শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৭ এম
লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে থানায় পাঠানো হলেও মামলা নেননি ওসি আদিল হোসেন, ধর্ষকদের পক্ষ নিয়ে বললেন দুলাভাই অর্ধেক ভাগ পায়-কান্না জড়িত কণ্ঠে ধর্ষিতার আক্ষেপ আদৌ বিচার পাবো কি?
বাকেরগঞ্জে বিয়েতে মেহেদীর রং শুকাতে না শুকাতেই ১৬-১৭ দিনের মাথায় বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক নববধূকে (১৭) গণধর্ষণের লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। বিচার চাইতে থানায় গিয়ে দ্বিতীয়বার দুর্ব্যবহারের শিকার হলেন ওই গৃহবধূ- এবার পুলিশের কাছে। থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা না নিয়ে উল্টো ভিকটিমকে ভয়-ভীতি দেখানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকার ওই গৃহবধূকে গত ১৯ অক্টোবর রাতে তারই সৎ ভাসুর মোঃ ইমরান প্যাদা (৩৮) ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুড় রাকিব প্যাদা (২৬) কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে গণধর্ষণ করে। ঘটনার পর তিনি গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের (সিনিয়র সহকারী জজ) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ভিকটিমকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বাকেরগঞ্জ থানায় ওসির কাছে পাঠান। ভিকটিম কাগজসহ ওসি আদিলের সঙ্গে দেখা করলে তিনি মামলা গ্রহণ না করে উল্টো তাকেই (ভিকটিমকে) জেলের ভয় দেখান বলে ভিকটিমের অভিযোগ।
ধর্ষণের শিকার নববধূ ভিকটিম জানান, তার সৎ ভাসুর ইমরান প্যাদা তাকে নতুন পোশাক কিনে দেয়ার কথা বলে বাজারে নিয়ে যায়। ওইদিন বাজার থেকে রাতে বাড়ীতে ফেরার পথে তার ভাসুর ও চাচা শ্বশুড় রাকিব প্যাদা তাকে গণধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় তিনি ২৩ অক্টোবর বরিশাল লিগাল এইড অফিসের নির্দেশে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে ওসি আদিল হোসেন তাদেরকে বলেন, "আপনার কোনো প্রমাণ নেই। জামাসহ গোসল করার কারণে প্রমাণ লোপাট হয়ে গেছে। ধর্ষণের ঘটনা প্রমাণ করতে না পারলে আপনারই (ভিকটিমের) সাত বছরের সাজা হবে।" এমনকি ধর্ষকদের একজন ইমরান প্যাদা তার দুলাভাই সেতো এমনিতেই শালীর অর্ধেক ভাগ বলেও ওসি তার সাথে মশকরা করেন বলেও জানান।
এদিকে এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছাড়াও খোদ ভিকটিমের স্বামী জীবন প্যাদা, শ্বশুড় সুলতান প্যাদা ও শ্বাশুড়ী ফাতেমা বেগমও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। ভিকটিম সম্পর্কে অভিযুক্ত ইমরান প্যাদার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও আপন শ্যালিকা হওয়ায় ঘটনাটি এলাকায় আরও বেশি হৃদয়বিদারক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেন, গত দুই এক দিন আগে ভিকটিম তার স্বামী ও শ্বশুর-শ্বশুড়ীকে নিয়ে থানায় এসেছিল। ধর্ষণের কোন আলামত দেখাতে পারিনি। তবে তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা বললে তারা কিছুক্ষণ পরে জানাবে বলে চলে যায়।
পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাসুদ হাসান নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, একজন অসহায় নারী যখন বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে থানায় যায়, তখন থানার ওসি যদি তাকে সুরক্ষা না দিয়ে ভয় দেখান, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা কোথায় থাকবে? একজন ধর্ষণের শিকার নারীকে থানায় ডেকে এভাবে ভয় দেখানো শুধু অমানবিকই নয়, চরম পৈশাচিকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
এই ঘটনায় বাকেরগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ওসি আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত, প্রত্যাহার এবং ভিকটিমের মামলা দ্রুত গ্রহণ করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ভিকটিম বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় ওসির মামলা না নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি মামলা না নিয়ে ধর্ষিতাকে উল্টো ভয় দেখিয়ে থাকেন তদন্ত করে ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও কেক কাটা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে হবিরবাড়ি ইউনিয়নের সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডসহ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।পরে সোনার বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজুল কবির মামুন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য ও হবিরবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মজিবুর রহমান,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির, জেলা যুবদলের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শাহা নূর আলম খান বাপ্পিসহ ইউনিয়ন যুবদল ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।আলোচনা সভা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর ছেলে সুলাইমান খান। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম দি ইনডিপেন্ডেন্টে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুলাইমান খান একটি জরুরি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘ক্রমাগত কারাবাস ও দুর্ব্যবহারের কারণে আমার বাবার জীবন বিপন্ন।’ তাঁর পরিবারের দাবি, আগস্ট মাস থেকে ইমরান খান চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার জানাচ্ছে, ইমরান আদালতের আদেশে সাজাপ্রাপ্ত একজন কয়েদি। সুলাইমান অভিযোগ করেছেন, আগস্ট মাস থেকে তাঁর বাবার কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাঁকে নির্যাতন করা হচ্ছে।
সুলাইমান খান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে তাঁর বাবার জীবন বিপন্ন হওয়ার জন্য দায়ী করেছেন। ৭৪ বছর বয়সী ইমরান খান দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে কারাবন্দি রয়েছেন। কারাগারে তাঁর প্রতি ‘দুর্ব্যবহার’ এবং ক্রমাবনতিশীল স্বাস্থ্য নিয়ে স্বজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইমরানের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা রয়েছে এবং অভিযোগ উঠেছে যে তাঁকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছেন।
সুলাইমান বলেন, ‘আগস্ট মাস থেকে আমার বাবাকে কেউ দেখেনি বা তাঁর কোনো খবর পায়নি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তাঁকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং মিসরীয় সরকার যেভাবে মুরসিকে হত্যা করেছিল, ঠিক সেভাবেই শাসকগোষ্ঠী তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (জেনারেল মুনির) আগস্ট মাসের সুপ্রিম কোর্টের একটি আদেশ ক্রমাগত উপেক্ষা করে চলেছেন। ওই আদেশে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে আমার বাবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত দেখা করার ও আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এটা স্পষ্ট যে তারা তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করছে।’ সূত্র : দি ইনডিপেন্ডেন্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছেন যে, ইলন মাস্ক একজন ‘রিয়েল জিনিয়াস’ (প্রকৃত প্রতিভাবান)। এই মন্তব্যটি গত বুধবার মস্কোয় অনুষ্ঠিত রাশিয়া-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলনের সময় প্রকাশিত হয়, যেখানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি নিয়ে দুজনের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি উঠে আসে।
সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প ‘রাসভেট’ সম্পর্কে আলোচনা করেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্যাটেলাইটের সাহায্যে মানুষের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়। পুতিন ইলন মাস্ক সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি একজন প্রতিভাবান, সত্যিকারের প্রতিভাবান। মাস্কসহ আমাদের আমেরিকান অংশীদারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।’
স্টারলিংক, যা মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সের একটি অংশ, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কোম্পানিটি কোনো সাড়া দেয়নি। সূত্র : বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই যুদ্ধ শুরু করার জন্য তেহরানই দায়ী। আগের একটি যুদ্ধবিরতিকে তিনি ‘সময়ের অপচয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের চিলিকোথে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বক্তব্য রাখেন। তিনি সেখানে বলেন, ইরানের কাছে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তবে আগের তুলনায় তা অনেক কমে গেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ড্রোন তৈরির কারখানাগুলো বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে সমস্যায় পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি।’ ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, তিনি ক্ষমতায় আসার অনেক আগে থেকেই এই সংঘাতের সমাধান হওয়া উচিত ছিল।
তবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। সে সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছিল। এর আগে, গত বছরও আলোচনার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল দেশ দুটি।
অন্যদিকে, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার কাছে মরো শহরে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরুর যুক্তির সমালোচনা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
ওবামা বলেন, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে তেহরানের ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। সূত্র : আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ