রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০৭ পি.এম
শরীয়তপুরের ধানুকা এলাকায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পাঁচটি তালা ভেঙে মালামাল চুরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে যেকোনো সময় এই চুরির ঘটনা ঘটে।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে অফিসের কার্যক্রম শেষ করে কর্মকর্তারা কার্যালয় তালাবদ্ধ করে বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে শনিবার সন্ধ্যায় অফিস সহকারী বোরহান হাওলাদার জরুরি কাজে কার্যালয়ে এসে দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। তিনি ভেতরে প্রবেশ করে অফিসের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান।
কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ও মালামাল যাচাই করে দেখা যায়, পাঁচটি তালা ভেঙে একটি ল্যাপটপ, তিনটি ট্যাব ও একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানায়, গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথিপত্র তছনছ বা চুরি হয়নি।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, বৃহস্পতিবার বিকেলে অফিস বন্ধ হওয়ার পর থেকে শনিবার সন্ধ্যায় অফিস খোলার আগের যেকোনো সময় চুরির ঘটনাটি ঘটেছে। দুইদিন অফিস বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে চোরেরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুদ মামুন বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় আমাদের অফিস সহকারী বোরহান আমাকে ফোন করে জানান অফিসের তালা ভাঙা। পরে এসে দেখি পাঁচটি তালা ভেঙে একটি ল্যাপটপ, তিনটি ট্যাব ও একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। তবে কোনো নথিপত্র তছনছ করা হয়নি। বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ দিতে বলেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : যুদ্ধবিধ্বস্ত রাজধানী শহরে নতুন করে জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ঘরে ফিরেছেন বসিন্দারা। কিন্তু বিদ্যুৎ, পানি, কর্মসংস্থান ও ওষুধের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে সুদানের রাজধানীর অনেক বাসিন্দাই এখন মনে করছেন, ফিরে না এলেই ভালো হতো।
২০২৩ সালে সেনাবাহিনী ও একটি আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে খার্তুম থেকে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ পালিয়ে যায়। ওই সংঘাতে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
খার্তুম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তবে, গত বছর সেনাবাহিনী খার্তুম পুনর্দখল করার পর আনুমানিক ২৭ লাখ মানুষ ফিরে এসেছে। ঘরে ফেরার আনন্দের সঙ্গে তাদের এখন সেখানে বসবাসের কঠিন বাস্তবতারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী ইমাদ খালেদ তার পরিবারকে আবার মিসরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তবে কাজের জন্য তিনি খার্তুমেই থাকছেন।
৪৩ বছর বয়সী ইমাদ শহরের কেন্দ্রের কাছে এএফপিকে বলেন, ‘পরিবারকে ফিরিয়ে আনা ভুল হয়েছিল।’ শহরের কেন্দ্রজুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ও বোমায় বিধ্বস্ত ভবন দেখা যায়।
খার্তুমে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়া একাধিক সরকারি কর্মকর্তাও এএফপিকে জানিয়েছেন, তারাও তাদের পরিবারকে দেশের বাইরে রেখে যাচ্ছেন।
সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সুদানের অন্য এলাকাতেও এখনো লড়াই চলছে। এর মধ্যে রয়েছে দারফুর, কোর্দোফান ও ব্লু নাইল অঞ্চল।
খার্তুমের বাসিন্দাদের ফিরে আসতে জোরালোভাবে উৎসাহিত করছে সেনাবাহিনী। তারা বিমানবন্দর পুনর্নির্মাণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য খুলে দিয়েছে। অবকাঠামোরও কিছু সংস্কার করা হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ ও পানি এখনো একটানা কয়েক দিন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন থাকে। রাজধানীজুড়ে বাজারগুলো আবার খুললেও অনেক মানুষ বেকার। তাদের কেনাকাটার সামর্থ্যও কম।
‘প্রতিদিনই দাম বাড়ছে’-
জুন নাগাদ খার্তুমের মাত্র এক শতাংশ এলাকাকে নিরাপদ ঘোষণা করেছিল জাতিসংঘ। শহরের দেয়ালের ভেতর ও রাস্তার মোড়ে পড়ে থাকা বিস্ফোরক ফাঁদ ও অবিস্ফোরিত গোলার কারণে বহু শিশু নিহত ও আহত হয়েছে।
প্রতিবেশী মিসর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ফিরে এসেছে। মিসরে ১৫ লাখ সুদানি আশ্রয় নিয়েছিল। তবে সেখানে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বর্ণবাদী নিপীড়ন, গ্রেফতার ও বহিষ্কারের মুখে পড়তে হয়েছে।
খার্তুমের শ্রমজীবী এলাকাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ ফিরেছে। আর যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তাদের বেশিরভাগই এখনো বাইরে থাকছেন।
ফলে খার্তুম ২-এর মতো অভিজাত এলাকাগুলো প্রায় পরিত্যক্ত। গাছঘেরা সড়কে হাঁটলে পায়ের নিচে কাচ ভাঙার শব্দ শোনা যায়। খালি বাড়িগুলোর মাঝখানে শুধু পাখির ডাক। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অনেক বাড়ির পুরো অংশই উড়ে গেছে।
৮৬ বছর বয়সী থুরায়া বাবিকার ভেবেছিলেন, এবার তিনি স্থায়ীভাবেই ফিরেছেন। কিন্তু তিন মাস পর তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমার স্বামী, ছোট মেয়ে এবং আমি সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যেতে চাই না।’ তবে চিকিৎসাসেবার অভাবে সেখানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
গত বছর মানুষ ফিরতে শুরু করলে সুদানের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা হাসপাতাল পুনর্নির্মাণে দ্রুত কাজ শুরু করে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, এর কয়েকটি এখন ‘আগের চেয়েও ভালো হয়েছে।
তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও চিকিৎসক হাইফা ওমর বলেন, কিছু জিনিস একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘কিছু ওষুধ রোগীদের নিজেদের টাকায় কিনতে বলতে হচ্ছে। কথাটা বলতে গেলেই আমার গলা ধরে আসে। আমরা জানি, মানুষের পরিস্থিতি কতটা কঠিন।’
কলেজের অধ্যাপক ইমাম বাবিকার বাবার রক্তচাপের ওষুধ খুঁজতে তাকে ১০টি ফার্মেসিতে যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই এর দাম আলাদা।’
৩৪ বছর বয়সী ইমাম তার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের ইনসুলিন রাখার জন্য একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘কিন্তু প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে ইনসুলিন নষ্ট হয়ে যায়।’
সুয়াদ মোহামেদের মতো অন্যদের ফ্রিজও লুট হয়ে গেছে। ৪৯ বছর বয়সী সুয়াদ নতুন ফ্রিজ কেনার সামর্থ্য রাখেন না।
তিনি বলেন, ‘এখন আমাকে প্রতিদিন সবজি ও মাংস কিনতে হয়। আর প্রতিদিনই দাম বাড়ছে।’
‘বাস্তবতা মোটে ও ভালো নয়’-
একসময় ৮ লাখেরও বেশি মানুষের বাসস্থান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান রাজধানী খার্তুম এখন তার আগের রূপের ছায়ামাত্র।
শহরের কেন্দ্রে জাতিসংঘের এক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ইউক্রেনসহ তারা যে অন্য সব সংকট দেখেছেন, তার তুলনায় খার্তুমে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা অনেক বেশি।
মাঝেমধ্যে আরএসএফের ড্রোন হামলা চললেও জুলাইয়ে কর্তৃপক্ষ দূরশিক্ষণ বন্ধ করে দেওয়ার পর খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরতে বলা হয়েছে।
খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অধ্যাপকেরা প্রতিবাদ হিসেবে একযোগে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করছেন, তাদের জোর করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
একজন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে অনলাইনে গবেষণাপত্রের মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। অথচ আমার তত্ত্বাবধায়কও অন্য একটি দেশে আছেন এবং তিনিও ফিরতে চান না।’ পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এ কথা বলেন।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন স্নাতক শিক্ষার্থী এ বছর তার শেষ বর্ষে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু গ্রীষ্মের সশরীরে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তিনি। এখন নতুন করে কলেজ শুরু করতে মিসরে বৃত্তির জন্য চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কথা শুনতে চায়নি। তাদের একমাত্র চিন্তা ছিল মানুষ যেন ফিরে আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে বিষয়টি রাজনৈতিক। তারা চায় মানুষ ফিরে আসুক, যাতে দেখানো যায় সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। অথচ বাস্তবতা মোটেও ভালো নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রোববার সুইজারল্যান্ডে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে দেশটির দীর্ঘকালীন নিরপেক্ষতার নীতি আরো কঠোর করার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন পাচ্ছে এবং এটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ভোটার এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। বিরোধীরা এই উদ্যোগকে ‘রাশিয়াপন্থী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সুইজারল্যান্ডের সরাসরি গণতন্ত্র ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। তবে, দেশটির অধিকাংশ মানুষ ডাকযোগে আগেই ভোট প্রদান করে থাকেন।
সুইস জনগণ সাধারণত তাদের দেশের নিরপেক্ষতাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করেন। তবে, সংবিধানে নিরপেক্ষতার একটি কঠোর সংজ্ঞা যুক্ত করার এই উদ্যোগটি দেশের নিরপেক্ষতার প্রকৃত অর্থ কী— তা নিয়ে গভীর মতপার্থক্য সৃষ্টি করেছে।
ঐতিহ্যগতভাবে সুইজারল্যান্ডের অবস্থান হলো শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখে সামরিকভাবে নিরপেক্ষ থাকা। কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর বিদেশি সংঘাতে সুইজারল্যান্ডের কতটা সম্পৃক্ত হওয়া উচিত, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
বার্ন সরকারের ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা সমর্থনের সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন হয়ে সার্বভৌমত্বপন্থী সংগঠন ‘প্রো সুইজারল্যান্ড’ দেশটির সংবিধানে নিরপেক্ষতাকে আরো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছে।
দেশটির প্রায় পুরো রাজনৈতিক নেতৃত্বই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ভোটারও এটি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
অন্যদিকে, রাশিয়া সুইজারল্যান্ডের ইইউ নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেওয়ার সমালোচনা করে আসছে এবং বার্ন তাদের নিরপেক্ষতা পরিত্যাগ করেছে বলে অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে মস্কো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে এর বিরোধীরা এটিকে ‘রাশিয়াপন্থী’ উদ্যোগ বলে আখ্যা দিয়েছে।
প্রস্তাবটিতে সংবিধানে সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতাকে ‘সশস্ত্র ও চিরস্থায়ী’ হিসেবে নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতার ঐতিহ্য ১৫১৬ সাল থেকে চলে আসছে এবং ১৮১৫ সাল থেকে তা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। প্রস্তাবটি পাস হলে দেশটি ন্যাটোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না। একই সঙ্গে দেশ আক্রান্ত না হলে কোনো সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগও থাকবে না।
এ ছাড়া জাতিসংঘের আহ্বান ছাড়া কোনো দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
‘চিরস্থায়ী সশস্ত্র নিরপেক্ষতা’
গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে থাকা উভয় পক্ষই দাবি করছে, তারা সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চান।
তবে সুইস সরকার ও দেশটির পার্লামেন্ট প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এটি অতিরিক্ত কঠোর এবং বর্তমান সময়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে দেশটির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত করবে।
সম্প্রতি টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিতর্কে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস বলেন, ‘নিরপেক্ষতা সবসময় কিছুটা নমনীয়তার সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ইউক্রেনসহ সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘নিরপেক্ষতার অর্থ উদাসীন থাকা নয়।’
তার ভাষায়, ‘শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘিত হতে দেখলে আমরা চোখ ফিরিয়ে নেব না।’
দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় সবাই এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। ব্যতিক্রম কট্টর ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি), যা সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল।
টেলিভিশন বিতর্কে এসভিপির ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিন আমোদরু বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শান্তি, কূটনীতি ও সংলাপকে উৎসাহিত করা।’
তিনি বলেন, ‘এটি অর্জনের জন্য চিরস্থায়ী সশস্ত্র নিরপেক্ষতার মাধ্যমে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে হবে।’
শুরুতে কয়েকটি জনমত জরিপে ভোটের ফলাফল খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে সর্বশেষ দুটি জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশেরও বেশি ভোটার এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
রোববারের ভোটে আরেকটি জাতীয় উদ্যোগেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্দলীয় একটি নাগরিক আন্দোলনের উত্থাপিত প্রস্তাবে দেশের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার বর্তমান ৪২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডের খাদ্যে স্বনির্ভরতার হার ছিল ৪২ শতাংশ।
সরকার সতর্ক করে বলেছে, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন, এমনকি সম্ভব নাও হতে পারে। দেশটির অধিকাংশ বড় রাজনৈতিক দলও প্রস্তাবটিকে অবাস্তব বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙামাটি, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আজ থেকে জেলায় তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
রাঙামাটি জেলা পরিষদের উদ্যোগে আজ রোববার সকালে জেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উল্লেখ করেন, ‘এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য। মেলাতে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারা তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য নিয়ে পসরা বসিয়েছেন। আমাদের নারী উদ্যোক্তারা তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টায় অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আর এ ক্ষেত্রে তাদের পাশে দাড়াতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে আমাদের পর্যটন শিল্পের বিকাশে এবং পাহাড়ের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি করা যায়, সেই দিকে লক্ষ্য রেখে উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী কিছু দিনের মধ্যেই এ সুফল পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ পাবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য ও পর্যটন বিষয়ক আহ্বায়ক শ্বাশৎ চাকমা রিংকু, রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা, সদস্য অ্যাড. মামুনুর রশিদ মামুন, নন্দিতা দাশ প্রমুখ।
মেলায় রাঙামাটির স্থানীয় কৃষি ও হস্তশিল্পের প্রায় ৫০টি স্টল বসেছে। প্রতিবারের মতো এবারও পাহাড়ি নারীদের উৎপাদিত ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন নারী উদ্যোক্তারা, যা মেলায় আগত পর্যটক ও স্থানীয়দের আকৃষ্ট করছে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করছেন যে, মেলাটি স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ঘটনাটি তার কাছে সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয় এবং এর পেছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে মেঘনা সালমানের সঙ্গে তার পুরোনো পরিচয়ের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, একসময় সালমান তার দুঃসময়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে সালমানের কিছু কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বন্ধু তালিকা থেকে সরিয়ে দেন বলে জানান।
মেঘনা পোস্টে নিজের অতীতের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, একসময় গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে তার ফোন ও ম্যাকবুকের তথ্য যাচাইয়ের সময় একজন তদন্ত কর্মকর্তা সালমানের সঙ্গে তার কথোপকথন দেখে মন্তব্য করেছিলেন, "সালমান কীভাবে এত ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।"
এরপর মেঘনা সালমানের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করেন, হামলাকারীদের পরিচয় না জানা এবং সরাসরি চাঁদা দাবির কথা না বলার পরও সালমান কীভাবে ঘটনাটিকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত করছেন। তার মতে, পুরো বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এর আগে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজ এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সালমানের পক্ষ থেকে চাঁদা না দেওয়াকে হামলার কারণ হিসেবে অভিযোগ করা হলেও পুলিশের বক্তব্য, জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ