শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৫ পি.এম
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিএনপির মধ্যে চাঁদাবাজ খোঁজার অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি সাংবাদিকদের একটি ছবি দেখিয়ে মন্তব্য করেন, ‘এইযে আসিফ মাহমুদের ডান পাশে চাঁদাবাজ, বাম পাশে চাঁদাবাজ অথচ সে বিএনপির মধ্যে চাঁদাবাজ খোঁজে।’রাশেদ খান উল্লেখ করেন, আসিফ মাহমুদের একপাশে ইসহাক সরকার এবং অন্য পাশে শাহরিয়ার রয়েছেন। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) পল্টনে আমজনতার দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইয়েরা দেখা যায় ছবিটা স্পষ্ট? আচ্ছা বলেন তো, ইসহাক সরকারের বিরুদ্ধে যুগান্তর পত্রিকায় কি অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছিল- পাথর দিয়ে মানুষ মারা...? চাঁদাবাজির লোভে পাথর দিয়ে মানুষ মারার অভিযোগ, তাই না? হেডলাইন তো এরকম ছিল।’রাশেদ খান আরো বলেন, ‘আরেকজন শাহরিয়ার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব। কয়েকদিন আগে গণমাধ্যমে কি নিউজ হলো- হোটেলে...সেখানে অনেক কিছু হয়েছে, হোক সমস্যা নেই, সেটা নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই। প্রবলেমটা হলো যে, হোটেলের বিলটা কেন দিল না? বছর ধরে সেখানে থাকলো, গেল, বিভিন্ন লোকজনের আনাগোনা।’তিনি যোগ করেন, ‘যাই হোক, আজকে আসিফ মাহমুদ সৌদি আরব থেকে ওমরাহ করে ফিরেছেন, আসিফের ডান পাশে চাঁদাবাজ, বাম পাশে চাঁদাবাজ। সে আজকে বলছে যে, চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেট আবারো ফিরে এসেছে। আসিফ মাহমুদের দুই পাশে চাঁদাবাজ অথচ সে বিএনপির মধ্যে চাঁদাবাজ খোঁজে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোহাম্মদপুর থানা ২৬ জন, আদাবর থানা পুলিশ ২৩ জন, হাতিরঝিল থানা পুলিশ ১৩ জন, তেজগাঁও থানা পুলিশ ৭ জন, শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ৭ জন এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ ৭ জনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. মামুন খান (২৬), ইমতিয়াজ আহম্মেদ আসিফ (৩০), মো. সজীব হোসেন (৩৬), সাব্বির (২১), মো. বাবু হোসেন (২৩), মো. রবিউল (২৯), হাফিজুর রহমান (৫৫), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩০), মো. রহিম (২৯), বিপ্লব পাল (২১), মো. ফয়সাল (১৮), মো. খোকন (১৯), মো. আলী (২০), ময়ুখ আমিন (৩০), মো. রাহিম সরকার (২১), মো. সাজেদুল ইসলাম শাওন (৩৫), সরোয়ার আহমেদ মুহিন (২৭), মো. মাঈনুদ্দিন (৩২), মো. তারেক (১৯), শামীনুর রহমান ওরফে শামীম আল নকশাবন্দী (৩৬), মো. জাবেদ (৪৯), মো. আশরাফ (৪১), মো. তারেক (১৯), মো. আব্দুল সাত্তার (৩৫), সুলতান (৩৪), মো. শাহজাহান (৪৮), মো. মাসুদ (২৮), মো. মেহেদী হাসান হৃদয় (২৩), মো. আশরাফুল ইসলাম (৩৫), মো. মৃদুল হাসান (২১), মো. আশিক (২৩), মো. সজিব হোসেন শান্ত (২১), মো. হোসাইন (২১), নুর মোহাম্মদ বাবলু (৩৫), মো. আশিক (২২), মো. রাজা (২২), মো. জনি মাঝি (২৪), মিম্নো সরকার (৩৫), মো. মিরাজ (২৪), মো. মামুন (২৪), মো. মোর্শেদ আলম, মো. অমিত হাসান (২৬), মো. রেজাউল ওরফে সজিব (২৫), মো. রাব্বী (২২), বদিউজ্জামান ওরফে জামাল (৪৫), মো. জিয়ারুল (৪৫), মো. রাজা (৪৫), মো. শাহজালাল ওরফে আকাশ (১৯), ইব্রাহিম আকন্দ হালিম (৪২), মো. হাবিব (১৯), মো. সজীব খাঁন (২৪), মো. সজিব (২০), মো. হান্নান (৬৫), মো. দেলোয়ার (৭১), মো. হোসাইন (২৪), মো. ওয়াসিম (২৬), মো. ইমন (২৬), মো. মনির হোসেন (১৮), মো. আরিফ হোসেন (২২), মো. হৃদয় (১৯), লিটন (৩১), মো. সাইফুল ইসলাম (৫০), মো. কাউছার (১৮), মো. ইয়াসিন আরাফাত (২০), মনির হোসেন (২৪), মো. রিফাত রহমান (২৬), শিফাত খান (২৪), মো. রায়হান (২০), মো. ইউনুস খান (৩১), মো. ইমরান হোসেন সৈকত (২৪), মো. লাবু ইসলাম সাগর (২০), মো. মারুফ আহম্মেদ (২৭), মো. কামরুল ইসলাম (৩৬), মো. নূর আলম (৪৫), মো. আলতাফ হোসেন (৪৫), সাকিব (৩০), মো. মাসুদ (৩৮), বাদল (২৯), ইসরাফিল (৪০), বিল্লাল (৪২), মো. আল আমিন (২২), রবিউল (২৫) ও মো. আরিফ হাওলাদার (২৬)।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে একটি নতুন ইতিহাস গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, যিনি দীর্ঘস্থায়ী সরকারের রেকর্ড স্থাপন করেছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য পরিচিত ইতালির রাজনীতিতে তাঁর এই অর্জন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।২০২২ সালের অক্টোবরে মেলোনির ডানপন্থী দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি' ক্ষমতায় আসে। তিনি ১,৪১২ দিনেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির একক মেয়াদের দীর্ঘতম শাসনকালকে অতিক্রম করেছেন।
এই ঐতিহাসিক অর্জনের ফলে ইতালির বিভিন্ন স্থানে উল্লাস প্রকাশ করছেন মেলোনির সমর্থক ও দলের কর্মীরা। কনিষ্ঠ আইনপ্রণেতা গ্রাৎসিয়া দি মাজ্জো বলেন, "এটি কেবল একটি রাজনৈতিক মাইলফলক নয়, বরং গভীর প্রতীকী অর্থ বহন করে। প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ডানপন্থী রাজনৈতিক পটভূমি থেকে এসে এমন রেকর্ড গড়া প্রমাণ করে যে সততা, ত্যাগ ও যোগ্যতা দিয়ে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মেলোনির এই দীর্ঘস্থায়িত্বকে কতটা "স্থায়িত্ব" এবং কতটা "স্থবিরতা"—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রোমা ট্রে ইউনিভার্সিটির সমকালীন ইতিহাসের শিক্ষক পাওলো কারুসি জানান, মেলোনির দীর্ঘ মেয়াদের পেছনে ২০১৮ সালের নির্বাচনী আইন কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, যা তার জোটকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সহায়তা করেছে। এছাড়া, নির্বাচনী প্রচারণার কিছু উগ্র এজেন্ডা থেকে সরে এসে জোট সঙ্গীদের ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তার দল।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিজ্ঞানী পিয়েরো ইনগিয়াজি মনে করেন, এই স্থায়িত্বের আড়ালে অর্থনৈতিক স্থবিরতা রয়েছে। ২০২৬ সালে ইতালির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৬ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস রয়েছে এবং দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ ঋণের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। পাশাপাশি, মেলোনি সরকারের আমলে প্রতিবাদ ও জনবিক্ষোভ দমনে অন্তত ৫২টি নতুন অপরাধমূলক ধারা সংযোজন নিয়ে মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এমন পরিস্থিতির পরও, রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত ইতালিতে, যেখানে গত আট দশকে ৬৮ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে, মেলোনির এই টানা শাসন ইতালীয় রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিজেপির সদস্যের বাবার ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার ফলে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উঠেছে।
যন্তর মন্তরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালীন, ককরোচ জনতা পার্টির এক সদস্যের বাবার ওপর হামলা চালানো ব্যক্তিকে প্রভাবশালী নেতার হস্তক্ষেপে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে।সম্প্রতি সিজেপির বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ঘটনা ঘটেছে, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একটি ভিডিওতে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ নামে এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, যিনি সিজেপির বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী নিশু আজাদের বাবার মাথায় আঘাত করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপের কারণে পুলিশি পদক্ষেপ থেকে বেঁচে গেছেন। ভরদ্বাজ জানান, তার হাতে থাকা কড়া (ধাতব বালা) দিয়েই আঘাত করা হয়েছিল। তিনি নিজেকে হিন্দুত্ববাদী হিসেবে পরিচয় দেন।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে ভরদ্বাজ আরো দাবি করেন, ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হলেও দিল্লি সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী কপিল মিশ্রের ফোন পাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তারা বিক্ষোভকারীদের মারধর করা ব্যক্তিদের রক্ষা করেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় কপিল মিশ্রের প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে যে মারধরের ঘটনায় কেউ হস্তক্ষেপ করেনি।
বিতর্কের সূত্রপাত
স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ সম্প্রতি একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন যা ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি একজন ইনফ্লুয়েন্সার যিনি নিজেকে হিন্দুত্ববাদী বলে পরিচয় দেন।
ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, "আমরা নিশুর বাবার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছি। আপনারা জানেন যে এ ক্ষেত্রে (আইনের) কোন ধারা প্রযোজ্য- ৩০৭ নম্বর ধারা। ওর (যার মাথায় আঘাত লেগেছিল) মাথায় সাতটা সেলাই পড়েছিল, তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যেতে হয়েছিল।"
"আমাকে জেলেও যেতে হয়নি। সারা বিশ্বের জানা উচিত যে আমাকে জেলে যেতেই হয়নি। আমি তো গোটা রাত ঘুরে বেরিয়েছি।"
এই ভিডিওতে তিনি বিজেপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তার পরিচয় আছে বলেও দাবি করেছেন।
তবে বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ দাবি করেছেন যে, তিনি আত্মরক্ষার্থে হামলা করেছিলেন এবং সেই সময়ে আত্মরক্ষা না করলে গণপিটুনির শিকার হতেন।
এরপর নিশু আজাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বলেন, "স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের একটা ভিডিও সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে তিনি নিজেই স্বীকার করছেন যে তিনি আমার বাবার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনা উচিত ছিল, ৩০৭ ধারায় মামলা করা উচিত ছিল।"
"যখন সে তার বাবার মাথা ফাটিয়ে দেন তখন আমরা তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলাম, কিন্তু পুলিশ কিছুই করছে না। তারা মেডিকেলের নামে ঘোরাচ্ছে। আমি দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে ন্যায়-বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছি।"
"রাহুল গান্ধী, আপনার কাছে আমার প্রত্যাশা আছে। আমি আশা করি আপনি আমাকে ন্যায়বিচার পেতে সাহায্য করবেন। যাদের মনে আইনের ভয় নেই, কীভাবে অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারে তারা? এদের জেলে থাকা উচিত।"
এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন।
তিনি লেখেন, "আমাদের যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে বিজেপি-সমর্থিত গুন্ডা স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের হাতে সঞ্জয় নামের এক দলিত সম্প্রদায়ের ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার পর কী ঘটেছিল তা আমি আপনাদের বলছি - সঞ্জয়ের মাথা ফেটে গিয়েছিল। ক্ষত এতটাই গুরুতর ছিল যে এফআইআর-এ স্পষ্টভাবে খুনের চেষ্টার উল্লেখ থাকা উচিত ছিল। পুলিশ এই ধারা যোগ করতে রাজি হয়নি।"
তিনি আরো অভিযোগ করেন যে, গুরুতর আঘাতের মামলায় যে ধারা ব্যবহার করার কথা, তাও দেওয়া হয়নি। সৌরভ দাসের দাবি, ডিসিপি শচীন শর্মা এবং এসিপি অজয় শর্মা তাদের অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, যান, আদালতের আদেশ নিয়ে আসুন।
পাশাপাশি আহত ব্যক্তির মেডিকেল রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের সঙ্গে ওইদিন আরো অনেকে ছিলেন বলে দাবি করে সৌরভ দাস অভিযোগ করেছেন যে সেই সহযোগীদের এখনো শনাক্ত করা হয়নি।
সিজেপির বিক্ষোভ
নিশু আজাদ এবং তার বাবার জন্য ন্যায়বিচার চাইতে শুক্রবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এসে উপস্থিত হন সিজেপির সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। সিজেপির সমর্থকদের অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সেখানে আশুতোষ রাঙ্কা সাংবাদিকদের বলেন, "যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলার সময় নিশুর বাবা সঞ্জয়কে মারধর করা হয়েছিল। আমরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছি। দিল্লির পরিস্থিতি এখন এমন যে, অপরাধী প্রকাশ্যে নিজের অপরাধ স্বীকার করছে। কিন্তু বিজেপির ইশারায় দিল্লি পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা নিশু এবং তার বাবার পাশে দাঁড়িয়েছি। আমরা পুলিশের কাছে হত্যা মামলা দায়ের করার দাবি জানাচ্ছি।"
সিজেপির সমর্থকরা থানার বাইরে বিক্ষোভও দেখান।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিশু আজাদ বলেন, "পুলিশ কর্মকর্তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বতন্ত্রকে গ্রেফতার করা হবে। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং আমরা আশা করি এতে আর দেরি হবে না। বেশ কয়েকদিন ধরে তার সমর্থকরা আমাকে গালিগালাজ করছে, ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে।"
"আমি তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দায়ের করেছি। এই ঘটনা আমাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে। আমি কয়েক সপ্তাহ স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম এবং মনে হচ্ছিল সবাই আমাকে বিচার করছে। আমি আশা করি পুলিশ এখন ব্যবস্থা নেবে এবং নিশ্চিত করবে যে আমাকে আর কোনো কষ্ট ভোগ করতে না হয়।"
পুলিশের বক্তব্য
সৌরভ দাসের পোস্টের জবাবে, নিউ দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি নিউ দিল্লি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেছেন, "২৩শে জুন, যন্তর মন্তরে সিজেপি-র প্রতিবাদ চলাকালীন গাজিয়াবাদের বাসিন্দা শ্রী সঞ্জয় কুমার (৩৮) একটা কথিত ধস্তাধস্তির সময়ে এক ব্যক্তির পরা ব্রেসলেট দ্বারা মাথায় আঘাত পান। আরএমএল হাসপাতালের ডাক্তাররা তাকে পরীক্ষা করে আঘাতকে সাধারণ প্রকৃতির বলে বর্ণনা করেছেন। ওই আঘাত কোনো অস্ত্রের দ্বারা হয়নি, বরং ব্রেসলেটের দ্বারা হয়েছে। মাথার খুলি ভাঙার অভিযোগ কোনো তথ্য বা মেডিকেল-লিগাল কেস সমর্থিত নয় এবং তা সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন।"
তিনি লিখেছেন, "তার (সঞ্জয়ের) জবানবন্দির ভিত্তিতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় একটা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে এবং তদন্তের সময় সুরজ কুমার (২৪) ও স্বতন্ত্র ভরদ্বাজকে (২১) আইন অনুযায়ী নোটিশ জারি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিগগিরই উপযুক্ত আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করা হবে।"
দিল্লি পুলিশের তরফে এই ঘটনায় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করা হয়েছে।
এক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, "এই মামলায় কোনো অযাচিত প্রভাব বা হস্তক্ষেপের অভিযোগ তথ্যগতভাবে ঠিক নয় এবং ভিত্তিহীন। বিষয়টা কঠোরভাবে আইন ও নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী সমাধান করা হয়েছে।"
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ দিল্লি পুলিশের পোস্টে মন্তব্য করে বলেছেন, "অপরাধী বলছে আমি অপরাধ করেছি, দিল্লি পুলিশ বলছে না, আপনি অপরাধ করেননি।"
রাজনৈতিক বিতর্ক
রাজনৈতিকবিশ্লেষণ পরিষেবা
নিশু আজাদ ন্যায়বিচার পেতে সাহায্যের জন্য রাহুল গান্ধীর কাছে আবেদন জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। এর পর রাহুল গান্ধীও এক্স- এ পোস্ট করেন।
রাহুল গান্ধী লিখেছেন, "নিশু, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো দরকার নেই। আমি তোমার সঙ্গে আছি। এটা স্পষ্ট যে তোমাকে নিশানা করা হয়েছে কারণ তুমি তোমার সম্প্রদায় এবং শিক্ষার্থীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলো। একদিকে অমিত শাহের দিল্লি পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর অমানবিক বর্বরতা চালায়। অন্যদিকে, যে অপরাধী এক দলিত মেয়ের বাবার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, সে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।"
তিনি বলেন, "নরেন্দ্র মোদীজি এবং অমিত শাহজি আপনারা এবং আপনাদের দলের সদস্যরা কেন এমন একজন অপরাধীকে রক্ষা করছেন? এখন কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কি আপনারা অন্য কাউকে রক্ষা করে যাবেন? নিশু, তোমার লড়াই একা নয়। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।"
দিল্লি পুলিশের টুইটের জবাবে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সকেত গোখলে লিখেছেন, "দিল্লি পুলিশ, তোমাদের কি কোনো লজ্জা নেই? অভিযুক্ত নিজেই ভিডিওতে খোলাখুলিভাবে বলছেন যে একজন বিজেপি মন্ত্রী তাকে বাঁচিয়েছেন এবং পুলিশ তাকে সহজেই ছেড়ে দিয়েছে। এটা অত্যন্ত হতবাক করার মতো। একজন ব্যক্তি খোলাখুলিভাবে বলছেন যে তিনি এটা করেছেন, আর দিল্লি পুলিশ বলছে যে তারা এটা করেনি।"
আম আদমি পার্টি তাদের এক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, "প্রধানমন্ত্রী আমাদের বড় ভাই। এই কথাগুলো বলছে একজন রাস্তার গুন্ডা, যে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তার নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে প্রতিদিন গুন্ডামি করছে। প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের গুন্ডাদের সুরক্ষা দিচ্ছেন।"
সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব এক্সে লিখেছেন, "বিজেপি কি সরকার, নাকি অপরাধীদের উকিল?"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল অভিযোগ করেছেন যে, ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে আহসান এইচ মনসুর পাঁচটি ব্যাংককে একত্রিত করেছেন। তিনি এই অভিযোগটি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শো অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।মাসুদ কামাল বলেন, "আহসান এইচ মনসুর যখন ব্র্যাক ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন, তখন নজরুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে তার একটি ঝামেলা হয়েছিল। ওই প্রতিশোধ নিতে তিনি এক্সিম ব্যাংককে দমিয়ে দিয়েছেন।"তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এক্সিম ব্যাংক একটি ভালো ব্যাংক ছিল। কিন্তু তাকে খারাপ করে পাঁচটি ব্যাংককে সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংকে পরিণত করা হয়েছে।"জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল আরও বলেন, "এই পাঁচটি ব্যাংকের ৭৫ লাখ গ্রাহক এখন ‘ফে ফে’ করে রাস্তায় ঘুরছে। যারা এক্সিম ব্যাংকে টাকা রাখে, তারা কি নজরুল ইসলাম মজুমদারকে চেনে? তারা কাউকে চেনে না, তারা চেনে সরকারকে, তারা চেনে রাষ্ট্রকে—যে রাষ্ট্র এই ব্যাংকগুলিকে অনুমতি দিয়েছিল।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ