বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৫ পি.এম
সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের লাগাতার বরখাস্ত ও ছাঁটাইয়ের ফলে চীনের যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করার সক্ষমতা বা প্রস্তুতি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে এতে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সামরিক বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন যখন তাদের সামরিক বাহিনীকে আধুনিকীকরণ করার প্রচেষ্টা জোরদার করছে এবং তাইওয়ানের পাশাপাশি দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে, তখন আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই ছাঁটাই অভিযানের দিকে কড়া নজর রাখছেন।
চলতি সপ্তাহে ক্ষমতাসীন পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে সামরিক বাহিনীর দুই শীর্ষ নেতা ঝাং ইউশিয়া এবং লিউ ঝেনলিকে কমিউনিস্ট পার্টি ও সামরিক বাহিনী থেকে বহিষ্কারের খবর এসেছে। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানের সর্বশেষ পদক্ষেপ।
ঝাং ইউশিয়া ছিলেন শি চিনপিংয়ের বাবার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে শির সবচেয়ে কাছের সামরিক মিত্র হিসেবে দেখা হতো। তিনি চীনের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কমান্ড বডি ‘সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন’ (সিএমসি)-এ শির ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিশ্লেষকরা জানান, দ্বিতীয় সারির ডজনখানেক কর্মকর্তা সিএমসি, থিয়েটার কমান্ড এবং বিভিন্ন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থলাভিষিক্ত হলেও সাত সদস্যের নীতি-নির্ধারণী এই পরিচালনা কমিটির পাঁচটি পদ এখনো ফাঁকা রয়েছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক চীনা নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক জেমস চার মন্তব্য করেছেন, ঝাং এবং সামরিক বাহিনীর সাবেক শীর্ষ রাজনৈতিক কর্মকর্তা মিয়াও হুয়ার অনুসারীদের পদচ্যুত করার মাধ্যমে শি চিনপিংয়ের হাত আরও শক্তিশালী হয়েছে।
জেমস বলেন, ‘আমরা আশা করতে পারি যে শি চিনপিং চীনের সামরিক বিষয়ের ওপর নিজের সিদ্ধান্তমূলক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বজায় রাখবেন এবং এর পরিবর্ধিত রূপ হিসেবে পার্টি ও রাষ্ট্রের ওপরও তার আধিপত্য বজায় থাকবে। কারণ, যে পিপলস লিবারেশন আর্মিকে (পিএলএ) নিয়ন্ত্রণ করে, সে-ই পার্টিকে নিয়ন্ত্রণ করে।’
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে শি চিনপিং চীনের আধুনিক ইতিহাসে দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাহীনতা দূর করতে সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালনা করেছেন। এর ফলেই মূলত তাকে প্রতিষ্ঠাতা নেতা মাও সেতুংয়ের পর দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
আমলাতন্ত্রের বিশাল বলয়ের মধ্যে থাকা লাখো মানুষের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে পার্টি, সরকার ও সামরিক বাহিনীর বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে তদন্তের মুখোমুখি এবং বরখাস্ত করা হয়েছে।
চীনের থিঙ্কট্যাংক ‘গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনস্টিটিউশন’-এর প্রেসিডেন্ট তিয়ান শিচেন বলেছেন, ‘দুর্নীতিগ্রস্ত উপাদান নির্মূল করলে সশস্ত্র বাহিনীর রাজনৈতিক ভিত্তি, একতা এবং সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার বদলে আরো শক্তিশালীই হয়।’
ঝাং এবং লিউর বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে এসেছিল জানুয়ারিতে, যদিও তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কী শাস্তি দেওয়া হচ্ছে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ব্যাপক রদবদলে নানা প্রশ্ন
সামরিক বাহিনীর উচ্চপদে ব্যাপক রদবদল সত্ত্বেও চীন তাদের বর্তমান প্রতিরক্ষা অবস্থান বজায় রেখেছে, যার মধ্যে রয়েছে অস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখা এবং ক্রমান্বয়ে জটিল সামরিক মহড়া চালিয়ে যাওয়া।
তবে এই ছাঁটাই অভিযানের ফলে চীনের যুদ্ধ করার সক্ষমতা, বিশেষ করে স্বশাসিত গণতান্ত্রিক দ্বীপ তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের সক্ষমতার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। উল্লেখ্য, তাইওয়ানকে চীন নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে, যদিও তাইপে চীনের এই সার্বভৌমত্বের দাবি তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
১৯৭৯ সালে ভিয়েতনামের সাথে সংক্ষিপ্ত কিন্তু রক্তক্ষয়ী সীমান্ত যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন ঝাং। এটিই ছিল বাস্তব যুদ্ধে চীনের সর্বশেষ অংশ নেওয়ার ঘটনা। সেই হিসেবে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা থাকা সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন এই ঝাং।
লন্ডনের টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউটের চীন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা রুবি ওসমান বলেছেন, ‘পিএলএ তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমকে এই বিশৃঙ্খলা বা উত্তাল পরিস্থিতি থেকে মুক্ত রাখলেও, এত বড় মাপের ওলটপালট জটিল কোনো সামরিক অভিযানে, বিশেষ করে তাইওয়ানে পূর্ণমাত্রার কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সমস্যা তৈরি করবে না, তা ভাবা কঠিন।’
ওসমান আরো বলেন, ‘তবে শি চিনপিং স্পষ্টতই স্বল্পমেয়াদী এই বিঘ্নকে দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা ও যুদ্ধপ্রস্তুতির জন্য একটি দেওয়ার মতো মূল্য হিসেবেই দেখছেন।’
শুরুতে এই শুদ্ধি অভিযান দুর্নীতিকে লক্ষ্য করে শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে, পিএলএর অভিজাত ‘রকেট ফোর্স’-এর কেনাকাটার বিষয়গুলো, যা চীনের ঐতিহ্যবাহী ও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে।
তবে ধীরে ধীরে এই অভিযান একটি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে, যাকে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, পিএলএ প্রধানত রাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পার্টির সেবা করার জন্যই বিদ্যমান, এই বার্তাটি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা তিয়ান বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সেই বক্তব্য খারিজ করে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল শি চিনপিংয়ের ‘ব্যক্তিগত ক্ষমতা’ কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। তিয়ান বলেন, পিএলএ-র মূল নীতিই হলো ‘সেনাবাহিনীর ওপর পার্টির চূড়ান্ত ও পরম নেতৃত্ব।’
সিঙ্গাপুরের এস. রাজারত্নম স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জেমস চার বলেছেন, তিনি আশা করছেন না যে ২০২৭ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কমিউনিস্ট পার্টির পূর্ণাঙ্গ কংগ্রেসের আগে কমিশনের শীর্ষ প্যানেলের খালি পদগুলো পূরণ করা হবে।
ঐ অনুষ্ঠানে শি জিনপিং তার চতুর্থ পাঁচ বছরের মেয়াদ নিশ্চিত করবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সম্ভাবনা থেকেই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার তাগিদ আরও তীব্র হয়েছে।
পদ পূরণের এই বিলম্ব চীন এবং বিদেশী সামরিক বাহিনীর মধ্যকার যোগাযোগ ও সংলাপে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বজায় থাকার এই সময়ে কূটনীতিকদের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডং জুন তার পদে বহাল থাকলেও, তিনি ক্ষমতাসীন পলিটব্যুরো বা সিএমসির সদস্য নন। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যান্য সমকক্ষদের তুলনায় তাকে কম শক্তিশালী মনে করা হয়।
২০২৪ সালে বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভানের সঙ্গে ঝাংয়ের বৈঠককে সে সময় যুক্তরাষ্ট্র-চীন সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে ঝাংয়ের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক ‘জার্মান মার্শাল ফান্ড অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’-এর ইন্দো-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের প্রধান বনি গ্লেসার বলেছেন, মধ্যবর্তী এই সময়ে শি চিনপিং হয়তো কিছু সিদ্ধান্ত একাই নিচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের দ্বীপ রাষ্ট্র নিউজিল্যান্ডের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা চীনকে দেশের সবচেয়ে সক্রিয় ও সক্ষম রাষ্ট্রীয় সাইবার হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিদেশি রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সাইবার তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে, যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের (এনসিএসসি) বার্ষিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্রীয় পক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত করা হয়েছে, যা নিউজিল্যান্ডের স্পর্শকাতর তথ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনে চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সাইবার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সন্দেহভাজন তৎপরতার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। বলা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডে সাইবার কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী সবচেয়ে সক্রিয় রাষ্ট্রীয় পক্ষ হলো চীন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের এ মূল্যায়ন পশ্চিমা দেশগুলোর আরেকটি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকেও চীনের সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়ে সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে। তবে বেইজিং এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
এদিন প্রকাশিত প্রতিবেদনটির বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র মন্তব্য করেছেন, নিউজিল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ‘মিথ্যা ছড়ানো ও বিরোধ উসকে দেওয়া’ বন্ধ করতে হবে। তিনি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থা বাড়ানোর আহ্বান জানান। চীন সবসময় হ্যাকিং হামলার বিরোধিতা করে এবং আইন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
এনসিএসসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত এক বছরে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ ৩৬৯টি সাইবার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৮৬টির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট পক্ষের সম্ভাব্য যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় সরকারি সংস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই সাইবার ক্ষেত্রে বিস্তৃত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে এনসিএসসি। তারা জানিয়েছে, এ অঞ্চলের বিভিন্ন সরকার ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির তৎপরতা সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এনসিএসসি জানিয়েছে, এ ধরনের সাইবার তৎপরতা দেশটির নাগরিক, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করতে পারে।
সংস্থাটির মতে, রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সাইবার হামলাকারীরা সাধারণত অবকাঠামো বা নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, জরুরি জনসেবা প্রদানকারী সংস্থা কিংবা কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে এমন তথ্য সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
এনসিএসসি সতর্ক করেছে যে, সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি শনাক্ত করা কঠিন। হামলাকারীরা তথ্য সংগ্রহ বা বিঘ্ন ঘটানোর আগে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর কোনো প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে প্রবেশাধিকার তৈরি ও তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি নিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এ ধরনের অনুপ্রবেশের ফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত ও করপোরেট তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন এবং আশা নিয়ে গঠিত ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজ।
কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার পর আবাসন সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিড়ম্বনায় পড়েন।
অসচ্ছল বা নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এই সমস্যা সবচেয়ে গুরুতর। শহরে থাকা-খাওয়ার উচ্চ ব্যয় বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতা অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নেই। ফলে হলে একটি সিট তাদের জন্য শুধুমাত্র একটি সুবিধা নয়, বরং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। কিন্তু কলেজের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী সেই সিটের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিঠু দাসের গল্প উল্লেখযোগ্য। তিনি দুই মাস আগে বাবাকে হারিয়েছেন। এই ব্যয়বহুল শহরে নিজের খরচ বহন করার জন্য বাধ্য হয়ে ফুডপান্ডায় ডেলিভারির কাজ শুরু করেছেন। যদি হলে একটি সিট পেতেন, তাহলে তার অনেক কষ্ট লাঘব হতো। মিঠু দাসের মতো কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আবাসন সংকটের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি আয়-রোজগারের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
কলেজের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক এবং অনার্স-মাস্টার্স মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজারের বেশি। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৪০০ এবং অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। অন্যদিকে, কলেজের আটটি হলে মোট সিটের সংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৩৬৪। এর মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪৪২টি এবং অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯২২টি সিট রয়েছে।
কলেজের আটটি হলের মধ্যে পাঁচ তলাবিশিষ্ট বিজয় ২৪ হলটি সম্পূর্ণরূপে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ, যেখানে মোট সিট সংখ্যা ১৬৬টি। অন্য সাতটি হলের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ হলে ৩২৮টি করে ৬৫৬টি সিট, দক্ষিণায়ন হলে ১৯২টি, আন্তর্জাতিকে ১৩৮টি, পশ্চিম হলে ৯৬টি এবং ফরহাদ হলে ১৬৬টি সিট রয়েছে। কলেজের ইলিয়াস হলটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় সেখানে সিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।
আবাসন সংকটের কারণে অনার্সের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষ থেকেই হলের আসন পান না। ফলে ঢাকা শহরে উচ্চশিক্ষার জন্য আসা নবীন শিক্ষার্থীদের আবাসন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন। তাদের পরিবারের সীমিত আয়ের কারণে শহরের মেস বা হোস্টেলের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল রশিদ বলেন, "কলেজে এসে জানতে পারি প্রথম বর্ষে নাকি হল সংকটের কারণে সিট দেওয়া হয় না। হলের সিট সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, এখন ভবিষ্যতেও সিট পাব কিনা তাও বুঝতে পারছি না।"
অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, "আমাদের হলে সিট অপর্যাপ্ত। ফার্স্ট ইয়ারে সিট দিলে সে তো পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে আর সিট ছাড়বে না, তখন সিনিয়ররা বঞ্চিত হবে। তাদের প্রয়োজনটা অনেক বেশি। আগে শুধু থার্ড ইয়ার ফোর্থ ইয়ারে পেত। এবারই প্রথম ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সেকেন্ড ইয়ার থেকে সিট দিয়েছি।"
দক্ষিণায়ন হলের প্রভোস্ট ও দর্শন বিভাগের প্রভাষক নাজমুল হাসান নয়ন বলেন, "এটি খুবই দুঃখজনক। মাত্র ৮% শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছে। তবে এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একটি ১০ তলা আবাসিক হল নির্মাণের কথাও রয়েছে। আমরা আশা করি, অতিদ্রুত নতুন হল নির্মাণের কাজ শুরু হবে।"
এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজের আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস হলটি ১৯৯৩ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ গত বছরের জুলাই মাসে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মু. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে হলটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ছাত্রদের জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র স্থানান্তর করতে বলা হয়।
অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, "হল খালি করার জন্য আমরা নোটিশ দিয়েছি, কিন্তু এখনও হলের নিচ তলায় কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে। হল খালি হয়ে গেলেই ভাঙার কাজ শুরু হবে। আমরা অলরেডি ডিসিকে হল ভাঙার জন্য চিঠি দিয়েছি।"
আবাসন সংকট নিরসনে নতুন একটি হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, "আমরা মনে করেছিলাম এটা হবে। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখি এটা একেবারেই হাওয়ার ওপরে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খুলনার পাইকগাছায় শিবসা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ প্রায় ৭৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এই সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। লক্ষ্য করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেতুটির কাজ সম্পন্ন হতে পারে।
তবে সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে চললেও, ভারী ট্রাকের চাপের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মধ্যে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে কিছু আপত্তি রয়েছে।
লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, "সেতুর নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।" তিনি উল্লেখ করেন, বাইনতলা বাজারের সংযোগ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গিলাবাড়ীর পরিবর্তে গড়ইখালীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হওয়ায় লস্কর ইউনিয়নের অনেক মানুষ সেতুটির প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
প্রকাশ সরকার সংশয় প্রকাশ করে বলেন, "আগামী ছয় মাসের মধ্যে মূল ব্রিজের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।" তিনি জানান, সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ এখনও করা হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্রিজ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে কত বছর লাগবে, সেটাই ভাবছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা লাভলু সানা বলেন, "প্রথমে ব্রিজের সংযোগ সড়কটি খড়িয়া খালপাড় হয়ে বগুড়ারচক দিয়ে গিলাবাড়ি পর্যন্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল।" কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে, সংযোগ সড়ক হচ্ছে না। এতে কয়রা উপজেলায় মানুষ এ ব্রিজের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।
এছাড়া, সেতু নির্মাণের ফলে শিবসা নদীতে পলি জমে নাব্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের ধারণা, এতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এ আশঙ্কার পক্ষে কোনো কারিগরি সমীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সেতুটির অবস্থান পাইকগাছা জিসি-লস্কর বাজার, বাইনতলা, বগুড়ারচক, শুড়িখালী, ভান্ডারপোল ও গিলাবাড়ী জিসি সড়কের ২ হাজার ৩০০ মিটার চেইনেজে। লস্কর ও গড়ইখালী ইউনিয়নের লস্কর গ্রামের শিবসা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৪৮ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৮ মিটার।
ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সেতুটির ২৪০টি পাইলের সবগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুই পাড়ে প্রায় ২ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জমি পরিদর্শনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে প্রকল্পের ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মূল চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হচ্ছে না। ফলে চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও ব্যবসায়ী তেজেন মণ্ডল বলেন, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের খুলনায় যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। শিবসা নদী পারাপারের বর্তমান ব্যবস্থা এবং শিববাটী সেতু হয়ে যাতায়াতের কারণে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে। নতুন সেতু চালু হলে এ দুর্ভোগ কমবে।
ব্যবসায়ী আলীমুজ্জমান বলেন, সেতুটি দ্রুত চালু হলে ঘেরের মাছসহ কৃষি ও ব্যবসাপণ্য সহজে খুলনায় নেওয়া যাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে।
পল্লী সড়ক (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ সেতু চালু হলে পাইকগাছার সঙ্গে খুলনা শহরের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও এর সুফল পাবেন।
প্রকল্পের ম্যানেজার সাহেব আলী জানান, সেতুর প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী শাফীন সোহেব ও উপসহকারী প্রকৌশলী সজল বিশ্বাস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। লস্কর প্রান্তে তিন রাস্তার মোড়ে একটি গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল সহজ হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সেতুটি চালু হলে একাধিক উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। নির্মাণকাজ শেষ করে দ্রুত সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, শুধু সেতু নির্মাণ শেষ করলেই হবে না, নিরাপদ ও কার্যকর সংযোগ সড়ক নিশ্চিত হলেই এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার দেশজুড়ে সব ধরনের তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করেছে। এই আকস্মিক ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন যে, সরকার বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
তিনি এও আশ্বাস দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট সমাধান হলে সরকার আবারও তেলের দাম কমিয়ে দেবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "বাংলাদেশ জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর দেশ। দেশে জ্বালানি তেল উৎপাদন হয় না। যে অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ জ্বালানি তেল আমদানি করে, সেখানে বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এর প্রভাব সারা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বীমা প্রিমিয়ামসহ আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করে রাখা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।"
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, "সরকার প্রথমে প্রায় ছয় মাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কোনো বিকল্প না থাকায় শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে সরকার আশাবাদী। সংকট কেটে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে খুব দ্রুত দেশের বাজারেও দাম সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে।"
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিলটন এবং মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ