বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৯ পি.এম
লতিকা হেলেন পিংকির উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে। এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, তিনি ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শুক্রবার সকালে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার জন্য খুলনায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। পিংকি মায়ের কাছে ৯ হাজার টাকা নিয়েছিলেন ভর্তি ফি, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচের জন্য। তবে, যাওয়ার আগে তিনি মায়ের কাছে আরও ১০০ টাকা চেয়েছিলেন। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও বকাঝকার একপর্যায়ে তিনি নিজের শোবার ঘরে চলে যান।
পরিবারের সদস্যরা বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে পিংকিকে ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত লতিকা হেলেন পিংকি (১৮) বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম পিঞ্জুর কন্যা। তিনি শরণখোলা সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাইম ইসলাম জানান, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পিংকিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, হাসপাতাল থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকায় ৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন এই ড্রেনটি পৌর এলাকার জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব ভরণশাহী ইছামতি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। স্থানীয়দের মধ্যে কাজের মান ও অনিয়ম নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যা দেখে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নির্মাণকাজের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ধুনট পৌরসভার প্রশাসক মীর আল মনসুর শোয়াইব সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি নির্মাণকাজের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কাজের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি নির্মাণকাজের মান ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে নির্মিতব্য গুরুত্বপূর্ণ এই ড্রেনের কাজে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কারণ, ড্রেনটি নির্মিত হলে পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক মীর আল মনসুর শোয়াইব বলেন, "সরেজমিন পরিদর্শনে যে অনিয়ম পাওয়া গেছে সেই স্থানগুলোতে চিহ্নিত করে নতুনভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীপাবলির উৎসবের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই উৎসবের আনন্দের অংশ হিসেবে বাজি পোড়ানোর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব দীপাবলি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিনোদন জগতের একাধিক তারকা। সম্প্রতি, অভিনেত্রী দিয়া মির্জার মাধ্যমে একটি সচেতনতামূলক ভিডিওবার্তা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে বৃহন্মুম্বই পৌরসভা (বিএমসি)। তবে পরে সেই ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়।
এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার বাজি পোড়ানোর বিরোধিতা করেছেন অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের মা, সোনি রাজদান।
বুধবার, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করে সোনি রাজদান। সেখানে দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী।
সোনি রাজদান মন্তব্য করেন, "যে কোনো ছোট শিশুর বাবা-মাকে জিজ্ঞাসা করলেই জানতে পারবেন, বায়ুদূষণের কারণে তাদের সন্তানরা কতটা ভুগছে। অসুস্থতার জন্য কত দিন স্কুলে যেতে পারছে না তারা।" এর পরেই বাজি পোড়ানোর পক্ষে যারা যুক্তি দিচ্ছেন, তাদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সোনি রাজদান।
আলিয়ার মা আরও বলেন, "পরিবেশকে গুরুত্ব না দিয়ে যারা বাজি পোড়ানোকে সমর্থন করছেন, তারাই আসলে দেশদ্রোহী।" এমন পরিস্থিতিতেও যদি কেউ বলেন, এ বছর দীপাবলিতে অন্তত একটি বাজি পোড়ানো উচিত, তাহলে তাকেই তিনি জীবনবিরোধী, স্বাস্থ্যবিরোধী এবং দেশবিরোধী বলবেন।
তিনি বলেন, "নিজের এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।" দিয়া মির্জার ভিডিও নিয়ে বিতর্কের কয়েক দিন পরেই সোনি রাজদান এ মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, মুম্বাইয়ের বাসিন্দাদের উদ্দেশে ভিডিওতে দিয়া মির্জা বলেছিলেন, উৎসবের মৌসুমে আনন্দের সঙ্গে দীপাবলি পালন করতে হবে ঠিকই, তবে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের কথাও মাথায় রাখতে হবে। বাজি থেকে তৈরি হওয়া শব্দ ও বায়ুদূষণ আমাদের সবার জন্য ক্ষতিকর। তাই শব্দ নয়, আনন্দ দিয়ে দীপাবলি উদযাপন করুন। কিন্তু সেই ভিডিও মুছে দেয় বৃহন্মুম্বই পৌরসভা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আবারও উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৬ টাকা ৩২ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা থেকে ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা হয়েছে। গত চার মাসে এটি চতুর্থ দফায় দাম বৃদ্ধি করা হলো।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিইআরসি নতুন দাম নির্ধারণ করে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। নতুন দাম আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে, দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১ দশমিক ১৬৩৭ মার্কিন ডলার হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জেট ফুয়েলের দাম গত চার মাসে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্ট মাসে প্রতি লিটারের দাম ছিল ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা, যা সেপ্টেম্বর মাসে বেড়ে ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা হয়েছে। অক্টোবরে দাম আরো বৃদ্ধি পেয়ে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা হয়েছে। সর্বশেষ নভেম্বরে নতুন দাম ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১-এর প্ল্যাটস রেটের গড় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি সেটেলমেন্টে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৪) ও ৩৪(৬) ধারা অনুযায়ী বিপিসি এবং পদ্মা অয়েল কম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গণশুনানি ও বিস্তারিত পর্যালোচনা শেষে ১৩ মে ২০২৫ তারিখে জেট এ-১-এর মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। পরে কমিশন মাসভিত্তিতে প্ল্যাটস রেটের ভিত্তিতে এই মূল্য সমন্বয়ের ব্যবস্থা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকার দাবি করেছে যে, গত অক্টোবর মাসে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ওপর ৪০ হাজারেরও বেশি সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলাগুলোর ফলে প্রায় ২০ হাজার হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল জানায়, ৫ অক্টোবর ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ শুরু হওয়ার পর থেকে এসব সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারি বাহিনী বিভিন্ন রণাঙ্গনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে মোট ৪০ হাজার ৭৬১টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
প্রথম মাসের অভিযানে প্রায় ২০ হাজার হুতি যোদ্ধা ও কমান্ডার নিহত, আহত অথবা অন্য কোনোভাবে যুদ্ধের সক্ষমতা হারিয়েছেন।
তবে ইয়েমেন সরকারের এই দাবির বিষয়ে হুথি বিদ্রোহীরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ