ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দুই বধূর স্বামী হৃদয়, ১২ বছর পর দেশে ফিরল আয়না


দুই বধূর স্বামী হৃদয়, ১২ বছর পর দেশে ফিরল আয়না

অভিনয়ে মান্না, শাবনূর, মৌসুমী।

পরিচালনা এফ আই মানিক।

দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, দীপ্ত টিভি।

আরও পড়ুন: ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমা ছাড়ার গুঞ্জনে বিরক্ত মধুমিতা

গল্পসূত্র : দুই ব্যবসায়ী বন্ধু সালামত আলী খান এবং জাহাঙ্গীর খান নিজেদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে তাদের কিশোর ছেলে হৃদয়ের সাথে কিশোরী আয়নার বিয়ে সম্পন্ন করে। পড়াশোনা করার জন্য আয়না বিদেশে চলে যায়। এর মধ্যে সালামত ও জাহাঙ্গীরের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভেঙে যায়। ১২ বছর পর আয়না দেশে ফিরে আসে। জাহাঙ্গীর আয়নাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। হৃদয়ের মা এই অপমান সহ্য করতে না পেরে হৃদয়ের সাথে স্বপ্নার বিয়ে সম্পন্ন করে। আয়না এবং স্বপ্না দুইজনেই হৃদয়ের কাছে স্বামীর অধিকার দাবি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১২ কেজিতে ১৩৯ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ এম


এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১২ কেজিতে ১৩৯ টাকা বাড়ানোর সুপারিশ

দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে অস্থিরতা প্রায় দুই মাস ধরে চলমান রয়েছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে সিলিন্ডারগুলো বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। গ্রাহকরা এই পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। এলপিজি বিক্রিতে কমিশন দুই-তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে আমদানিকারকদের কমিশন বর্তমান ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ থেকে ৪৭৮ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে। পরিবেশকরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া অটোগ্যাসের প্রতি লিটারে কমিশন আট টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শুনানিতে সরকারি এলপিজি কোম্পানি এলপি গ্যাস পিএলসি, বেসরকারি আবেদনকারী এবং এলপিজি অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব ও মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। অটোগ্যাস স্টেশনগুলোর পক্ষ থেকেও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), ভোক্তা এবং অন্যান্য পক্ষ নিজেদের মতামত ও পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন।

বিইআরসির গঠিত কারিগরি কমিটি বিভিন্ন কোম্পানির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। কম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বেসরকারি এলপিজির বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেটর চার্জ, ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ, রিটেইলার চার্জ বাড়ানোর পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৮৩৭ থেকে এক হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।

কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে বেসরকারি এলপিজির মজুদ ও বোতলজাতকরণ বাবদ ব্যয় কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাবে কারখানা পরিচালনা, শ্রমিকদের মজুরি, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন এবং মূলধনের ওপর নির্ধারিত রিটার্ন বিবেচনা করা হয়েছে। পরিবেশকের কমিশন প্রতি কেজিতে চার টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ছয় টাকা ৬৭ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে ১২ কেজির সিলিন্ডারে পরিবেশকের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৮০ টাকা হবে। খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন প্রতি কেজিতে তিন টাকা ৭৫ পয়সা থেকে পাঁচ টাকা ৮৩ পয়সা করার সুপারিশ করেছে কমিটি। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে শুধুমাত্র কমিশন বাবদ ব্যয় ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৭০ টাকা হবে। আমদানি পর্যায়ে অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও কিছুটা বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে সৌদি আরামকোর ঘোষিত আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং জাহাজভাড়া ও ট্রেড প্রিমিয়ামের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত ধরে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজা মন্তব্য করেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে জাহাজভাড়াসহ এলপিজি আমদানির প্রিমিয়াম ছিল প্রতি টনে ৮০ থেকে ১২০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ২৫০ থেকে ৪০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দাম নির্ধারণ করা উচিত, যাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে এক টাকাও বেশি নিয়ে কেউ বাজারে এলপিজি বিক্রি করতে না পারে।’

এদিকে, অনুমতি থাকা সত্ত্বেও আমদানি করতে না পারা কম্পানিগুলোর পক্ষ থেকেও পাইকারি দাম নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। শুনানিতে ওরিয়ন গ্যাস লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার অনুপ কুমার সেন বলেন, ‘নতুন পরিস্থিতিতে ১০টি কম্পানি এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। ফলে তাদের অবকাঠামো অব্যবহৃত পড়ে আছে এবং বাজারে সিলিন্ডারের সংকট তৈরি হচ্ছে। অন্য কম্পানির কাছ থেকে এলপিজি কিনে বিইআরসি নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে পাইকারি দাম নির্ধারণ করা হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি কমবে।’

গণশুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকতা বজায় রেখে এলপিজির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জানা গেছে, দেশে সক্রিয় ৩৫টি এলপিজি কোম্পানির মধ্যে ২৩টির আমদানির অবকাঠামোগত সক্ষমতা রয়েছে। তবে গত মাসে আমদানি করেছে মাত্র ১০টি কোম্পানি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থায় এই সীমাবদ্ধতা বাজারের অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

পরিবেশকদের পক্ষ থেকে মেসার্স উজ্জল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মনি মুক্তা পাল জানান, ‘আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশকদের খরচও বেড়েছে।’

এই পরিস্থিতিতে প্রতি সিলিন্ডারে পরিবেশকদের কমিশন ১৫০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তিনি। এ দাবি পূরণ না হলে বাজারে দাম কমানো কঠিন হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

অটোগ্যাসের কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল মাওলা বলেন, ‘২০২১ সালে অটোগ্যাসের প্রতি লিটারে কমিশন আট টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর পাঁচ বছরে পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়েছে। শহরের কিছু স্টেশন মুনাফা করতে পারলেও প্রায় ৮০ শতাংশ স্টেশন লোকসানে রয়েছে।’ এ কারণে প্রতি লিটারে কমিশন ১১ টাকা করার দাবি জানান তিনি।

এর আগে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের ধর্মঘটের হুমকির মুখে কমিশন পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় বিইআরসি। এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর ১৪ অক্টোবর কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। ওই দিনই গণশুনানির ঘোষণা দেয় বিইআরসি।

দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দামে বাজারে সিলিন্ডার বিক্রি না হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। চলতি মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও গ্রাহকদের কিনতে হচ্ছে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকায়।

শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে নতুন দাম দেওয়ার কথা বিইআরসির। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নভেম্বরের শুরুতেই নতুন দাম ঘোষণা দিতে পারে বিইআরসি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ এম


সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি রিজিয়নের বাঘাইহাট জোনের সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সেনাবাহিনী প্রধান পরিদর্শনকালে মোতায়েন করা সেনা সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

সেনাপ্রধান প্রতিকূল পরিবেশ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনা সদস্যদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশংসা করেন। তিনি সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন।

এ সময় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রাম এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার, সেনা সদর এবং সংশ্লিষ্ট এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের সেনা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ এম


প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের অর্থনীতিকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী যে উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেছেন, তার মধ্যে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

রিজভী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে গুছিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাজগুলোর মধ্যে এই সফর অন্যতম। তিনি সফরটিকে একটি সফল সফর হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের গুরুত্ব তুলে ধরেন রিজভী।

সফরকালে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া, তিনি জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো: সাইফুল ইসলাম খান

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩২ এম


দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম

দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বর্তমানে দেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষকেরই বিএড (ব্যাচেলর অব এডুকেশন), এমএড (মাস্টার অব এডুকেশন) এবং সিএডের (সার্টিফিকেট অব এডুকেশন) মতো শিক্ষকতার মৌলিক প্রশিক্ষণ নেই। সারা দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৪১ শতাংশ শিক্ষকেরই প্রশিক্ষণ নেই। এ ক্ষেত্রে মাদ্রাসাশিক্ষকদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বর্তমানে দেশে সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়া সব পর্যায়ের শিক্ষকদের মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬। তাঁদের মধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার ৬৩০ জন পুরুষ এবং ৯৯ হাজার ১৬ জন নারী। মোট শিক্ষকের ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশের প্রশিক্ষণ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ পুরুষ এবং ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ নারী শিক্ষক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অর্থাৎ নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৪১ শতাংশ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং ব্যানবেইসসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সারা দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ে ২০২৪ সালে শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৯। তাঁদের মধ্যে ৯২ হাজার ৪৯২ জন ছিলেন নারী। মোট শিক্ষকের ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ বা ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫১ জন প্রশিক্ষিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে নারী শিক্ষকদের ৬০ শতাংশ বা ৫৫ হাজার ৪৯২ জন প্রশিক্ষিত ছিলেন। তা ছাড়া, ২০২৫ সালে দেশে মাদ্রাসাশিক্ষকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫। তাঁদের মধ্যে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংখ্যা ১০ থেকে ১২ শতাংশ। আর ২০২৪ সালে মাদ্রাসাশিক্ষকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৫২২। তখন মোট শিক্ষকের মাত্র ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ প্রশিক্ষিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, দেশে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১। তাঁদের মধ্যে ২০ শতাংশ শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নেই। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সব মিলিয়ে মৌলিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক পাঠদান করছেন। আর বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের হিসাব করা হলে প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে।

মূলত উল্টো প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ দেশে আগে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, এরপর তাঁরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কিন্তু প্রশিক্ষণের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বাধ্যবাধকতা না থাকায় অনেকেই তা গ্রহণ করেন না। ফলে শিক্ষকতার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করেই অনেকে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা যথাযথভাবে পাঠদান করতে না পারায় শিক্ষার মান উন্নত হচ্ছে না। তা ছাড়া, এ দেশের বেশির ভাগ বিদ্যালয়ই বেসরকারি। এসব এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে এসব শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও ওই পরীক্ষা শিক্ষকতার প্রশিক্ষণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

সূত্র আরও জানায়, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিখনঘাটতি দূর করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জন শিক্ষককে বিভিন্ন মেয়াদে ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নবীন শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নেতৃত্ব, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সমন্বিত শিক্ষা, গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। বর্তমানে আরও ২ হাজার ২৬০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। দেশের ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যদিও এই প্রশিক্ষণ মৌলিক ফাউন্ডেশন কোর্স নয়।

এদিকে, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা এখনো তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদা পান। অথচ সরকারি অধিকাংশ চাকরিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের হলে সংশ্লিষ্ট পদ সাধারণত দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদাভুক্ত হয় এবং ১০ম বা ১১তম গ্রেডে বেতন দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের হলেও চাকরিটি তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদায় রয়েছে। প্রশিক্ষণবিহীন অবস্থায় তাঁরা ১৪তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করলে ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। দেশের সাড়ে ৩ লাখ সহকারী শিক্ষকের মধ্যে এ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা তাঁদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে আন্দোলন করছেন।

অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী জানান, পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই, এমনকি ভারতেও, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এ দেশেও ওই ব্যবস্থা চালু হলে প্রার্থীরা নিজ উদ্যোগেই প্রশিক্ষণ নেবেন। এখন এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে, ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে যেসব শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নেই, তাঁদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান যাতে শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%