০১:৩৬ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। ভারতের একটি অজ্ঞাত এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রসংক্রান্ত একটি ভুয়া বক্তব্য প্রকাশ করা হয়, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি গণমাধ্যম, শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও ওই ভুয়া তথ্যের ফাঁদে পড়ে যান। তিনি এক বক্তৃতায় ওই ভিত্তিহীন দাবিকে ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রথম প্রকাশ্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র হাস্যরস এবং আলোচনা সৃষ্টি হয়।
দেশে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৫ আগস্ট। ভারতের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয় যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদি বলেছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার অবস্থায় ইরানও তা তৈরির চেষ্টা চালাবে। পোস্টটির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি একটি পারমাণবিক বিস্ফোরণের ছবিও সংযুক্ত করা ছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই কর্মকর্তার এমন কোনো বক্তব্যের অস্তিত্ব নেই।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
ভারতের অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানোর পরপরই ইসরায়েলি ও মার্কিন গণমাধ্যম এবং রাজনীতিকেরা সেই খবরটি যাচাই ছাড়াই গ্রহণ করেন। ‘মোসাদ কমেন্টারি’ নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ইসরায়েলের ‘চ্যানেল ১৪’ সেই খবরটি প্রচার করে এবং এর পরে নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু তা শেয়ার করেন। তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার সরকারি বক্তৃতায় ওই ভুয়া দাবিটি তুলে ধরেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও একই ঘটনা ঘটে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এবং রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট ওই ভুয়া পোস্টটি শেয়ার করে ইরানের তীব্র সমালোচনা করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ বিষয়টি সম্প্রচার করে। তবে সত্যতা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর মাইক ওয়াল্টজ তার পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং ফক্স নিউজ আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে, জানিয়েছে যে খবরটি ‘ভুল এবং যাচাইহীন’।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই ঘটনার প্রতি ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যার বন্যা’ বলুন মন্তব্য করেন এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, তা পুনর্ব্যক্ত করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, ঘটনাটি বিশ্বরাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘ন্যারেটিভ লন্ডারিং’-এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে একটি ভুয়া তথ্য একাধিক অসাধু চক্র ও প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বারা বিশ্বমঞ্চে সাময়িকভাবে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিল।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতাদের ভারতীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি, রাশেদকে চ্যালেঞ্জ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন