ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খেলাপি ঋণের ১ লাখ কোটি টাকার সুদ মওকুফের সুযোগ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক


খেলাপি ঋণের ১ লাখ কোটি টাকার সুদ মওকুফের সুযোগ দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

২০২৪ সাল থেকে, বিশেষ পুনঃতফসিল নীতির আওতায় নিয়মিত করা অধিকাংশ ঋণ আবারও খেলাপিতে পরিণত হওয়ায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় ধরনের সুদ মওকুফের সুযোগ চালু করেছে। গত সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে, ব্যাংকগুলোকে ঋণ গ্রাহকদের জন্য চার্জড (আরোপিত) ও আনচার্জড (অনারোপিত) উভয় ধরনের সুদ মওকুফের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপের ফলে সুদ মওকুফের আগে তহবিল খরচ আদায় নিশ্চিত করার যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা শিথিল করা হলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর স্থগিত সুদ হিসাবে খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার আনচার্জড সুদ জমেছিল। নতুন কৌশলটি কার্যকর করার মাধ্যমে, ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট সাফসুতরো করতে এবং খেলাপিদের খেলাপি তকমা থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যারা বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা পেয়েছেন, তারাও এই সুদ মওকুফের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।

নতুন সার্কুলারের আওতায়, খেলাপি ঋণগ্রহীতারা কেবল ঋণের আসল টাকা পরিশোধ করে এককালীন নিষ্পত্তি করার সুযোগ পাবেন; যার অর্থ, তাদের কোনো সুদ দিতে হবে না। ব্যাংকগুলো যদি স্থগিত সুদ হিসাব থেকে ১ লাখ কোটি টাকার অনারোপিত সুদ মওকুফ করে, তবে মোট খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রেকর্ড করা ৩০.৬০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশে নেমে আসবে।

আরও পড়ুন: সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে

স্থগিত সুদ হিসাব হলো ব্যাংকগুলোর একটি সাময়িক হিসাব বা হোল্ডিং অ্যাকাউন্ট, যা পাওনা কিন্তু এখনো অর্জিত আয় হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি—এমন সুদ নথিভুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। ঋণগ্রহীতা নির্ধারিত সময়ের পর পেমেন্ট দেওয়া বন্ধ করলে, সেই ঋণটি নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হয়। ব্যাংক তখন এই ঋণের অনাদায়ী সুদকে লাভ হিসেবে দেখানো বন্ধ করতে হয়। লাভ-ক্ষতির হিসাবে নেওয়ার পরিবর্তে, ব্যাংক তখন এই অনাদায়ী সুদ একটি 'স্থগিত সুদ হিসাবে' জমা রাখে।

এই সার্কুলার জারির আগে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন, যেখানে ব্যাংকের ব্যালেন্স শিটে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে আসল ও সুদ মওকুফ—উভয় বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। পলিসি কমিটির অনুমোদনে পুনঃতফসিল করা অধিকাংশ ঋণ আবারও খেলাপি হয়ে পড়েছে—এই যুক্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিকল্পগুলো তুলে ধরেছিল বলে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন।

তবে ব্যাংকগুলো আসল বা প্রিন্সিপাল ঋণ মওকুফের বিরোধিতা করেছে, কারণ এটি ব্যাংক কোম্পানি আইনের পরিপন্থী। তবে সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে থাকা সুদ মওকুফের বিকল্পটি তারা মেনে নিয়েছে, কারণ এগুলো ব্যাংকের আয়ে যোগ করা হয়নি। একাধিক নির্বাহী জানিয়েছেন, আরোপিত সুদ মওকুফের বিষয়টি কেস-বাই-কেস বিবেচনা করা হবে, কারণ এটি করা হলে ২০২৬ সালে ব্যাংকগুলোর আয় সরাসরি কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপের কারণে খেলাপি ঋণ কমাতে মরিয়া হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন বিকল্প নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক খুব শিগগিরই একটি নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে, এবং এর আগেই যেকোনো উপায়ে খেলাপি ঋণের হার কমিয়ে আনতে চাইছে। ২০২৫ সালের শেষে খেলাপি ঋণ, পুনঃতফসিল করা ঋণ ও অবলোপন করা (রাইট-অফ) ঋণসহ, দেশের মোট ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০.৮৭ লাখ কোটি টাকা, যা ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের ৬০ শতাংশ।

আরও পড়ুন: স্পেনে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যায় ৪ জনের মৃত্যু

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, "আমি মনে করি, বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত অনৈতিক একটি কাজ করছে। আমানতকারীদের টাকা ক্ষমা করার অধিকার কারো নেই। সুদ মওকুফ করার এই ব্যাংকগুলো কে? এই টাকার আসল মালিক তো আমানতকারীরা। তারা তো এই ঋণ মাফ করেননি, তবুও ব্যাংকগুলোকে সুদ মওকুফের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এটিকে কীভাবে যৌক্তিক বলা যায়?"

তিনি বলেন, এর ফলে খেলাপিরা আরও বেশি উৎসাহিত হবে। "আমরা ঋণখেলাপিদের একের পর এক সুবিধা দিয়েই যাচ্ছি, কিন্তু তাতে কোনো উন্নতি হয়নি।" বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মুহাম্মদ এ (রুমি) আলী বলেন, "ব্যাংকগুলো যদি ইতোমধ্যে আয় হিসেবে বুক করা সুদ মওকুফ করে, তবে আগামী বছরগুলোতে তাদের এই ক্ষতি মেনে নিতে হবে। এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবগুলোর আকারের ওপর। বড় বড় মন্দ ঋণের ক্ষেত্রে যদি বিপুল পরিমাণ সুদ মওকুফ করা হয়, তবে ব্যাংকগুলোর আয় এবং মূলধন পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।"

তিনি আরও বলেন, "এই নীতি ব্যাংকের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত তা আমানতকারীদেরও প্রভাবিত করবে।" তিনি এই পদক্ষেপের কর ব্যবস্থার ওপর প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে সুদ আয়ের ওপর ট্যাক্স দিয়ে দিয়েছে, যা পরে হয়তো তাদের মওকুফ করতে হতে পারে। "এই ধরনের মওকুফের জন্য ব্যাংকগুলো কোনো কর সুবিধা বা সমন্বয় পাবে কিনা তা এখনো অস্পষ্ট। এই ক্ষমা করা সুদে করের বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, যা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।"

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যত তাদের পূর্বানুমতি ছাড়াই সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ব্যাংকগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছে। এটি নমনীয়তা দিলেও ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষ করে আর্থিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য। "আমানতকারীদের জন্য নিশ্চিতভাবেই ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ইতিমধ্যে নাজুক। এই ধরনের ব্যাংকগুলোকে যদি আরও বেশি আয় রাইট-অফ করতে হয় এবং বড় লোকসান দেখাতে হয়, তবে তাদের আর্থিক ভিত্তি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে," বলেন তিনি।

আরও পড়ুন: মঙ্গলবার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াত

রুমি আলী বড় খেলাপিদের ক্রমাগত ছাড় দেওয়ার নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন, তাদের অনেকেরই বিপুল সম্পদ রয়েছে, যা ব্যাংক ঋণ আদায়ের জন্য বিক্রি করা যেতে পারে। তাদেরকে আরও ছাড় দেওয়ার আগে ঋণের টাকায় দেশে ও বিদেশে গড়ে তোলা সম্পদ খুঁজে বের করে আইনি প্রক্রিয়ায় আনা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ব্যাংকের মুনাফায় সুদ মওকুফের প্রভাব কেমন হবে: বেসরকারি একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এক শীর্ষ নির্বাহী জানান, নতুন সার্কুলারে সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে রাখা সুদ মওকুফের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো একমত হয়েছে যে এই স্থগিত সুদগুলো ব্যাংকের প্রকৃত আয় হিসেবে গণ্য হয় না, কারণ এগুলো আদায় করা হয়নি।

যদি স্থগিত সুদের বিপরীতে ইতোমধ্যে প্রভিশন রাখা হয়ে থাকে, তবে মওকুফের ফলে মূলত প্রভিশন সমন্বয় হবে এবং মুনাফায় তেমন বড় প্রভাব পড়বে না। তবে যদি কোনো প্রভিশন না থাকে ও সুদটি আগে আয় হিসেবে দেখানো হয়ে থাকে, তবে এই মওকুফ ব্যাংকের মুনাফা কমিয়ে দেবে, তিনি বলেন।

অতীতে কেন ব্যাংকগুলোকে এই সুদ মওকুফের অনুমতি দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঋণগ্রহীতারা ঋণ পরিশোধ করুক আর না করুক, ব্যাংকগুলোকে আমানতকারীদের ফান্ডের খরচ ঠিকই দিতে হয়। তাই অতিরিক্ত সুদ মওকুফ ব্যাংকের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: গ্রাহকের বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম, ১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিল নামলো ১১৮২ টাকায়

তা সত্ত্বেও, এককালীন নিষ্পত্তির মাধ্যমে এই এমাউন্টগুলো সরিয়ে ফেলা হলে সার্বিক শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ কমে আসতে পারে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, বারবার ঋণ পুনঃতফসিল করা কেবল সমস্যাটিকে এড়িয়ে যাওয়া, সমাধান নয়।

তাঁর মতে, এই নীতির প্রাথমিক সুবিধা হলো জমে থাকা সুদ মওকুফের সম্ভাবনা, যা সংকটাপন্ন ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে যাওয়া এবং ব্যাংকগুলোর জন্য তাদের অনাদায়ী ঋণের অন্তত কিছু অংশ উদ্ধার করা সহজ করে তুলবে।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, ব্যাংকিং খাতের সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য আরও ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, বিশেষ করে একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠন এবং সংকটাপন্ন সম্পদ ও দীর্ঘমেয়াদি খেলাপিদের মোকাবিলার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা। তিনি বলেন, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো ব্যাংক থেকে ছাড়কৃত মূল্যে সংকটাপন্ন সম্পদ কিনে নিতে পারে, যা ব্যাংকগুলোকে তাদের ব্যালেন্স শিট পরিষ্কার করতে এবং আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য দেখায়, ব্যাংকগুলো ২০২৪ এবং ২০২৫ এ দুই বছরেই ২.৫৬ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে, যার ৪০ শতাংশই আবার খেলাপি হয়ে গেছে। অপর একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের একজন শীর্ষ নির্বাহী বলেন, এর কারণ হলো খেলাপি কোম্পানিগুলোর যেসব মূল সমস্যা, তার সমাধান করা হয়নি। ওই খেলাপি কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগই চলার মতো অবস্থায় ছিল না—কারণ তাদের ঋণ-ইকুইটি অনুপাত ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যার অর্থ তাদের কোনো মূলধন ছিল না। এই অবস্থায়, পুঁজি জোগান বা সম্পদ বিক্রি তাদের বাঁচাতে পারত, কিন্তু তাদের আরও ঋণ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, যা দায়ের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে ডাকাতির শিকার ৫০-৬০ যানবাহন, লুট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা

নিজ ব্যাংকের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তারা পলিসি কমিটির অনুমোদন অনুযায়ী একটি পুনঃতফসিলের কেসও মেনে চলেননি। "বরং আমরা গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের জন্য সম্পদ বিক্রি করতে, আরও ঋণের সুবিধার জন্য সম্পদ বন্ধক রাখতে এবং ব্যবসার পরিধি ছোট করতে বাধ্য হয়েছে, যা তাদের টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।"

তিনি বলেন, এসব কঠোর পদক্ষেপের কারণে ওই কোম্পানিগুলো গ্রেস পিরিয়ড না নিয়েও সর্বোচ্চ ৮ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিল করার পর এখনো ঋণ পরিশোধ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, পলিসি কমিটি ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ড অনুমোদন করে। এটা তাদের কিস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে তারা আর ঋণ পরিশোধ চালিয়ে যেতে পারেনি এবং শেষ পর্যন্ত আবারও খেলাপি হয়ে পড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংঘাতে নিহত ১ লাখ: মনিটর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


মিয়ানমারে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংঘাতে নিহত ১ লাখ: মনিটর

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী সংঘটে নিহতের সংখ্যা একটি লাখ ছাড়িয়েছে। বুধবার সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন এন্ড ইভেন্ট ডাটা প্রোজেক্ট (এসিএলইডি) এ তথ্য জানিয়েছে।

এসিএলইডি জানায়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মোট এক লাখ ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন এটি এশিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনী নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে চ্যুত করে এবং গণতন্ত্রপন্থী নেতা অং সান সু চিকে আটক করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে আন্দোলনকারীদের অধিকাংশই বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেই সংঘাত ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

সরকারিভাবে নিহতের নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা না হলেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সাধারণ মানুষেরা যুদ্ধের এই সমস্যার সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন। বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং সংঘর্ষের ফলে অসংখ্য পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছে।

রাখাইন রাজ্যের ৪৯ বছরের বাসিন্দা থেইন আয়ে নু বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক বিমান হামলায় তার স্বামী নিহত হয়েছেন। তিনি যোগ করেন, “এই দুর্ভোগ যেন শেষ হওয়ার নয়।” তিনি জানিয়েছেন, কী কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করবেন, সেটিও তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত পরিসরে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বহু এলাকায় ভোটগ্রহণ হয়নি। অং সান সু চির দলও কার্যত নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এজন্য গণতন্ত্রপন্থী মহল এই নির্বাচনকে ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোও শান্তি আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে ৩৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সেইসঙ্গে দারিদ্র্য এবং খাদ্যসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছে।

সংঘাত পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের মধ্যে এক হাজার ২০০টিরও বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহীরা বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করলেও পরে সামরিক বাহিনী আবারও কৌশলগত সুবিধা ফিরে পায়।

এদিকে সৈন্যসংকট মোকাবিলায় ২০২৪ সালে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আইন চালু করে সামরিক সরকার। এর কারণে প্রায় ৫০ হাজার নাগরিককে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। একজন পালিয়ে আসা সাবেক সেনা বলেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।

পর্যবেক্ষকরা জানাচ্ছেন, মিয়ানমারের এই গৃহযুদ্ধের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়েও ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, ফলে শরণার্থী শিবিরগুলোতে চাপও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর সঙ্গে মাদক উৎপাদন, পাচার ও অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিস্তারও সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলি রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া, নেতানিয়াহুর বিপক্ষে তাঁরই সাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


ইসরাইলি রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া, নেতানিয়াহুর বিপক্ষে তাঁরই সাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত

ইসরাইলের রাজনীতিতে সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিয়োগ পাওয়া সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট এখন তার বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। চ্যানেল-১২ এর একটি জরিপে হাইলাইট করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উপযুক্ত কে তা নিয়ে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা আইজেনকটের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেছেন ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা।

অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠেছেন। এক সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটকে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হলেও, এখন সেই জায়গা দখল করে নিয়েছেন গাদি আইজেনকট। সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, তার দল ‘ইয়াশার’ ক্ষমতাসীন লিকুদের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

এইজেনকটের দল, যা এক বছরেরও কম সময় আগে গঠন করা হয়েছে, এখন জনমত জরিপে দ্রুত এগোচ্ছে। ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল-১২ এর করা জরিপে দেখা যাচ্ছে যে, নেসেটে লিকুদ পেতে পারে ২৩টি আসন। আর গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পেতে পারে ২১টি আসন। এছাড়া বেনেট-লাপিদ জোট এতে ১৮টি আসন পেতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে বেশি উপযুক্ত মনে করেন– এমন প্রশ্নের উত্তরে ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা এইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছেন ৩৬ শতাংশ। অন্যান্য জরিপেও প্রায় একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে, যা দীর্ঘদিন পর নেতানিয়াহুকে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এইজেনকটের জনপ্রিয়তার প্রভাব পড়েছে নেতানিয়াহুর দলের ওপর। সম্প্রতি, সামাজিক মাধ্যমে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিও প্রকাশ করে লিকুদ পার্টি দাবি করে যে, আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া আইজেনকট সরকার গঠন করতে পারবেন না। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর দল আবারও অ্যান্টি-আরব ইস্যুকে সামনে আনছে।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইসরাইলের সেনাপ্রধান হিসেবে ছিলেন এইজেনকট। পরে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য হন। তবে গাজা যুদ্ধের কৌশল নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রিসভা ছাড়তে বাধ্য হন। যুদ্ধে নিজের ছেলে ও দুই ভাতিজাকে হারানোর ঘটনাটি তার প্রতি জনসমর্থন প্রচুর বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বিশ্লেষকদের মতে, যদিও এইজেনকটের জনপ্রিয়তা বেড়েছে, তবে সরকারের গঠনকে কেন্দ্র করে তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ইসরাইলের বিভক্ত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন মতাদর্শের দল নিয়ে জোট গঠন করাটা সহজ হবে না এমনটাই মনে করছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের বীরত্বপূর্ণ লড়াইকে কুর্নিশ জানাল ফিফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ পি.এম


ইরানের বীরত্বপূর্ণ লড়াইকে কুর্নিশ জানাল ফিফা

 

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরানকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো, যদিও তারা অপরাজিত ছিল। তবে মাঠের খেলায় তাদের লড়াই, দৃঢ়তা এবং একাগ্রতা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে।

গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই ড্র করে তারা ছিটকে গেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের এই লড়াকু মানসিকতার প্রশংসায় মেতেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ইরানের ফুটবলারদের বীরত্বকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন।

ফিফা সভাপতি লিখেছেন, "বিশ্বকাপের মতো কঠিন মঞ্চে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে অপরাজিত থাকাটা এক অনন্য কীর্তি। এটি বিশ্বমঞ্চে ইরানের অসাধারণ গুণমান এবং দলীয় সংহতির প্রমাণ দেয়।" তিনি যোগ করেন, "দুর্ভাগ্যবশত এবার পরের পর্বে যাওয়ার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না, তবে মাঠের লড়াইয়ে তাদের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষা সবার নজর কেড়েছে।" মন খুলে খেলার জন্য এবং সমর্থকদের গর্বিত করার জন্য ইরান দলকে ধন্যবাদ জানান ইনফান্তিনো।

চলতি বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ সহজ ছিল না। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর তাদের টুর্নামেন্টে খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বড় সংশয়। মাঠের বাইরের এমন উত্তাল ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গ্রুপ ‘জি’-তে শক্তিমত্তার পরিচয় দেয় তারা।

যদিও শেষ পর্যন্ত বেলজিয়াম ও মিশরের পেছনে থেকে এবং সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলোর তালিকায় জায়গা করতে না পেরে গ্রুপ পর্বেই থামতে হয় তাদের।

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হয়েছিল ইরান। ম্যাচে মোহাম্মদ সালাহর দুর্দান্ত একটি শট প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে মাহমুদ সাব্রে গোল করে মিশরকে এগিয়ে নেন। এর কিছুক্ষণ পর ইরানের মেহেদি তারেমির পেনাল্টি শট মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইব আটকে দিলেও রামিন রেজাইয়ান দুর্দান্ত একটি গোল করে ইরানকে সমতায় ফেরান।

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এই রেজাইয়ানই। তবে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ইরানের করা একটি গোল অফসাইডের কারণে ভিএআর রিভিউতে বাতিল হয়ে গেলে জয়বঞ্চিত হতে হয় তাদের।

এক বুক হতাশা আর অপরাজিত থাকার গৌরব নিয়ে দেশে ফিরলেও প্রতিকূলতা জয় করে ইরানের এই ফুটবলীয় লড়াই দীর্ঘদিন মনে রাখবে ফুটবল বিশ্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএসটিআইয়ের অভিযানে হায়ার বাংলাদেশকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:৩৫ পি.এম


বিএসটিআইয়ের অভিযানে হায়ার বাংলাদেশকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

রাজধানীর গুলশান এলাকায় একটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে অনুমোদন ও ছাড়পত্র ছাড়াই স্টোরেজ ওয়াটার হিটার (গিজার) বিক্রির অপরাধে হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

শনিবার, বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সহযোগিতায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, গুলশান এভিনিউয়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিএসটিআইয়ের বৈধ মানসনদ (সিএম লাইসেন্স) ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া স্টোরেজ ওয়াটার হিটার (গিজার) বাজারজাত করে আসছিল। এ অপরাধে ‘বিএসটিআই আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএসটিআই জানিয়েছে, ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজারে মানসম্মত ইলেকট্রনিক্স পণ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে তারা সাধারণ ক্রেতাদের যেকোনো ইলেকট্রনিক্স বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের অনুমোদিত স্ট্যান্ডার্ড মার্ক যাচাই করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক (সিএম) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। প্রসিকিউটর হিসেবে ফিল্ড অফিসার (সিএম) এ এন এম ফরহাদ হোসেন দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, ফিল্ড অফিসার (সিএম) আজমির খান মজলিশ এবং ডিএমআই, বিএসটিআই ঢাকার পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. নূরুল ইসলাম অভিযানে অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%