সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৫০ পি.এম
নড়াইলে বিষধর সাপের ছোবল খেয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে হাজির হয়েছেন এক বৃদ্ধ, যিনি জ্যান্ত সাপটি হাতে নিয়ে এসেছেন।
সোমবার দুপুরে নড়াইল জেলা হাসপাতালে গোলাম রাব্বানী (৬০) নামে ওই ব্যক্তি জ্যান্ত গোখরা সাপটি ব্যাগে বন্দী করে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত।
গোলাম রাব্বানী, যিনি নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামের মৃত জাফর মুন্সির ছেলে, সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, প্রতিবেশী হান্নান খাঁয়ের বাড়িতে একটি বিষধর গোখরা সাপ ঢুকে পড়ার খবর পেয়ে সেখানে যান। কিছুক্ষণের চেষ্টায় তিনি সাপটি ধরে ফেলেন, কিন্তু সাপটি ধরে খেলা দেখাতে গিয়ে তিনি দংশনের শিকার হন। এরপর দংশিত অবস্থায় সাপটিকে একটি ব্যাগে পুরে চিকিৎসার জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
এদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জ্যান্ত গোখরা সাপ দেখে উপস্থিত সাধারণ রোগীসহ সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। লোকজন ভয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে থাকেন।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শারমিন জানান, সাপে দংশনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-ভেনম দিয়ে গোলাম রাব্বানীকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি এখন সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পর বিকেলে উদ্ধার করা সাপটিসহ সুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল ত্যাগ করেন গোলাম রাব্বানী।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের চেতনায় তরুণ প্রজন্মকে আলোকিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মিলনায়তনে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নজরুলের মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, নজরুলচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করা সম্ভব। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ একটি আলোকিত, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেন। এর ফলে সারা দেশে নজরুলচর্চাকে নতুন গতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কবির জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াবে।
মন্ত্রী নজরুলের সৃষ্টিকর্মে প্রেম ও দ্রোহের অনন্য সমন্বয়ের কথা তুলে ধরে বলেন, ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি শ্যামাসংগীত রচনা করে নজরুল ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।
দেশের লোকজ ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির চর্চা ও প্রসারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নৌকাবাইচ, যাত্রাশিল্প, বাউলগান এবং হাছন রাজা, লালন ও বিজয় সরকারের গানের মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সম্মিলনে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিসচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করা নয়; বরং জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও সৃষ্টিশীল ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়া।
তিনি আরো বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশের পাশাপাশি মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজমুল হক, আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নুরজাহান আক্তার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, জাসাসের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হেলাল খান ও সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন।
অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা বিভাগের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পরে সেখানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম আন্তর্জাতিক শিক্ষা উৎসব, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন এক্সপো-র ৬৫তম আসর শুরু হতে যাচ্ছে। ফেয়ার কনভেনর ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে এই তিন দিনব্যাপী শিক্ষা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর।
এই মেলায় অংশগ্রহণ করবে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্টাডি অ্যাব্রোড কনসালটেন্সি, আইইএলটিএস এবং টেস্ট প্রিপারেশন সেন্টারসহ শিক্ষা ও ক্যারিয়ার সংশ্লিষ্ট নানা প্রতিষ্ঠান।
মেলায় এক ছাদের নিচে উপস্থিত থাকবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, স্কলারশিপ, ভর্তি প্রক্রিয়া, ভিসা এবং ক্যারিয়ার গঠনের বিস্তারিত তথ্য। অভিজ্ঞ কাউন্সিলর এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যাবে, এবং শিক্ষার্থীরা তাদের স্বপ্নের পথ বেছে নিতে পারবেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য মেলায় প্রবেশ সম্পূর্ণ ফ্রি। ফ্রি টিকিট এবং বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন fairconvener.com।
মেলায় যেসব প্রতিষ্ঠান স্টল নিতে পারবে:
১. এডুকেশন কনসালট্যান্সি ও স্টুডেন্ট ভিসা এজেন্সি
২. দেশি-বিদেশি ইউনিভার্সিটি, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি ও কলেজ
৩. আইইএলটিএস, স্পোকেন ইংলিশ ও ইংলিশ কোচিং সেন্টার
৪. বুক পাবলিশার ও এডুকেশনাল বুকশপ
৫. ট্রাভেল ও এয়ার টিকিটিং এজেন্সি
৬. ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং ও স্কিল ট্রেনিং
৭. ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ ও ইন্স্যুরেন্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (এমআইএস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হক।
সোমবার আগারগাঁওয়ে কপিরাইট অফিস ভবনে হিট প্রকল্পের কার্যালয়ে বিদায়ী প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামানের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।
গত ১৯ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক অফিস আদেশে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হককে প্রেষণে এই দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই আদেশে অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের সময় ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া, হিট প্রকল্পের চিফ ইমপ্লিমেন্টেশন অফিসার এ কে এম মুখলেছুর রহমান, হিট প্রকল্পের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর অধ্যাপক ড. নাজমিন আফরোজ, চিফ প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক সেলিনা জামান, সিনিয়র কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স স্পেশালিস্ট অধ্যাপক ড. এ এস এম আবদুল হাছিব, প্রকল্পের ইউনিভার্সিটি টিচার্স ট্রেনিং একাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলামসহ ইউজিসি ও হিট প্রকল্পের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন প্রকল্প পরিচালককে স্বাগত জানিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, "হিট প্রকল্প দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের অন্যতম একটি বড় উদ্যোগ। এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের উচ্চশিক্ষায় একটি ইতিবাচক রূপান্তর আনা সম্ভব হবে।"
তিনি আরও বলেন, নানা কারণে প্রকল্পের কাজ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা অর্থবহভাবে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়িয়েও এর নির্ধারিত পাঁচটি উপাদানের মূল লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ড. মো. রাকিবুল হক এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআইএস বিভাগের চেয়ারম্যান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্থান পেয়ে অনন্য কীর্তি গড়েন। তাঁর এই সমৃদ্ধ একাডেমিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা হিট প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করছে ইউজিসি।
দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের সামগ্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি এই হিট প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৪ হাজার ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর ৫০ দশমিক ৯৬ শতাংশ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৪৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক।
সোমবার ইউজিসির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের হুতি মিলিশিয়া বাহিনী একের পর এক মিসাইল এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে সৌদি আরবকে দুর্বল করে ফেলেছে। এবার তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি প্রচার যুদ্ধ শুরু করেছে। ইসলামের পবিত্র দুই শহর মক্কা এবং মদিনার অভিভাবক হিসেবে সৌদি আরব নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হুতিরা তাদের হামলাকে ইসলামের ওপর আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। এবার ধর্মের খেলায় সৌদি আরবকে পরাস্ত করতে হুতিরা মাঠে নেমেছে। এই প্রচারণায় তারা কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
হুতিরা এমন কিছু রিপোর্টের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে যা প্রমাণ করে যে, সৌদি রাজপরিবারের সহযোগীরা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান মক্কার কাবা শরিফের গিলাফ জেফরি এপস্টেইনের ব্যক্তিগত অভিশপ্ত দ্বীপে পাঠিয়েছিল। এর মাধ্যমে তারা সৌদি আরবের নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তারা প্রমাণ করতে চায় যে, সৌদি নেতারা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ইসলামের বিশ্বাসের রক্ষক হিসেবে অযোগ্য। আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের সমর্থন বাড়ানোর লক্ষ্যে হুতিরা এই প্রচারযুদ্ধ শুরু করেছে। সৌদি আরবের দাবির বিপরীতে তারা নিজেদের ইসলামের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে ড্রোন হামলার অভিযোগ এনেছিল। সৌদি আরব এটিকে একটি জঘন্য হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে এবং মুসলিমদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে। তবে হুতিরা এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। জবাবে তারা সৌদি রাজতন্ত্রের দিকেই ধর্মীয় বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছে।
হুতি প্রেসিডেন্ট মাহদি আল মাশাত বলেছেন, "যারা কাবার গিলাফ এপস্টেইনকে দিয়েছিল, তারাই আসলে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।"
এই বার্তাটি হুতিদের নেটওয়ার্ক জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এর মধ্যে এক্স প্ল্যাটফর্মে ২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার থাকা একজন ইয়েমেনি কৌতুক অভিনেতার মন্তব্য এবং একজন ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতশিল্পীর গানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ এবং ঝুঁকি উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আল-বাশা, যিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দলটিকে পর্যবেক্ষণ করছেন, তিনি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে বলেছেন যে, দলটির যোগাযোগ ব্যবস্থা একসময়ের 'দুজন মানুষের দল' থেকে এখন একটি সুসংগঠিত মিডিয়া সিস্টেমে পরিণত হয়েছে।
আল-বাশা বলেন, "তারা খুব ভালোভাবে যুক্ত।" তিনি আরও যোগ করেন যে, হুতি নেটওয়ার্ক এখন টেলিভিশন চ্যানেল, ওয়েবসাইট, রেডিও, সংবাদপত্র, ইমেইল ক্যাম্পেইন এবং অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট জুড়ে বিস্তৃত। এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ইনফ্লুয়েন্সারদের একটি ব্রিগেড বা দল রয়েছে। এই সমর্থক নেটওয়ার্কটি আদর্শগতভাবে এই দল এবং অন্যান্য ইরানি মিত্রদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে তারা সবসময় পারিশ্রমিক পায় না। তারা হুতিদের আদর্শের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ