মোঃ উজ্জ্বল মিয়া নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৬ পি.এম
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ৩ নম্বর ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বারেক (রুপা মিয়া) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হৃদ্রোগজনিত সমস্যায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৭৫ বছর।
আব্দুল বারেক ঘাগড়া ইউনিয়নের বহুলী (বানেরকান্দা) গ্রামের মৃত নজর উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বহুলী গ্রামের একটি জানাজায় অংশ নিতে যান আব্দুল বারেক। জানাজা শেষে হঠাৎ তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল বারেক ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম রানা কারাবন্দী থাকায় পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাঁকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়।
গত ৫ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদারের স্বাক্ষরিত এক আদেশে আব্দুল বারেককে ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।
মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের শিশু সাইমা আক্তার সাবা হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি শান্তনা খাতুনকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার নির্দেশও দিয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহা. হেলাল উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষ হয় এবং আদালত ২২ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে। মামলায় বাদী, চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
রায় ঘোষণার পর বিচারকের এজলাসের সামনে নিহত শিশু সাবার বাবা-মা, স্বজন ও গ্রামবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা চিৎকার করে আসামি শান্তনা খাতুনের ফাঁসির দাবি জানাতে থাকেন। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট কাজী একরামুল হক আলম রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "সাক্ষ্য-প্রমাণে মামলাটি প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায় গ্রহণযোগ্য নয়।"
যেভাবে হত্যা করা হয় সাবাকে
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের ভ্যানচালক সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাইমা আক্তার সাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। প্রতিবেশী ভ্যানচালক আক্তারুজ্জামান মাসুদের দ্বিতীয় স্ত্রী শান্তনা খাতুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে লাশ কাপড়ে মুড়িয়ে বস্তায় ভরে গোপনে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় রাস্তায় লোকজনের চলাচল দেখে তিনি আবার ঘরে ফিরে যান।
বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শান্তনার বাড়ি ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন। পরে যৌথবাহিনী খাটের নিচ থেকে শিশু সাবার লাশ উদ্ধার করে। ওই রাতেই পুলিশ শান্তনা খাতুনকে আটক করে।
পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় শান্তনা খাতুন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। নিহত সাবার বাবা সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় শান্তনা খাতুনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
সাবা হত্যার বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। মঙ্গলবার রায় ঘোষণার খবর পেয়ে তারাও আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন। ফাঁসির আদেশ না হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ
রায় ঘোষণার পর দণ্ডিত শান্তনা খাতুনকে কারাগারে নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতের দ্বিতীয়তলা থেকে তাকে বের করে প্রিজনভ্যানে তোলা হয়। এ সময় নিহত শিশুর স্বজনরা বিক্ষোভ করতে থাকেন এবং বারবার শান্তনার ফাঁসির দাবি জানান। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
বিচারক রায়ে বলেন, শিশু সাবা হত্যা মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামির ফাঁসি হওয়া উচিত। তবে আসামি চার বছরের শিশুসন্তানের মা—এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফাঁসির পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, শান্তনা খাতুনের শাওন (১১) ও রুবাইদ নামের দুই সন্তান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় পদ্মা অয়েল পিএলসির গোদনাইল ডিপোর কর্মীদের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে কৃষক দল নেতা সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ ফয়সালকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচিব হিসেবে পরিচিত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাছিনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গল দুপুর ১২টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ফয়সালকে আটক করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে ফয়সাল মো. রফিকুল ইসলামের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন, যিনি পদ্মা অয়েল পিএলসির গোদনাইল ডিপোর জেট-এ-১ পয়েন্টে চেকার হিসেবে কর্মরত। রফিকুলের অভিযোগ, ফয়সাল ডিপোর কর্মচারীদের কাছ থেকে এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফয়সাল তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং খুন-জখমের হুমকি দেন। পরে বিভিন্ন সময়ে ফোন করে একইভাবে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট বেলা সোয়া ১১টার দিকে ফয়সাল অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে নিয়ে গোদনাইল ডিপোর জেট-এ-১ পয়েন্টে প্রবেশ করেন। সেখানে কর্মীদের কাছে পুনরায় এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
কর্মীরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে চাঁদার টাকা না দিলে ডিপোতে চাকরি করতে দেওয়া হবে না এবং থানায় অভিযোগ বা মামলা করলে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।
ফয়সালের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছিল। গত মার্চে সিদ্ধিরগঞ্জের দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছিলেন, ফয়সাল ও তার লোকজন তাদের ড্রেজার ব্যবসা থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন এবং এ বিষয়ে তারা থানায় অভিযোগ দিয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ করে একটি বিশাল মেঘের জটলা জমে উঠেছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে যে, এটি ধীরে ধীরে আরও শক্তিশালী হয়ে উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
যদি এটি শেষ পর্যন্ত একটি বড় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তাহলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’। বাংলা ভাষায় ‘অর্ণব’ শব্দের অর্থ সমুদ্র, এবং এই সুন্দর নামটি বাংলাদেশ আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছিল।
বর্তমানে এই নিম্নচাপটি ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল থেকে মাত্র দু-তিনশো কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি দ্রুত গতিতে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবারের (২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর) মাঝরাতের মধ্যে এটি ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের ওপর দিয়ে আছড়ে পড়তে পারে।
ঝড়ের সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। অনেক অঞ্চলে প্রায় ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সাথে ঘণ্টায় প্রায় ৫৫ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে আসতে পারে। ভারী বৃষ্টির ফলে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং নদনদীর পানি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিরাপদে রাখতে ওড়িশা সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্যের খুরদা, গঞ্জাম, গজপতি ও জগৎসিংপুর—এই চার জেলায় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল ও শিশু কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমুদ্র এলাকার জেলে ও সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস .
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়িতে পুলিশের অভিযান চলাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৫ নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। সোমবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- লিটন চৌধুরী, মাহফুজ জুয়েল, সুজন বিশ্বাস, মো. সাকিল ও রুবেল।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভোররাতে আদালত চত্বর এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সরকারি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষতিসাধন করা হয়েছে এবং ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে মিছিল করে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে সড়কের পার্শ্বে থাকা সরকারি গাছ কেটে সড়কের উভয় পার্শ্বে ফেলে রেখে যান চলাচল বন্ধ করে অবরোধ কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কায়কিসলু জানিয়েছেন, মঙ্গলবার গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ