১২:৩২ পি.এম
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন ও মাদক কারবারের সংবাদ প্রকাশ করার জেরে দৈনিক ইনকিলাব ও এনপিবি নিউজের বাহুবল উপজেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান নোমান-এর ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এছাড়াও আরেক সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা সৈবাল এর উপরও হামলা চালানো হয়। হামলার নেতৃত্ব দেন বাহুবল উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রকিব এবং কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার ঘটনা ঘটেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে।
আরও পড়ুন: পাবনায় শ্রমিক লীগ ও বিএনপির দুই নেতাকে গুলি করে হত্যা
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরের দিকে বাহুবল ইউএনও অফিসের সিএ এর কার্যালয়ে এই ঘটনা সংঘটিত হয়।
হামলায় গুরুতর আহত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান এবং গোলাম মোস্তফা সৈবালকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বাহুবলের হরিতলা এলাকায় অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন, বালু ও মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য নিয়ে সাংবাদিক নোমান বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেন। ফলে ক্ষিপ্ত হন বালু মহাল ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুর রকিব। তিনি সাংবাদিক নোমানকে এলাকায় মাদক ও বালু মহাল নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে নিষেধ করেন এবং বলেন, 'যদি এসব লিখলে বাহুবলের বদনাম হবে।'
কিন্তু নোমান আহমেদ সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখলে রকিব আরও ক্ষুব্ধ হন।
আরও পড়ুন: ভালুকায় হবিরবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নোমান আহমেদ পেশাগত প্রয়োজনে ইউএনও অফিসে গেলে ওৎ পেতে থাকা আব্দুর রকিব সিএ-এর কার্যালয়ে ঢুকে আচমকা তার ওপর হামলা চালান।
হামলায় সাংবাদিক নোমান গুরুতর আহত হন। এ সময় আহত সাংবাদিক নোমানকে দেখতে গেলে সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা সৈবালের উপরও অতর্কित হামলা চালানো হয়। হামলায় নোমান ও সৈবালের শরীরে ও মাথায় গুরুতর জখম হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলার কর্মরত সাংবাদিক ও সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে গুরুতর আহত সাংবাদিক সৈবালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট উসমানী মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে গণধর্ষণের অভিযোগ নিতে ওসির অস্বীকৃতি! উল্টো ভিকটিমকে ৭ বছরের জেলের ভয়!
সরকারি দপ্তরে ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিকের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় বাহুবলসহ পুরো জেলা জুড়ে সাংবাদিক সমাজ ও স্থানীয় সুধীসমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। হামলার সাথে জড়িত বিএনপি নেতা ও বালু খেকো আব্দুর রকিব ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে বাহুবল প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান মাসুম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, 'পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সংবাদকর্মীর ওপর ইউএনও অফিসের ভেতর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।' আব্দুর রকিব শুধু সাংবাদিক নোমান ও সৈবালের ওপর হামলা করেননি, বরং মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা অবিলম্বে এই চিহ্নিত বালু ও মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় বাহুবলের সাংবাদিক সমাজ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।' এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: সিলেটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে ৪৩ হাজার শিক্ষার্থীর নিবন্ধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন