ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বৈষম্যের বিরুদ্ধে ভোটকেই অস্ত্র বানালেন ইসরায়েলের ফিলিস্তিনিরা


বৈষম্যের বিরুদ্ধে ভোটকেই অস্ত্র বানালেন ইসরায়েলের ফিলিস্তিনিরা

কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের অনেক ফিলিস্তিনি নাগরিক ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে ছিলেন। তাঁরা এমন একটি ব্যবস্থাকে বৈধতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন, যা তাঁদের জনগণকে নিপীড়ন করেছে, তাঁদের উদ্বেগগুলোকে একপাশে সরিয়ে রেখেছে এবং তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। বৈষম্য এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে ভোটকেই অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়ে তাঁরা দলে দলে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন।

ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সমঅধিকার নিয়ে কাজ করা নাগরিক সংগঠন ‘মোসাওয়া সেন্টার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের আরবরা রেকর্ড সংখ্যক; প্রায় ৮০ ভাগ; ভোট দিয়েছেন। যেখানে গত নির্বাচনে এই হার ছিল মাত্র ৫৩ ভাগ। ভোটারদের এই জোয়ার ১২০ আসনের সংসদে ইসরায়েলের আরব দলগুলোকে ১৯টি আসন এনে দিয়েছে, যা একটি অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী করেছে।

এই নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে বেশ কিছু আন্তঃসম্পর্কিত কারণ বিদ্যমান ছিল। প্রথমত, পুলিশি অবহেলার কারণে আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা সহিংস অপরাধ। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার এবং ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের মতো কট্টরপন্থী মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত তাঁর ডানপন্থী জোটের অবসান ঘটানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা। বিশেষ করে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন-গভিরের প্রতি আরবদের ক্ষোভের তীব্রতা নিয়ে মঙ্গলবার রাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ ছিল না। প্রধান আরব রাজনৈতিক জোট 'জয়েন্ট লিস্ট'-এর নির্বাচনী সদর দপ্তরে যখন দলটির দুর্দান্ত ফলাফলের চিত্র স্পষ্ট হচ্ছিল, তখন সেখানে সমস্বরে স্লোগান উঠছিল—‘বেন-গভির, দূর হটো’।

আরও পড়ুন: ইউরোপে ৮৭ কোটি ডলারের বেশি অস্ত্র রপ্তানি করেছে ভারত

নেতানিয়াহুর জোট ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলের তিন বছরব্যাপী বিধ্বংসী যুদ্ধ পরিচালনা করেছে, যাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সাথে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বছরের পর বছর ধরে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংস অভিযানও তদারকি করেছে এই সরকার।

জয়েন্ট লিস্ট-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা ড. আহমদ তিবি বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায় এই অপরাধী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়েছিল; যাতে নেতানিয়াহু, স্মোট্রিচ এবং বেন-গভিরের নীতির কারণে তৈরি হওয়া এই মারাত্মক বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটানো যায়।’ তিবি গত প্রায় তিন দশক ধরে আরব সম্প্রদায়কে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ভোটারদের এই উচ্চ উপস্থিতি ইতিমধ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে এবং নেতানিয়াহুকে আরেকটি ডানপন্থী সরকার গঠন করা থেকে আটকে দিয়েছে।

ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় বহিষ্কৃত হননি বা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হননি এমন ফিলিস্তিনিদের উত্তরসূরি এরা। তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তাঁরা সামরিক শাসনের অধীনে বসবাস করেছিলেন। তবে তাঁদের অনেকের ধারণা যে ইসরায়েলি সমাজে তাঁদের প্রতি এই বৈষম্য আজও বিদ্যমান। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৯৪৮ সালের আগে জন্মগ্রহণ করা ফিলিস্তিনিরাও রয়েছেন, যেমন মোহাম্মদ আবদেলহাইয়ের ৮০ বছর বয়সী খালা। গত মঙ্গলবার, ভাগ্নের অনুরোধে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের তিরা শহরে জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেন তিনি। আবদেলহাই বলেন, ‘আমি তাঁকে বলেছিলাম আমাদের ভোট দিতেই হবে। গত সরকার আমাদের সাথে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে, তাই এবার আমাদের প্রতিটি ভোটের প্রয়োজন ছিল।’ তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কোনটি জানতে চাইলে তিনি বলেন—ইসরায়েলে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে বিদ্যমান বর্ণবাদ এবং সমঅধিকারের অভাব। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি একটি পরিবর্তন আনতে পারি, তবে কেন তা করব না? কেন আমরা একই জায়গায় আটকে থাকব?’

আরব ভোটারদের এই শক্তিশালী উপস্থিতির অর্থ হলো—নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট কিংবা বিরোধী জোট, কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে না। বর্তমানে তিবির 'জয়েন্ট লিস্ট' এবং অপর একটি আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ দল 'রাআম' যৌথভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মনে হচ্ছে। তিবি জানান যে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনে বিরোধী দলকে সাহায্য করতে জয়েন্ট লিস্ট প্রস্তুত রয়েছে। তবে জয়েন্ট লিস্ট সরকারে যোগ দেবে না এবং এর বিনিময়ে কোনো মন্ত্রিত্বও দাবি করবে না। তাদের একমাত্র শর্ত হলো আরব সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বেদুইনদের বাড়িঘর উচ্ছেদ বন্ধ করা, যা নেতানিয়াহু সরকারের অধীনে বহুগুণ বেড়েছে। তিবি বলেন, ‘তারা যদি আমাদের সাহায্য চায়, তবে সাহায্য করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা বিরোধী দলের প্রার্থীকে সমর্থন করতে চাই।’

আরও পড়ুন: মার্কিন নির্বাচনে আগাম ভোটের রেকর্ড, ভোটদানে বৃদ্ধি বিভিন্ন সম্প্রদায়ে

তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি বাস্তবায়ন করতে হলে আইজেনকোট এবং তাঁর জোটকে সাহসী হতে হবে। কারণ ইসরায়েলের আরব দলগুলোর সহায়তায় সরকার গঠনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা জারি রেখেছেন। এর কারণ হলো, আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের ধারণাটি ইসরায়েলে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়, যার বিরুদ্ধে অধিকাংশ ইহুদি ভোটারের অবস্থান রয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকটি বিরোধী দলও এর আগে এ ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিল।

আইজেনকোট সমর্থনের জন্য আরব দলগুলোর ওপর কতটা নির্ভর করতে রাজি হবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একমাত্র ইয়ার গোলানের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী ‘ডেমোক্র্যাটস পার্টি’ এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে। গোলান গত বুধবার বলেন, ‘ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি পরিবর্তনপন্থী সরকার গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। এখন আমাদের সাহসের প্রয়োজন। আমাদের নেতৃত্বের প্রয়োজন। আমাদের ভয় পাওয়া বন্ধ করে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করতে হবে।’

তবে তিবির মতে, কিছু রাজনৈতিক নেতাকে কেবল ভয়ই আটকে রাখছে না, এর পেছনে আরও গভীর কারণ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি হলো মোট জনসংখ্যার ২০ ভাগ আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে থাকা এক চরম বর্ণবাদ। আমরা সংসদের একটি বৈধ অংশ। আমরা এই দেশের নাগরিকদেরও একটি বৈধ অংশ।’

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্রমাগতভাবে আরব ভোটারদের বৈধতা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন। আরব সম্প্রদায়ের আইনপ্রণেতারা সরকারে বসতে পারেন—এমন শঙ্কা তৈরি করে তিনি বারবার তাঁর নিজের ভোটব্যাংককে ভোটকেন্দ্রে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি নির্বাচনে আরব দলগুলোর অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল; যা পরবর্তীতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম, কার্যকর নভেম্বর থেকে

গত বুধবার যখন আরব দলগুলোর দুর্দান্ত ফলাফলের চিত্র স্পষ্ট হতে শুরু করে, তখন নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ পার্টি’ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তোলে। পরদিন বৃহস্পতিবার, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা 'শিন বেট'-এর প্রধানের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি আরব ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ কাজ করেছে কি না, তা তদন্ত করার অনুরোধ জানান।

তবে চিঠিতে সিইসি চেয়ারপারসন নোয়াম সোলবার্গ স্বীকার করেছেন যে এই সন্দেহের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারবেন না; এবং ইসরায়েলি পুলিশও জানিয়েছে যে এই দাবিগুলোর সপক্ষে তারা কোনো প্রমাণ পায়নি।

আরব দলের নেতারা বলছেন যে লিকুদ পার্টির এই আক্রমণগুলো মূলত উসকানির শামিল এবং তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাআম দলের নেতা মনসুর আব্বাস বলেন যে তিনি যেকোনো তদন্তে সহযোগিতা করবেন এবং জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন বলেন, নেতানিয়াহু পরাজিত হয়েছেন এবং তিনি ভোটারদের রায় মেনে নিতে অস্বীকার করছেন।

ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করা অনেক নীতি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের অধীনে কার্যকর করা হয়েছে, যিনি এর আগে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন এবং আরব-বিরোধী বর্ণবাদে উসকানি দেওয়ার জন্য আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার, আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ শহরের কিছু বাসিন্দা সিএনএন-কে জানিয়েছেন যে, বেন-গভিরের মতো উগ্র ডানপন্থী ইসরায়েলি দলগুলোর সমর্থক পুরুষদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে তাঁরা ভোট না দিয়েই ভোটকেন্দ্র ছেড়ে চলে গেছেন।

আরও পড়ুন: চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ল

তিবির দৃষ্টিকোণ থেকে, ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠদের তুলনায় আরব ভোটারদের এই উচ্চ উপস্থিতি প্রমাণ করে যে ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা ইসরায়েলি রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে এবং অংশ নিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমাদের ডানপন্থীরা এবং কখনো কখনো বিরোধী দলগুলোও বাধা দিচ্ছে। এটি কোনো গণতন্ত্র নয়। এটি একটি জাতিগত গণতন্ত্র। এটি কেবল ইহুদিদের জন্য গণতন্ত্র।’ এই বঞ্চনার অনুভূতি আরব সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যেও অনুরণিত হয়েছে; তাঁদের অনেকের মতেই, এই ক্ষোভই এবার তাঁদের ভোটকেন্দ্রে টেনে এনেছে।

তিরা শহরের ৬০ বছর বয়সী বাসিন্দা মুনথের মনসুর এর আগেও ভোট দিয়েছেন, তবে এবার তিনি তাঁর ভোটের কার্যকারিতার একটি বাস্তব সুযোগ দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে কখনো নির্বাচনে আগ্রহ দেখাইনি। কিন্তু বর্ণবাদের মাত্রা এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আসা পরিবর্তনগুলো মানুষকে বাইরে এসে তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করতে বাধ্য করেছে। আমরা এই দেশেরই অংশ; আমরা দেশেরই একটি অঙ্গ। তাই আমাদের অবশ্যই এই অধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’

সূত্র : সিএনএন

আরও পড়ুন: ‘বাবাকে হত্যা করতে চাইছে’ : ইমরান খানের ছেলের সতর্কবার্তা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন নির্বাচনে আগাম ভোটের রেকর্ড, ভোটদানে বৃদ্ধি বিভিন্ন সম্প্রদায়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ এম


মার্কিন নির্বাচনে আগাম ভোটের রেকর্ড, ভোটদানে বৃদ্ধি বিভিন্ন সম্প্রদায়ে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফল আগামী দুই বছরের জন্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে। তবে ভোটারদের মধ্যে অনেকেই ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি নন। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ আমেরিকান তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটাররা সশরীরে অথবা ডাকযোগে আগাম ভোট দিতে পারেন।

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন গবেষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ আগাম ভোট পড়ছে, যা পূর্ববর্তী বেশিরভাগ নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি। ডেটাবেসটির পরিচালক অধ্যাপক মাইক ম্যাকডোনাল্ড জানান, টেক্সাসে গড় পরিমাণ ভোট পড়ার তুলনায় এখন পর্যন্ত অনেক বেশি সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। হিস্পানিক সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সামগ্রিক ভোটদানের হার ২০২০ সালের তুলনায় ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। এমনকি ২০১৮ সালের ভোটদানের হারকেও সম্ভবত ছাড়িয়ে যাবে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১৯১৪ সালের রেকর্ড ভেঙেছিল। ম্যাকডোনাল্ড আরও জানান, টেক্সাসে ২০২২ সালে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার আগাম ভোট পড়েছিল, কিন্তু এবার আগাম ভোটের হার সেই সংখ্যাকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে।

যেসব রাজ্যে ভোটারদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিবন্ধন করতে হয়, সেখানকার তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে রিপাবলিকানদের আগাম ভোটের সংখ্যা ২০২২ সালের তুলনায় মোটামুটি একই রকম রয়েছে। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, যেসব ভোটার কোনো নির্দিষ্ট দলে নিবন্ধন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের মধ্যেও আগাম ভোটদানের হার বেড়েছে, তবে তারা কোন প্রার্থীদের বেছে নিয়েছেন তা এই তথ্যে দেখা যায় না।

বৃহস্পতিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগাম ভোটের ৪৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাটরা এবং ৩১.২ শতাংশ রিপাবলিকানরা দিয়েছেন। আরও ২৪.৭ শতাংশ ভোট দিয়েছেন এমন ভোটাররা, যাদের কোনো দলীয় পরিচয় ছিল না। তবে, এই পরিসংখ্যানটি কেবল সেই প্রায় অর্ধেক রাজ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যেখানে ভোটারদের দলীয় পরিচয় থাকা বাধ্যতামূলক।

তিনটি রাজ্যে ভোটারদের নিবন্ধনের সময় তাদের জাতি উল্লেখ করতে হয় - নর্থ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া এবং ফ্লোরিডা। এই রাজ্যগুলোর তথ্য থেকে দেখা যায় যে হিস্পানিক এবং কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে শ্বেতাঙ্গদের ভোটদানের হার ২০২২ সালের আগাম ভোটের পরিসংখ্যানের সমান রয়েছে। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘এটা যৌক্তিক, কারণ অশ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়গুলো প্রায়শই ডেমোক্র্যাটিক জোটের অংশ হয় এবং শ্বেতাঙ্গরা প্রায়শই রিপাবলিকান জোটের অংশ হয়।’

টেক্সাসে ভোটারদের দলীয় পরিচয় বা জাতি উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় না। তবে তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, মেক্সিকো সীমান্তবর্তী কিছু কাউন্টিতে ভোটদানের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যেগুলোর ৯০ শতাংশেরও বেশি অধিবাসী হিস্পানিক। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘আমি যখন ওই কাউন্টিগুলোর দিকে তাকাই, তখন দেখতে পাই যে, তাদের মধ্যে কয়েকটি শুধু আগাম ভোটেই ২০২২ সালের ভোটার উপস্থিতিকে ছাড়িয়ে যাবে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আগাম ভোটদানের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যার মূল কারণ ছিল কোভিড মহামারি। এই সময়ে আরও বেশি রাজ্য সশরীরে এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ চালু করে। ২০২০ সালের নির্বাচনে, যখন ভোটাররা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট এবং আইনপ্রণেতা উভয়কেই বেছে নিচ্ছিলেন, তখন মোট ভোটের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আগাম দেওয়া হয়েছিল। এই আগাম ভোটগুলোর অর্ধেক আবার ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ভোটাররা ক্রমশ সশরীরে ভোট দিতেই বেশি পছন্দ করছেন, এমনকি আগাম ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভুলের কারণে ডাকযোগে দেওয়া ভোট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে এবং কিছু ভোটার মার্কিন ডাক পরিষেবায় হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারেন।

কিছু কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই রেকর্ড ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার মিনিয়াপোলিস শহর জানিয়েছে যে, তারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগাম ভোটের রেকর্ড স্থাপন করেছে।

৩ নভেম্বর নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য ভেদে ৩০ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বরের মধ্যে আগাম ভোট দেয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে।

সূত্র : বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে দুই মাসে ১ হাজার ৫৯ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ এম


কক্সবাজারে পুলিশের অভিযানে দুই মাসে ১ হাজার ৫৯ জন গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের অপরাধ জগতের লাগাম টানতে সদর মডেল থানা পুলিশ একের পর এক অভিযান পরিচালনা করছে। এর ধারাবাহিকতায় গত দুই মাসে ১ হাজার ৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে চোর, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও মাদকসেবী রয়েছে। একই সময়ে ১৯৬ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকেও আটক করা হয়েছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৫৯ দিনের মধ্যে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৩৬০ জন চোর ও ছিনতাইকারী এবং ৮৬ জন মাদক কারবারি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ৩৪০ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পেনাল কোডের ২৯০ ধারায় ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ১৮৪ জন এবং নিয়মিত মামলায় ৩৭ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, "পুলিশ জনগণের বন্ধু এ ধারণা বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।" কক্সবাজার সদর থানাকে দালালমুক্ত রাখা হয়েছে। মামলা, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ যেকোনো সেবা পেতে পুলিশকে টাকা দিতে হচ্ছে না। সেবাপ্রার্থীরা সরাসরি ও নির্বিঘ্নে সেবা পাচ্ছেন।

এদিকে, স্থানীয়দের মতে, সদর থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও টহলের ফলে শহরের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বেড়েছে। বিশেষ করে হোটেল-মোটেল জোনে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখছে। পর্যটন স্পটগুলোতেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজারকে নিরাপদ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। অপরাধ দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশির লাশ আজ দেশে আসছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ এম


রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশির লাশ আজ দেশে আসছে

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের মরদেহ আজ শনিবার দেশে ফিরছে। আশা করা হচ্ছে, সকাল ৮টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে।

এ তথ্যটি গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের সূত্রে জানানো হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট ভয়াবহ আগুনের কারণে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। প্রথম দফায় গত ২৭ আগস্ট ৯ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছিল। মারাত্মকভাবে দগ্ধ হওয়ায় বাকি সাতজনের মরদেহ তাত্ক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় মরদেহগুলো প্রথমে সড়কপথে জেদ্দায় নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

নিহত সাতজনের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁ সদরের মো. শাহিন, আত্রাইয়ের মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব, মো. সাগর আলী, নাটোরের নলডাঙ্গার মোহাম্মদ শামীম এবং মো. সাব্বির হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাকসামে লরির চাপায় মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৩০ এম


লাকসামে লরির চাপায় মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত নিহত

কুমিল্লার লাকসামে লরির চাপায় মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে উপজেলার বাটিয়া ভিটা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি ইয়াছিন আরাফাত, যিনি মান্দ্রা দাখিল মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি। তিনি নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের আবুল খায়েরের পুত্র।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াছিন কুমিল্লা সদরে তার কর্মস্থলে যাওয়ার সময় বাটিয়া ভিটা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি লরি তার মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এই ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা মোটরসাইকেল নিয়ে লরিটিকে ধাওয়া করে লাকসামের চন্দনা এলাকায় আটক করেন। এ সময় লরির চালক ও হেলপারকে স্থানীয়রা আটক করে।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%