০২:৫০ পি.এম
মাদারীপুর সদর উপজেলার মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। চলতি বছরের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখা থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র দুজন। অকৃতকার্য হয়েছেন বাকি ১১ জন। সে হিসাবে পাসের হার মাত্র ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের পর প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষকসংকট, নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা এবং সার্বিক একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং বিষয়ভিত্তিক পাঠদানে ঘাটতির কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে। অন্যদিকে, কয়েকজন শিক্ষকের দাবি, বেতন পরিশোধে অনিয়ম ও ক্লাস বণ্টনে অসংগতি থাকায় পাঠদান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।
২০২২ সালে কলেজ শাখার অনুমোদন
আরও পড়ুন: জাতীয় যুব দিবস–২০২৬ উদ্যাপন।
প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে তিনটি বিভাগ নিয়ে মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কলেজ শাখার অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে কলেজ শাখা চালুর পর থেকেই পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশিত পর্যায়ে না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের দাবি, আগের দুই বছরের ফলাফলও সন্তোষজনক ছিল না। চলতি বছরের ফলাফল সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি, শিক্ষকদের পাঠদান, শিক্ষকসংকট এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা জরুরি।
‘ঠিকমতো আইসিটি ক্লাস হয়নি’, শিক্ষার্থীর অভিযোগ
কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের ঠিকমতো আইসিটি ক্লাস হয়নি। ক্লাসের জন্য প্রতিনিধিকে শিক্ষকদের ডাকতে হতো। একজন স্যার আরেকজন স্যারকে পাঠানোর চেষ্টা করতেন। প্রধান শিক্ষককে বারবার বলার পরও বিষয়টি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ দেখিনি। বিনা মূল্যে ভর্তির কথা বলা হলেও পরে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুন: শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ওলামাদল নেতার ওপর হামলার,
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকও নেই। শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে সমস্যা থাকায় কোনো কোনো শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিতে আসেন না বলেও তাঁদের দাবি। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বেতন ও ক্লাস বণ্টন নিয়ে শিক্ষকদের অসন্তোষ
প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো বেতন দেওয়া হয় না। পাশাপাশি কোন শিক্ষক কোন বিষয়ের ক্লাস নেবেন, তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখেই ক্লাস দেওয়া হয়।
এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, “হিসাববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা একজন শিক্ষককে ইংরেজি ক্লাস দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ স্থানীয় প্রভাবের কথা তুলে ধরেন বলে আমাদের অভিযোগ। এ কারণে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চান না। আমরা যেভাবে পাঠদান করতে চাই, সেভাবেও সব সময় সুযোগ পাই না।”
আরও পড়ুন: কমলনগরে ৮ মাসে হাফেজ হলো শিশু আব্দুর রহমান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা
ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়। ‘মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’ নামের একটি পেজে ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন। কিছু মন্তব্যে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘টিকটক কলেজ’ বলেও কটাক্ষ করা হয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এসব মন্তব্যের বাইরে গিয়ে ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ যাচাই এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অধ্যক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তদন্তের আশ্বাস শিক্ষা কর্মকর্তার
আরও পড়ুন: শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে জাতীয় যুব দিবস পালিত হয়েছে,
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ কাজী ওবায়দুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমরা দেখেছি এবং শুনেছি। মাদ্রা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ফলাফল একেবারেই খারাপ হয়েছে। কী কারণে এমন ফলাফল হয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখব।”
মাত্র ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ পাসের এই ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে শিক্ষা প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: সিলেট চন্ডীপুল সিএনজি স্টেশনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রীদের হয়রানী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন