মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩০ পি.এম
রাজশাহীতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার রহস্য দ্রুত উদঘাটন, দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে রাজশাহী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। মানববন্ধনে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়া ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর বিষয়ে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার দাবি জানানো হয়। বক্তাদের দাবি; সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে-এমন কোনো তথ্য মানববন্ধনে উপস্থাপন করা হয়নি।
একই সঙ্গে দেশে সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানি এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা বরজাহান আলী, রাজশাহী স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকল, সিনিয়র সাংবাদিক ও এটিএন বাংলার সুজা উদ্দিন ছোটন, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন এবং সাংবাদিক আজিবর রহমান।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোস্টেশন এলাকায় বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর কাপড় পড়ার কারণে মেট্রোরেল চলাচল প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পরে কাপড়টি সরিয়ে বিকেল ৪টা ৫৮ মিনিটে চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়।
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এমআরটি (লাইন-৬)-এর উপ প্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) মো. আহসান উল্লাহ শরিফী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন এলাকায় ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমের ওপর কাপড় পড়ার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে কাপড়টি সরিয়ে ফেলা হলে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়।
এদিকে, ওই সময় একটি ট্রেন বন্ধ থাকায় মেট্রোরেলের অন্যান্য স্টেশনে থাকা অন্যান্য ট্রেনগুলোকেও নির্দিষ্ট দূরত্বে থামিয়ে রাখা হয়। এর ফলে যাত্রীদের জন্য সাময়িক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। মেট্রোরেলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে যাত্রীরা বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকে থাকার বিষয়টি জানিয়েছেন।
মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, কাপড় সরানোর পর মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক হয়ে গেছে। বর্তমানে ট্রেনগুলো স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোডে সড়ক উন্নয়ন কাজের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক এবং সরাইল-লাখাই-নাছিরনগর আঞ্চলিক সড়কে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া যানজট ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেড়তলা থেকে বাড়িউড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বরোড-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কের সরাইল হাসপাতাল মোড় এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে নন্দনপুর পর্যন্ত যানজট রয়েছে। ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং বিশ্বরোড গোলচত্বরে চলমান সড়ক উন্নয়নকাজ, মহাসড়কে বেশিরভাগ ছোট বড় গর্ত এবং ভারি পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্বরোড গোলচত্বরে সব লেন চালু না হওয়ায় যানজটের মূল কারণ। ঢাকা থেকে সিলেটমুখী দুটি লেন চালু রয়েছে। সিলেট থেকে ঢাকা ও কুমিল্লামুখী উন্নয়নকাজ চলায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রীদের উঠানামা করায় যানজটের চাপ আরও বাড়ছে। ভারি যানবাহনও অনেক সময় গর্তে আটকে পড়ে, যার ফলে যানজট ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে।
সরাইল-খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা এসআই বাতেন বলেন, "বিশ্বরোড়ের কাজের দায়িত্বে থাকা লোকজন গোলচত্বরের কাজ শেষ না করে ডিভাইডারগুলো খুলে দেওয়ার কারণে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তারা যদি কাজ শেষ করে ডিভাইডারের বাঁশ খুলত তাহলে সমস্যা হতো না। সকাল থেকে আমরা যানজট নিরসনে চেষ্টা করছি। আশা করি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারে পাচারের সময় কোস্টগার্ড ৭৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করেছে। এই ঘটনায় পাঁচ পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি কার্গো বোটও জব্দ করা হয়।
সোমবার বিকালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বহির্নোঙর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিমেন্টসহ ওই পাচারকারীদের আটক করা হয়, তবে মঙ্গলবার কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহজনক একটি কার্গো বোটে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা ৭৫০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাঁচজন পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দ করা সিমেন্টের মোট ওজন ৩৭ হাজার ৫শ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
কোস্টগার্ড জানায়, এই ঘটনায় পতেঙ্গা থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্টগার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময় ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার ৯৯ শতাংশের বাদী ছিল পুলিশ। বর্তমানে পরিবর্তন স্পষ্ট। পুলিশ আর কোনো রাজনৈতিক মামলার বাদী হচ্ছে না। মিথ্যা মামলার সংস্কৃতি এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এই নেতাকর্মীরা নিষ্ঠুরতার চরম সীমা অতিক্রম করেছে। যদি আমরা আজ তাদের বিচার করতে ব্যর্থ হই, তাহলে কাপুরুষ ও ভীরুতার পরিচয় দেব। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা সেটা চাই না। আমরা দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।"
মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিনা বিচারে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা ও গুম করা হয়েছে। সাড়ে চার হাজারের বেশি বিএনপির নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে। সাতশর বেশি বিএনপি নেতাকর্মী গুম হয়েছে। জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মীকেও গুম ও হত্যা করা হয়েছে, শুধুমাত্র বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে শুধু ডিসি, এসপি কিংবা রাষ্ট্রের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। মাদককে সামাজিকভাবে প্রতিহত করার প্রয়োজন রয়েছে। বাগেরহাটে মাদক প্রতিরোধে মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই দেশ থেকে মাদক নির্মূল ও প্রতিহত করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। মাদকের সঙ্গে যদি কোনো বিএনপির নেতাকর্মীও জড়িত থাকে, তাদেরও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আলিম, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
এর আগে সকালে আইনমন্ত্রী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে বিকালে বাগেরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ