বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:৪০ এম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) অক্টোবরের পরিবর্তে নভেম্বরে এই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগের মতো ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোটের নির্ধারিত তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের জন্য তুলনামূলকভাবে সহায়ক সময়।
তবে দুর্গাপূজা, রমজান, পাবলিক পরীক্ষা এবং বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। পূর্বে অক্টোবর মাসে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও এখন নভেম্বরে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভোটের ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ইউপি নির্বাচন দিয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। তিনি আরও বলেন, পৌরসভা নির্বাচনও এই সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল, যা ফেরত এসেছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আইন সংস্কারের বিষয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। কমিশন বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্বাচন উপযোগী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য চেয়েছিল ইসি।
গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ইউপি ও পৌরসভার তালিকা কমিশনে পৌঁছেছে।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গতকাল ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে ইসির সঙ্গে বৈঠক করা হবে। নির্বাচনের তফসিল ও ভোটের তারিখ ইসি নির্ধারণ করবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে ইসি। এর ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আইজিপি, বিজিবির মহাপরিচালক এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সিইসি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রস্তুতি প্রয়োজন। আবহাওয়া, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র ও শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেটি বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, আইন ও বিধি ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা ও তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ সীমান্তে ছয়জন পুরুষকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সতর্ক অবস্থানে বর্তমানে তারা শূন্য লাইনে আটকে রয়েছেন।
আজ ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকালে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধীনস্থ রামদাসপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে সীমান্ত পিলার ২১৬/এমপি এলাকার কাছে ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের শমসের নগর বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দল ছয়জন পুরুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) চেষ্টা করে।
বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় বিজিবির রামদাসপুর বিওপির একটি টহল দল। বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে কঠোর বাধা দেন। বিজিবির প্রতিরোধের মুখে ওই ৬ ব্যক্তি বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তের শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।
১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির অবস্থান শক্ত রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের দ্রুত ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিএসএফের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছাতক থেকে সিলেটে পর্যন্ত রেলপথ সংস্কারের প্রকল্প মেয়াদ শেষ হলেও, কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। ১৯৫৪ সালে সিলেট থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত এই রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এই রেলপথ দিয়ে ছাতক থেকে চুনাপাথরসহ বিভিন্ন পণ্য সারা দেশে পাঠানো হতো। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের মানুষ সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন।
২০২২ সালের শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যায় রেলপথটির বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে সব ধরনের রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেল চলাচল বন্ধ থাকায় রেলপথের মূল্যবান স্লিপার ও লোহার পাত (রেললাইন) চুরি হয়েছে।
এরপর ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে রেলপথটি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। রোববার (২৩ আগস্ট) ছিল প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদের শেষ দিন।
জানা যায়, দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালে সিলেট থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার রেললাইন পুণর্বাসনে ২১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার ৩৬৯ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রকল্পটির নাম ২০২২ সালের বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট থেকে ছাতক বাজার অংশের (মিটারগেজ ট্র্যাক) পুণর্বাসন প্রকল্প।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, জিওবি ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত মিটারগেজ রেলপথ সংস্কারের জন্য ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এ রেলপথ সংস্কারের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড (এমএএইচএল)। ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি হয়। ২১৭ কোটি টাকার প্রকল্প হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৯৯ কোটি টাকার চুক্তি করা হয়।
রেলপথ পুণর্বাসন প্রকল্পের মেয়াদ ছিল চলতি বছরের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। প্রকল্পের আওতাধীন ৯৬টি পাইলিং পয়েন্টের মধ্যে ৮৫টির কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে এখনো পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, এমনটি জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রাষ্ট্রদূত গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, "এখনো কোনো বাংলাদেশির নিহত বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আমরা খোঁজ খবর রাখছি।"
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ফলে এখন পর্যন্ত ১৬২ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক মানুষ।
এ ঘটনায় বিদেশি নাগরিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ সরকার নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে। বাংলাদেশ, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রয়োজন হলে নেপালকে যে কোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৪৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, রমনা বিভাগ থেকে ৪৫ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩০ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫৪ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৬৩ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৯২ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৪৬ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৫২ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৭৪ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৬৭৮ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ২১ লিটার দেশীয় মদ, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একজন ভিকটিম উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ