা ও উদ্যোগের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেই ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে প্রতি তিন মাস অন্তর আলোচনা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এসব আলোচনায় ঋণ আদায়ের পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করা হবে এবং তা দূর করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে।

পাশাপাশি, ব্যাংকার্স সভায় শীর্ষ ২০ খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেশি, তাদের জন্য ঋণ পুনরুদ্ধার কৌশলবিষয়ক বিশেষ নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং বিদ্যমান ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা হালনাগাদ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিবেদন মান (আইএফআরএস-৯) অনুসরণ করে প্রত্যাশিত ঋণক্ষতি বা ‘এক্সপেক্টেড ক্রেডিট লস’ পদ্ধতিতে ঋণ শ্রেণিকরণ ও সংস্থান সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি আগেভাগে নিরূপণ ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে। খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের আইনগত দিকগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম মন্তব্য করেন, ব্যাংক খাতে ছাড় দেওয়ার বিদ্যমান প্রবণতা ধীরে ধীরে বন্ধ করতে এ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি মনে করেন, খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আরও উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা— উভয় পক্ষকে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করার মতো প্রণোদনা তৈরি করতে হবে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী দুই থেকে তিন বছরে খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ঋণ আদায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় করা এবং আদায় কার্যক্রমে গতি আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের চিহ্নিত করা এবং তাদের প্রণোদনা দেওয়ার বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে। এর ফলে নিয়মিত ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের উৎসাহ বাড়বে এবং ব্যাংক খাতে দায়িত্বশীল ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ব্যাংকগুলোর সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঋণ অনুমোদন, তদারকি, আদায় ও শ্রেণিকরণের প্রতিটি পর্যায়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ সৃষ্টির পেছনে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ঋণ খেলাপি হওয়ার পর শুধু আদায় তৎপরতা বাড়ানোর পরিবর্তে শুরু থেকেই ঋণঝুঁকি চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের সংস্কারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত এ পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

খেলাপি ঋণের এ চাপ মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক আদায় কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাংক খাতের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আধুনিকায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদার করার উদ্দেশ্যে প্রণীত খসড়াটি গত ২২ এপ্রিলের আন্তঃমন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সভার সিদ্ধান্ত এবং ২৬ এপ্রিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নির্দেশনার পর সংশোধন করা হয়।

সংশোধিত খসড়াটি গত ২৪ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে সর্বশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর।

ঋণ আদায় প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে অর্থঋণ আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগও চলছে।

এ আইন যুগোপযোগী করতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে ইতোমধ্যেই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে, গত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন ও বিচার বিভাগে পাঠায়।

বর্তমানে সংশোধিত আইনের খসড়া তৈরিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি কাজ করছে।

এ ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে ‘দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ১৯৯৭ সালের দেউলিয়াত্ব আইন আধুনিকায়ন করে ‘দেউলিয়াত্ব ও দেউলিয়া কার্যক্রম আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেউলিয়াত্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক করা, সামগ্রিক দেউলিয়া কাঠামো শক্তিশালী করা ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার (আইএফসি) সহায়তায় নতুন দেউলিয়াত্ব আইনের ইংরেজি খসড়া আধুনিক কাঠামোতে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

খসড়াটি বাংলায় অনুবাদের জন্য আইএফসির সহায়তা চেয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলা সংস্করণ চূড়ান্ত হলে, পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য তা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, খেলাপি ঋণ আদায়ে তদারকি জোরদার, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত ঋণ পরিশোধে গ্রাহকদের উৎসাহিত করার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে আইনি কাঠামোর আধুনিকায়ন ও ঋণঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নড়াইল প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বরেণ্য এই শিল্পী ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রিয় জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রাম এলাকায় সংগ্রহশালা চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন গুণীশিল্পী এসএম সুলতান। এদিকে, ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের চিত্রা নদীপাড়ের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি জানান, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সংগ্রহশালা চত্বরে গতকাল (শুক্রবার) কোরআন খতম ও শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দোয়া মোনাজাত, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। এদিকে, ২০০১ সাল থেকে সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একজন গুণী চিত্রশিল্পীকে ‘সুলতান স্বর্ণ পদক’ দেয়া হয়। #
 
 
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু সংক্রমণ রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশকের সর্বোচ্চ ডেঙ্গু সংক্রমণ রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণ গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। চলতি বছরে স্থানীয়ভাবে মশার মাধ্যমে ছড়ানো ডেঙ্গুতে প্রায় ৩০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই ট্যাম্পা শহরের নিকটবর্তী হিলসবোরো কাউন্টির বাসিন্দা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকা ও আশপাশের বেশ কয়েকটি কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সীমিত তথ্য রয়েছে। তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য এবং চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অন্তত ১৯৪০-এর দশকের পর কোনো অঙ্গরাজ্যে এক বছরে এত বেশি স্থানীয় সংক্রমণের ঘটনা ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সাধারণত ফ্লোরিডাতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। তবে ২০২৩ সাল ছিল আগের সর্বোচ্চ সংক্রমণের বছর, যেখানে রাজ্যটিতে স্থানীয়ভাবে ছড়ানো ডেঙ্গুতে প্রায় ২০০ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নয়, তবে দেশটির অধীন পুয়ের্তো রিকোতে নিয়মিত ডেঙ্গুর বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা সাধারণত ৫০টি অঙ্গরাজ্যের যেকোনোটির চেয়ে অনেক বেশি।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ট্যাম্পা এলাকায় দিন-রাত মশা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি পরীক্ষা করছেন কর্মীরা, যাতে মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা যায়।

ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা নির্দিষ্ট প্রজাতির মশার কামড়ে ছড়ায়। আক্রান্ত অনেকের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কারও কারও জ্বর, ফ্লুর মতো উপসর্গ এবং শরীর ও হাড়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে। অসহনীয় ব্যথার কারণে রোগটি ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ নামেও পরিচিত। গুরুতর অবস্থায় রক্তক্ষরণ, শারীরিকভাবে শক তৈরি হওয়া এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

চলতি বছর ফ্লোরিডায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর ট্যাম্পার এক বয়স্ক নারী মারা যান। হিলসবোরো কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কার্লা ফ্রাই জানিয়েছেন, ট্যাম্পা এলাকার কয়েকজন আক্রান্তকে জ্বর ও পানিশূন্যতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন রয়েছে। প্রথমবার আক্রান্ত হলে শরীরে ওই ধরনের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ধরনের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আগের সংক্রমণের কারণে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি সব সময় নতুন ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে না। বরং কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসের শরীরে প্রবেশ ও বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে কার্যকর টিকা তৈরি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্যাম্পা এলাকার অধিকাংশ মানুষের ডেঙ্গুর কোনো ধরনের বিরুদ্ধেই আগে থেকে প্রতিরোধক্ষমতা নেই বলে জানিয়েছেন তুলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেঙ্গুবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডন ওয়েসন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু ছড়ানো মশার বিস্তৃতি বাড়ছে। আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে ডেঙ্গুর অধিকাংশ সংক্রমণ হতো বিদেশ ভ্রমণ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে। তবে ২০০৯ ও ২০১০ সালে ফ্লোরিডার কি ওয়েস্টে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়। ১৯৪৫ সালের পর টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এটিই ছিল স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের প্রথম ঘটনা।

এরপর কোনো অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যায় হাওয়াইয়ে। ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ছয় মাসে সেখানে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে ২৬৪ জন আক্রান্ত হন। এবার ট্যাম্পা এলাকার সংক্রমণ সেই সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গুতে ২২ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ বছর স্থানীয়ভাবে ছড়ানো ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই পুয়ের্তো রিকোর বাসিন্দা।

ফ্লোরিডায় সাধারণত মায়ামি অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। কিন্তু এবার ট্যাম্পা এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভ্রমণের ধরন পরিবর্তনের কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে।

গত সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী, ফ্লোরিডায় স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন ২৫২ জন, আর ভ্রমণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংক্রমণের সংখ্যা ২৪৫। অর্থাৎ, স্থানীয়ভাবে ছড়ানো সংক্রমণ এবার ভ্রমণজনিত সংক্রমণকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে হিলসবোরো কাউন্টিতে অন্তত ১৩ জন ভ্রমণকারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ ছাড়া কেন্দ্রীয় সংস্থাটির রোগ তদন্তকারীরা সরাসরি সেখানে যেতে পারেন না। ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এখনো তাঁদের আসার অনুরোধ জানায়নি। তবে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগকে ৮ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছে সংস্থাটি। এ অর্থ জনসচেতনতা, পরীক্ষাগারের পরীক্ষা এবং মশা দমনের কাজে ব্যবহার করা হবে। ট্যাম্পা এলাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সহায়তার অর্থ স্থানীয় পর্যায়ে এখনো পৌঁছায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুপ্রবণ এলাকায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকা জরুরি। দিনের যেকোনো সময় ডেঙ্গুবাহী মশা কামড়াতে পারে। তাই মশা প্রতিরোধক ব্যবহার, ঢিলেঢালা লম্বা হাতার পোশাক ও লম্বা প্যান্ট পরা এবং জানালায় জাল লাগানো ঘর বা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকা উপকারী। সূর্যোদয়ের পরপর এবং সূর্যাস্তের কাছাকাছি সময়ে মশার সক্রিয়তা বেশি থাকায় এ সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

এছাড়া বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলতে হবে। পুরোনো টায়ারসহ যেসব স্থানে পানি জমে মশা বংশবিস্তার করতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞ ডন ওয়েসনের আশঙ্কা, জলবায়ুর পরিবর্তন ও মশার স্থায়ী উপস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিই ভবিষ্যতে নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে ওঠার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%