ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ


সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন যে, বাজারে সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনতে এসেছি। মুরগি ক্রয়ের সময় মনে হয়, গরুর দামে কিনতে হচ্ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ ধীরে ধীরে গরুর মাংস ও ইলিশ মাছের কথা ভুলে যাবে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লিফলেট বিতরণ ও এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, নির্বাচনের পর আমরা আশা করেছিলাম এবং বারবার শুনেছিলাম, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। কিন্তু গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও সংকটজনক হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাত থেকে আট মাসের মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এলপিজি গ্যাসের দামও দ্বিগুণ হয়েছে, বিদ্যুতের দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সবচেয়ে কম সময়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তারা একটি রেকর্ড গড়েছে।

এনসিপির এই নেতা বলেন, মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত সমাধান করতে হবে। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারের পর্যাপ্ত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দায়িত্ব পালনে অবহেলা রয়েছে। সরকার ও তাদের সন্তানরা বিভিন্ন ব্যবসা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকলেও মানুষের দুর্ভোগের প্রতি তাদের কোন ভ্রূক্ষেপ নেই।

তিনি জানান, বাংলাদেশের বর্তমান সংকট, মানুষের দুর্ভোগ, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করবে।

আসিফ মাহমুদ জানান, কর্মসূচির আগে সারা দেশে গণসংযোগ শুরু করা হয়েছে। ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের কাছে গিয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনা হবে এবং সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা হবে। সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি শেষে আগামী শুক্রবার গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন: বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে, সহায়তার অর্থছাড় কমেছে

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ অন্যান্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮৪ শতাংশ জমি দান করেও প্রতিষ্ঠাতার স্বীকৃতি মেলেনি, নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩৭ পি.এম


৮৪ শতাংশ জমি দান করেও প্রতিষ্ঠাতার স্বীকৃতি মেলেনি, নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে তদন্তের দাবি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ৮৪ শতাংশ জমি দান করেও প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা হিসেবে যথাযথ স্বীকৃতি পাননি বলে অভিযোগ করেছেন মরহুম মকবুল হোসেন খানের পরিবারের সদস্যরা। বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদার ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবিরউদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, জমি বিক্রি, চাকরি না দেওয়া ও হয়রানির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন পরিবারের সদস্যরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মরহুম মকবুল হোসেন খানের মেয়ে মনিরা খানম।

লিখিত বক্তব্যে মনিরা খানম বলেন, তাঁর বাবা নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ৮৪ শতাংশ জমি দান করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁকে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা হিসেবে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

জমি দানের সময় রেজুলেশনে পরিবারের যোগ্য সদস্যদের চাকরি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তাঁদের যোগ্য সদস্যদের চাকরি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মনিরা খানম আরও বলেন, চাকরির জন্য আবেদন করায় তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যকে বিনা অভিযোগে ধরে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।

তাঁর ভাই মো. হারুন খান বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকলেও গত দুই বছর ধরে তাঁর বেতন আটকে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁদের পরিবারের একজন সদস্যকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর মাত্র এক মাস দায়িত্ব পালন শেষে বাদ দেওয়া হয়। অথচ একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া অন্য একজন এখনো কর্মরত রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁদের দান করা জমিতে ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়া এবং ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে তাঁর ভাইকে থানায় আটকে রাখার অভিযোগও করেন মনিরা খানম।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ করা দাতা মো. মাহাবুবুর রহমান বুদ্দু মিয়া ও মোমেনার দুটি জমি অসাধু উপায়ে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।
অন্যদিকে, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবিরউদ্দীনের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তাঁর দায়িত্ব পালন ও পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিযোগকারীরা।

এ বিষয়ে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবিরউদ্দীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, হারুনের বেতন ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় যেসব কাগজপত্র দরকার, সেগুলো তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দবির সাহেবের কাছে জমা দেননি। এ কারণে এখনো পর্যন্ত হারুনের নাম ইএফটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই তাঁর বেতন হচ্ছে না। ইএফটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত হলে তিনি বেতন পাবেন।


সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্য মো. হারুন খান, মো. দেলোয়ার হোসেন খান, মা মোছা. হাজেরা বেগমসহ নওয়াপাড়া এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউটাউনে জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


নিউটাউনে জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নিউটাউনে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন জমিটির বৈধ মালিক ফরিদুর রহমান সাজন।
সম্প্রতি হাফিজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির অভিযোগে বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের ১৪৪ ধারা জারি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত খবরের জবাবে এক বিবৃতিতে ফরিদুর রহমান সাজন জানান, আসল ঘটনা আড়াল করতেই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মূলত আদালত, পুলিশ ও গণমাধ্যমকে ভুল তথ্য দিয়ে তাঁদের সম্মানহানি এবং নিষ্কণ্টক জমি দখলের চক্রান্ত করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।
জমির সঠিক আইনি ভিত্তি তুলে ধরে তিনি জানান, সিএস খতিয়ান ১৩০৪, এসএ খতিয়ান ৪০২ ও ৪৭০, আরএস খতিয়ান ১১৩২১ ও ৮৪৩াস, খারিজ খতিয়ান ২৮২৩১ এবং হিসাব নং ২৭৩ ৪৮ ভুক্ত জমিটি অতীতে মোঃ হাফিজ উদ্দিন (আঙ্গুর) গং কিশোরগঞ্জে রেজিস্ট্রিকৃত ‘আমমোক্তারনামা দলিল’ মূলে তাঁর চাচা মোঃ মজিবুর রহমান বাবুকে প্রদান করেন। পরবর্তীতে মজিবুর রহমান বাবুর কাছ থেকে বৈধ ‘সাফ কাওলা দলিল’ মূলে জমিটি ক্রয় করেন তাঁর বাবা মরহুম মাহবুবুর রহমান (খোকন)। পিতার ইন্তেকালের পর ওয়ারিশ সূত্রে ফরিদুর রহমান সাজন, তাঁর মা ও বোন জমিটির নামজারি, খাজনা পরিশোধ ও আইনি ‘বণ্টননামা দলিল’ সম্পন্ন করে নিষ্কণ্টকভাবে ভোগদখল করে আসছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের বাসিন্দা সজীব ও রাজীব দুজনে আপন দুই ভাই এবং সম্পর্কে তাঁর ফুপাতো ভাই। আত্মীয়তার সূত্রে তাঁর বাবা জীবদ্দশায় তাদের নানার বাড়িতে (সাজনের বাবার বাড়ি) ভাড়া থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর তারা ঘর না ছেড়ে অন্যায্যভাবে দখল করে রাখে। তারা কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়ার আব্দুল মুমেনকে (বাবুল) সাথে নিয়ে চক্র গড়ে তোলে এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে এবং নিজেরা সুবিধা করতে না পেরে তারা জমিটির সাবেক মালিক হাফিজ উদ্দিনকে (আঙ্গুর) ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বিবৃতিতে ফরিদুর রহমান সাজন স্পষ্ট করেন, তাঁরা আইনের প্রতি সর্বদাই শ্রদ্ধাশীল এবং রেজিস্ট্রিকৃত বৈধ দলিলের তথ্য লুকিয়ে এই ভূঁইফোড় অভিযোগ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে আদালতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, দেশে পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিনও আনা হচ্ছে। ক্যানসার চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে, এবং পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করে জনগণের কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এক দিনে বা এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এ ছাড়া পাঁচটি রোবটিক সার্জারি মেশিন আনা হচ্ছে। হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ চলছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপের কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। একজন চিকিৎসক যেখানে ৫০ জন রোগী দেখতে পারেন, সেখানে তাকে ২৫০ থেকে ৩০০ রোগী দেখতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, "একটা মৃত্যুর জন্য আমাদের সবারই মন কাঁদে। কিন্তু আমাদের ১৮ কোটি মানুষের জন্য ডাক্তার আছে কতজন? একজন ডাক্তার ৫০ জন রোগী দেখতে পারেন, সেখানে ২৫০-৩০০ রোগী দেখতে হয়। হাঁপিয়ে যান, তখন মাথার মেধা কাজ করে না।"

চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ থাকলেও তাদের দায়িত্ব পালনে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনে অনিয়মের বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি জানান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনের সময় কয়েকজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে। তাদের রোস্টার তালিকা সঙ্গে নেয়া হয়েছে। অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিষয়ে যাচাই করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপন করা যাবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বেসরকারি ক্লিনিকগুলোকে নির্ধারিত শর্ত মেনে পরিচালিত হতে হবে। কোনো ক্লিনিকে লেবার রুম না থাকলে রোগীর চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা হলে কিংবা যথাযথ সেবা না দেয়ার কারণে রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি কমপ্লায়েন্স না করে কন্ডিশন অনুযায়ী ওগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। যদি লেবার রুম না থাকে বা রোগীর কোনো অব্যবস্থাপনা হয়, রোগীরা বিনা কেয়ারে যদি মারা যান, আমরা এগুলো সব বন্ধ করে দেব এবং ব্যবস্থা নেব।

এর আগে সকালে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনে ফুলপুর হাসপাতালে কিছু অব্যবস্থাপনা ও ময়লা-আবর্জনা দেখতে পান তিনি। বাথরুম সংস্কার ও পরিষ্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

ফুলপুর হাসপাতালে কিছু অব্যবস্থাপনা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের বাথরুমগুলো আগামী দুই দিনের মধ্যে ঠিক করে পরিষ্কার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি, মাতৃসেবা ও শিশুদের জন্য আলাদা শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। এসব হাসপাতালের উন্নয়ন হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমবে।

স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়াতে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি নার্স নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসব বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের জন্য পুরনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ সময় ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন, উপপরিচালক (পরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. মো. জাকীউল ইসলামসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশু শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার ঘটনা ঘিরে বিতর্ক, প্রশ্ন তুললেন মুফতি মোজাম্মেল হক মাছুমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


শিশু শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার ঘটনা ঘিরে বিতর্ক, প্রশ্ন তুললেন মুফতি মোজাম্মেল হক মাছুমি

মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দ্বিচারিতা, ধর্মীয় মতপার্থক্য ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুফতি মোজাম্মেল হক মাছুমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

স্ট্যাটাসের শিরোনাম দিয়েছেন, “চুমু দিলে থাপ্পড়; আতঙ্ক এবং দ্বিচারিতার প্রশ্ন?” এতে তিনি শিশু শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় বিভিন্ন আমল নিয়ে মতপার্থক্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

মুফতি মোজাম্মেল হক মাছুমি তাঁর স্ট্যাটাসে প্রশ্ন করেন, নবীজি ﷺ-এর নাম শুনে আঙুলে চুমু দেওয়া, মা-বাবা, উস্তাদ ও শায়েখের কদমবুসি, মাজার জিয়ারত, মিলাদের কিয়াম এবং ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে জসনে জুলুসের মতো বিষয়গুলোতে যারা আপত্তি তোলেন, তাঁদের অবস্থান কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এসব প্রসঙ্গ তুলে তিনি ধর্মীয় বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড অনুসরণের আহ্বান জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি গাজীপুরের ইমাম ও খতিব মাওলানা রঈস উদ্দীনের মৃত্যুর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে, একটি ঘটনায় প্রতিবাদী হওয়ার পাশাপাশি অন্য ঘটনায়ও একইভাবে ন্যায়বিচারের দাবি তোলা উচিত।

এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়া এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অভিযোগের যথাযথ সমাধান করা জরুরি।

শিশু সুরক্ষা ও নিরপেক্ষ তদন্তের গুরুত্ব

শিশুকে চুমু দেওয়ার ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চললেও, ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর প্রতি যেকোনো আচরণের ক্ষেত্রে তার নিরাপত্তা, সম্মতি, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা কিংবা কোনো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষককে একইভাবে দায়ী করাও সমীচীন নয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত এবং প্রমাণের আলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%