ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১০ হাজার ডলারের মাথাপিছু জিডিপি: ভারতের ‘জাদুকরী সংখ্যা’


১০ হাজার ডলারের মাথাপিছু জিডিপি: ভারতের ‘জাদুকরী সংখ্যা’

ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। মাথাপিছু বার্ষিক জিডিপি ১০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হতে পারে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমির সম্পাদকীয় পরিচালক এরিক শাটজকার এ বিষয়ে বিশ্লেষণ করেছেন।

তিনি তুলে ধরেছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে ভারত আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু একই সঙ্গে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও নাগরিক সেবার ঘাটতির মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

শাটজকার সম্প্রতি ১৮ মাসের মধ্যে সপ্তমবারের মতো ভারত সফর করেন। পূর্ববর্তী সফরগুলোতে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত। একাধিক সফরের মাধ্যমে ভারতের অর্থনীতি ও সমাজের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করার পর তিনি উপলব্ধি করেন যে, এত জটিল একটি দেশকে কয়েকটি ব্যবসায়িক সফরের মাধ্যমে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়। তবে, ভারতের রেল, সম্প্রচার, ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি দেশটির উন্নয়ন বোঝার একটি সূত্র পেয়েছেন।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজারের অস্থিরতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শেষে, শাটজকার মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় নিউ ইকোনমি ফোরামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে কোন বিষয়টি তুলে ধরতে চান। শাটজকারের ধারণা ছিল, ভারতের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু বৈষ্ণবের উত্তর ছিল ভিন্ন। তিনি ভারতের অর্থনীতির গতিপথ ও সংকট মোকাবেলার সক্ষমতা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন।

আলোচনার শেষে বিদায়ের সময় শাটজকারের হাত ধরে বৈষ্ণব বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা যেন ১০ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারি।’ ১০ হাজার ডলার এখানে মাথাপিছু বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বোঝায়। এটি প্রত্যেক ভারতীয়ের ব্যক্তিগত আয় নয়, বরং দেশের মোট বার্ষিক উৎপাদনের আর্থিক মূল্যকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু জিডিপি পাওয়া যায়। শাটজকার জানান, বর্তমানে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৩ হাজার ডলার। এই অবস্থান থেকে ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানো দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চূড়ান্ত লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে ‘বিকশিত ভারত’ বা উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করা। ওই বছর ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ হবে। শাটজকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের নিজস্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে ২০৪৭ সালের মধ্যে মাথাপিছু জিডিপি ১৮ হাজার ডলারের বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে। এর জন্য পরবর্তী দুই দশক ধরে বছরে প্রায় ৭ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হলেও, চীনসহ অল্প কয়েকটি দেশ অতীতে এ ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে।

উন্নয়ন ও বৈষম্যের পাশাপাশি অবস্থান

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

ভারতের অর্থনীতির এই লক্ষ্য বোঝার জন্য দেশটির দৃশ্যমান বৈপরীত্যগুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন শাটজকার। মুম্বাইয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, একই শহরে বিপুল সম্পদ ও চরম দারিদ্র্য পাশাপাশি অবস্থান করছে। শহরটিতে এক ধনকুবের পরিবারের ব্যক্তিগত আবাস হিসেবে ২৭ তলা ও প্রায় চার লাখ বর্গফুটের একটি ভবন রয়েছে। অথচ কাছাকাছি এলাকার শিশুরা রাস্তার মাঝের মাটির জায়গায় খেলাধুলা করে। তাঁর লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, মুম্বাইয়ের আনুমানিক ৪২ শতাংশ মানুষ বস্তিতে বসবাস করে।

শুধু সম্পদের বৈষম্য নয়, ভারতের অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার মধ্যেও রয়েছে বড় ব্যবধান। দিল্লিতে রয়েছে আধুনিক মেট্রোরেল ব্যবস্থা, কিন্তু শহরটির বায়ুদূষণও গুরুতর। দেশটি ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের মতো দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। অথচ অনেক শহরে এখনো বর্জ্য সংগ্রহ, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ও পয়োনিষ্কাশনের মতো মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে আছে।

একইভাবে, ভারত দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মধ্যে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশ্বমানের দ্রুতগতির এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে। কিন্তু দেশের অনেক স্থানীয় সড়কে এখনো বড় বড় গর্ত রয়েছে। শাটজকারের মতে, এসব বৈপরীত্যের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সরকারের সীমিত সম্পদ, সময় ও প্রশাসনিক সক্ষমতা। একটি সরকার একই সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। ফলে কিছু খাতে দ্রুত উন্নয়ন ঘটলেও অন্য খাতগুলো পিছিয়ে থাকতে পারে। ভারতের উন্নয়ননীতিকে বোঝার ক্ষেত্রে এই অগ্রাধিকারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বড় শিল্পগোষ্ঠীর ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ

আরও পড়ুন: কসোভোতে মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য এক দৃষ্টান্ত: ক্যাথলিক নারী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট

ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ব্যাখ্যায় বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন শাটজকার। তাঁর মতে, বন্দর, তেল শোধনাগার, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কারখানা নির্মাণে দেশটির বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এসব অবকাঠামো বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয়।

শাটজকারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে কেন মোদি সরকার অল্প কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে বিপুল সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছে এবং কখনো কখনো সেই প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে। ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে এই শিল্পগোষ্ঠীগুলোর স্বার্থ ও ভূমিকা জড়িয়ে রয়েছে।

তবে এখানে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও রয়েছে। বড় শিল্পগোষ্ঠী যদি অবকাঠামো নির্মাণ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে, তাহলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে কতটা পৌঁছায়, সম্পদের বৈষম্য কতটা কমে এবং নাগরিক সেবার মান কতটা উন্নত হয়, সেগুলোও উন্নয়নের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ, দেশের মোট উৎপাদন বাড়া এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়া সম্পর্কিত হলেও দুটি বিষয় এক নয়। মাথাপিছু জিডিপি অর্থনীতির গড় উৎপাদনের একটি সূচক; এটি আয়বণ্টন বা সামাজিক বৈষম্যের পূর্ণ চিত্র দেয় না।

আরও পড়ুন: চীনে পরিবারের দায়িত্বে শিশুদের চেয়ে বয়স্কদের প্রতি বেশি মনোযোগ

চীন থেকে বিনিয়োগ আনা ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা

শাটজকার বলেছেন, ২০১৪ সালে মোদি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ভারতের মোট জিডিপি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এখন দেশটির সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে, চীন থেকে আরো উৎপাদন কার্যক্রম ভারতে আনতে এবং বৈশ্বিক মহাকাশ প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে চায়।

সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনে ভারতের অগ্রগতিও এই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু নতুন শিল্প স্থাপন নয়; বরং বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা।

তবে ২০৪৭ সালের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শুধু প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার বজায় রাখাই যথেষ্ট হবে না। অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নাগরিক সেবা এবং সম্পদের বণ্টনের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এসব খাতের উন্নয়ন প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ: জেন-জি আন্দোলনের মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক যুব আন্দোলনে প্রভাব

১০ হাজার ডলারই কি উন্নয়নের চূড়ান্ত মাপকাঠি?

শাটজকারের কাছে অশ্বিনী বৈষ্ণবের বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এটি ভারতের উন্নয়ননীতির অগ্রাধিকার সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। দেশটির সরকার জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে সামনে রেখে শিল্পায়ন, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনের পথে কিছু সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান না-ও হতে পারে।

শাটজকার লিখেছেন, মন্ত্রীর কণ্ঠের দৃঢ়তা ও চোখের অভিব্যক্তি থেকে তিনি বুঝেছিলেন, লক্ষ্য অর্জনে ভারত যা যা প্রয়োজন, তা করতে প্রস্তুত। এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে ভারতের নানা বৈপরীত্য তাঁর কাছে কিছুটা বোধগম্য হয়ে ওঠে।

তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ এই নয় যে বৈষম্য বা নাগরিক সেবার ঘাটতি গুরুত্বহীন। বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে দেশটি কীভাবে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধানের সমন্বয় ঘটাতে পারে, তার ওপরও।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা

১০ হাজার ডলারের মাথাপিছু জিডিপি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। কিন্তু উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার অর্থ শুধু উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি নয়; সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান, সুযোগের সমতা, পরিবেশের সুরক্ষা এবং মৌলিক নাগরিক সেবার উন্নয়নও এর অংশ।

ভারতের সামনে তাই চ্যালেঞ্জটি দ্বিমুখী। একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রেখে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা, অন্যদিকে সেই অগ্রগতির সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ লক্ষ্য কতটা সফল হবে, তা শেষ পর্যন্ত এই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্শদীপের আগুনে বোলিংয়ে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪ রানে হারাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২৯ এম


আর্শদীপের আগুনে বোলিংয়ে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৪ রানে হারাল

ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করেছে আর্শদীপ সিংয়ের অসাধারণ বোলিংয়ের মাধ্যমে, যা অভিষেক শর্মার ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পর এসেছে। ইন্দোরে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে স্বাগতিকরা ক্যারিবীয়দের ১৪ রানে পরাজিত করে, ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তারা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।

টস হেরে ব্যাটিং শুরু করার পর ভারত অভিষেকের ৩০ বলে ৬৯ রান এবং ইশান কিষাণের ১৮ বলে ৩৭ রান নিয়ে দারুণ সূচনা করে। নবম ওভারে ১ উইকেটে ১১৫ রান করার পর, দলটি দ্রুত পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপের মধ্যে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ভারত ২২৩ রানে অলআউট হয়ে যায়।

এদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা লড়াই করলেও কেউই পঞ্চাশ রানের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারেননি। শিমরন হেটমায়ার ৪৩ রান এবং কামিল পুরান ৪২ রান করেন। শেষদিকে শেরফেন রাদারফোর্ডের ৩২ রানও দলের জন্য কার্যকরী হয়নি। ক্যারিবীয়দের ইনিংস ২০৯ রানে শেষ হয়।

ভারতের জয়ে আর্শদীপের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ৪ ওভারে ৪৪ রান খরচ করে ৩ উইকেট তুলে নেন। বিশেষ করে ১৮তম ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে রাদারফোর্ড ও কিমো পলকে ফিরিয়ে দেন। ম্যাচসেরা এই পেসার ব্যাট হাতে ১১ রানও করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১১ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩০ এম


তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ১১ জন নিহত

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে একটি পর্যটকবাহী বাস ও টো ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে মানিসা প্রদেশের আখিসার এলাকায় গেবজে-ওরহাঙ্গাজি-ইজমির মহাসড়কের টোল বুথের নিকটে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

টো ট্রাক সাধারণত উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত হয়।

মানিসার গভর্নর কার্যালয়ের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ১১টার কিছু পরে কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার খবর পায়।

আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বাসচালকও রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর পুলিশ তাকে আটক করেছে।

দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, উল্টে যাওয়া বাসটির পেছনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল নীল রঙের বডি ব্যাগ।

ঘটনাস্থলে উল্টে যাওয়া টো ট্রাকটি কাঠের তক্তা বহন করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তফা চিফচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, নিহতরা নিজ দেশের নাগরিক। তবে হতাহতদের মধ্যে কোনো বিদেশি নাগরিক রয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত নয়।

মানিসার গভর্নর ভাহদেত্তিন ওজকান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয়ের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, এ দুর্ঘটনায় আমরা হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছি ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা কতটা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে বিমসটেকের বৈঠকে অংশ নেবেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩০ এম


দিল্লিতে বিমসটেকের বৈঠকে অংশ নেবেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের জোট বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই আঞ্চলিক আয়োজন আগামীকাল মঙ্গলবার শুরু হবে এবং বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়া বাকি ছয় সদস্যদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পূর্বদিন, অর্থাৎ ১২ অক্টোবর, সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। এর আগের দিন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক পরিচালনা করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন।

অন্য সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ভুটানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুংতেন দর্জি, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল কো কো ও, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, শ্রীলঙ্কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দনা আবেরতেœ এবং থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসাক থংস্রির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

সম্মেলনে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ ও আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে মানব পাচার, মাদক ও রাসায়নিকের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বয় বৃদ্ধির কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের সন্ত্রাসবাদ দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধবিষয়ক যৌথ কার্যকরী দলের একাদশ বৈঠকের সুপারিশগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে বিমসটেক, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সহযোগিতার সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে। এই জোটের সাত সদস্যদেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান। বিমসটেকের সচিবালয় ঢাকায় অবস্থিত এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত হননি। ভারত তাকে ওই অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, আমন্ত্রণটি ছিল বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক রাজিব খানকে মামলা দেওয়ার হুমকি নার্স সোনিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ এম


সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক রাজিব খানকে মামলা দেওয়ার হুমকি নার্স সোনিয়ার

সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে সাড়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক মোঃ রাজিব খানকে মামলা ও আইনি হয়রানির হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স সোনিয়া আক্তার। বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের (সদর হাসপাতাল) এই নার্সের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওযাইফারি কাউন্সিল রেজিস্ট্রার, (বি এন এমসি), (বিজিএনএম) মহাপরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে এবং থানায় লিখিত অভিযোগের খবর গণমাধ্যমে আসায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি এই হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ রাজিব খান জানান, কাঁঠালিয়া থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ এবং ব্যাংক ও রেমিট্যান্স লেনদেনের অকাট্য দাপ্তরিক প্রমাণের ভিত্তিতেই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু নিজের অপরাধ ঢাকতে ও সত্য ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত সোনিয়া আক্তার এখন সাংবাদিককে মুঠোফোনে মামলা ও নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: কাঁঠালিয়া থানার দক্ষিণ আনইলবুনিয়া গ্রামের মো: রিফাত হোসেনকে একটি সরকারি হাসপাতালে 'অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট' পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন ও ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে সর্বমোট ৬,১০,০০০ টাকা নেন সোনিয়া আক্তার। পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় রিফাত টাকা ফেরত চাইলে তিনি মাত্র ৫৫,০০০ টাকা ফেরত দিয়ে অবশিষ্ট ৫,৫৫,০০০ (পাঁচ লাখ পঞ্চান্ন হাজার) টাকা আত্মসাৎ করেন। এই নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওযাইফারি কাউন্সিল রেজিস্ট্রার, (বি এন এমসি), (বিজিএনএম) মহাপরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে এবং কাঠালিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ: সত্য প্রকাশ করায় সাংবাদিককে মামলা ও হয়রানির হুমকি দেওয়ায় ঝালকাঠি ও কাঁঠালিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত বলে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

সাংবাদিক মোঃ রাজিব খান এই বিষয়ে নিজের নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। কাঁঠালিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মূল প্রতারণার ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি সাংবাদিককে হুমকির বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%