বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:২৭ এম
ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল পরিবহনের গড় ভাড়া ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার থেকে বেড়ে ২০ ডলারে পৌঁছেছে। এর মানে হলো, এক বছরের মধ্যে ভাড়া বেড়েছে ১৭ ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা, ট্যাংকারে হামলা ও যুদ্ধঝুঁকির কারণে পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধি ঘটছে। মার্কিন বিনিয়োগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস জানাচ্ছে, এই সংকট শিগগিরই কাটার সম্ভাবনা কম।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উন্নতির কোনো লক্ষণ না থাকায় স্বল্প মেয়াদে তেল পরিবহনের ভাড়া ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামেও নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে তেল পরিবহনের ভাড়া ব্যারেলপ্রতি বেড়ে ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধঝুঁকির কারণে ব্যারেলপ্রতি অতিরিক্ত সাত ডলার, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে চার ডলার এবং ওমান উপসাগরে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের জন্য আরো চার ডলার খরচ হচ্ছে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে থাকতে পারে। তবে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জাহাজে হামলা, তেল অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে দাম এ পূর্বাভাস ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৩৪ ডলার। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ছিল ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলার।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলবাহী সুপারট্যাংকারের ভাড়াও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। গত সেপ্টেম্বরে পারস্য উপসাগর থেকে চীন পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহনে একটি সুপারট্যাংকারের দৈনিক ভাড়া ছিল ১০ লাখ ডলার। অক্টোবরের শুরুতে পারস্য উপসাগর থেকে পূর্ব এশিয়ায় তেল পরিবহনে তা ১৪ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
হরমুজ প্রণালির বাইরে ওমান উপসাগরে বড় ট্যাংকারগুলোকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সেখান থেকে ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হচ্ছে, যা ‘শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার’ নামে পরিচিত। এতে জাহাজের যাত্রার সময় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আটকে থাকার কারণে বিশ্ববাজারে ব্যবহারের উপযোগী সুপারট্যাংকারের সংখ্যা কমছে। ফলে তেল উৎপাদক ও ক্রেতারা আফরাম্যাক্স ও সুয়েজম্যাক্সের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট ট্যাংকারের দিকে ঝুঁকছেন।
বিশ্ববাজারভিত্তিক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে হামলার পর তেল সরবরাহ আবারও কমেছে। গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পারস্য উপসাগর থেকে দৈনিক তেল সরবরাহ কমে ৮৫ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। দুই সপ্তাহ আগে এই সরবরাহ ছিল দৈনিক দুই কোটি ব্যারেলের বেশি।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, তেলের সরবরাহে এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প-কারখানার উৎপাদন খরচেও চাপ তৈরি হতে পারে। সূত্র : অয়েলপ্রাইস ডটকম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে কানাডার রাজনীতিকেরা—এমন অভিযোগ তুলেছে ওয়াশিংটন। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে কানাডার কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে এ অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। তবে কানাডার কর্মকর্তারা নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্য কানাডার অর্থনীতিতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।
বুধবার প্রকাশিত এক তথ্যপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস অভিযোগ করে, মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের বিষয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না কানাডা।
তথ্যপত্রে বলা হয়, কানাডার মন্ত্রীরা ও প্রাদেশিক সরকারপ্রধানেরা সরকারি নথি ও প্রকাশ্য বক্তব্যে মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনার কথা বলছেন।
২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্কের জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যে আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের পক্ষে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
তথ্যপত্রে কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলির বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত আগস্টে ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে কানাডার পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। ওই সময় জোলি বলেছিলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের এমন কিছু অঙ্গরাজ্যের পণ্যকেও লক্ষ্যবস্তু করছি, যেগুলোতে এর প্রভাব পড়বে। রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য আমরা বিচক্ষণতার সঙ্গে কৌশলগতভাবে এগোচ্ছি।’
গত সেপ্টেম্বরে বোস্টন ও শিকাগোতে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের সঙ্গে জোলির বৈঠক নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। ওই সময় এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে শুল্কের বিষয়ে কী পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন? জবাবে জোলি বলেছিলেন, ‘এ কারণেই আমি এত গভর্নর ও সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করছি।’
তবে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করেছেন জোলি। তার বক্তব্য, কানাডা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের রাজনীতিকদের সঙ্গে তার বৈঠকের উদ্দেশ্য কানাডার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। গত ১৪ অক্টোবর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘মূলত যুক্তরাষ্ট্রে আমি যা করেছি, তা হলো বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।’
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের তথ্যপত্রে অন্টারিও প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডাগ ফোর্ডের কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন পণ্যে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন প্রচার চালিয়েছিল তার সরকার।
গত বছর শুরু হওয়া ওই প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ১৯৮৭ সালের একটি বেতার ভাষণের অংশ ব্যবহার করা হয়। ওই ভাষণে রিগ্যান শুল্কের সমালোচনা করেছিলেন। এই বিজ্ঞাপন প্রচারের জেরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করে দেন ট্রাম্প।
তবে কানাডার কর্মকর্তাদের বাণিজ্যনীতি প্রভাবিত করার চেষ্টার এসব উদাহরণ তুলে ধরলেও সেগুলো কীভাবে মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের শামিল, তা ব্যাখ্যা করেনি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।
তথ্যপত্রে কানাডার লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য অ্যান্থনি হাউসফাদারের একটি কর্মকাণ্ডের কথাও বলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, গত আগস্টে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি ডেবি ওয়াসারম্যান শুলৎজের দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনের আগে তার পক্ষে ফ্লোরিডায় প্রচার চালিয়েছিলেন হাউজফাদার।
এ ছাড়া ২০১২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ১১ জন কানাডীয় নাগরিকের নাম তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব নাগরিকের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কানাডা সরকারের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কোনো উদ্যোগের যোগসূত্র তুলে ধরার মতো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব কানাডীয় নাগরিকের উচিত যেকোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থেকে বিরত থাকা। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নির্ধারণ করবেন মার্কিনরাই।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানাডার কর্মকাণ্ডের ওপর ওয়াশিংটন নজর রাখছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিট হোকস্ট্রা জানানোর এক সপ্তাহ পর এ তথ্যপত্র প্রকাশ করা হলো। কানাডীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কানাডিয়ান প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘দ্য রিয়েলি বিগ শো’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোকস্ট্রা বলেছিলেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি, মূল্যায়ন করছি। এর কোনো কিছু নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পর্যায়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র তার জবাব দেবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দীর্ঘদিনের মিত্র হলেও ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর পাশাপাশি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকিও একাধিকবার দিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে চলতি সপ্তাহে আলবার্টা প্রদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার আগে সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সমর্থন চেয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সোমবারের প্রাদেশিক ভোটের আগে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেছিলেন, কানাডা আশা করে, বিদেশি সরকারগুলো তাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না।
গ্লোবাল নিউজকে কার্নি বলেন, ‘বিদেশি সরকারগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশা একেবারে স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো দেশের নির্বাচনে আমরা হস্তক্ষেপ করি না, তারাও আমাদের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আলজাজিরা কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা, অন্টারিওর মুখ্যমন্ত্রী ডাগ ফোর্ডের কার্যালয় এবং শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে প্রতিবেদনটিতে তাঁদের কোনো জবাব উল্লেখ করা হয়নি।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক নির্বাচনী প্রার্থী জ্যাক রসের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। ভাড়াটে খুনি দিয়ে হামলা ও হত্যা করার বিষয়ে আলোচনা এবং এ কাজে উগ্রডানপন্থি এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আলজাজিরার গোপন অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রে রসের কথোপকথন প্রকাশিত হওয়ার পর দলটি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। স্কটল্যান্ডের পুলিশও প্রামাণ্যচিত্রটি পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে রস অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ছদ্মবেশী সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর কথাগুলো গুরুত্ব সহকারে বলা হয়নি।
আলজাজিরার অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্রটির নাম ‘কন্ট্রাক্ট কিলারস অ্যান্ড দ্য ফার রাইট’। ২০২১ সালে এই অনুসন্ধান শুরু হয়। ওই সময় সংবাদমাধ্যমটির এক ছদ্মবেশী সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর (টিপিইউএসএ) স্বতন্ত্র সহযোগী সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউকে (টিপিইউকে)-তে যোগ দেন। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাক রস ২০২৩ সালে কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
আলজাজিরার অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়, রস ওই ছদ্মবেশী সাংবাদিকের সঙ্গে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর বাসিন্দা অ্যালান নেসবিটের পরিচয় করিয়ে দেন। নেসবিটের বিরুদ্ধে একাধিক সহিংস অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে উত্তর আয়ারল্যান্ডের নিষিদ্ধ আধাসামরিক সংগঠন আলস্টার ভলান্টিয়ার ফোর্সের (ইউভিএফ) সংশ্লিষ্টতার কথাও উঠে এসেছে।
গোপনে ধারণ করা কথোপকথনে রস বলেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে নেসবিট ও তাঁর পরিচিত ব্যক্তিরা মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত, ছুরিকাঘাত, গুলি এমনকি হত্যার ব্যবস্থা করতে পারেন। ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাল্পনিক ব্যবসায়িক বিরোধের কথা শুনে রস তাঁকে নেসবিটের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ ক্ষেত্রে নিজের সংশ্লিষ্টতা গোপন রাখার বিষয়েও তাঁকে কথা বলতে শোনা যায়।
আলজাজিরার অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, জিম্বাবুয়ের ওপর থেকে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে জনসমর্থন দেখাতে একটি সাজানো রাজনৈতিক সমাবেশ আয়োজনের জন্য নেসবিটকে কয়েক হাজার পাউন্ড দেওয়ার বিষয়ে রসের আলোচনা হয়। এ ঘটনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও সামনে এসেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের উগ্রডানপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে আধাসামরিক সংগঠনের যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সাবেক জাতীয় অপরাধ সংস্থার উপপরিচালক রয় ম্যাককম্বের মতে, অপরাধী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে উগ্রডানপন্থি আন্দোলনের যোগাযোগ জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে কনজারভেটিভ পার্টির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জ্যাক রসের সদস্যপদ অবিলম্বে স্থগিত থাকবে। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে দলটি আর মন্তব্য করতে চায়নি।
স্কটল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, আলজাজিরার প্রামাণ্যচিত্রটি পর্যালোচনা করে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধে রসের দোষ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
টার্নিং পয়েন্ট ইউকের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা এবং রিফর্ম ইউকের নেতাদের যোগাযোগ রয়েছে বলে আলজাজিরার অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটি সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসনবিরোধী কর্মসূচিতেও সক্রিয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলির আঘাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক কষ্টে ভোগ করছিলেন চট্টগ্রামের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা তানভীরুল ইসলাম। তিনি বিষপান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, কারণ তীব্র ব্যথার যন্ত্রণা সহ্য করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি বিষপান করেছিলেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন।
তানভীরুল ইসলাম এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বায়েজিদ থানা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার হিলপাড়া গ্রামে। তার বাবা মো. আবু ইউসুফ এবং মা তাসলিমা বেগম। তিনি চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকার জামাল উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকার ভাড়া বাসায় বিষপানের পর তানভীরুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি বুধবার রাতে জানাজানি হয়।
চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্যসচিব আরিফ মইনুদ্দিন বলেন, তানভীরুল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। তার কোমরের এক পাশ দিয়ে গুলি প্রবেশ করে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তিনি তালিকাভুক্ত আহত জুলাইযোদ্ধা ছিলেন। গুলির ক্ষত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক কষ্টে ভুগছিলেন। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হওয়ায় তাকে নিয়মিত হাসপাতালে যেতে হতো।
আরিফ মইনুদ্দিন আরও বলেন, তীব্র ব্যথার কারণে তানভীরুল প্রায়ই খুঁড়িয়ে হাঁটতেন এবং কষ্টে কান্নাকাটি করতেন। দীর্ঘদিনের শারীরিক যন্ত্রণা তার জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছিল বলে তিনি মনে করেন।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল আলম আশেক জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে খাবার ডেলিভারি রোবটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, গ্রাহকদের মুখ ও হাতের জৈবিক তথ্য অনুমতি ছাড়াই সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় দুই গ্রাহক দুটি রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তবে উক্ত প্রতিষ্ঠান দুটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত ৯ অক্টোবর কুক কাউন্টির আদালতে কোকো রোবোটিকস ও সার্ভ রোবোটিকসের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি দলগত মামলা করা হয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, রোবটের ক্যামেরা ও লেজারভিত্তিক পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করে খাবার নিতে আসা গ্রাহকদের মুখ ও হাতের গঠনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তারা জানান, এই বিষয়ে তাদের পূর্বে জানানো হয়নি এবং নেওয়া হয়নি লিখিত সম্মতিও।
মামলার নথি অনুযায়ী, মিচেল ব্রাইডিঙ্গার নামের এক গ্রাহক ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে অনলাইনে অর্ডার করেছিলেন। তিনি রোবটের মাধ্যমে পণ্য নিতে চাননি, কিন্তু তার অর্ডার পৌঁছে দেওয়া হয় কোকোর একটি রোবটের মাধ্যমে। পণ্য নিতে গিয়ে সংকেত নম্বর দিতে হলে তার মুখ, মাথা ও হাতের ছবি এবং গঠনসংক্রান্ত তথ্য ধারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় দূর থেকে একজন কর্মী সরাসরি ভিডিও দেখছিলেন বলেও দাবি করেন।
অন্য মামলাকারী ব্যারি শেইন অভিযোগ করেছেন, সার্ভ রোবোটিকসের রোবটের মাধ্যমে তিনি তিনবার পণ্য পেয়েছেন। সর্বশেষ ৪ অক্টোবর খাবারের অর্ডার তার পছন্দ ছাড়াই রোবটের মাধ্যমে ডেলিভারি দেওয়া হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও ও যন্ত্রের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য সংরক্ষণ করে। কোকোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, সংগৃহীত তথ্য ওপেনএআইসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। মামলাকারীরা দাবি করেছেন, এসব তথ্য গ্রাহকদের নাম ও ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের জৈবিক তথ্যের গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, এ ধরনের তথ্য সংগ্রহের আগে গ্রাহককে লিখিতভাবে জানানো, সম্মতি নেওয়া এবং তথ্য সংরক্ষণ ও ধ্বংসের নীতি থাকা প্রয়োজন। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলাকারীরা প্রতি অবহেলাজনিত লঙ্ঘনের জন্য এক হাজার ডলার এবং ইচ্ছাকৃত বা বেপরোয়া লঙ্ঘনের জন্য পাঁচ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।
কিন্তু কোকো ও সার্ভ—দুই প্রতিষ্ঠানই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোকোর দাবি, তারা শিকাগোতে গ্রাহকদের জৈবিক তথ্য সংগ্রহ করেনি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তারা যে তথ্য ভাগ করে, তা মূলত ফুটপাতের নিরাপত্তা ও চলাচলের পথ নির্ধারণে কাজে লাগে। সার্ভ জানিয়েছে, তাদের ক্যামেরা ও সেন্সর নিরাপদে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়; ব্যক্তিকে শনাক্ত করা বা তার জৈবিক পরিচিতির নথি তৈরির জন্য নয়।
শিকাগোতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার এসব রোবটের ব্যবহার নিয়ে আগেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রোবটগুলো ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের জায়গা আটকে দেয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং মানুষের ওপর নজরদারির ঝুঁকি তৈরি করে। চলতি বছরের মার্চে সার্ভের একটি রোবট বাসের অপেক্ষাগারের কাচ ভেঙে ফেলে। কয়েক দিন পর কোকোর আরেকটি রোবটও একটি বাসের অপেক্ষাগারের সঙ্গে ধাক্কা খায়।
২০২২ সালে শিকাগোতে পরীক্ষামূলকভাবে রোবট চলাচল কর্মসূচি চালু হয়েছিল। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মে মাসে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। শহরের অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তা ও চলাচলের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: এপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ