ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালানো নারী গ্রেপ্তারের পর কারাগারে


যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালানো নারী গ্রেপ্তারের পর কারাগারে

যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া নারীকে গ্রেপ্তার করার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (২৯ অগাস্ট) বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম ওই সন্দিগ্ধ আসামি মিতুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে ওই দিন আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে, গত রাত ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে মিতুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই সৌমিত্র সরকার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়

কারাগারে পাঠানোর আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২৪ অগাস্ট মিতুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

 

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাসান কবির তাকে থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় মিতুর সঙ্গে তার দুই বছর পাঁচ মাসের শিশু সন্তানও ছিল। তাকে ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২৭ অগাস্ট সকালে রিমান্ড শেষে মিতুকে আদালতে পাঠানোর আগে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরীক্ষা শেষে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে থানায় ফিরিয়ে আনা হয়।

 

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের মধ্যে বিরোধ

এক নারী কনস্টেবলের পাহারায় মিতু থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেক্সে ছিলেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি কৌশলে দরজা খুলে শিশুসন্তান নিয়ে পালিয়ে যান।

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। হেফাজত থেকে পালানোর ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় এসআই খন্দকার আবু সালেহ নাঈম একটি মামলা দায়ের করেছেন।

 

আরও পড়ুন: সার্বিয়ার নির্বাচনে ভুচিচের পরাজয়, বিরোধী জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাসের অপেক্ষায় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


পাসের অপেক্ষায় গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : আগামীকাল ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধ, অতীতের গুমের ঘটনা তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। 

এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে, যা এখন পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠিয়ে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

প্রস্তাবিত আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কর্তৃক অথবা সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, সমর্থন বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার, আটক, অপহরণ বা অন্য কোনোভাবে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করার পর ঘটনাটি অস্বীকার করা কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন রাখাকে ‘গুম’ হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তির অন্যূন তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ভুক্তভোগী মারা গেলে অথবা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অন্যূন পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং এর অতিরিক্ত অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

গুমের সাক্ষ্যপ্রমাণ জেনেশুনে বিনষ্ট, গোপন, বিকৃত বা পরিবর্তন করলে অন্যূন পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একইভাবে গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ, স্থাপন বা ব্যবহার করলে অন্যূন পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে ব্যাপক বা পরিকল্পিত পদ্ধতিতে সংঘটিত গুমকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীন মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারযোগ্য করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া গুম প্রতিরোধ, অপরাধের তদন্ত ও বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সুরক্ষায় একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী বা হুইসেলব্লোয়ার এবং ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার, ঘটনার প্রকৃত সত্য জানার এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে জানার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির সম্পদ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হবে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র এ ব্যয় বহন করবে।

নিখোঁজ ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য তার সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির সুবিধার্থে নিখোঁজ ব্যক্তির সনদ দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

বিলে গুমের ঘটনা নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রয়েছে। তদন্ত ও বিচার-উভয় কার্যক্রম সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত আইনে গুমের ঘটনা তদন্তের জন্য কোনো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা গঠনের কথা বলা হয়নি। এ ধরনের মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপরই রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এদিকে, বর্তমান সরকার অতীতে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বেআইনিভাবে গুমের শিকার না হন, সে লক্ষ্যে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য এ আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। প্রস্তাবিত আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে।

বিশ্ব গুম দিবসের প্রাক্কালে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপনকে গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে সরকারের আইনি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন এবং পরবর্তী সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে বিলটি পাস হলে গুম প্রতিরোধ, তদন্ত ও বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি পৃথক আইনগত ভিত্তি তৈরি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপাল ট্র্যাজেডি: ১৮৪ বিদেশি পর্যটক উদ্ধার, কোন দেশের কতজন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


নেপাল ট্র্যাজেডি: ১৮৪ বিদেশি পর্যটক উদ্ধার, কোন দেশের কতজন?

নেপালে হাপাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা বা হড়কাবানের ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৮৪ বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পর্যটন বোর্ড। উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক-১১৪ জন।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, বন্যার ঘটনায় আরও ৪২০ জন বিদেশি পর্যটকের কোনও সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিট) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে এ সংখ্যা জানানো হয়।

পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি বেলজিয়ামের একজন এবং স্পেনের দুই নাগরিকের সঙ্গেও যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে।

নেপালের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যার পর বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা আটকা পড়েন। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধান এবং আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কোন দেশের কতজন উদ্ধার
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ১৮৪ বিদেশি নাগরিকের মধ্যে—
•    ভারত: ১১৪ জন
•    চীন: ২৭ জন
•    দক্ষিণ কোরিয়া: ২০ জন
•    জার্মানি: ৪ জন
•    মাল্টা: ৪ জন
•    যুক্তরাষ্ট্র: ৩ জন
•    ইতালি: ৩ জন
•    রাশিয়া: ২ জন
•    সুইজারল্যান্ড: ২ জন
•    তুরস্ক: ২ জন
•    বুলগেরিয়া: ১ জন
•    ওমান: ১ জন
•    পর্তুগাল: ১ জন
সবচেয়ে বেশি পর্যটক উদ্ধার করা হয়েছে ভারত থেকে। এরপর চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বন্যার পর নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের অবস্থান শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দুর্গম পর্যটন এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পর্যটকের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পর্যটন বোর্ডের হিসাবে নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।

পাহাড়ি নেপালে হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি
নেপালের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে ভারী বৃষ্টি হলে বিভিন্ন নদী ও পাহাড়ি ঝরনায় দ্রুত পানি বেড়ে গিয়ে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়। পর্যটন মৌসুমে দেশটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক অবস্থান করায় এমন দুর্যোগে উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে ওঠে।

বর্তমানে নিখোঁজ ৪২০ পর্যটকের সন্ধান পাওয়াই উদ্ধারকারী দলগুলোর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার ও যোগাযোগ কার্যক্রম আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু করেছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে।

আগামীকাল ৩০ আগস্ট ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী ওই বাণীতে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানাই।’

তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধ হচ্ছে— গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন। বিশেষ করে বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয়, নির্মম ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করার জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে আটক রাখার জন্য তৈরি করেছিল গোপন বন্দিশালা। পলাতক ফ্যাসিস্ট আমলের এসব গোপন বন্দিখানা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব উদ্বৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে ৭ শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। এটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ‘গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে। ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সরকার আশা করে, উত্থাপিত বিলগুলো যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে আর কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধের পথ বেছে নেবে না।

তিনি বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একটি সংখ্যা নয় কিংবা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। একটি পরিবারের সামনে থমকে যাওয়া ভবিষ্যৎ। গুম হয়ে যাওয়া মানুষের অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের দিন কাটে এক অনিশ্চিত বাস্তবতায়, যেখানে কোনো সমাপ্তি নেই, নেই শোক পালনের স্বাভাবিক সুযোগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। অপরদিকে ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের আজও খোঁজ মেলেনি।

তিনি বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগিয়ে রাখতে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহিতার জন্য দুনিয়াজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৬ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৯৯৬ জন

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ৯৯৬ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৯১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৩ জন, খুলনা বিভাগে ২৬৩ জন, রংপুর বিভাগে ২১ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩৪ জন এবং সিলেট বিভাগে তিনজন রয়েছেন।

চলতি বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৮৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চলতি বছরে এ যাবত মোট ৩১ হাজার ৩৯৭ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। 

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%