মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৫১ এম
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বৈদেশিক ঋণের অর্থ প্রাপ্তির পরিমাণের তুলনায় আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে তার দ্বিগুণেরও বেশি। এই সময়ে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে মোট ব্যয় হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
বিপরীতে, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর মানে হলো, নতুন বৈদেশিক সহায়তার তুলনায় ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় প্রায় ৬৮ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার বেশি হয়েছে।
সোমবার প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় কমেছে ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ।
ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বৈদেশিক ঋণের আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ঋণের আসল পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
একই সময়ে ঋণের সুদ পরিশোধেও ব্যয় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয় ছিল ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এক বছরের ব্যবধানে সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় কমেছে ৪২ শতাংশ।
ঋণ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও বৈদেশিক সহায়তার প্রকৃত অর্থছাড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক সহায়তা ছাড় করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় কমেছে ৪৮ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। শতাংশের হিসাবে এ হ্রাস ৪২ দশমিক ৩।
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ছাড় করা সহায়তার মধ্যে ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এসেছে ঋণ হিসেবে। বাকি ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার পাওয়া গেছে অনুদান হিসেবে।
অন্যদিকে, একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। ফলে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধে ৬৮ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার বেশি ব্যয় করেছে সরকার।
নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে
বৈদেশিক সহায়তার প্রকৃত অর্থছাড় কমলেও নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ঋণ ও অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
এক বছরের ব্যবধানে নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩৬ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার। শতাংশের হিসাবে এ বৃদ্ধি প্রায় ৪০ শতাংশ।
নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার ঋণ এবং ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধি পেলেও প্রকৃত অর্থছাড় কমেছে। ফলে প্রতিশ্রুত অর্থের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া অর্থের ব্যবধান বেড়েছে।
ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ও প্রকৃত অর্থছাড় এক বিষয় নয়। প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় হতে প্রকল্পের প্রস্তুতি, অনুমোদন, চুক্তি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ফলে প্রতিশ্রুতি বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের হাতে বৈদেশিক অর্থের প্রবাহ বাড়ে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিসরের পার্লামেন্ট সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির অনুরোধকে অনুমোদন করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খবর আনাদোলুর।
একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় করে সিসি দেশের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব ও পবিত্র স্থানগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন। এর মধ্যে সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে পার্লামেন্টে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট সিসির অনুরোধে গত ১৮, ১৯ ও ২৬ অক্টোবর এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং মিসর ও আরব বিশ্বের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করেন। এই বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
মিসরের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের ১৮ অক্টোবরের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই অনুমোদন সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও পার্লামেন্ট জানিয়েছে।
তবে কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সৌদি আরবে মিসরের সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
সোমবার পার্লামেন্ট স্পিকার হিশাম বাদাওয়ির সভাপতিত্বে তৃতীয় দফার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আইনপ্রণেতারা বসেন। এর আগে সিসির অনুরোধে গত সপ্তাহে আরও দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুথিদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে রাজধানী রিয়াদ এবং ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, জানাজা ও লাশ দাফনের অধিকার প্রত্যেক মানুষের ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার।
পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনাটির জন্য তিনি নিন্দা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা উল্লেখ করেন।
ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেছেন, "জানাজা পড়ার অধিকার, লাশ দাফনের অধিকার যেকোনো মানুষের ন্যূনতম মানবিক অধিকার, ধর্মীয় অধিকার। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে এই ন্যূনতম অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে তারা এই দৃশ্য পুনরায় দেখতে চান না।"
তিনি আরও লিখেছেন, "মুজিববাদী ফ্যাসিস্টরা শহীদ মিনারে পিয়াস করিম ও আল মাহমুদের লাশ আনতে দেয়নি, সাধারণ জনগণকে শ্রদ্ধা জানাতে দেয়নি। বিরোধীদলের অনেক নেতার জানাজা ঢাকায় করতে দেওয়া হয়নি।"
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেছেন, "গণঅভ্যুত্থানের পরে ঢাকায় রক্ষীবাহিনীর নেতা ফ্যাসিস্ট তোফায়েলের জানাজা হয়েছে। তার নিজের এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা একে এম রহমতুল্লাহর জানাজা হয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শোক প্রকাশও হয়েছে। ফ্যাসিস্টদের মানবাধিকারের পক্ষেও তারা কথা বলেছেন এবং বলবেন। কারণ শত্রুর সঙ্গে ইনসাফ করা শিখতে হবে।"
মানবাধিকারের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির আহ্বায়ক লিখেছেন, "আজকে অনেকে মানবাধিকারের কথা বলছেন। এটা ভালো। তবে ১৬ বছর অনেকেই বলেননি। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সারা দেশে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল, তখন ঢাকা শহরের বহু মানবাধিকারকর্মী চুপ ছিলেন। মানবাধিকারের প্রশ্ন এলে সেই সব হত্যার বিচারও হতে হবে।"
তিনি আরও লিখেছেন, "তারা লাশের উপরে মুজিববাদীদের নৃত্য-উল্লাস দেখেছেন, কবর ভাঙচুরের ঘটনা দেখেছেন এবং জানাজা পড়তে না দেওয়াকে কিভাবে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা হয়েছিল, তা দেখেছেন। এখনো প্রতিনিয়ত শহীদ ওসমান হাদির কবর উৎখাত করার সম্মতি উৎপাদন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।"
নাহিদ ইসলাম আরও লিখেছেন, "কিন্তু এতকিছুর পরেও আমরা ফ্যাসিস্টদের পথ অনুসরণ করতে পারি না। ফ্যাসিবাদের বিপরীতে আমাদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানাই। আমরা সব নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে থাকব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে একটি বসতবাড়ির আড়ালে মাদকের কারবার চলছিল। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১১০ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত মাদকদ্রব্য ‘ইস্কাপ’সহ মোছা. আমেনা খাতুন (৩৫) নামের এক নারীকে আটক করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিন বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে দুর্গাপুর থানার ২নং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বারমারী লক্ষ্মীপুর গ্রামে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশ আসার খবর পেয়ে আমেনা খাতুনের স্বামী আবুল কালাম কৌশলে পালিয়ে যান।
জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, মাদকবিরোধী বিশেষ তৎপরতার অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ঘর তল্লাশি করে ১১০ বোতল কোডিন ফসফেটযুক্ত মাদকদ্রব্য ‘ইস্কাপ’ উদ্ধার করা হয় এবং মাদক কারবারি মোছা. আমেনা খাতুনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে ডিবির দলটি বাড়িতে পৌঁছালে অপর অভিযুক্ত আবুল কালাম পালিয়ে যায়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, আটক নারী ও পলাতক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ দুটি দলগত ইভেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছে এশিয়া কাপ আর্চারিতে, যা ইরাকের সুলামানিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুরুষ রিকার্ভ বিভাগে, বাই পেয়ে সরাসরি সেমিফাইনালে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ, যেখানে তারা উজবেকিস্তানকে ৬-০ সেট পয়েন্টে পরাজিত করে।
এছাড়া, নারী কম্পাউন্ড ইভেন্টের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে। উভয় ইভেন্টে স্বর্ণপদকের জন্য বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে কাজাখস্তান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ