বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৫:৫৭ পি.এম
চট্টগ্রাম, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘির পাড় জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা নিখোঁজ হয়ে গেছে।
এ ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ ইনচার্জ) মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫) নামে দুজনকে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গায়েব হওয়া অর্থ বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সাথে আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা বের করার চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে থাকা কামরুল হোসেন নগদ অর্থ ও ভল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমিল দেখতে পান। পরে ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে কামরুল হোসেন সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।
ঘটনার পর ওই রাতেই কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জাফরুল্লাহ তানভীর ব্যাংকের কর্মকর্তা নন। তিনি একজন ব্যবসায়ী।
গ্রেফতার তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা গ্রাহক নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার কাছে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো তথ্য বা রেকর্ড ব্যাংক দেখাতে পারেনি।’ তিনি দাবি করেন, ব্যাংক কর্মকর্তা কামরুল হোসেন লাভের চুক্তিতে তানভীরকে বিভিন্ন সময় টাকা দিতেন। পরে লাভসহ মূল টাকা ফেরত নিতেন।
এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ হাজার টাকার নোটের বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। ফলে বাইরে থেকে দেখে ভল্টে পুরো টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল কম।
অভিযোগ রয়েছে, এভাবে সরানো অর্থ বিশেষ শর্তে জাফরুল্লাহ তানভীরের কাছে বিনিয়োগ করা হয়। ওই অর্থ দিয়ে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি গরুর খামারের কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে ওই খামারে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বাসস’কে বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য ও রেকর্ড এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট চলছে। অডিট শেষ হলে অর্থের ঘাটতি ও ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় রিমান্ড শেষে গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এ দিন রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান তাকে কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন তার জামিন, কারাগারে ডিভিশন ও চিকিৎসা চেয়ে পৃথক তিনটি আবেদন করেন। তবে মূল নথি অনুপস্থিত থাকায় জামিন শুনানি হয়নি।
এ কারণে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন। একইসঙ্গে কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন ও চিকিৎসার নির্দেশনাও দেন।
এর আগে ৫ আগস্ট রাতে গুলশানের একটি বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে। পরের দিন ৬ আগস্ট তার ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়।
ওই দিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ১০ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুন সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নিবাস মজুমদারসহ নিষিদ্ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩৫-৪০ জন নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। মিছিলে তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি সহ রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালান। এ ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় এবার একটি অভিন্ন রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো গড়ে তুলতে যাচ্ছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক।
গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ওই প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে তিন দেশ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পেও সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনা রয়েছে। যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময় এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রে তিন দেশ কাজ করতে পারে।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার জন্য নতুন কিছু প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা হবে। এর ফলে রাজনৈতিক পর্যায়ে নয়, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়েও নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়বে।
বিশেষ করে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য ও মূল্যায়ন বিনিময়সহ সম্ভাব্য নিরাপত্তা সংকট মোকাবেলায় পারস্পরিক সমন্বয়ের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তির আওতায় যৌথ সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব মহড়ার মাধ্যমে তিন দেশের সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা, যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
মক্কা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানো। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিন দেশ ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগাভাগি এবং যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে।
প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্ষেত্রে তুরস্কের দ্রুত বিকাশমান শিল্প, পাকিস্তানের সামরিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সৌদি আরবের বড় প্রতিরক্ষা বাজেট পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি বিনিময় বাস্তবায়িত হলে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সামরিক যান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে যৌথ উৎপাদন বা প্রযুক্তি বিনিময় হবে, সে বিষয়ে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন নয়। তিন দেশেরই মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে আলাদা প্রভাব রয়েছে। তবে নতুন চুক্তির মাধ্যমে এই সহযোগিতাকে আনুষ্ঠানিক ও সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ার সময় তিন দেশের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগটি তাৎপর্যপূর্ণ।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অন্যদিকে, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং আঞ্চলিক সামরিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। পাকিস্তানের রয়েছে বড় ও অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী এবং পারমাণবিক সক্ষমতা। ফলে তিন দেশের মধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে উঠলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব ও পাকিস্তান তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেয়। পরে তুরস্কও এই কাঠামোর অংশ হয়।
চুক্তির মূল লক্ষ্য তিন দেশের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। এখন রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে নতুন কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের মাধ্যমে চুক্তিটিকে বাস্তব সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময় এবং সম্ভাব্য যৌথ উৎপাদনের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে।
তবে এই জোট ভবিষ্যতে কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট হিসেবে কাজ করবে কি না, নাকি মূলত তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর কাঠামো হিসেবেই থাকবে- তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তিন দেশের নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো কতটা কার্যকর হয় এবং এর আওতায় কী ধরনের যৌথ সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি জানিয়েছেন, এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি, পুনর্বাসন, আবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ এক ছাতার নিচে নিশ্চিত করা হবে।
সচিবালয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা, বিশেষ শিক্ষা বা পুনর্বাসনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ফলস্বরূপ, তাদের সম্ভাবনা বিকাশের পথ বাধাগ্রস্ত হয়। সরকার এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যার নাম রাখা হয়েছে ‘শিশু স্বর্গ’।
তিনি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের বোঝা নয়, তারা আমাদের সম্পদ। সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে পারলে তারাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা প্রতিটি জেলায় শিশু স্বর্গ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি।’
প্রতিমন্ত্রী জানালেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যেগে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করবে। এর পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় তাদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, শিক্ষা, থেরাপি, প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তিনি নিশ্চিত করেন, 'আমরা চাই একটি পরিবার যেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরে বেড়াতে বাধ্য না হয়। একটি শিশুর যেসব সেবা প্রয়োজন, সেগুলো যেন একই জায়গা থেকে পাওয়া যায়। শিশু স্বর্গ মূলত একটি ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার হিসেবে পরিচালিত হবে।'
ফারজানা শারমীন বলেন, বর্তমানে অনেক পরিবার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানকে নিয়ে নানা ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্পিচ থেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট কিংবা বিশেষ শিক্ষকের অভাবে অনেক শিশু তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এসব সীমাবদ্ধতা ধীরে ধীরে দূর করা হবে।
তিনি জানান, 'একজন অটিজম বা প্রতিবন্ধী শিশুর বিকাশের জন্য শুধু চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। তার শিক্ষা, মানসিক বিকাশ, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিশু স্বর্গে এসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে।'
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কেন্দ্রে শিশুর বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক সেবা পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফিজিওথেরাপি, স্পিচ থেরাপি, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, বিশেষ শিক্ষা এবং অভিভাবকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি সংযোজন করেন, 'শুধু শিশুদের নয়, তাদের অভিভাবকদেরও সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে হবে। কারণ পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া কোনো পুনর্বাসন কার্যক্রম সফল হয় না। তাই শিশু স্বর্গে অভিভাবকদের জন্যেও নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা থাকবে।'
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কেবল ভাতার আওতায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। বরং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
তিনি বলেন, 'আমরা চাই প্রতিবন্ধী শিশুরা বড় হয়ে আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। এজন্য ছোটবেলা থেকেই তাদের উপযুক্ত শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং জীবনমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।'
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার। যারা হস্তশিল্প বা অন্য কোনো পণ্য উৎপাদন করবেন, তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণেও সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের উদ্দেশ্য দাননির্ভর সমাজ গড়া নয়; বরং এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মর্যাদার সঙ্গে নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন।'
ফারজানা শারমীন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকলেও সরকার এখন আরও টেকসই উদ্যোগের দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, 'ভাতা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো একজন মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা।'
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইন ও নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, গণপরিবহন এবং অন্যান্য সেবাক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় সামাজিক কুসংস্কার ও সচেতনতার অভাবে প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবারগুলো সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শিশু স্বর্গ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুধু সেবা প্রদান নয়, সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার কাজও করা হবে।
তিনি বলেন, 'আমরা চাই মানুষ প্রতিবন্ধিতাকে করুণা নয়, মানবিকতা ও অধিকারের দৃষ্টিতে দেখুক। সমাজের প্রতিটি শিশুর সমান মর্যাদা ও সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।'
তিনি জানান, শিশু স্বর্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা উপকরণ, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা থাকবে, যাতে শিশুরা আনন্দের মধ্য দিয়ে শিখতে পারে এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'একটি শিশুর মানসিক বিকাশে আনন্দময় পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশু স্বর্গ শুধু একটি সেবাকেন্দ্র হবে না, এটি হবে একটি নিরাপদ পরিবেশ যেখানে শিশুরা নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগও পাবে।'
তিনি আরও যোগ করেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবারগুলো যাতে সহজে এসব সেবা পায়, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ে কেন্দ্র স্থাপনের ফলে রাজধানীকেন্দ্রিক সেবার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং মানুষ নিজ জেলাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।
ফারজানা শারমীন বলেন, সরকার স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে একটি কার্যকর সেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।
তিনি বলেন, 'প্রতিবন্ধী শিশুদের উন্নয়ন কোনো একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এটি একটি সমন্বিত জাতীয় দায়িত্ব। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।'
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে তারা সমাজের মূলধারায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, 'আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কোনো প্রতিবন্ধী শিশু অবহেলিত থাকবে না। প্রতিটি শিশুর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ থাকবে এবং তারা মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে।'
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'শিশু স্বর্গ প্রকল্প শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নয়; এটি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার কর্মসূচি। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রতিটি জেলায় ধাপে ধাপে এই সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের সব প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানায় হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আব্দুর রহিমকে (৪৮) দীর্ঘ ৯ বছর পর ফেনীর দাগনভূঞা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনীর দাগনভূঞা মিষ্টি মুখ সুইটসের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রহিম সুবর্ণচর উপজেলার উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকার মৃত আবদুল বারিকের ছেলে।
র্যাব জানায়, ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সোনাইমুড়ী থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে বিচার শেষে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর থেকে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে ৯ বছর আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থাকার সময় আসামি তার জাতীয় পরিচয়পত্রের স্থায়ী ঠিকানাও পরিবর্তন করেন।
দীর্ঘদিন গোয়েন্দা নজরদারির পর তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১১-এর সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চরজব্বর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ