বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৪ এম
সারা বিশ্বে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশও এই প্রবণতার বাইরে নয়। রাজধানী ঢাকা, বিশ্বের বড় বড় শহরের সঙ্গে, এখনও অস্বাস্থ্যকর বায়ুমানের পর্যায়ে রয়েছে। এই মেগাসিটি বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সূচকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ১৫৮, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়।
আন্তর্জাতিক সূচকের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর ছিল ইন্দোনেশিয়ার মেডান শহর, যার একিউআই স্কোর ছিল ১৮৮। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর শহরের স্কোর ১৮৫, তৃতীয় স্থানে ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরের স্কোর ১৭৫ এবং ভারতের রাজধানী দিল্লি চতুর্থ অবস্থানে ১৭১ স্কোর নিয়ে রয়েছে।
একিউআইয়ের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ধরনের বায়ু সবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তবে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি বেশি।
ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং ধুলাবালিসহ বিভিন্ন কারণকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব দূষণকারী উপাদান বায়ুর মানের অবনতি ঘটিয়ে নগরবাসীর স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা এই বায়ুদূষণের কারণে বৃদ্ধি পেতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নির্গমণ কমানো এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবেশবিষয়ক নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার বায়ুর মান উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেথি ভেজানো পানি সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি প্রচলিত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ওজন কমানো এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বিষয়। মেথির মধ্যে দ্রবণীয় আঁশ এবং অন্যান্য উপাদান থাকার কারণে এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার একটি অংশ হতে পারে। তবে, মেথি ভেজানো পানিকে কোনো রোগের ‘প্রাকৃতিক ওষুধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা সঠিক নয়।
রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব থাকতে পারে
মেথি নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। কিছু সিস্টেমেটিক রিভিউ এবং মেটা আ্যানালাইসিসে দেখা গেছে যে, মেথি গ্রহণের ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ফাস্টিং ব্লাড গ্লুকোজ এবং HbA1c কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, গবেষণাগুলোর মান, ব্যবহৃত মাত্রা এবং প্রস্তুতপ্রণালীতে বিভিন্নতা বিদ্যমান।
এনসিসিআইএইচ উল্লেখ করেছে যে, মেথি রক্তে শর্করা কমাতে সক্ষম—এমন কিছু গবেষণা পাওয়া গেলেও, ডায়াবেটিসের জন্য এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট উচ্চমানের প্রমাণ এখনও নেই।
পেটের জন্য কেমন?
মেথির আঁশ হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে। তবে, অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ডায়রিয়া, বমিভাব বা অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিসের রোগীদের বিশেষ সতর্কতা
মেথি রক্তে শর্করা কমাতে পারে। তাই, ডায়াবেটিসের ওষুধের পাশাপাশি নিয়মিত বেশি পরিমাণে মেথি গ্রহণ করলে কিছু ব্যক্তির ব্লাড সুগার অতিরিক্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বন্ধ করে মেথির পানি পান করা একেবারেই উচিত নয়।
গর্ভাবস্থায়?
খাবারে ব্যবহৃত স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে বেশি মেথি গর্ভাবস্থায় নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই, গর্ভবতী নারীদের মেথির পানি বা মেথির সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
মেথি ভেজানো পানি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, তবে এটি ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রক্তে শর্করা বা সুগার বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র মিষ্টি খাবার খাওয়া যথেষ্ট নয়। আরও অনেক কারণ রয়েছে যার ফলে সুগার বাড়তে পারে। আমাদের দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসও সুগার বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন এই ভুলগুলি করে থাকেন।
নিচে উল্লেখিত ৭টি ভুল সম্পর্কে জানার মাধ্যমে সকলের সতর্ক থাকা জরুরি।
১. খালি পেটে দুধ চা বা কফি
সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানায় বসেই চিনি মেশানো কড়া এক কাপ চা বা কফি পান করা অনেকের জন্য একটি অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে দুইটি বিস্কুটও থাকে। দীর্ঘ সময় উপবাসের পর হঠাৎ করে চিনি বা ক্যাফেইন শরীরে প্রবেশ করলে তা দ্রুত রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। এর ফলে রক্তে শর্করা আচমকা বেড়ে যেতে পারে। তাই দিনের শুরুটা প্রোটিন ও ফাইবার দিয়ে করা উচিত। কফি বা চা চিনি দিয়ে পান করতে চাইলে, নাস্তা করার পরই তা পান করা উচিত।
২. ঘুম ভেঙেই আলস্য
বিছানা থেকে উঠে মোবাইল ব্যবহার করা, এক স্থানে বসে থাকা, এসবও সুগার বাড়ানোর আরেকটি কারণ। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকে, যা রক্তে শর্করা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। সকালে হালকা হাঁটাচলা না করলে পেশি সচল হয় না, ফলে রক্তে জমা অতিরিক্ত গ্লুকোজ ব্যবহার না হয়ে রক্তেই রয়ে যায়।
৩. সকালে ঘুম থেকে উঠে ধূমপান
তামাকের নিকোটিন শরীরের ইনসুলিন হরমোন ব্যবহারের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। খালি পেটে ধূমপান করলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
৪. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো পানিশূন্যতা। যখন শরীর পর্যাপ্ত পানি পায় না, তখন রক্তে শর্করার ঘনত্ব বাড়তে থাকে। নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে সব সময় হাতের কাছে একটি পানির বোতল রাখার চেষ্টা করা উচিত। এছাড়া রাতে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পর সকালে উঠে পানি না খেয়ে চা বা কফি পান করা বা অন্য খাবার খাওয়ার অভ্যাসের কারণেও সুগার বাড়তে পারে।
৫. সময়মতো খাবার না খাওয়া
কাজের চাপের কারণে অনেকেই খাবার খেতে ভুলে যান বা অসময়ে খান। অনেকের ধারণা, এক বেলা না খেলে কিছু আসে যায়। যদি কেউ সকাল ৮টায় ঘুম থেকে ওঠে এবং বেলা ১২টায় জলখাবার খায়, তবে সুগার বাড়বে। রাতে দীর্ঘ সময় পেট খালি থাকার পর সকালে দেরিতে খেলে, লিভার তার জমানো গ্লাইকোজেন ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি করে রক্তে পাঠাতে থাকে। ফলে দীর্ঘ সময় না খেলে রক্তের শর্করা দ্রুত বাড়তে থাকে। তাই নিয়মিত বিরতিতে আঁশযুক্ত এবং আমিষ ও শর্করাজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত।
৬. পর্যাপ্ত না ঘুমানো
যদি পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তবে শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার আশঙ্কা থাকে। চেষ্টা করা উচিত প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার। এছাড়া ঘুমানোর আগে মুঠোফোন বা ডিজিটাল পর্দা থেকে দূরে থাকা উচিত।
৭. ওষুধে অনিয়ম
কিছু কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। এজন্য চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। ওষুধের রুটিনে পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালীতে ইরান হামলার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। প্রণালীর নিকটে পৃথক দুটি ঘটনায় দুটি কনটেইনার ও পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের তেলের দাম কমানোর প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে তেহরান।
সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জিএফএস প্রাইড নামের কনটেইনার জাহাজটি হামলার শিকার হয়ে চলাচলের সময় ডুবে যায়। এতে আগুন লেগে যায় এবং নৌযানটি ডুবে যায়। জাহাজটির ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। অপরদিকে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী একটি জাহাজও ডুবে গেছে।
সম্প্রতি ইরান হরমুজ প্রণালীতে হামলার সংখ্যা বাড়িয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে দেশটি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে।
এদিকে, স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংককে শত্রুপক্ষের সামরিক কার্যক্রম, গুপ্তচরবৃত্তি ও তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে।
ইরান ইস্যুতে বুধবার ইসরাইলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেন ইয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, আগাম হামলা বা নির্বাচনের আগে সামরিক সংঘাত তাদের জন্য সুবিধাজনক নয়। তবে, ইরানি হামলার ক্ষেত্রে ইসরাইল যে কঠোর জবাব দেবে, তা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী নভেম্বরের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে মেগা প্রকল্পটির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
রূপপুরকে একটি আধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে কমিটিকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এবং বিশেষজ্ঞদের কঠোর তত্ত্বাবধানে প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বৈঠকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, প্রকল্পটির কাজ সঠিক পথে এগোচ্ছে।
এছাড়া বৈঠকে জানানো হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং দেশের প্রথম গবেষণা জাহাজ (রিসার্চ ভেসেল) নির্মাণের উদ্যোগও চলমান রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সংসদ সদস্য (এমপি) এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ, এবং মো. আব্দুল গফুর প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ