১১:৪২ পি.এম
কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করার পরও নদীতে ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। জেলার বিভিন্ন নদীর তীরে ৩৬টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙনে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, কৃষিজমি ও স্থাপনা।
একদিকে হাজারো পরিবার ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শতশত হেক্টর কৃষিজমি।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৩টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে পানির বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইছে। তাই জেলায় প্রধান চারটি নদ-নদী তীরবর্তী বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই ধরলা, দুধকুমার, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের তীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মোংলার পথে যাত্রা শুরু, স্থানীয়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা, নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গা, চিলমারীর কড়াই বরিশাল, রাজারহাটের রামহরি এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া ও সরকারপাড়া এলাকা।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, দফায় দফায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত পাঁচ দিনে আমাদের গ্রামের ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন আমরা সর্বস্ব হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে গেছি। আমরা চাই স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ৪৯৯ হেক্টর জমির পাট, চীনাবাদাম, আউশ, আমনের বীজতলা ও মরিচের ক্ষেত বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান মন্তব্য করেছেন যে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। তিনি নদীতীরে বসবাসকারী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলছেন। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক আমাদের নজরে রয়েছে এবং ভাঙন মোকাবিলায় অতিরিক্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, পানি আরো কমলে ভাঙনের নতুন তালিকা তৈরি করে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা হবে।
আরও পড়ুন: খুলনায় ২৭ বছরের যুবক তুষারের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ৯ উপজেলার এসব নিমজ্জিত ফসল দ্রুত নেমে গেলে আংশিক রক্ষা হতে পারে। তবে শাকসবজি, মরিচ ও বীজতলা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন