মোঁঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার
০৭:০৫ পি.এম
টাঙ্গাইলের সখিপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদককারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৪। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ডভ্যান ও একটি মোটরসাইকেল, নগদ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সখিপুর থানাধীন বেতুয়া তিন রাস্তার মোড়ে পাকা সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালায় এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩, টাঙ্গাইলের একটি আভিযানিক দল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ময়মনসিংহ জেলার মো. আশরাফুল আলম (৩৯), কুমিল্লা জেলার মো. রাজু ইসলাম (৩০) এবং টাঙ্গাইল জেলার হেলাল মিয়া (৪২)।
এসআরবি জানায়, একটি কাভার্ডভ্যান ও সেটিকে স্কট করে আসা একটি মোটরসাইকেল তল্লাশি করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিরা কাভার্ডভ্যানে মাদক থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাভার্ডভ্যানের ভেতরে বিশেষ কায়দায় প্লাস্টিকের বস্তায় লুকিয়ে রাখা ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের সখিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ ০৪ অক্টোবর ২০২৬,ইং রোজ রোববার ।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রাজিব হোসেন নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এদিকে, এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা শাপলা স্টিল ওয়ার্কশপের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজিব হোসেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ভূঞাপুর থেকে বালুবোঝাই ট্রাক নিয়ে টঙ্গীর উদ্দেশে যাচ্ছিলেন চালক রাজিব। রাত তিনটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গায় ট্রাক থামিয়ে টয়লেটে যাওয়ার জন্য নিচে নামেন তিনি। এসময় কয়েকজন দূর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কালিহাতী থানার ওসি কাইয়ুম সিদ্দিকী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো.ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো.আতিক উল্লাহ'র আদালতে গ্রেপ্তার দুই কিশোর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
গ্রেপ্তার দুই কিশোর হলো আশ্রাফুল ইসলাম শ্রাবন (১৬) ও আকবর হোসেন ফাহিম (১৭)। তারা সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা গ্রামের বাসিন্দা। পিবিআই জানায়, তারা একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও মব তৈরির মাধ্যমে অরাজকতা চালিয়ে আসছিল।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন রাত ১১টা থেকে ১২ জুন রাত ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলিয়া মাদ্রাসার পূর্ব পাশে এবং পরে নদোনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে ফয়েজ আহাম্মদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পূর্বশক্রতার জেরে মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে তাকে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে অভিযুক্ত কিশোরেরা ও তাদের সহযোগীরা। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তারা। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় ফয়েজকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সবুজ (২২), মনা (২৫) ও জামাল (২৬)সহ অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছে। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
পিবিআই জানায়, এক মাসের বেশি সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নথিপত্র বিশ্লেষণ ও নিবিড় তদন্তের পাশাপাশি কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার ভোর পৌনে ৩টার দিকে শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহারবহির্ভূত ও তদন্তে উঠে আসা দুই কিশোরকে আইনি হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে রোববার বিকেল ৩টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হলে দুজনই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই দুই কিশোর নিজ এলাকা ও আশপাশের এলাকার কিশোরদের নিয়ে একটি দল গড়ে তুলেছিল। দলটি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি এবং মব সৃজনের মাধ্যমে জনশান্তি বিঘ্নিত করে আসছিল। ঘটনার দিন মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ফয়েজের সঙ্গে তাদের ও সহযোগীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা ফয়েজকে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
নোয়াখালী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার চলতি অর্থবছরে অন্তত ২০টি জেলায় ‘সমন্বিত মেডিক্যাল অক্সিজেন প্রকল্প’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, বৈশ্বিক ‘ল্যানসেট কমিশন’-এর সুপারিশ অনুযায়ী ‘অক্সিজেন অ্যাকসেস স্কোরকার্ড’ অর্জনে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে (আইইবি) অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট’-এর সমাপনী ও উচ্চপর্যায়ের নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। সামিটটি যৌথভাবে আইইবির ‘সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেস’ (সিএইচআইপিএস) ও ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক’ আয়োজন করে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, কোভিড মহামারি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৩ সালের প্রস্তাবনার পর মেডিক্যাল অক্সিজেন আর কোনো সাময়িক চাহিদা নয়, বরং এটি স্বাস্থ্য নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ।
অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় অতীতে সমন্বয়হীনতা ও সরঞ্জামের অব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে, যার আওতায় ২০টি জেলায় সমন্বিত অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
তিনি ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের জন্য একটি কার্যকর ‘ন্যাশনাল অক্সিজেন রোডম্যাপ’ প্রণয়নের ওপর জোর দেন এবং দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এছাড়া, চিকিৎসা পাঠ্যক্রমে অক্সিজেন থেরাপির সঠিক ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করতে বিএমডিসি এবং নার্সিং কাউন্সিলকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
জরুরি চিকিৎসাসেবা ও অ্যাম্বুল্যান্সের মান নিয়ন্ত্রণে সরকার নতুন আইনগত কাঠামো নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় যেকোনো গাড়ির ওপর বাতি জ্বালিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স হিসেবে চালানোর প্রবণতা বন্ধ হবে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট আইন ও স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন করা হচ্ছে, যেখানে কার্যকর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে।
নীতি সংলাপে অন্যান্য বক্তারা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) মাধ্যমে দেশে একটি সাশ্রয়ী, সমতাভিত্তিক ও টেকসই মেডিক্যাল অক্সিজেন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসাসেবা চালু করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) উপাচার্যের কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার এবং ঢামেক হাসপাতালের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত ও সম্প্রসারণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবার মান ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের সহায়তা নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সাক্ষাৎকালে ঢামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. আশরাফুল আলম, সহকারী পরিচালক ডা. শায়লা ফেরদৌস আহসান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. এনামুল হক সজীব উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ