ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে এমদাদুলের গ্রেপ্তার, পুলিশ জানাল নিরপরাধদের হয়রানি হবে না


বিয়ের দাওয়াত দিতে গিয়ে এমদাদুলের গ্রেপ্তার, পুলিশ জানাল নিরপরাধদের হয়রানি হবে না

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাইয়ের মামলায় এক গার্মেন্টস কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এমদাদুল হক নামের ওই গার্মেন্ট কর্মীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। অপরদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করবে না।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। মিলনের বাড়ি থেকেই গার্মেন্ট কর্মী এমদাদুল হককেও গ্রেপ্তার করা হয়। এমদাদুলের পরিবার দাবি করেছে, তিনি বোনের বিয়ের দাওয়াত দিতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।

গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে পুলিশের হাতে আটক হন রিয়াজুল আলম শাহীন। শাহীন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা বলে জানা গেছে এবং তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে শাহীনকে ছাড়িয়ে নেয়।

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ নারী আটক

পরদিন এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে, যেখানে ২৭ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মিলন মিয়া ওই মামলার পাঁচ নম্বর আসামি এবং সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আরো ৩০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমদাদুল হককে পুলিশ অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এমদাদুলের মা মনোয়ারা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, "আমি নিজে আমার ছেলেকে নিয়ে মিলনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত দিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই পুলিশ আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল।"

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমদাদুল ঢাকার একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। তিনি বোনের বিয়ের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী মিলনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত দিতে যান এমদাদুল। সেখান থেকে মিলনের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের মামলায় অজ্ঞাত আসামি করায় সরিষা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামগুলোতে গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: কালকিনিতে গৃহবধূকে গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ

সোহাগী গ্রামের ৭০ বছর বয়সী আবু সিদ্দিক বলেন, এই মামলায় নিরীহ অনেক মানুষকে আসামি করা হয়েছে। গণগ্রেপ্তারের আতঙ্কে বর্তমানে সোহাগিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে কোনো যুবকের দেখা মিলছে না।

নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘জাল ফেললে তো অন্য কিছু আসবেই।’ তবে তিনি জানান, যাতে নিরীহ মানুষ অভিযুক্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে ক্রেডিট কার্ডের ঋণখেলাপি বাড়ছে, বিপাকে মধ্যবয়সী চাকরিজীবীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ পি.এম


চীনে ক্রেডিট কার্ডের ঋণখেলাপি বাড়ছে, বিপাকে মধ্যবয়সী চাকরিজীবীরা

চীনে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঋণখেলাপির এই প্রবণতা এমন এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, যাঁদের সাধারণত আর্থিকভাবে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হয়। তাঁদের অনেকের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি রয়েছে এবং সরকারি দপ্তর কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরি করছেন। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার কারণে তাঁদের একটি অংশ এখন ঋণের কিস্তি ও ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়েছেন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের ব্যাংকগুলো একসময় এসব গ্রাহককে ঋণ দিতে আগ্রহী ছিল। তাঁদের নিয়মিত আয় ও চাকরির নিরাপত্তার কারণে ব্যাংকগুলোর ধারণা ছিল, তাঁরা সহজেই ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু পরিস্থিতি পরিবর্তিত হওয়ায় অনাদায়ি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিও বিক্রি করে দায় কমানোর উদ্যোগে জোর দিচ্ছে।

চীনের ব্যাংকিং ক্রেডিট অ্যাসেটস রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড সার্কুলেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ওই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত অনাদায়ি ঋণের পোর্টফোলিওর মূল্য আগের প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এটি চীনের একটি সরকারি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যাংক ও ভোক্তা অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিও তালিকাভুক্ত করে এবং বিক্রির জন্য প্রকাশ করে।

তৃতীয় প্রান্তিকে নতুন করে নিবন্ধিত খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিওর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮১০ কোটি ইউয়ান, যা প্রায় ২২২ কোটি মার্কিন ডলার নয়, বরং ২২২০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। এর মধ্যে মূল ঋণ ও সুদ অন্তর্ভুক্ত। এই ঋণের ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ ছিল ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া, যা একক শ্রেণি হিসেবে সবচেয়ে বড় অংশ।

অক্টোবরের ২২ তারিখ পর্যন্ত ওই প্ল্যাটফর্মে নতুন করে ৮২টি খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিও তালিকাভুক্ত হয়েছিল। অধিকাংশ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এসব ক্রেডিট কার্ডধারীর গড় বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। পিং আন ব্যাংকের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি তাঁদের মধ্যবয়সী গ্রাহক হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কেন মধ্যবয়সীরা বেশি চাপে

বিশ্লেষক ও ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তাদের মতে, চীনে মধ্যবয়সী ক্রেডিট কার্ডধারীরা এখন তুলনামূলকভাবে বেশি ঋণঝুঁকিতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। সেখানে ক্রেডিট কার্ডের ঋণখেলাপির ক্ষেত্রে তরুণদের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরে বেশি বলে দেখা গেছে।

নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকেও যুক্তরাষ্ট্রে ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের গুরুতর ঋণখেলাপিতে পড়ার হার বয়স্কদের তুলনায় বেশি ছিল। এর পেছনে ঋণের বেশি ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য নগদ অর্থের কম সঞ্চয়কে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

চীনের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। দেশটির ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের বড় অংশ মধ্যবয়সী। অন্যদিকে, তরুণদের অনেকে এখন প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের বদলে অনলাইন ঋণসেবা ব্যবহার করেন।

চীনের ক্রেডিট কার্ড খাত নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা স্বাধীন বিশ্লেষক দং ঝেং বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে গেলে চল্লিশোর্ধ্ব মানুষেরা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে পড়েন। তাঁদের অনেকের বাড়ির ঋণ রয়েছে। পাশাপাশি সন্তান লালন-পালন, পরিবারের খরচ এবং অন্যান্য আর্থিক দায়িত্বও সামলাতে হয়।

চাকরি থাকলেও কমছে আয়

চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সাংহাই শাখায় ক্রেডিট কার্ড কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা এক ব্যবস্থাপকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঋণ আদায়ের সময় অনেক গ্রাহক জানিয়েছেন, তাঁদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে অথবা চাকরি চলে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকেরা সাধারণত বাড়ি হারানোর ঝুঁকি এড়াতে চান। তাই তাঁরা বাড়ির ঋণের কিস্তি ও পরিবারের খরচকে অগ্রাধিকার দেন। ক্রেডিট কার্ডের বিল বকেয়া থাকলে তাঁদের ঋণসংক্রান্ত রেকর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ি হারানোর মতো ঝুঁকি তৈরি হয় না।

তাঁর মতে, খেলাপি গ্রাহকদের অনেকের পেশাগত পরিচয়ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিস্মিত করছে। বাইরে থেকে তাঁদের চাকরি স্থিতিশীল ও আয় ভালো বলে মনে হলেও বাস্তবে তাঁরা আর্থিক চাপে পড়েছেন। এদের মধ্যে সাংহাইয়ের সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি দপ্তরে কর্মরত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

শিক্ষিত ও স্থিতিশীল পেশার মানুষও খেলাপি

চীনের কয়েকটি ব্যাংকের প্রকাশিত খেলাপি ঋণের বিবরণেও একই চিত্র দেখা গেছে।

আগস্টে বেইজিংভিত্তিক চায়না এভারব্রাইট ব্যাংক ১০০০ কোটি ইউয়ানের বেশি মূল্যের একটি খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিও তালিকাভুক্ত করে। ব্যাংকটি জানায়, ওই ঋণগ্রহীতাদের বড় অংশের কলেজ ডিপ্লোমা বা তার চেয়ে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে।

পূর্ব চীনের জিয়াংসু লিশুই রুরাল কমার্শিয়াল ব্যাংক তাদের খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের পেশাগত দক্ষতা ভালো বলে উল্লেখ করেছে। ব্যাংকটির মতে, সে কারণে তাঁদের ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনাও তুলনামূলক বেশি।

এ ধরনের তথ্য দেখায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা স্থিতিশীল পেশা থাকলেই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিশ্চিত হয় না। আয় কমে যাওয়া, চাকরি হারানো এবং পরিবারের ব্যয় বহাল রাখার চাপ একজন নিয়মিত ঋণগ্রহীতাকেও খেলাপির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

অতীতে সহজে ঋণ দেওয়ার প্রভাব

বিশ্লেষক দং ঝেংয়ের মতে, চীনে ক্রেডিট কার্ডের বর্তমান সমস্যার একটি বড় কারণ ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এই খাতে দ্রুত সম্প্রসারণ।

সেই সময় ব্যাংকগুলো দ্রুত গ্রাহক বাড়ানোর জন্য ঋণ আবেদনের শর্ত অনেক সহজ করেছিল। বিশেষ করে সরকারি সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো তুলনামূলক বেশি আস্থা রাখত।

ব্যাংকিং খাতের ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব গ্রাহককে ব্যাংক সাধারণত উচ্চমানের বা কম ঝুঁকির গ্রাহক হিসেবে বিবেচনা করত। ফলে তাঁদের পটভূমি যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও শিথিলতা ছিল। তাঁর মতে, সেই সময়ের ঋণ দেওয়ার নীতির ঝুঁকি এখন প্রকাশ পাচ্ছে।

অর্থাৎ, বর্তমান খেলাপি ঋণের সবটাই সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দার ফল নয়। আগের বছরগুলোতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কারণে যে ঝুঁকি জমা হয়েছিল, অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাবও স্পষ্ট হচ্ছে।

খেলাপি ঋণ বিক্রি বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো

চীনের ব্যাংকগুলো এখন অনাদায়ি ঋণের পোর্টফোলিও বিক্রির উদ্যোগ বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত খেলাপি ঋণের পোর্টফোলিওর মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ২২০ কোটি ইউয়ান। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

উহানভিত্তিক হুয়াইউয়ান সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক লিয়াও ঝিমিংয়ের মতে, খেলাপি ঋণ বাড়ার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর শর্তের কারণে চীনের আরও বেশি ব্যাংক নতুন ক্রেডিট কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হচ্ছে।

তবে অতীতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কারণে খেলাপি ঋণের অনুপাত আরও কিছু সময় বেশি থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

লিয়াও ঝিমিং বলেন, বিষয়টি এখন সামাজিক সমস্যাতেও পরিণত হয়েছে। মানুষের আয় বা চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়লে ঋণখেলাপির হার বাড়া স্বাভাবিক।

সামনে কী

চীনের ক্রেডিট কার্ডের ঋণখেলাপির ঘটনা দেশটির অর্থনীতিতে আয় ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার প্রভাব সম্পর্কে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। একসময় যাঁদের স্থিতিশীল চাকরি ও নিয়মিত আয়ের কারণে নিরাপদ ঋণগ্রহীতা মনে করা হতো, তাঁদের মধ্যেও খেলাপি বাড়ছে।

ব্যাংকগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন ঋণ দেওয়ার সময় গ্রাহকের প্রকৃত পরিশোধক্ষমতা যাচাই করা এবং পুরোনো খেলাপি ঋণের ক্ষতি সামাল দেওয়া। অন্যদিকে, চাকরি ও আয় হারানোর ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য বাড়ির ঋণ, পরিবারের ব্যয় এবং অন্যান্য দেনার মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও পরিবারের আয়ের পরিস্থিতির ওপর। তবে বর্তমান প্রবণতা দেখাচ্ছে, স্থায়ী চাকরি বা উচ্চশিক্ষা থাকলেও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। নিয়মিত আয় কমে গেলে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএসএফের গুলি, বাংলাদেশিদের হত্যার হুমকি বিজেপি বিধায়কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


বিএসএফের গুলি, বাংলাদেশিদের হত্যার হুমকি বিজেপি বিধায়কের

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এবং ভারতের কোচবিহারের মেখলীগঞ্জ সীমান্তের সানিয়াজান নদীতে পাথর ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তে গুলি বা স্টান গ্রেনেড ছোঁড়ার খবর পাওয়া গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) থেকে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

মেখলীগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায় বাংলাদেশিদের প্রতি বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে বলেছেন, ‘আমাদের বিএসএফ সচেষ্ট রয়েছে। কোনো বাংলাদেশি জিহাদি হোক আর যে-ই হোক, ইন্ডিয়ার মাটিতে পা রাখলেই তাদের গুলি করে দেওয়া হবে। কালকে কিছুটা তার প্রমাণ দেওয়া হয়েছে এবং এরপর থেকে বিএসএফ আরও সতর্ক।’ তিনি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য দ্রুত জমি অধিগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেছেন এবং জিরো পয়েন্টে কড়াকড়ি আরোপের কথা জানান।

ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশিদের ‘দুষ্কৃতিকারী’ হিসেবে একতরফাভাবে তুলে ধরা হলেও বাংলাদেশ প্রান্তের পরিস্থিতি ভিন্ন। স্থানীয় বাংলাদেশি গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন, তারা নিজেদের ভূখণ্ডের সীমানার ভেতরে থেকেই নদীতে কাজ করছিলেন। উল্টো বিএসএফ মাঝেমধ্যেই জিরো লাইন বা নো-ম্যানস ল্যান্ডের কাছাকাছি এসে অযাচিতভাবে শক্তি প্রদর্শন করে এবং সাধারণ বাংলাদেশিদের ওপর চড়াও হয়।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পক্ষ থেকে সীমান্তে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এই ঘটনার পর। বিজিবি সূত্র ও সীমান্ত এলাকার দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, ভারতীয় বাহিনীর এ ধরনের আগ্রাসী আচরণ এবং বিজেপি নেতার ‘গুলি করে মারার’ মতো প্রকাশ্য হুমকির বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে বিজিবি সবসময়ই যেকোনো ধরনের উত্তেজনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। নিয়ম অনুযায়ী, সীমান্তে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ফায়ারিং বা উত্তেজনার সৃষ্টি হলে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয় এবং ফ্ল্যাগ মিটিং আহ্বান করা হয়। বিজিবি স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত এলাকার নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে সীমান্তে টহল ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে সবকিছু করছে: নাহিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


বিএনপি আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে সবকিছু করছে: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে বিএনপি সরকার যা কিছু প্রয়োজন, তা সবই করছে দলের পুনরুদ্ধারের জন্য। তিনি রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে দলের গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে বর্তমানে দলীয়করণ চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে নিজেদের ব্র্যান্ডিং করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জনগণের রায়কে দলটি অবমাননা করেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের রক্ষায় জুলাইয়ের মতো আবারও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এনসিপির আহ্বায়ক।

এ সময় দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন জানান, নির্বাচন হলেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে—এমন কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন যে, সারাদেশে ছিনতাই ও চাঁদাবাজি বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন।

আখতার হোসেন আরও বলেন, সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেও ব্যর্থ হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আন্তর্জাতিক সিনেমায় অনুপম খেরের নতুন ছবি 'আউট অব ফ্যাশন'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


আন্তর্জাতিক সিনেমায় অনুপম খেরের নতুন ছবি

বলিউড অভিনেতা অনুপম খের আন্তর্জাতিক সিনেমায় আবারও নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের পথে রয়েছেন। তিনি সুইডেন ও বেলজিয়ামের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন, যার নাম আউট অব ফ্যাশন। এই ছবিটি সুইডিশ পরিচালক জেন্স জনসনের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হচ্ছে এবং ২০২৮ সালে এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছে। অনুপম খেরের সঙ্গে এই ছবিতে অভিনয় করছেন সুনীল মুনশি, হেলেনা বার্গস্ট্রম, বাহার পার্স, ক্রিস্টা কোসোনেন ও অ্যাস্ট্রিড হোয়েটনল।

ছবিটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন সুনীল মুনশি। প্রযোজনায় রয়েছেন সিরি হর্টন ওয়াগনার ও জুলিয়া গেবাউয়ার। তাদের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিক ফিল্ম ও ওয়ে ফিচার ফিল্মসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেলজিয়ামের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বেসাইড প্রোডাকশনস।

এ প্রকল্পে আরও যুক্ত রয়েছে ফিল্ম স্টকহোম, সুইডিশ সম্প্রচারমাধ্যম এসভিটি, ফিল্ম ই স্কোনে ও স্ক্যানবক্স এন্টারটেইনমেন্ট। নর্ডিক দেশগুলোতে ছবিটি পরিবেশনার দায়িত্ব পালন করছে স্ক্যানবক্স এন্টারটেইনমেন্ট। সুইডিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট ও বেলজিয়ামের ট্যাক্স শেল্টার প্রকল্প থেকেও ছবিটির জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার ছবিটির প্রযোজক সিরি হর্টন ওয়াগনার ইনস্টাগ্রামে শুটিং শুরুর খবর প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি অনুপম খের, সুনীল মুনশি ও পরিচালক জেন্স জনসনের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন।

এর আগে অনুপম খের বেন্ড ইট লাইক বেকহ্যাম ও সিলভার লাইনিংস প্লেবুক-এর মতো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। ভারতীয় সিনেমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এদিকে আসন্ন ভারতীয় মহাকাব্যভিত্তিক চলচ্চিত্র রামায়ণ: পার্ট ওয়ান-এও তিনি থাকবেন। ছবিটিতে জটায়ুর কণ্ঠ দেবেন তিনি। রণবীর কাপুর অভিনীত ছবিটি আগামী ৫ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

আউট অব ফ্যাশন অনুপম খেরের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রযাত্রায় একটি নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%