ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি, ডুবে গেছে ঝুলন্ত সেতু


কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি, ডুবে গেছে ঝুলন্ত সেতু

কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে ঝুলন্ত সেতু ডুবে গেছে।

 

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি বাড়ছে। এর ফলে শহরের পর্যটকদের জন্য একটি প্রধান আকর্ষণ, হ্রদের ঝুলন্ত সেতু, ডুবে গেছে।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

এই পরিস্থিতিতে, শনিবার সকাল থেকে কর্তৃপক্ষ সেতু পারাপারে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চেঙ্গী, মাইনী, কাচালং নদী এবং ভারতের মিজোরাম রাজ্য থেকে আসা কর্ণফুলী নদীর পানি কাপ্তাই হ্রদে এসে মিশছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ফলে কয়েক দিন ধরে হ্রদে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিলেলেই হ্রদের পানি পাটাতন স্পর্শ করে।

 

সূত্র জানায়, উজান থেকে পানি আসা অব্যাহত থাকার কারণে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত ঝুলন্ত সেতু চার ইঞ্চি পানিতে ডুবে ছিল। ঝুঁকি এড়াতে, পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেতুতে দর্শনার্থীদের ওঠার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, হ্রদে পানি বাড়ার কারণে আজ (শনিবার) সকালে ঝুলন্ত সেতুতে চার ইঞ্চি পানি উঠেছে। তাই, ঝুঁকি এড়াতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেতু দিয়ে পারাপারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

 

পানি কমলে সেতু পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। কাপ্তাই হ্রদে পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। বর্তমানে এই কেন্দ্রের পাঁচ ইউনিট চালু রেখে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এই কেন্দ্রে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জিটিভির প্রতিষ্ঠাতার ৯৯.৯৭ শতাংশ ঋণ মওকুফ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


জিটিভির প্রতিষ্ঠাতার ৯৯.৯৭ শতাংশ ঋণ মওকুফ!

সুভাষ চন্দ্র, যিনি ভারতের ব্যবসায়িক জগতের অন্যতম রূপকার এবং দূরদর্শী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত, একসময় ‘এশিয়ার মারডক’ নামে পরিচিত ছিলেন। মাত্র ১৭ টাকা পকেটে নিয়ে ব্যবসা শুরু করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ‘এসেল গ্রুপ’ সাম্রাজ্য।

১৯৯২ সালে তিনি ভারতের প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ‘জিটিভি’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ভারতীয় বিনোদন জগতকে চিরতরে পরিবর্তন করে। তার বিনিয়োগের ক্ষেত্র ছিল থিম পার্ক, অবকাঠামো এবং প্যাকেজিং খাত। তবে, অবকাঠামো খাতের অতিরিক্ত ঋণ এবং ব্যক্তিগত গ্যারান্টির কারণে সুভাষ চন্দ্রের সাম্রাজ্যে ধস নামে। বর্তমানে, বিজেপি সমর্থিত সাবেক সাংসদ সুভাষ চন্দ্র দেউলিয়া হওয়ার পথে রয়েছেন।

গত মঙ্গলবার, ভারতের ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যান্ড ট্রাইব্যুনাল-এনসিএলটি সুভাষ চন্দ্রের জন্য একটি ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় পাওনাদাররা তাদের মোট স্বীকৃত দাবি ২২ হাজার ৬ কোটি ৫৭ লাখ রুপির বিপরীতে মাত্র সাড়ে ৬ কোটি রুপি পাবেন। এর ফলে, ঋণদাতাদের প্রায় ৯৯.৯৭ শতাংশ লোকসান বা ‘হেয়ারকাট’ মেনে নিতে হবে।

তবে, ট্রাইব্যুনালের এই রায় নিয়ে ভারতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই একে রাজনৈতিক রায় হিসেবে অভিহিত করে সমালোচনা করছেন। সমালোচকরা বলছেন, কৃষকরা যেখানে হাজার টাকা ঋণের জন্য আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়, সেখানে ২২ হাজার কোটি রুপি মওকুফ করা একটি বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

স্যাঁরাফ অ্যান্ড পার্টনার্স-এর পার্টনার অভিষেক স্বরূপ এনডিটিভি-কে বলেছেন, এনসিএলটি-এর এই আদেশ একটি ভুল নজির স্থাপন করেছে। ৯৯ শতাংশের বেশি হেয়ারকাটসহ কোনো রেজোলিউশন প্ল্যানকে বাণিজ্যিক বুদ্ধিমত্তা বলা যায় না। তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্তের অন্তত একটি বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা থাকতে হবে।

এনসিএলটি-এর সিদ্ধান্তটি এসেছে ট্রাইব্যুনালের দু’জন সদস্যের একটি বিভক্ত রায়ের পর। এরপর বিষয়টি এনসিএলটি সভাপতির নিযুক্ত তৃতীয় সদস্য নীলেশ শর্মার কাছে পাঠানো হয়। শর্মা ইনসলভেন্সি অ্যান্ড ব্যাংকরাপ্টসি কোড-এর ১১৪ নম্বর ধারার অধীনে এই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনাটি অনুমোদন করেন। বেশ কয়েকজন ঋণদাতা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন। এলআইসি হাউজিং ফিন্যান্স যুক্তি দিয়েছিল, তাদের দেওয়া পুনরুদ্ধারের পরিমাণ অত্যন্ত কম। তাদের স্বীকৃত দাবির পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ৩২২ কোটি ৩৯ লাখ রুপি, যেখানে প্রস্তাবিত পরিশোধের পরিমাণ মাত্র ৩৮ লাখ রুপি। এলআইসি হাউজিং ফিন্যান্স এই প্রস্তাবটিকে ‘অচল এবং বেআইনি’ বলে অভিহিত করেছিল। তবে, ঋণদাতাদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে পরিকল্পনাটি অনুমোদন পায়। এই পরিকল্পনার পক্ষে ছিলেন ৮০.৮১ শতাংশ ঋণদাতা।

এনসিএলটি উল্লেখ করেছে যে, সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত সম্পদের মূল্যায়নে দেখা গেছে যে সেগুলোর মূল্য এই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত অর্থের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ট্রাইব্যুনাল এই পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হলে কী ঘটতে পারে তাও বিবেচনা করেছে। যদি সুভাষ চন্দ্রকে সম্পূর্ণ দেউলিয়া ঘোষণা করা হতো, তবে পাওনাদাররা তাঁর আর্থিক সম্পদ থেকে সম্ভবত এর চেয়েও কম অর্থ উদ্ধার করতে পারতেন। ট্রাইব্যুনালের প্রশ্নটি কেবল এটি ছিল না যে ২২ হাজার ৬ কোটি রুপির তুলনায় সাড়ে ৬ কোটি রুপি কত কম।

প্রশ্নটি ছিল; এই পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করলে পাওনাদাররা কি আরও ভালো অবস্থানে থাকবেন? ট্রাইব্যুনাল এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, এটি প্রত্যাখ্যান করলে পাওনাদারদের আরও ভালো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল বিবেক ইনফ্রাকন-এর নেওয়া একটি ঋণকে কেন্দ্র করে। সুভাষ চন্দ্র ১৭০ কোটি টাকার একটি ঋণের জন্য ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিয়েছিলেন। যখন সেই ঋণটি খেলাপি হয়ে যায়, তখন ইন্ডিয়াবুলস হাউজিং ফিন্যান্স সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে এই দেউলিয়াত্ব মামলাটি দায়ের করে। পরবর্তীতে, ২০২৪ সালের এপ্রিলে এনসিএলটি সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্ব প্রক্রিয়া শুরু করার আবেদনটি গ্রহণ করে। সুভাষ চন্দ্রের জন্য এনসিএলটি-এর এই অনুমোদন তাঁর ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্ব প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে, ঋণদাতাদের জন্য এই হিসাবটি অত্যন্ত নির্মম এক বাস্তবতার গল্প বলে। যেখানে প্রতি ১০০ টাকা পাওনার বিপরীতে অনুমোদিত পরিকল্পনাটি মাত্র ৩ পয়সার মতো ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব করে।

এদিকে, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিওতে ৭৫ বছর বয়সী সুভাষ চন্দ্র নতনি করে শুরু করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সুভাষ চন্দ্র জানান, তিনি সুইজারল্যান্ডের বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন এবং স্টার্ট-আপগুলোতে বিনিয়োগের জন্য তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা ধারও নিতে পারেন।

তিনি বলেন, “আজ আমি খুব সহজভাবে কথা বলছি। আমি এমন একজন ব্যক্তির মতো কথা বলছি না যে সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে। আমার কাছে শেষ যে সাড়ে ৬ কোটি রুপি অবশিষ্ট আছে, তা পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে। আমার একটি ছোট আবাসিক বাড়ি আছে, যা আমি ভাড়া দিয়েছি এবং সেই আয়ের মাধ্যমেই আমি আমার খরচ চালাচ্ছি। আমার কোনো আফসোস নেই। আমি আবারও উপার্জন করব। আমি একজন অগ্রগামী মানুষ। আমি জানি কীভাবে ভালো এবং নতুন কিছু করতে হয়। আমি তা করা চালিয়ে যাব।”

ভিডিও বার্তায় সুভাষ চন্দ্র বলেন, “আপাতত, সুইজারল্যান্ডে আমার যেসব বন্ধুরা বিনিয়োগের কাজ করেন, তাঁদের সাথে কাজ করার একটি পরিকল্পনা আমার রয়েছে। আগামী ১-২ সপ্তাহের মধ্যে আমি আপনাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব। এছাড়া পরিবার থেকে ২-৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আমাদের কিছু স্টার্ট-আপে বিনিয়োগ করতে পারি, যা সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


দল থেকে বাদ পড়া নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক অবশেষে দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন।

 

ভারতের তারকা ক্রিকেটার সূর্যকুমার যাদব টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর জাতীয় দলের বাইরে চলে গেছেন। যদিও এটি অপ্রত্যাশিত ছিল, তবুও এমন ঘটনা ঘটেছে।

 

ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এতদিন কিছু বলেননি। অবশেষে শ্রেয়স আইয়ারকে অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সূর্য। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ব্যাট হাতে দীর্ঘ সময় ধরে অফফর্মে ছিলেন। তবে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বকাপ জয়ের পর এবং গত দুই বছরে একটিও সিরিজ না হারার পর কেন তাঁকে বাদ দেওয়া হলো।

 

ইংল্যান্ড সিরিজের দল ঘোষণার দু-তিন দিন আগে নির্বাচক কমিটি সূর্যকুমার যাদবকে ফোন করেছিলেন। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক জানান, ‘ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সিরিজের দল ঘোষণার দু’-তিন দিন আগে ওরা (নির্বাচক কমিটি) আমাকে ফোন করেছিলেন। বলেছিল, এবার এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। আমি কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাইনি।

 

কারণ, এটা আমার দোষ নয়। নিশ্চয়ই দলের জন্য ভালো বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওরা।’

প্রথমে কিছু না বললেও পরে সূর্যকুমার জানান, বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে সমস্যায় পড়েছিলেন। কারণ, তাঁর নেতৃত্বে ভারত গত দুই বছরে একটিও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারেনি, বরং বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপ জিতেছিল।

 

সূর্য স্পষ্টভাবে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। কারণ দু’বছরে একটাও সিরিজ হারেনি দল। বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপ জিতেছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই আপনি চাইবেন কিছু পাল্টাবে না। যখন সবকিছু ভালো চলছে, তখন কেন পরিবর্তন? পরিবর্তনের কারণ কী? এই প্রশ্নটাই আমার মাথায় ঘুরছিল।’

এই সময়টা তাঁর জন্য সহজ ছিল না বলেও জানান সূর্য।

তবে শ্রেয়স আইয়ারের প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ নেই। বরং, সতীর্থের প্রতি সম্মান রেখে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ-লবা-য়ু পরিবর্তনে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঠেকাতে রোডম্যাপ চায় নাগরিক সমাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


জ-লবা-য়ু পরিবর্তনে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঠেকাতে রোডম্যাপ চায় নাগরিক সমাজ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগণের মধ্যে ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়মিত নজরদারি এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আজ শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে সুরক্ষায় ইউপিআর-৪ সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক জাতীয় অ্যাডভোকেসি সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ) এবং ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে। এতে নীতিনির্ধারক, মানবাধিকারকর্মী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা (ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ- ইউপিআর) পর্বে সরকারের সমর্থিত জলবায়ু-সম্পর্কিত সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঘাটতি চিহ্নিত করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মানুষের অধিকার রক্ষায় নীতি ও কর্মপরিকল্পনার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়।

ইউপিআরের ১২ সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের তৃতীয় ইউপিআর চক্রে সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা ও প্রশমনের বিষয়ে দুটি সুপারিশ সমর্থন করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে চতুর্থ ইউপিআর চক্রে সিপিআরডির নেতৃত্বে ১৫টি নাগরিক সংগঠনের একটি জোট যৌথভাবে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয় এবং সাতটি বিষয়ে কৌশলগত পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়। পরে ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সরকার ১২টি সুপারিশ গ্রহণ করে।

শামসুদ্দোহা আরও বলেন, এই অঙ্গীকারগুলো কতটা নীতি, কর্মসূচি ও বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নিয়েছে, তা অনুসরণ করার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। পাশাপাশি কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কীভাবে তা দূর করা যায়, সে পথও চিহ্নিত করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার

সেমিনারের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুন নাহার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রাখছে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগণ এর সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবিলার জন্য এখনো যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ।

সিপিআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার- রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি শেখ নূর আতায়া রাব্বি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তৃতীয় ইউপিআর চক্রের পর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে চতুর্থ ইউপিআর চক্রে নাগরিক সমাজের দেওয়া সুপারিশ এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ

সেমিনারের বিশেষ অতিথি পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পিকেএসএফের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত অ্যাডভোকেসি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এমবিই, সিপিআরডি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগের প্রশংসা করেন। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগণের অধিকার রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। মানবাধিকারকর্মী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন শাহীন আনাম।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। তবে মানুষের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বিভিন্ন নীতিগত ও বাস্তবায়ন ঘাটতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নীতিনির্ধারক, মানবাধিকারকর্মী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ এবং নীতিগত ও জনমত গঠনের জন্য নাগরিক সমাজের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মকৌশলের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথাও জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোহলি থাকলে কলম্বো টেস্টের ফল ভিন্ন হতো: কাইফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


কোহলি থাকলে কলম্বো টেস্টের ফল ভিন্ন হতো: কাইফ

ভারতের ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কলম্বো টেস্টে জয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছে। ম্যাচটি ড্র হওয়ার ফলে, দুই ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে ভারত জিতলেও, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অবস্থান আরও চাপে পড়েছে।

মোহাম্মদ কাইফ, ভারতের সাবেক ব্যাটার, মনে করছেন যে বিরাট কোহলির মতো একজন আগ্রাসী ও উদ্দীপনাময় ক্রিকেটার মাঠে থাকলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ম্যাচের শেষ দিনে ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রয়োজনীয় তীব্রতা এবং শক্তির অভাব ছিল।

কলম্বো টেস্টের শেষ দিনে শ্রীলঙ্কা মাত্র ১৬ রানে এগিয়ে থেকে চার উইকেট হাতে নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিল। ভারত তখনও জয়ের অবস্থানে ছিল। কিন্তু সোনাল দিনুশার অসাধারণ সেঞ্চুরি এবং লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধের ফলে শ্রীলঙ্কা ৪২৯/৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। শেষ পর্যন্ত দুই দল ড্র মেনে নেয়।

কাইফের দাবি, কোহলি থাকলে তিনি সতীর্থদের ক্রমাগত উজ্জীবিত রাখতেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করার মধ্যেও দলের মনোযোগ ধরে রাখতেন। ভারতের সাবেক এই ক্রিকেটারের মতে, ভারতীয় দল অনেকটা ধরে নিয়েছিল যে বল ঘুরছে, তাই উইকেট স্বাভাবিকভাবেই চলে আসবে।

কাইফ আরও বলেন, ভারতের মাঠের এনার্জি ছিল কম এবং দল নিজেরাই ম্যাচে যথেষ্ট চাপ তৈরি করতে পারেনি। তিনি মনে করেন, কোহলি থাকলে সারফরাজ খান এবং যশস্বী জয়সওয়ালদেরও চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি দিনুশার ওপর মানসিক চাপ তৈরি করার চেষ্টা করতেন।

তবে ড্রয়ের পরও ভারত ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে। কলম্বোর এই ফল ভারতের ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলে বড় ধাক্কা দিয়েছে, যেখানে ভারত বর্তমানে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে এবং সামনে ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%