ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিরগিজস্তানে যাচ্ছেন পুতিন-শি জিনপিং, যোগ দেবেন পেজেকশিয়ান


কিরগিজস্তানে যাচ্ছেন পুতিন-শি জিনপিং, যোগ দেবেন পেজেকশিয়ান

কিরগিজস্তানে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের শি জিনপিং। তারা একটি শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে চাওয়া আঞ্চলিক জোটের দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনে ইরান ও ভারতের নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রায় এক ডজন রাষ্ট্রপ্রধান সমবেত হবেন। এই জোটের সদস্য দেশগুলোতে রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ এবং মস্কোর মিত্র বেলারুশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুতিন ও জিনপিং অতীতে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনগুলোকে বহুকেন্দ্রিক বিশ্বের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য এবং পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন। এই সম্মেলনটি মস্কোর ইউক্রেন আগ্রাসনের সাড়ে চার বছর এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর ছয় মাস পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে ইরানের প্রতিনিধিত্ব করবেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

আরও পড়ুন: লিবিয়া ও তুরস্কের মধ্যে নতুন সামুদ্রিক চুক্তি অনুমোদন

কিরগিজ নেতা সাদির জাপারভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিন, শি ও পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি ভারতের নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, পুতিনের চীনের শি জিনপিং এবং ইরানের পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশগুলোর তালিকায় থাকা রাশিয়া ও ইরান ইউক্রেন যুদ্ধের সময় তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে মস্কো ও বেইজিংকে সতর্ক করেছেন।

সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের মস্কোতে আকস্মিক সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই পুতিন ও পেজেশকিয়ানের বৈঠকের বিষয়টি সামনে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি রুশ সমকক্ষদের সঙ্গে ইউক্রেন ও ইরান বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ঐতিহাসিকভাবে এসসিও অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে এটি নতুন গতি পেয়েছে।

বর্তমানে এসসিওর ১০ জন সদস্য ছাড়াও তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারসহ ১৫টি সংলাপ সহযোগী দেশ যুক্ত রয়েছে। আফগানিস্তান ও মঙ্গোলিয়া পর্যবেক্ষক হিসেবে এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসসিওর প্রতিষ্ঠাতা ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, এই গোষ্ঠীটি অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো জোট নয়। তবে পুতিন ও শি উভয়েই এর শীর্ষ সম্মেলনগুলোতে বারবার পশ্চিমা-বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: দুর্গন্ধ পেয়ে ঘরের ছিদ্র দিয়ে উঁকি দিতেই এলাকাবাসীর চোখ কপালে

গত বছরের সম্মেলনে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে দায়ী করেছিলেন। অন্যদিকে শি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে ভীতি প্রদর্শনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছিলেন। বিশকেক শীর্ষ সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন এসসিও-র কিছু সদস্য রাষ্ট্র বাস্তব যুদ্ধ মূলত চীন, ভারত, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইরানকে দুর্বল করার লক্ষ্যে এই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর স্বর্ণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সম্পদ, বিমান চলাচল ও সামুদ্রিক পরিবহন খাতে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইরানি তেলের অন্যতম প্রধান আমদানিকারক দেশ চীন এর জবাবে বলেছে, তারা নিজেদের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইসলামি কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা আসার সময় থেকেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরান নিয়মিতভাবে বলে আসছে, তারা অর্থনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তবে পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, তার দেশ অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি এএফপি-কে বলেছেন, তেহরান বিশ্বাস করে এই জোটগুলোতে সদস্যপদ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সক্ষম হবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠী থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত। কারণ সংকটের সময়ে তেহরানকে তার সমস্যা সমাধানে এই জোটগুলো খুব কমই সহায়তা করেছে।

যদিও এই জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করার দাবি করে, তবে এর সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং জোটটি বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। অন্যদিকে মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের জন্য রাশিয়া ও চীন একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। যে অঞ্চলটি সম্পদসমৃদ্ধ এবং ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক মাঝেমধ্যে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের সমীকরণ জটিল অবস্থায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: কাতার জানাল, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চলছে

সূত্র: এএফপি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক ও গর্ভপাত, প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অবস্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৯ পি.এম


বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক ও গর্ভপাত, প্রবাসী প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অবস্থান

সাতক্ষীরায় বিয়ের আশ্বাসে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক, গর্ভধারণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে প্রবাসী প্রেমিক মনিরুল ইসলামের উপর। সেই সঙ্গে বিয়ের স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন ওই তরুণী।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কলারোয়া উপজেলায় এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগকারী নারী কলারোয়া উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম একই উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের বাসিন্দা।

ওই নারী বলেন, মনিরুল আমাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। তার কথায় বিশ্বাস করেই আমি সম্পর্কে জড়িয়েছি। এখন তিনি আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে এসেছি।

তার ভাষ্য, ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করালে তার গর্ভধারণের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত হন। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিকভাবে দুর্নাম হবে—এমন কথা বলে মনিরুল তাকে বিয়ের কথা বলেন। 

পরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে তার গর্ভপাত করানো হয়। এরপর মনিরুল বিয়ের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যান এবং একপর্যায়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে ওই নারীর বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে একটি মেয়ে আছে। ওই নারীর দাবি, মনিরুলের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই নারীকে মনিরুলের বাড়ির সামনে বসে সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তিনি দাবি করেন, মনিরুলের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তার আগের সংসার ভেঙে গেছে। মনিরুল মালয়েশিয়ায় থাকাকালে ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে দেশে এসেও যোগাযোগ রাখেন।

শুক্রবার মনিরুলের বাড়িতে অবস্থানের একপর্যায়ে ওই নারী আত্মহত্যার হুমকি দেন। এতে সেখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে মনিরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ডেকে আনা হয়। তারা মনিরুল দেশে ফিরলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে ওই নারী সেখান থেকে চলে যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

তার ভাষ্য, ওই নারী তাদের বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু তার ছেলে বিদেশে থাকে। ওই নারীর সঙ্গে তার ছেলের কোনো সম্পর্ক নেই।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় কেউ জানায়নি এবং কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা স্থগিত রাখার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩০ পি.এম


পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা স্থগিত রাখার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা বিশ্বে বিশ্বাসের সংকট সৃষ্টি করে, এজন্য জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বের সকল পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে পরীক্ষা স্থগিত রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

গুতেরেস এক বার্তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ উল্লেখ করেন, অতীতের পারমাণবিক পরীক্ষার ফলে বেঁচে থাকা জনগণের মধ্যে প্রতারণার অনুভূতি তৈরি হয়। তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যেন সার্বিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তি (সিটিবিটি) অবিলম্বে কার্যকর করা হয়।

জাতিসংঘ মহাসচিবের এই আহ্বানটি রাশিয়া একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করার পর এসেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আরখাংগেলস্ক অঞ্চলের প্লেসেটস্ক কসমোড্রোম থেকে উৎক্ষিপ্ত কঠিন জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্রটি দূর প্রাচ্যের কামচাতকার কুরা প্রশিক্ষণ এলাকায় তার নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছায়। মস্কো নিশ্চিত করেছে যে, এই পরীক্ষাটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কারিগরি ও উড্ডয়ন সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য পরিচালিত হয়েছিল।

১৯৯৬ সালে পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে সিটিবিটি গ্রহণ করা হলেও, সব দেশের স্বাক্ষরের অভাবে এটি এখনও পূর্ণ আইনি রূপ পায়নি। চুক্তির ‘অ্যানেক্স ২’ তালিকাভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ নয়টি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইরান, ইসরায়েল, মিসর, ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার অনুমোদন না পাওয়ায় এটি ঝুলে রয়েছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৮টি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং ১৭৯টি দেশ তা অনুমোদন করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেই খাওয়ানো হলো মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩১ পি.এম


ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেই খাওয়ানো হলো মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুট

ভারতের ছত্রপতি শম্ভাজিনগরে মেয়াদউত্তীর্ণ খাবার বিক্রির অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা এক খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুট খাওয়ানোর চেষ্টা করেছেন। দোকানদারের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে কর্মকর্তার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় একটি পান দোকান থেকে কেনা মেয়াদউত্তীর্ণ চানাচুর খেয়ে দুই বছরের এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায়। চানাচুর খাওয়ার পর শিশুটির মাথা ঘোরে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরপর শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছত্রপতি শম্ভাজিনগরের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়রা দাবি করেন, তিনি সেখানে যাওয়ার আগেই চানাচুরের মূল প্যাকেটটি দোকান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় দোকানে বেশ কয়েকটি মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুটের প্যাকেট পাওয়া যায়। তবে ওই কর্মকর্তা দোকানদারের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা বিস্কুটগুলো খাওয়ার উপযোগী কি না, তা প্রমাণ করতে কর্মকর্তাকে নিজেই খেয়ে দেখার দাবি জানান।

পরে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি জোর করে মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুট কর্মকর্তার মুখে গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

রাজ্যজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন অভিযান জোরদার করার সময়ই এমন ঘটনা ঘটল। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে দেখানো হচ্ছে না তিব্বত বিপর্যয়ের দৃশ্য, নিহতের তথ্য নিয়েও ধোঁয়াশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


চীনে দেখানো হচ্ছে না তিব্বত বিপর্যয়ের দৃশ্য, নিহতের তথ্য নিয়েও ধোঁয়াশা

হিমালয়ের কোলঘেঁষা তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও কাদাধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তবে চীনের সাধারণ মানুষের কাছে দুর্যোগের প্রকৃত চিত্র কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরে বন্যার ভয়াবহ স্রোতের ভিডিও আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এর খুব সামান্য অংশই প্রকাশিত হয়েছে।

গিরং বন্দর, যা নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ, বুধবার সেখানে হঠাৎ প্রবল পানির স্রোত আছড়ে পড়ে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যার পানি মুহূর্তের মধ্যে বন্দরের ভেতর দিয়ে প্রবল বেগে ছুটে যাচ্ছে এবং প্রাণ বাঁচাতে শত শত মানুষ দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়। কিন্তু চীনের ভেতরে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রীয় প্রধান সংবাদ বুলেটিনে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ঘটনার ভিডিওর পরিবর্তে মাত্র একটি স্থিরচিত্র দেখানো হয়েছে। চীনের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেটেও বন্যার ওই ভিডিও খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এছাড়া, তিব্বতে বন্যা ও কাদাধসে শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও, চীনের অভ্যন্তরীণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনাও খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। নিখোঁজদের সংখ্যা নিয়েও বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, তবে তথ্য সীমিত

চীনা কর্তৃপক্ষ ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। শত শত জরুরি সেবাকর্মী ও উদ্ধারকর্মী দুর্গত এলাকায় কাজ করছেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা সমন্বয়ের জন্য জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন।

শনিবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে উদ্ধারকারী দলকে কাদা ও পাথরে পরিণত হওয়া বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাউকে আটকে থাকতে পারেন—এমন আশায় বারবার ডাক দিচ্ছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে পাহাড় ও খাড়া পাথুরে ঢালে বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের অভিযান এবং উত্তাল নদী পেরিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টার দৃশ্যও দেখানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযানের পর কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, কতজন এখনও নিখোঁজ কিংবা কতজন মারা গেছেন—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সীমিত।

দুর্গত এলাকার কোনও জীবিত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বর্ণনাও খুব একটা সামনে আসেনি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের বক্তব্যও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিব্বত নিয়ে চীনের সংবেদনশীলতা

তিব্বতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণে দুর্যোগের এই ঘটনা নিয়ে তথ্যপ্রবাহ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিভিন্ন পর্যবেক্ষক।

১৯৫০-এর দশকে চীনা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিব্বতে বেইজিংয়ের শাসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে বিক্ষোভ হয়েছে এবং চীনা কর্তৃপক্ষ তা কঠোরভাবে দমন করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তিব্বতীয়দের বিরুদ্ধে গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও করে আসছে।

তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে চীন বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে ‘তিব্বত’ শব্দটিই চীনা সেন্সরশিপ ব্যবস্থায় অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।

এ কারণে বন্যার মতো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেও তথ্য কীভাবে প্রকাশিত হবে, তা নিয়ে বেইজিংয়ের বাড়তি সতর্কতা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেই নির্ভর করতে হচ্ছে

চীনে সাধারণ মানুষের কাছে দুর্যোগের তথ্যের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সেখানে প্রতিদিন নিখোঁজ ও নিহতদের বিষয়ে কিছু আপডেট দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান এবং একটি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হ্রদের পানি উপচে পড়ার ঝুঁকি নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, তার তুলনায় চীনের ভেতরে পাওয়া তথ্য অত্যন্ত সীমিত।

এমনকি বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যখন হিমালয়ের একটি উপত্যকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞকে প্রধান শিরোনাম করছিল, তখন চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম তাদের প্রধান সংবাদ বুলেটিন শুরু করে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নতুন বই প্রকাশের খবর দিয়ে। বইটিতে তার ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক’ কিছু লেখা সংকলিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশেও সীমাবদ্ধতা

তিব্বতে বিদেশি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করার সুযোগ নেই। সেখানে যেতে হলে চীনা সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। ফলে দুর্গত এলাকায় স্বাধীনভাবে গিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করা আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।

এই পরিস্থিতিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, নিখোঁজদের পরিবারের উদ্বেগ এবং উদ্ধার অভিযানের প্রকৃত ফলাফল সম্পর্কে স্বাধীন তথ্য সংগ্রহ সীমিত হয়ে পড়েছে।

তিব্বত নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বন্যার ভিডিও ও প্রত্যক্ষ তথ্য সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বত উদ্ধারকর্মীদের কাজের প্রশংসা করলেও চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির বিষয়ে ‘সম্পূর্ণ ও যাচাইযোগ্য তথ্য’ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।

কেন এত সতর্ক বেইজিং?

চীনা সরকারের এই তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্যপ্রবাহের পেছনে মূল লক্ষ্য হিসেবে ‘স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখার বিষয়টিকেই দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব আশঙ্কা করতে পারে, ভয়াবহ কোনও দুর্যোগ সরকারের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

বিশেষ করে তিব্বতের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি অঞ্চলে কোনও বড় ধরনের দুর্যোগ স্থানীয় অসন্তোষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বেইজিংয়ের থাকতে পারে।

দুর্যোগের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টি সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সদস্যদের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানসিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

স্থানীয় পার্টি কার্যালয়ের নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকায় ‘সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করার’ ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভালো কাজ করা সদস্যদের পুরস্কৃত এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলা হয়।

নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অনিশ্চয়তা

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে নিখোঁজদের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে।

দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় তিব্বতের বাইরে থাকা পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানতে পারছেন না। অধিকারকর্মীদের দাবি, তিব্বতের স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললে কিংবা সরকারের বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনও তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করলে তাদের আটক বা গ্রেফতারের ঝুঁকি থাকে।

ফলে দুর্গত এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে তিব্বতের বাইরে থাকা স্বজনদের জন্যও পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

তিব্বতে নজরদারি নিয়ে পুরোনো অভিযোগ

তিব্বতে চীনা সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ নতুন নয়। বিবিসি গত বছর হিমালয় মালভূমির প্রান্তবর্তী একটি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে কথা বলেছিল। সেখানে আবা বা তিব্বতি ভাষায় নগাবা নামে পরিচিত এলাকায় কির্তি মঠের ভিক্ষুরা চীনা সরকারের কঠোর নজরদারি ও তিব্বতিদের অধিকার হরণের অভিযোগ করেছিলেন।

একজন ভিক্ষু বলেছিলেন, তিব্বতিরা মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত।

তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলাও তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চীন অবশ্য তিব্বতিদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে। বেইজিংয়ের দাবি, তিব্বতে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তবে বর্তমান বন্যা ও কাদাধসের ঘটনায় তিব্বতের ভেতরে তথ্যপ্রবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।

উদ্ধার অভিযান চলছে, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং দ্রুত দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন। তাকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। বড় কোনও দুর্যোগের এত অল্প সময়ের মধ্যে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতার এমন সফরকে পরিস্থিতির গুরুত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থাৎ, বেইজিং যে দুর্যোগটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না—বিষয়টি তা নয়। বরং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

তবে একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত মাত্রা, নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি রয়ে গেছে।

তিব্বতের বন্যা তাই শুধু একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের গল্প নয়; এটি চীনে তথ্য নিয়ন্ত্রণ, তিব্বতের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং দুর্যোগের সময় রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার প্রশ্নও সামনে এনেছে।

বিশ্ব যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার ভয়াবহ ভিডিও ও ধ্বংসযজ্ঞের ছবি দেখছে, তখন চীনের ভেতরে থাকা কোটি কোটি মানুষ সেই ঘটনার কতটা জানতে পারছেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র:

বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%