ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভৈরবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগ


ভৈরবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগ

কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্দেশনা দিয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্যের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভৈরব উপজেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পত্রটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, যদি ভৈরবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে এটি কিশোরগঞ্জসহ বৃহত্তর অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তি শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে যে, এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত অনুমোদন নয় বরং সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনা। পরবর্তী যাচাই ও সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কারণে হঠাৎ আলোচনায় ৮৩ সদস্যের নাগাপ্পা পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ পি.এম


যে কারণে হঠাৎ আলোচনায় ৮৩ সদস্যের নাগাপ্পা পরিবার

বর্তমান সময়ে, যখন সমাজে সাধারণত একক পরিবারের প্রসার দেখা যাচ্ছে, তখন ভারতবর্ষের অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার কুরলাপল্লি গ্রামের নাগাপ্পা পরিবার এখনও যৌথ পরিবারের ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রাখে। ছয় প্রজন্মের ৮৩ সদস্যের এই পরিবার যদিও চারটি পৃথক বাড়িতে বসবাস করে, তবুও তাদের রান্নাঘর একটাই রয়েছে। পরিবারের সমস্ত সদস্য একসাথে রান্না করা খাবার খেয়ে থাকেন। সম্প্রতি, এই পরিবারটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাগাপ্পা পরিবারটির নেতৃত্বে আছেন হনুমন্তরায়ুদু ও মুথিয়ালাপ্পা। তাদের তত্ত্বাবধানে মোট ৮৩ সদস্যের পরিবারে ছয়জন শাশুড়ি, ১৪ জন পুত্রবধূ, ২০ জন শিশু এবং অন্যান্য বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য রয়েছেন।

পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা একসাথে একটি বাড়িতে বসবাস করতে পারেন না। তারা পাশাপাশি চারটি বাড়িতে বসবাস করেন। তবুও রান্না, খাবার, আয়-ব্যয় এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত— সবকিছুই সকলের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়ে থাকে। কৃষিকাজ, গৃহস্থালির দায়িত্ব এবং অন্যান্য কাজগুলো সদস্যদের মধ্যেই ভাগ করে নেওয়া হয়।

হনুমন্তরায়ুদু পিটিআইকে জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকালে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা একত্রিত হয়ে কফি পান করে দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেন। এই বৈঠকের মধ্যেই রান্নার মেনু, গৃহস্থালির কাজের বণ্টন, কৃষিকাজের দায়িত্ব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। তারপর, পরিবারের একটি অংশ মাঠে কৃষিকাজে চলে যায় এবং অন্য অংশটি বাড়িতে থেকে রান্নাবান্না ও সংসারের অন্যান্য কাজ পরিচালনা করে।

নাগাপ্পা পরিবারের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তাদের যৌথ রান্নাঘর। পৃথক চারটি বাড়িতে বসবাস করলেও, পরিবারের সবাই এক জায়গাতেই রান্না করা খাবার খায়। প্রয়োজনীয় বাজার ও মুদি সামগ্রীসমূহের তদারকি করেন প্রবীণ সদস্যরা, এবং পুত্রবধুরা সম্মিলিতভাবে পুরো পরিবারের জন্য রান্না প্রস্তুত করেন।

কৃষিকাজের পাশাপাশি, পরিবারটির যৌথ মালিকানায় চারটি যাত্রীবাহী বাসও রয়েছে। এই বাসগুলো অন্ধ্রপ্রদেশের কল্যাণদুর্গম এবং প্রতিবেশী কর্নাটকের বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। কৃষি ও পরিবহন খাত থেকে সংগৃহীত সব আয় একত্রিত করে যৌথভাবে পরিবারের খরচ নির্বাহ করা হয়।

যৌথ পরিবারব্যবস্থা ক্রমেই বিরল হয়ে ওঠার এই সময়ে নাগাপ্পা পরিবারের জীবনধারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটি পারিবারিক ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত জীবনযাপনের একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন। সূত্র: আনন্দ বাজার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এমসি কলেজে তরুণী ধর্ষণ, একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনের যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৫ পি.এম


এমসি কলেজে তরুণী ধর্ষণ, একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনের যাবজ্জীবন

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণী ধর্ষণ মামলায় আদালত একজনকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে, তিনজনের উল্টো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাসও প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এই রায় ঘোষণা করেন আদালতের বিচারক।

আদালত সূত্রে প্রকাশ পায়, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে উক্ত নির্যাতনের শিকার তরুণী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের একজন শিক্ষক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকও ছিলেন।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহপরান মাজার এলাকা থেকে ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এক দম্পতির প্রাইভেটকার থামিয়ে কয়েকজন যুবক তাদেরকে কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। সেখানে তারা স্বামীকে আটকে রেখে গাড়ির ভেতরে তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে দম্পতির কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার এবং গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছিল।

ঘটনার রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আরো দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত হয়। গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক মামলাটিও এই মামলার সঙ্গেই একত্রে বিচার করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনার পর আত্মগোপনে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযান চালিয়ে আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তদন্ত চলাকালে বেশ কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়ার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। এর পর অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেজগাঁও বিভাগে অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৪৩ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


তেজগাঁও বিভাগে অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ৪৩ জন

 ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. হাসান (২৭), মো. সাইদুর রহমান সজিব (২১), মো. হাবিবুর রহমান লিয়ন (২১), মোছা. শাপলা আক্তার (৩০), মো. আরাফাত, মো. বেলাল হোসেন বেপারী (২৬), মো. জামিল শিকদার (৩০), ইয়াসিন আরাফাত (২৪), মো. রুবেল (৩৩), মো. লুৎফর রহমান (৩৬), সালমান (২৪), মো. রাশেদুল হাসান (৩৭), মো. রাসেল (২৫), মো. আসাদুল ইসলাম (২২), ইব্রাহিম ওরফে সৌরভ (২৫), মো. সাইদুল ইসলাম (২২), মো. সালমান (২১), মো. জনি ওরফে মুরগী জনি, মো. জাহিদ হাসান (২১), মো. মাহিম (২০), মো. মাহাবুব আলম (৪৫), মো. সেলিম মিয়া (৩০), মো. ইউসুফ (২২), মো. আমজাদ (৩০), মো. রুহুল আমিন (২১), সুমন (২৭), স্বাপন (২৫), মো. সুলেমান (৪৮), মো. ইমন (২০), মো. দেলোয়ার হোসেন হৃদয় (২২), মো. সিরাজুল ইসলাম (৪৮), তাফহীমুল তছলিম হিমেল (২৪), সাদিয়া আরফিন (২৪), মো. ইয়াছিন (৩০), মোসা. রোজিনা ওরফে রোজি ওরফে সালেহা (৪১), মো. সোহাগ আহম্মদ (২২), সেলিম মিয়া (২৮), আল আমিন (৩৪), মো. আরিফ (২৮), মো. শুভ (১৮), মো. রিপন (২৬), মো. হৃদয় হোসেন ওরফে ইয়াছিন (১৮) ও মো. সাইফুল ইসলাম।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় ২ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় ১০ জন, মোহাম্মদপুর থানায় ১৯ জন, আদাবর থানায় ৩ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৩ জন ও হাতিরঝিল থানায় ৬ জন রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

২

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে নজরুল ইসলাম খান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও এখানে বিপুল জনগোষ্ঠীর বসবাস। দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষির আধুনিকায়ন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি জরুরি। এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নজরুল ইসলাম খান জানান, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কৃষি কার্ড কর্মসূচি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাবনা অনুযায়ী বিশেষ পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব এলাকায় সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষি উৎপাদন, সেচ, পণ্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে আমসহ বাংলাদেশের কৃষিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের পর মানসম্মতভাবে সংরক্ষণ, পরিবহন ও রপ্তানির জন্য কার্যকর কোল্ড চেইন এবং রেফ্রিজারেটেড পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এসব অবকাঠামো ও প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে আমদানি হওয়া মার্কিন পণ্য বন্দরে খালাসের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকার বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্দরের কার্যক্রমে গতি আনা এবং আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করতে কাজ করছে। শিগগিরই এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে শ্রমিকদের অধিকার, কর্মপরিবেশ, ট্রেড ইউনিয়ন এবং শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংশোধিত শ্রম আইনে শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা জোরদার, আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা এবং ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ ইতিবাচক।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সরকার এমন একটি শ্রমব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে, একই সঙ্গে শিল্পের উৎপাদন ও বিনিয়োগের পরিবেশও বজায় থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পসহ অন্যান্য শিল্প খাতে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ও শ্রমমান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তবে এখানেই থেমে থাকার সুযোগ নেই। ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম শক্তিশালী করা, শ্রমিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। নজরুল ইসলাম খান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একটি নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান জরুরি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা এবং মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ অব্যাহত রাখা দরকার। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি একটি জটিল সংকট এবং এর সমাধানে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

শিক্ষা খাতের আলোচনায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, যোগ্যতা যাচাই এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের বিষয় উঠে আসে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। রোগ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা উন্নয়নে এ সহযোগিতা পরিচালিত হবে।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষি, বাণিজ্য, শ্রম, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট (Erin Covert), পলিটিক্যাল অফিসার জেমস এ. স্টুয়ার্ট (James A. Stewart) এবং লেবার অ্যাটাশে লিনা খান (Leena Khan)। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%