শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২১ পি.এম
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচয়ের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার পর পুলিশের অবহেলা বা গাফিলতি রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা অবশ্যই পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমরা দেখছি এ ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো অবহেলা ছিল কিনা।"
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ঘটনাস্থলের নিকটেই থানা থাকা সত্ত্বেও কেন এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা গেল না, জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, "যেহেতু গভীর রাতের ঘটনা, তো আমরা দেখছি জানার পরও পুলিশ এখানে সময়মতো এসেছিল কি-না এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা রয়েছে কি-না।" ইতোমধ্যে পুলিশের দারুসসালাম জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়াকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করে শনিবারই প্রতিবেদন দেবে। কমিশনার জানান, "এই রিপোর্ট পাওয়ার সাপেক্ষে পুলিশের কোনো সদস্যের যদি এখানে অবহেলা থাকে, গাফিলতি থাকে, তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।"
তিনি আরও বলেন, "আমি আজকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখলাম। তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে এটা আধা ঘণ্টা এক ঘণ্টায় করা সম্ভব নয়। একটু সময় নিয়েই ভাঙচুর করা হয়েছে।"
ঘটনাটি জানার পরপরই তিনি মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। ডিএমপি কমিশনার জানান, "আমরা চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য আমাদের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। একজনের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করতে পারব। আমাদের অফিসার এবং ফোর্স সবাই অভিযানে রয়েছে।"
রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমাদের বার্তা সবসময় খুব স্পষ্ট। আমরা কোনো দল দেখব না, কোনো মত দেখবো না। সবসময় দেখব অপরাধীকে। যে অপরাধী তাকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। কোনো ধরনের বেআইনি কার্যক্রম, কোনো দখল কেউই করতে পারবে না। সেটা যেই করবে তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ মো. মনির হোসেন, যিনি মোবাইল মনির নামে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।
এর আগে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় আশুলিয়ার নবীনগর সেনা শপিং কমপ্লেক্স এলাকা থেকে মনিরকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মনির হোসেন (৪৬) সাভার পৌরসভার উত্তর রাজাসন এলাকার মো. ইউনুস খানের ছেলে। তিনি সাভার সদর ইউনিয়নের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, মনির হোসেনের বিরুদ্ধে সাভারে সংঘটিত ছাত্রহত্যা এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সাভার মডেল থানায় একাধিক হত্যা মামলার আসামি এবং রাজধানীর কোতোয়ালী থানার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। শনিবার দুপুরে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী পরশ (৩৫) নামের এক সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ঢামেক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মৃত্যু শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল বেলায় ঘটে।
সূত্র থেকে জানা যায়, কারারক্ষীরা বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে পরশকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সেলিম হোসেন জানান, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বাবার নাম লিয়াকত। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম-সেবা) পদকে সম্মানিত হয়েছেন। শনিবার রাজারবাগ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানকে এই পদক প্রদান করেন।
এ পদকটি পেশাদারিত্ব, কর্মদক্ষতা, সততা, সাহসিকতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জননিরাপত্তা ও জনসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জানায়, এই অর্জন পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের পেশাগত নিষ্ঠা, দক্ষ নেতৃত্ব, সততা, সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি। তাঁর এই সফলতা জেলা পুলিশের সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও নিষ্ঠাবান ও জনসেবায় নিবেদিত হতে অনুপ্রাণিত করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতিবছর সোমেশ্বরী নদীতে পাহাড়ি ঢল আসার ফলে আতঙ্কে থাকতে হয় রানীখং ধর্মপল্লী, রানীখং প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। যখন প্রবল স্রোত ও নদীভাঙনের আশঙ্কা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে, তখন জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগ ও অর্থায়নে ভাঙনপ্রবণ স্থানে জিওব্যাগ ফেলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছে। রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়, রানীখং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাধু যোসেফ ধর্মপল্লী রক্ষা পাওয়ায় এলাকাবাসী ডেপুটি স্পিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ১নং কুল্লাগড়া ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অবস্থিত এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর ভারত থেকে আসা ঢলে প্লাবিত হয়। প্রবল স্রোতে নদীর পাড় ভাঙতে শুরু করে। নদীর স্রোত ভয়ংকর রূপ ধারণ করলে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাড়ি-ঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরবর্তীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ে। ভাঙন বাড়তে থাকায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
এলাকার শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি স্থানীয়রা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয়কে অবহিত করেন। এরপর তিনি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে পাড় রক্ষার ব্যবস্থা করেন। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগের ফলে শতবছরের ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এনি মৃ বলেন, "আমাদের স্কুলটি নদীর তীরে অবস্থিত। ভারত থেকে অতিরিক্ত পানি যখন এই নদীতে চলে আসে, তখন নদীর পানির স্রোত বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে স্কুলের সীমানা প্রাচীর পর্যন্ত চলে আসছিলো। এতে আমরা খুবই চিন্তিত ছিলাম। পরবর্তিতে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যার ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি পাড় ভাঙন রোধ করার জন্য আমাদের এখানে জিওব্যাগ দিয়ে বাঁধের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তবে আমাদের অনুরোধ, তিনি যেন এই বাঁধটি স্থায়ীভাবে আরও ভালোভাবে নির্মাণের ব্যবস্থা করেন।"
রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর পলিনোস রিছিল বলেন, "রানীখং উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্বপাশ দিয়েই সোমেশ্বরী নদী বহমান। বর্ষাকালে নদীটি উত্তাল রূপ ধারণ করে এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পাড় ভাঙন অব্যাহত থাকে। এরই ফলে আমাদের ওয়ালগেটের পাশে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। প্রতি বছর গর্তটি বড় হয়ে বিদ্যালয়ের ওয়ালগেট ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এরই মধ্যে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয়ের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় এবং ওনার নিজ অর্থায়নে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগের মাধ্যমে পাড় ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে পাড় ভাঙন বন্ধ রয়েছে এবং আমরা উপকৃত হয়েছি। আগামী দিনে এই পাড় ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করতে সিসি ব্লকের মাধ্যমে টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ডেপুটি স্পিকার মহোদয়কে অনুরোধ জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে ধর্মপল্লীর সিস্টার মিলিনিউটি বলেন, "আমি রানীখং ধর্মপল্লী এলাকায় বসবাস করি। আমাদের এখানে স্কুলের পাশে বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। বর্ষা ও বন্যার সময় পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবল বেগে নেমে আসে। তখন নদীভাঙনও শুরু হয়। মিশনের আশপাশেও বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয় আমাদের জন্য বাঁধের ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য আমরা তাঁকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।"
অন্যদিকে রানীখং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুমা আরেং বলেন, "সোমেশ্বরী একটি পাহাড়ি নদী। ভারতের পাহাড়ি এলাকা থেকে এই নদীতে পানি আসে। বর্ষাকালে নদীটি প্রবাহমান হওয়ার পাশাপাশি অনেক ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। বন্যার সময় পাহাড়ি ঢল নেমে এলে আমাদের এলাকায় যে ভাঙন হয়, তা অত্যন্ত মারাত্মক। ভাঙ্গনের বিষয়টি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয় জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকার করছি।"
স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষগণ বলেন, সীমান্তবর্তী কুল্লাগড়া ইউনিয়নের এ অঞ্চলে পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে এলে সোমেশ্বরী নদীর স্রোত বেড়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর ভাঙতে থাকে। সময়ের সঙ্গে ভাঙন বাড়তে থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, বসতবাড়ি ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
জিওব্যাগ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পাড় রক্ষার উদ্যোগ নেওয়ায় বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা অনেকটা কমেছে বলে জানান তারা। তবে, এটি তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। দীর্ঘমেয়াদী নদী ভাঙন বন্ধ করতে প্রয়োজন স্থায়ী ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা। এর ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ধর্মপল্লী ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ