০৮:৫২ এম
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ২০০ গ্রাম সোনার গহনা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা প্রবাসীর স্বজনকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন, নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সদস্য পরিচয় দিয়ে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে এবং রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পুলিশের পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান খাগড়াছড়ির বাঘাইহাট সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন
পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক বেগ জানান, এক প্রবাসীর ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
গত ২৯ আগস্ট মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ৪৬। এজাহার থেকে জানা যায়, মামলায় বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফকে এক নম্বর, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপনকে দুই নম্বর, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্তকে তিন নম্বর এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে চার নম্বর আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মামলায় অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়া প্রবাসী।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে যুবলীগের মিছিলে পুলিশের ৪ সদস্যকে শাস্তি
গত ২৮ আগস্ট তার বোনের বিয়ে ও পরিবারের ব্যবহারের জন্য বড় ভাই মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণের গহনা পাঠান। বাদী তার বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে ওই দিন রাত ৮টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বড় ভাইয়ের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণের গহনা ও বন্ধু রোহানের কাছে থাকা আরো ১০০ গ্রাম গয়না নিয়ে ভাড়া করা হায়েস গাড়িতে ওঠেন।
এজাহারে আরো বলা হয়, রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে আসামিরা তাদের গাড়ির গতিরোধ করেন। তারা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সদস্য পরিচয় দিয়ে এবং তাদের কাছে বোমা রয়েছে বলে ভয় দেখান। এরপর তারা বাদী ও তার বন্ধুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারতে শুরু করেন।
আরও পড়ুন: নতুন উপজেলা গঠনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধ
এক পর্যায়ে আসামিরা তাদের কাছে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণের গহনা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। এ সময় একজন পথচারী তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন। অন্য এক পথচারী কৌশলে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। আরো লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে আসামিরা সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন