বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১১ পি.এম
ভোলার মনপুরায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন হাজীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে তারা এ কর্মসূচি আয়োজন করেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১২টায় ডাকবাংলো মোড় এলাকায় অবস্থিত ওজোপাডিকোর কার্যালয়ের সামনে তিন শতাধিক ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির শেষে তারা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) কে এম ফরিদুল ইসলামের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা ও তাদের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, দিনে-রাতে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা থাকলেও তারা ২৪ ঘণ্টায় মাত্র এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। এই অবস্থায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় চরম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তারা দাবি করেছেন যে, প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। অন্যথায়, বাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান তারা।
জানা গেছে, মনপুরায় পাওয়ার হাউজের জেনারেটরের মাধ্যমে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ওজোপাডিকো। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে মেশিন নষ্ট থাকার অজুহাতে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা। এ কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। এর আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ওই কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
হাজীরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি হাজী নিজাম উদ্দিন ও হাজী বেলায়াত হোসেন বলেন, "দিনে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, রাতে মেলে মাত্র এক ঘণ্টা। এতে প্রতিনিয়ত লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।" তারা জানান, এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত সমস্যার সমাধান না করে, তবে তারা পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) কে এম ফরিদুল ইসলাম বলেন, "আমাদের তিনটি জেনারেটরের মধ্যে দুটি নষ্ট থাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে জেনারেটরগুলো সচল করা সম্ভব হলে হাজীরহাট বাজারে টানা তিন ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আলজেরিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সার রপ্তানিতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতি আগ্রহী। আলজেরিয়া বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশটির বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবিত করা এবং ওষুধ ও চামড়াশিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা করেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজিয়ার্সে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আত্তাফের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী। বিশেষভাবে জ্বালানি, সার, কৃষি, বস্ত্র, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই সমঝোতার আওতায় সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থায় আলজেরিয়া থেকে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া, বাংলাদেশে তেল শোধনাগার ও এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কয়লা ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে আলজেরিয়ার পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচি পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং বাংলাদেশের কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বৈঠকে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতা স্মারকটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সই করার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশের কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে সার আমদানির বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এর জবাবে আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আলজেরিয়া বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। পাশাপাশি, ওষুধ, চামড়া ও বস্ত্রশিল্পে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই মন্ত্রী।
বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে নিয়মিত পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের আলোচনা বা ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনের গুরুত্বও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠক শিগগিরই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেন দুই মন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকটি আন্তরিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার সাঁথিয়া পৌর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব মুজাহিদ ফকিরের ফেসবুক স্টোরিতে ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ প্রদর্শনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ফলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ভিডিওটি আপলোড করার প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই নেতা তা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে মুছে ফেলেন।
তবে এর আগেই অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটি ডাউনলোড ও স্কিনশট করে নেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করে নেটিজেনরা ওই এনসিপি নেতার শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুজন ব্যক্তির হাত ও পায়ের কিছু অংশ দৃশ্যমান। এদের মধ্যে একজন একটি আগ্নেয়াস্ত্র ফ্লোরে রাখার পর অন্যজন সেটি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে প্রদর্শন করছেন। তবে পুরো ভিডিওতে দুজনের কারোরই মুখ কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশ স্পষ্ট দেখা যায়নি।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। রাজনীতিবিদরাও উদ্বেগ জানিয়েছেন।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, "যে ধরণের অস্ত্রই হোক, এভাবে প্রদর্শন করার উদ্দেশ্য জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা বলে আমরা মনে করছি।"
তিনি আরও বলেন, "কিছুদিন আগে সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী ভালো কাজে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করলেও তাকে মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক নেতা হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝে মাঝেই এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করছেন মুজাহিদ ফকিরসহ কয়েকজন। দ্রুতই এদের ব্যাপারে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এগুলো এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।"
সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, "মুজাহিদ ফকির এর আগেও ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছিলেন। তবে সে সময় পুলিশের তদন্তে সেটি খেলনা পিস্তল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এবার যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি আসল কোনো আগ্নেয়াস্ত্র কিনা- তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।"
ওসি আরও বলেন, "এটি যদি আসল আগ্নেয়াস্ত্র হয়ে থাকে, তবে তা প্রদর্শনের কোনো আইনি বৈধতা রয়েছে কিনা-তা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া একজন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশে এই পোস্ট দেওয়া হয়েছে কিনা- সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।"
এদিকে সাঁথিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. বকুল বলেন, "কয়েকদিন ধরেই মুজাহিদের মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের ব্যাপারে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না, ভিডিওটি দেখিনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি শুনতে পেয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারব।"
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুজাহিদ ফকিরের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল মন্তব্য করেছেন যে, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বাংলাদেশ, বিশেষ করে কক্সবাজার, বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা এবং সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত ‘উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের পূর্ণ-নাগরিক মর্যাদায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদস্থ ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়ন এবং নাগরিক অধিকার হরণের অবসান ঘটিয়ে তাদের নিরাপদ, সম্মানজনক এবং টেকসই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট কক্সবাজারসহ দেশের ওপর বহুমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং ভবিষ্যতে পুনরায় বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি এড়াতে, মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সদস্য সচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন হাবিব।
জেলা সদস্য হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক, জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরের মুহাদ্দিস মাওলানা ড. হারুন আজিজী নদভী। বিশেষ আলোচক হিসেবে ছিলেন জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা হাফেজ ছালামতুল্লাহ, রামু জোয়ারিয়ানালা এমদাদুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হাফেজ আব্দুল হক, কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রাহমত সালাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কক্সবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা আফসার উদ্দিন চৌধুরী, হাশেমিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা এনামুল হক, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আখতারুল আলম, জেলা নেজামে ইসলাম পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল হক চকোরী, এড. নেজামুল হক, কক্সবাজার জেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি বেলাল তৌহিদ, ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ অলি উল্লাহ আরজু প্রমুখ।
বক্তারা রোহিঙ্গা সংকটের কারণে কক্সবাজারের পরিবেশ, বনভূমি, স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, জনস্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোর ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক পাচার, অপহরণ, মানবপাচার, সহিংসতা এবং অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছেন যে, বট ও গুপ্ত শুধু জামায়াত-শিবির কিংবা আওয়ামী লীগে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিএনপিতেও তাদের অস্তিত্ব রয়েছে।
বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে দেশের ‘বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জ ও বগুড়াকে আলাদাভাবে দেখতে চান না এবং সরকার দেশের সব অঞ্চলের সমান উন্নয়নে বিশ্বাসী। তাই বগুড়ার উন্নয়নে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের দুর্গোৎসবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বাইরে তিনটি অঞ্চলে দুর্গাপূজা পরিদর্শনে গেছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। বিগত নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন, এবং সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে সারা দেশে ১ হাজার ২০০টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছে।
বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়া একটি কৃষি ও খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস, এবং প্রধানমন্ত্রী সমতাভিত্তিক উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, বগুড়ার জন্য অতিরিক্ত কিছু চাওয়া হচ্ছে না; বরং বিগত সময়ে যে উন্নয়ন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে চাওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ২০ বছর বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফখরুদ্দীন-মঈন উদ্দিনের সরকারও ছিল ভয়াবহ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধোঁকা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ, বিমানবন্দর, সিটি করপোরেশন, স্পোর্টস ভিলেজ, সড়ক উন্নয়ন, পৌরসভার উন্নয়ন, বগুড়া ওয়াসা এবং বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ