ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতে স্টারলিংকের সেবা অনুমোদনে জটিলতা, গ্রাহকেরা অপেক্ষায়


ভারতে স্টারলিংকের সেবা অনুমোদনে জটিলতা, গ্রাহকেরা অপেক্ষায়

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু নিয়ে ইলন মাস্ক ও মুকেশ আম্বানির মধ্যে বিরোধ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা কবে নাগাদ স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা পাবেন এবং এর জন্য তাদের কত খরচ করতে হবে। খবর গালফ নিউজ।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশের সুযোগ থাকা আবশ্যক। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করাও অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু অনুমোদনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্যের অভাব থাকলে সেবা চালুর অগ্রগতি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে জানায়, দেশে লাইসেন্স পাওয়া তিনটি স্যাটেলাইট অপারেটরের নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলছে। এই তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো— ইলন মাস্কের স্টারলিংক, জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব। মন্ত্রণালয়ের মতে, তিনটি প্রতিষ্ঠানই প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: জমানো খাবারে বানানো কেকেও ছাড় নেই, বন্দিদের জীবন নরক বানানোর হুমকি বেন-গভিরের

স্টারলিংক ইতোমধ্যে টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স লাভ করেছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালু করার জন্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। স্পেকট্রাম হলো বেতার তরঙ্গের নির্দিষ্ট অংশ, যার মাধ্যমে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন যোগাযোগসেবা প্রদান করা হয়।

অতএব, স্টারলিংকের সেবা চালুতে বিলম্বকে শুধু লাইসেন্স না পাওয়ার সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনুমোদনপ্রক্রিয়ার অন্যান্য ধাপগুলোও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

আম্বানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রমাণ নেই

স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর বিলম্ব নিয়ে ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছেন যে, প্রভাবশালী ব্যবসায়িক মহল এতে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির নামও উল্লেখ করেছেন। তবে তার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না ইরানের শীর্ষ নেতা

অন্যদিকে, রিলায়েন্স জানিয়েছে, তারা স্টারলিংকসহ স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতে প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানায়। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, জিওর নিজস্ব সেবার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা চলছে।

ভারতের যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের ওপর সেবা চালুর অগ্রগতি নির্ভর করছে, এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তাসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

যে পর্যায়ে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন এবং আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পদক্ষেপ বাকি রয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হলে অনুমোদনপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কমে আসতে পারে।

প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও অংশীদার

আরও পড়ুন: মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ: আইএমএফের প্রতিবেদন

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্রটি সহজ নয়। কারণ, দেশীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্টারলিংকের ব্যবসায়িক সহযোগিতার উদ্যোগও রয়েছে।

গত বছরের মার্চে স্পেসএক্সের সঙ্গে অংশীদারত্বের ঘোষণা দেয় ভারতী এয়ারটেল। এর এক দিন পর একই ধরনের চুক্তির ঘোষণা দেয় রিলায়েন্স জিও। উভয় চুক্তির ক্ষেত্রে স্টারলিংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এয়ারটেল জানিয়েছিল, তাদের বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে স্টারলিংকের সরঞ্জাম বিক্রি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার সুযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

এ ধরনের উদ্যোগের ফলে গ্রাহকদের কাছে সেবা পৌঁছানো সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে এগুলো দেখায়, স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুসহ ৩৫ ইসরাইলির বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু

তবে এসব চুক্তি থেকে স্টারলিংকের কার্যক্রমে কেউ বাধা দিয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং বাজারের বাস্তবতা বুঝতে হলে প্রতিযোগিতা, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব এবং সেবা বিতরণের বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

গ্রাহকেরা সরাসরি স্টারলিংকের কাছ থেকে সেবা কিনতে পারবেন কি না, বিভিন্ন প্যাকেজে কী সুবিধা থাকবে এবং প্রয়োজনে অন্য সেবাদাতার কাছে যাওয়ার সুযোগ কেমন হবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

সেবার খরচই বড় প্রশ্ন

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে শুধু সংযোগের সুবিধা থাকলেই হবে না, এর ব্যয়ও গ্রাহকদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন উচ্চতায় ভারত, আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছে

ভারতের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জোহোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিজ্ঞানী শ্রীধর ভেম্বু দেশটিতে কম খরচে মোবাইল ইন্টারনেট পাওয়ার সুবিধার কথা তুলে ধরেছেন। ভ্রমণের সময় ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাজ করার অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি। তবে এই অভিজ্ঞতা দিয়ে ভারতের সব অঞ্চলে ইন্টারনেটের প্রাপ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতার চিত্র বোঝা যায় না।

যেসব এলাকায় প্রচলিত ব্রডব্যান্ড সংযোগ নির্ভরযোগ্য, সেসব এলাকার গ্রাহকদের স্টারলিংকে যাওয়ার জন্য বাড়তি সুবিধা প্রয়োজন। অন্যদিকে, যেসব গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় প্রচলিত নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

তবে নতুন সংযোগটি কতটা কার্যকর হবে এবং এর জন্য গ্রাহকদের কত ব্যয় করতে হবে, তা জানা জরুরি।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই) নির্দিষ্ট কিছু স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড সেবার জন্য সমন্বিত মোট আয়ের ৪ শতাংশ হারে স্পেকট্রাম চার্জ এবং শহরাঞ্চলের প্রতিটি গ্রাহকের জন্য বছরে অতিরিক্ত ৫০০ রুপি ফি নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ফি মওকুফের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: দুই সেনা হত্যায় হেবরনকে ভূতুড়ে শহর বানাল ইসরায়েল

এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য সরঞ্জাম কেনায় ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশও করেছিল সংস্থাটি। তবে এসব ছিল সুপারিশ। চূড়ান্তভাবে কত টাকা চার্জ নির্ধারণ করা হবে বা গ্রাহকদের মোট খরচ কত দাঁড়াবে, তা এসব প্রস্তাব থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করবে সরঞ্জাম কেনা, সংযোগ স্থাপন, মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি এবং চুক্তির শর্তের ওপর। ফলে সেবা সাশ্রয়ী হবে কি না, তা নির্ধারণে শুধু মাসিক প্যাকেজের মূল্য দেখলে চলবে না; মোট ব্যয়ের হিসাবও বিবেচনা করতে হবে।

নিরাপত্তা যাচাইয়ে স্বচ্ছতা প্রয়োজন

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে সেবা চালুর অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে নিরাপত্তা মূল্যায়ন চলমান থাকার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোনো অনিয়ম করেছে।

ট্রাইয়ের ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের সুপারিশে বলা হয়েছিল, নীতিগতভাবে নেটওয়ার্ক স্থাপনের অনুমোদন পাওয়ার পর আবেদন জমা দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। তা সম্ভব না হলে একই সময়ের মধ্যে আপত্তির বিষয়গুলো জানানো যেতে পারে। এটি স্টারলিংককে অনুমোদন দেওয়ার বাধ্যতামূলক সময়সীমা ছিল না; বরং প্রক্রিয়াটিকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য করার একটি প্রস্তাব ছিল।

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগ এবং অনুমোদনপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ জরুরি।

কোম্পানিগুলোর উচিত অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করা। আর কর্তৃপক্ষের উচিত নিরাপত্তার স্বার্থে যতটুকু প্রকাশ করা সম্ভব, ততটুকু তথ্য দিয়ে অনুমোদনের বাকি ধাপগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া।

শেষ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতার সুফল নির্ভর করবে গ্রাহকেরা কতটা সহজে সেবা পাচ্ছেন, এর খরচ তাদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকছে কি না এবং সংযোগটি কতটা নির্ভরযোগ্য হচ্ছে, তার ওপর। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা উচিত গ্রাহকদের জন্য উন্নত ও সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ নভেম্বর খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, নিবন্ধন ১৬ লাখের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


৫ নভেম্বর খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, নিবন্ধন ১৬ লাখের বেশি

সরকার খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে এবং সুস্থ জাতি ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। শিশু-কিশোরদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে এবং তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের সুযোগ তৈরি করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ বিষয়ে জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর আয়োজন করা হচ্ছে।

রোববার দুপুরে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের আসরে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন ১৬ লাখ ২৩ হাজার প্রতিযোগী। তাদের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আমিনুল হক আরও জানান, প্রথম আসরে নিবন্ধিত প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার, যা এবার বেড়ে ১৬ লাখ ২৩ হাজারে পৌঁছেছে। দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে প্রতিযোগীরা জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করবেন। আগামী বছরের মে বা জুন মাসে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম আসরে উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ৪০ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে বাছাই করা খেলোয়াড়দের স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পরিচর্যা নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে।

খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে আমিনুল হক জানান, স্টেডিয়ামটির গ্যালারির অর্ধেকের বেশি অংশ নেই। এটিকে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপ দিতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই গ্যালারি নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স পরিদর্শন করা হয়েছে। মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ক্রীড়া স্থাপনার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খুলনা বিকেএসপির সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিকেএসপিগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খুলনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় থেকেই পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ পাবেন। আগামী জানুয়ারি থেকে এ কার্যক্রম শুরু করার আশা প্রকাশ করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে আমিনুল হক বলেন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ (এসএসএফ) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে মাঠ প্রস্তুত করা, আয়োজন ব্যবস্থাপনা এবং প্রচার কার্যক্রম নিয়েও কাজ চলছে।

এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতসহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি করায় বেকারিকে এক লাখ টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি করায় বেকারিকে এক লাখ টাকা জরিমানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি মিষ্টি ও বেকারি কারখানাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই জরিমানা নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ, মিষ্টির সিরায় ময়লা ও পোকার অংশবিশেষ পাওয়া এবং উৎপাদিত পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স দেখাতে না পারার অভিযোগে করা হয়। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার নাটাই এলাকায় অবস্থিত পিওর সুইটমিট অ্যান্ড বেকারি কারখানায় অভিযান চালিয়ে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত ভট্টাচার্য। অভিযানে দেখা যায়, খাদ্যপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণে একাধিক অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিদ্যমান ছিল। অভিযানের সূত্র জানায়, কারখানাটিতে খোলা অবস্থায় নোংরা পরিবেশে বেকারি পণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। চিনির পাউডার রাখা হয়েছিল নোংরা, অপরিষ্কার ও স্যাঁতসেঁতে বক্সে। এছাড়া, কুকিজ তৈরির খামির খোলা, ঢাকনাবিহীন ও লেবেলবিহীন অবস্থায় সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

কারখানাটিতে আরো দেখা যায়, মিষ্টির ছানা নোংরা দেয়ালের পাশে পানি ঝরানোর জন্য রাখা হয়েছে। কেক তৈরির কাঁচামাল ও কেকের ছাঁটাই করা অংশও লেবেল ছাড়া সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত সিরার মধ্যে ময়লা ও পোকার অংশবিশেষ পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের পাশাপাশি কারখানাটিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের ক্রয়চালান এবং উৎপাদিত সব পণ্যের বিএসটিআই লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্টরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, অভিযানে খাদ্যপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদন যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অভিযানে পাওয়া অসংগতিগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেন এবং তা আদায় করেন। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য সহায়ক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের দেশের প্রচলিত সব আইন ও বিধিবিধান মেনে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন খায়রুল বাসার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন খায়রুল বাসার

নাটকের অভিনেতা খায়রুল বাসার। তিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু নায়িকার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন। এই কারণে বিভিন্ন সময় তার নাম জড়িয়েছে অনেকের সঙ্গে। সম্প্রতি, তানজিন তিশা ও সাদনিমা বিনতে নোমানের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছে।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে এসে বাসার এই বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। পডকাস্টের সঞ্চালক জানতে চান, কেন তানজিন তিশার সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হলো। উত্তরে বাসার বলেন, "প্রেমই যেখানে ছিল না, সেখানে বিচ্ছেদ হবে কীভাবে।" তিনি জানান, তিশার সঙ্গে তার আগেও কথা হতো এবং এখনো হয়। বাসার আরও বলেন, তিশা কিছুটা পাগলাটে ও রাগী স্বভাবের।

সাদনিমা বিনতে নোমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে কি না, জানতে চাইলে বাসার সরাসরি উত্তর দেন, "না।" তার মতে, সাদনিমা তার সহশিল্পী এবং তিনি একজন ভীষণ ভালো ও স্পষ্টবাদী মানুষ। তবে, তিনি নায়িকাদের সঙ্গে এসব গুঞ্জন উপভোগ করেন বলেও স্বীকার করেন।

উল্লেখ্য, প্রায় এক দশকের অভিনয় জীবনে খায়রুল বাসার ‘রোদ বৃষ্টির গল্প’, ‘জলকৌড়ি’, ‘নাইট গার্ড’, ‘বাবুই’, ‘শহরে অনেক রোদ’সহ বহু আলোচিত নাটক ও টেলিফিল্মে কাজ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলা ২৯ অক্টোবর শুরু হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলা ২৯ অক্টোবর শুরু হচ্ছে

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের আয়োজন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজশাহীতে ‘রাজশাহী বিভাগীয় বইমেলা ২০২৬’ আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই বইমেলা রাজশাহী কালেক্টরেট মাঠে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। বইমেলার বাস্তবায়নে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন সহযোগিতা করছে।

প্রতিদিন বইমেলা বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে। সরকারি ছুটির দিনে দর্শনার্থীরা সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা পরিদর্শন করার সুযোগ পাবেন।

বইমেলাকে সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গত ১৩ অক্টোবর রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং রবিবার দুপুরে প্রচার প্রচারণা ও উপস্থিতি উপকমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বইপ্রেমী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকল স্তরের পাঠকদের বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

আয়োজকেরা আশা করছেন যে, বইমেলা জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি এবং প্রকাশনা শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বই প্রদর্শন ও বিক্রয়ের পাশাপাশি মেলায় প্রতিদিন আলোচনা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহীর স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে বিভাগের আট জেলার শিল্পীরাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%