ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ বেজার


অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ বেজার

দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষা (বেজা) এর গভর্নিং বোর্ড।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে, বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে।

আরও পড়ুন: আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের উদ্বোধনে পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু

এ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিল্পায়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের ৯ম সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন পর্যালোচনা এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প-সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রযুক্তির অগ্রগতি বিমান চলাচলে নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে: বিমানবাহিনী প্রধান

নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি ও বিদ্যমান অবকাঠামোকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও এই বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।

এসব এলাকায় আধুনিক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ ও নতুন নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন: সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের জাতীয় সম্পদ: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর বর্তমান নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধ: নতুন কৌশল নিতে সেনাদের প্রতি পেন্টাগনের বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


ইরান যুদ্ধ: নতুন কৌশল নিতে সেনাদের প্রতি পেন্টাগনের বার্তা

ইরানের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার উপায় খুঁজতে নিজেদের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেই নতুন ও ব্যতিক্রমী ধারণা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

প্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে বলা হয়েছে, “ইরানকে চাপ ও শাস্তি দেওয়ার নতুন, সৃজনশীল এবং অপ্রচলিত উপায় প্রয়োজন।”

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত সপ্তাহে সেন্টকমের গোয়েন্দা শাখার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিস্তৃত পরিসরের সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে ওই ই-মেইল পাঠান।

এতে তাদের কাছে ইরানকে মোকাবিলার নতুন কৌশল প্রস্তাব করতে বলা হয়।

সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ই-মেইলের মাধ্যমে এ ধরনের ‘ব্রেইনস্টর্মিং’ বা সম্মিলিতভাবে নতুন ধারণা আহ্বান করা অস্বাভাবিক। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে প্রচলিত সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় বিকল্প পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।

কৌশল পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দ্বিতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, সেন্টকম বর্তমানে সম্ভাব্য সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করছে এবং বিদ্যমান কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

এ বিষয়ে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সব সময়ই উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল পদ্ধতিতে কাজ করার ঐতিহ্য বহন করে। বিশেষ করে অ্যাডমিরাল কুপার পদমর্যাদা নির্বিশেষে দলের সদস্যদের কাছ থেকে মতামত নিয়ে সর্বোচ্চ কার্যকর অপারেশন পরিচালনায় বিশ্বাসী।”

সৌদি হস্তক্ষেপের পর স্থগিত হয় হামলা সূত্রগুলোর দাবি, ওই ই-মেইল পাঠানোর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দিলেও সপ্তাহান্তে তা স্থগিত করেন। কারণ, সৌদি আরবের যুবরাজসহ কয়েকজন আঞ্চলিক নেতা ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান।

গঠিত গঠন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের জন্য ইরানের সম্ভাব্য হুমকি কমানো এবং তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও সমঝোতার লক্ষণ দেখা যায়নি।

পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন হামলার পরিকল্পনা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অবশিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে। বিশেষ করে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ এবং আরও কয়েকটি স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, এসব স্থাপনায় পারমাণবিক উপাদান বা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি সংরক্ষিত রয়েছে।

কিন্তু সামরিক সূত্রগুলোর মতে, এসব স্থাপনা গভীর ভূগর্ভে নির্মিত হওয়ায় কেবল ক্ষেপণাস্ত্র বা বোমা হামলায় সেগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা কঠিন। কার্যকরভাবে ধ্বংস করতে হলে স্থলবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে সিদ্ধান্ত নিতে অনাগ্রহী।

এদিকে সংঘাতে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘প্রতীকী বিজয়’ খুঁজছেন ট্রাম্প? একটি সূত্রের দাবি, ট্রাম্প এমন ধরনের হামলার কথাও বিবেচনা করছেন, যা মূলত ‘আতশবাজির প্রদর্শনীর’ মতো প্রতীকী শক্তি প্রদর্শন হবে। এর লক্ষ্য হতে পারে আগের হামলার মতো একই বা অনুরূপ স্থাপনায় আঘাত হেনে রাজনৈতিকভাবে একটি ‘বিজয়ের বার্তা’ দেওয়া, যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস না করেও যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরানের অবস্থান বা চলমান সংকটের মূল সমস্যার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

একটি সূত্রের ভাষায়, “দিনের শেষে প্রেসিডেন্ট একটি সমঝোতাই চাইবেন। তাই তিনি একদিকে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবেন, অন্যদিকে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথও খুঁজবেন।”

গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) এবং ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সম্প্রতি মূল্যায়ন করেছে যে, চলমান বিমান হামলা ইরানের আলোচনার অবস্থান বদলে দিতে সক্ষম হবে- এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও। গত মাসে আইনপ্রণেতাদের তিনি বলেন, “বিমান শক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”

সামনে কী পথ? মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সংঘাত আরও বাড়ানোর জন্য কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন পরিকল্পনা ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পরিকল্পনায় এক থেকে দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে আসা এবং বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকির কারণে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। অন্যদিকে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিকল্পও রয়েছে, যার মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখল বা ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেছিলেন, “আমি কখনওই আমেরিকানদের এমন অন্তহীন বিদেশি যুদ্ধে লড়তে ও মরতে পাঠাব না।”

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন দুটি কঠিন পথ খোলা রয়েছে- একদিকে সংঘাত আরও বাড়ানো, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পাল্টাপাল্টি হামলার বাস্তবতা মেনে নেওয়া। উভয় ক্ষেত্রেই হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা জিততে চাই। আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব। একসময় তারা বলবে- আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন ট্রাম্পকে ইরানে হামলা থেকে বিরত রাখলেন সৌদি যুবরাজ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


কেন ট্রাম্পকে ইরানে হামলা থেকে বিরত রাখলেন সৌদি যুবরাজ?

মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য ভয়াবহ যুদ্ধ এড়াতে মার্কিন প্রশাসনকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। নতুন করে ইরানে হামলা না চালাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এই অনুরোধ জানান যুবরাজ। এরপরই ট্রাম্পও দ্রুত হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

সৌদি আরবের চিন্তা হল যে, ইরানে যেকোনো বড় ধরনের মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এটি দেশটির অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

ঘটনার শুরু হয়েছে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাব-এল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র জানতে পেরেছে যে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সৌদি রিয়াদের মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে নতুন কোনো সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

এদিকে, তেহরান ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি নতুন আক্রমণ চালায়, তাহলে তারা ইসরায়েলসহ অন্য অঞ্চলের দেশের জ্বালানি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত করবে। সাথে আরো, যদি মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ মার্কিন হামলায় সহায়তা করে, তাহলে তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

সৌদি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাথে লড়াইয়ের মাধ্যমে রিয়াদ একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছে যে, কেবল সামরিক শক্তি ব্যবহার করে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। আর এ কারণেই নতুন করে সামরিক সংঘাতের দিকে না গিয়ে কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে মত দিচ্ছে সৌদি আরব। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক তেলের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কাতার, ওমানসহ প্রতিবেশী অন্যান্য দেশগুলোও এখন জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই টেকসই জীবিকা নিশ্চিত সম্ভব: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানেই টেকসই জীবিকা নিশ্চিত সম্ভব: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকর ও টেকসই উপায়।

তিনি সোমবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘প্রায়োরিটাইজিং নেচার-বেসড ইন্টারভেনশনস ফর রেজিলিয়েন্ট কোস্টাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় কারিগরি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এনজিও সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’ ও কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন, জলাভূমি, উপকূলীয় উদ্ভিদবেষ্টনী এবং সমন্বিত কৃষি-বনায়ন ব্যবস্থা পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে প্রাণিসম্পদের খাদ্যের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, প্রাণিস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যের সমন্বিত ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণাকে শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করলেও দেশের উপকূলীয় অঞ্চল এখনও বিশ্বের মধ্যে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে লবণাক্ততা এবং উপকূলীয় ভাঙন দেশের পরিবেশ, অর্থনীতি, খাদ্যব্যবস্থা ও মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এ দুটি খাত এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী যোগ করেন, টেকসই প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সরকার প্রতিশ্রুতibদ্ধ।

আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রেন্ডশিপ’র প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৌরভ মালহোত্রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব, কাস্টম ও বহুসংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল এমপি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এটি সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

এই বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, রোহিঙ্গা ইস্যু, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা, জনশক্তি রফতানি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সহ দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

অস্ট্রেলিয়াকে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে। প্রধানমন্ত্রী 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির আলোকে বর্তমান সরকার সু-শাসন প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ (People-to-People links) দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে মনে করে এবং দুই দেশের এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও বিকশিত হবে।

সাক্ষাতে ইউরোপসহ বিভিন্ন রুটে অবৈধ অভিবাসন এবং মানবপাচারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সম্প্রতি 'মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬' পাস হয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বালি প্রসেসের রূপরেখা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন মানবপাচার বিরোধী আইনটির প্রশংসা করেন এবং এর কার্যকর বাস্তবায়নে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে কারিগরি ও সমন্বিত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, একটি সু-শৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য অনিয়মিত অভিবাসীদের মসৃণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি।

এ সময়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১৪-১৮ জুন ২০২৬ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে নিয়মিত অভিবাসন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক মানবপাচার প্রতিরোধসহ দ্বি-পাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। এটি বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি যেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, সে বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন তিনি।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলকে স্বাগত জানান এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল, সহকারী মন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ ক্যামেরন গ্রিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ড. ডেমিয়ান অলিভার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মিনিস্টার-কাউন্সিলর (শিক্ষা ও গবেষণা) জর্জ থিভিওস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক স্টিভেন বিডল উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%