বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২০ পি.এম
ভোলা সদর উপজেলার আলোচিত কিশোর রেদোয়ান রাসেল হত্যা মামলায় আদালত দুই আসামির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙাশিয়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সুজন এবং তার মামা মো. ইলিয়াস। ২০০৭ সালে মোবাইল বিক্রি না করায় কিশোরটিকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। প্রায় ১৯ বছর পর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের আদালতে এই রায় প্রদান করেন।
আদালত ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোর রেদোয়ান রাসেল তার বাবার হাওলাদার বাজারের মুদি দোকানে অবস্থান করছিল। তার কাছে মায়ের কেনা নোকিয়া ১১০০ মডেলের একটি মোবাইল ফোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী সুজন তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলার কথা বলে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রেদোয়ান নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবার ধারণা করেছিল, সে হয়তো নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে গেছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সে কারো বাড়িতে যায়নি। নিখোঁজের পরদিন পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। ঘটনার দুই দিন পর ৩০ ডিসেম্বর স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, দক্ষিণ চরপাতা দারোগার খালের পাশে সিদ্দিক মালের বাড়ির সামনে এক কিশোরের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে মরদেহ দেখে পরিবারের সদস্যরা রেদোয়ানকে শনাক্ত করেন। মরদেহের মুখ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর রেদোয়ানের বাবা আব্দুল হক বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তাগণ সুজন ও ইলিয়াসকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৯ সালের ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।
এ তথ্য নিশ্চিত করে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. তৈয়ব বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞ আদালত আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এতে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছি। সামান্য একটি মোবাইলের জন্য হত্যাকাণ্ড—এটি সামাজিক অবক্ষয়ের নমুনা ও নির্মম হত্যাকাণ্ড এটি। ভুক্তভোগীকে গলা টিপে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দিয়েছিল আসামিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ১০টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল এক ঘণ্টার প্রচেষ্টা চালায়।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গজারিয়া গ্রামের আলফাজ মিয়ার ঘরের বৈদ্যুতিক মিটার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মিটারটি শর্টসার্কিটের কারণে আগুনে জ্বলতে শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের দুইটি দল এসে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ জানান, শর্টসার্কিটের কারণে আগুনের লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ বর্তমানে চলমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভিশনস্প্রিং চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার একটি কর্মসূচি শুরু করেছে। এই কর্মসূচিটি বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ও জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক ভবনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেল ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান।
হাবিবুর রশীদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাধারণত অবকাঠামো উন্নয়ন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের বিষয়গুলো বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু নিরাপদ সড়কের জন্য চালকের দৃষ্টিশক্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা দেওয়ার এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিষয়টি আরো গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সড়ক অবকাঠামোর পাশাপাশি চালকদের স্বাস্থ্য, সক্ষমতা ও সচেতনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করার, নিজেদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন থাকার এবং ট্রাফিক আইন মেনে নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানান।
এই তিন দিনের কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ চালককে চক্ষুসেবা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন হাবিবুর রশীদ। পরীক্ষার পর প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হবে। তার মতে, চালকের ভালো দৃষ্টিশক্তি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়েও চালকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চালকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র তাদের নিজেদের বিষয় নয়, এটি সরকারের দায়িত্বেরও অংশ। নিরাপদ সড়ক ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, পরিবহন মালিক, চালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, চালকদের চোখ পরীক্ষা, রক্তচাপ পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর পর চালকদের বিশ্রামের সুযোগ দিতে দেশের চারটি জেলায় বিশ্রামাগার তৈরি করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ভিশনস্প্রিংয়ের উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৃষ্টিশক্তি কম থাকা কোনো চালক গাড়ি চালালে চালক, যাত্রী ও পথচারী—সবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। তাই চালকদের অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি ভালো দৃষ্টিশক্তি থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিংয়ের সহযোগী ব্যবস্থাপক উম্মে সালমা জানান, প্রতিষ্ঠানটি মূলত প্রান্তিক ও স্বল্পআয়ের মানুষের জন্য কাজ করে। সি-টু-বি-সি কর্মসূচির আওতায় প্রায় আট লাখ চালকের চোখ পরীক্ষা এবং তাদের মধ্যে প্রায় চার লাখ চালককে চশমা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
ভিশনস্প্রিং একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি স্বল্পআয়ের মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে চশমা ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার সেবা পৌঁছে দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছেন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে শিক্ষার মানোন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে সরকার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে জোরদার করেছে।
এর আগে, যখন প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়ে পৌঁছান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হাসনাত মাহমুদ তালহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতসহ অন্যান্য অতিথিরা।
এর আগে সকালে, প্রতিমন্ত্রী নান্দাইলের আনওয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই সময় কলেজের শিক্ষা পরিবেশ ও সার্বিক বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মতবিনিময় শেষে, কলেজ প্রাঙ্গণে একটি আম গাছের চারা রোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই কর্মসূচি সফল করতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরিদর্শনকালে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারে পাচারের সময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দুই পাচারকারীকে আটক করেছে, যাদের সাথে ছিল দুই ট্রাকভর্তি ৬০০ বস্তা ইউরিয়া সার। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন সাগর উপকূল থেকে এসব সার জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, "সীতাকুণ্ড থানার বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশেষ অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। এ সময় ওই এলাকা দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় দুই ট্রাকভর্তি প্রায় ২১ লাখ টাকা মূল্যের ৬০০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার এবং পাচারকাজে জড়িত দুজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা সার, পাচারকাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।"
কোস্ট গার্ডের সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া সাগর উপকূলে সার আনা হয়েছে—গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে ভাটিয়ারী স্টেশনের সদস্যরা অভিযান চালান। এ সময় সারগুলো জব্দ করা হয়।
এর আগে গত দুই মাসে মিয়ানমারে পাচারের সময় আরো তিনটি চালানে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। সর্বশেষ গত ১০ সেপ্টেম্বর ৭০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছিল। চোরাচালান রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ