০৯:০০ পি.এম
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অবনতি, ইশরাক হোসেনের আকস্মিক পদত্যাগ এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম ও কমিশন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "দেশবাসী তাকিয়ে আছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কবে পদত্যাগ করবেন। ইশরাক হোসেন কেন পদত্যাগ করলেন, তার অপরাধটি আসলে কী—তা কি নৈতিক নাকি ফৌজদারি অপরাধ—তা স্পষ্ট নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন পর্যন্ত নিজের এলাকা থেকেই মাদক প্রতিরোধ করতে পারেননি। অথচ এর জন্য বলি হতে হয়েছে ইশরাক হোসেনকে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। ইশরাক হোসেন যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে থাকেন, তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।"
বিএনপি সরকারের পড়া সমালোচনা করে এনসিপি প্রধান বলেন, "দেশ কোনো ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছা, অনুরোধ বা নির্দেশনায় চলতে পারে না; এটি গণতন্ত্র বা আইনের শাসনের কোনো উদাহরণ হতে পারে না। রাষ্ট্রে প্রত্যেকে যার যার নিজ দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার কাজ বাদ দিয়ে সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত আছেন। আবার যার দায়িত্ব মাদক অভিযানে যাওয়া নয়, তিনি অস্ত্র নিয়ে মাদক অভিযানে যাচ্ছেন এবং পরবর্তীতে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।"
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
"কেন তাকে সরানো হলো, সরকার তার কোনো স্পষ্ট কারণ জানায়নি। তিনি কোনো ফৌজদারি অপরাধ করলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে স্পষ্ট হয় যে, দেশ এক ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছায় চলছে এবং দেশে প্রকৃত আইনের শাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অভাব রয়েছে," প্রশ্ন রেখে বলেন তিনি।
জুলাই সনদ, গণভোট এবং সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে প্রহসনের অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, "দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার তা না করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে এক প্রকার প্রতারণা করেছে।" সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনকে একটি "প্রহসন ও নাটক" এবং শহীদদের সাথে প্রতারণা বলে উল্লেখ করে এই প্রতারণার দায় সরকারপ্রধানের ওপর বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঐকমত্য কমিশন দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে ঐক্যমতে পৌঁছেছিল উল্লেখ করে এনসিপি আরবিয়ক বলেন, "নির্বাচনের পর সেগুলো বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বর্তমানে এই আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান সংশোধন কমিটি দিয়ে সংবিধান সংশোধনের কথা ছিল না; কথা ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের। "
"বর্তমান বিএনপি সরকার সেই শপথ নেয়নি, যা প্রমাণ করে তারা কোনো বাস্তবধর্মী সংস্কার চায় না। এই কমিটি জনগণের কাছে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং এর কোনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও নেই। কিছু বিএনপি পন্থী সুশীল সমাজ ও পেশাজীবীদের ডেকে এনে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ বা অগণতান্ত্রিক বিষয়গুলো অন্যদের মুখ দিয়ে বলানোর চেষ্টা চলছে," অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর স্ত্রীর রহস্যময় পোস্ট
সরকারের বিভিন্ন পদত্যাগ ও রদবদলের বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ ধারণা বা ব্যাখ্যা নেই মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, "তথ্যমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য যিনি প্রধানত দায়ী—সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কোনো জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে না। শুধু পদত্যাগ করিয়ে বা সংরক্ষিত নারী এমপিদের সরিয়ে দিয়ে মূল সমস্যা বা দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা চলছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে পুলিশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে যথাযথ দায়িত্ব নিতে হবে।"
গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, "মাদক দেশের প্রতিটি এলাকায় ভয়াবহভাবে বিস্তার লাভ করেছে। শুধু সেবনকারীদের ধরলে চলবে না, মূল ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সংসদের একজন জ্যেষ্ঠ নেতাসহ বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, মাদকের মূল কারবার শুরু হয় কক্সবাজার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজস্ব এলাকা থেকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের এলাকাকেই যেখানে মাদকমুক্ত করতে পারেননি, সেখানে তাকে অবশ্যই জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন