০৬:৪৫ পি.এম
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাইয়ের মামলায় এক গার্মেন্টস কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এমদাদুল হক নামের ওই গার্মেন্ট কর্মীর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। অপরদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, তারা নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করবে না।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। মিলনের বাড়ি থেকেই গার্মেন্ট কর্মী এমদাদুল হককেও গ্রেপ্তার করা হয়। এমদাদুলের পরিবার দাবি করেছে, তিনি বোনের বিয়ের দাওয়াত দিতে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন।
গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে পুলিশের হাতে আটক হন রিয়াজুল আলম শাহীন। শাহীন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা বলে জানা গেছে এবং তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে শাহীনকে ছাড়িয়ে নেয়।
আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ নারী আটক
পরদিন এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে, যেখানে ২৭ আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মিলন মিয়া ওই মামলার পাঁচ নম্বর আসামি এবং সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আরো ৩০ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমদাদুল হককে পুলিশ অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।
এমদাদুলের মা মনোয়ারা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, "আমি নিজে আমার ছেলেকে নিয়ে মিলনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত দিতে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই পুলিশ আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল।"
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এমদাদুল ঢাকার একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। তিনি বোনের বিয়ের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবেশী মিলনের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত দিতে যান এমদাদুল। সেখান থেকে মিলনের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের মামলায় অজ্ঞাত আসামি করায় সরিষা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামগুলোতে গ্রেপ্তার আতঙ্কে প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: কালকিনিতে গৃহবধূকে গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ
সোহাগী গ্রামের ৭০ বছর বয়সী আবু সিদ্দিক বলেন, এই মামলায় নিরীহ অনেক মানুষকে আসামি করা হয়েছে। গণগ্রেপ্তারের আতঙ্কে বর্তমানে সোহাগিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে কোনো যুবকের দেখা মিলছে না।
নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘জাল ফেললে তো অন্য কিছু আসবেই।’ তবে তিনি জানান, যাতে নিরীহ মানুষ অভিযুক্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন