বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৩ পি.এম
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন সংঘর্ষ, অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ফুটপাত উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তিনি মিরপুর-১০ নম্বরে উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনকালে বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কর্মসূচি চলমান থাকবে। প্রশাসক দাবি করেন, উচ্ছেদ অভিযানের সময় ফুটপাত দখল করে রাখা ব্যক্তিরা এবং তাদের সহযোগিতায় সিটি করপোরেশনের পরিবহণ, সাংবাদিক ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম খান আরও জানান, স্থানীয় সাধারণ জনগণের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ তৈরি করতে ফুটপাত উদ্ধারের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে আগুন লাগার পর সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রশাসক জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে এবং ডিএনসিসির পক্ষ থেকেও মামলা করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, মিরপুরের সাধারণ মানুষ ফুটপাত দখলমুক্ত চায়—আজকের ঘটনায় সেটি প্রমাণ হয়েছে। ভবিষ্যতে কারও ইন্ধনে আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করায় স্থানীয় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ করা হচ্ছে এবং এটি সিটি করপোরেশনের নৈতিক দায়িত্ব।
উল্লেখ্য, মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানের সময় বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় একটি ভেকু ও পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাতেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় সাংবাদিকরা নির্যাতিত হয়েছেন এবং এ ঘটনায় জড়িতদের অনেকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছেন।
ডিএনসিসির প্রশাসক আরও বলেন, তিনি মিরপুরের সন্তান এবং এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। ফুটপাত দখলের মতো কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ বুধবার থেকে আপিল করার সময় শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, আপিল দায়েরের শেষ সময় ৪ অক্টোবর।
এছাড়া, ৬ অক্টোবর আপিলের নিষ্পত্তি হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৭ অক্টোবর এবং ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
আজ বুধবার, ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন সরকার বাসসকে জানিয়েছেন, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের সময় শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসিতে এই আপিলের শুনানি হবে।
মঙ্গলবার, জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বৈধ মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও মির্জা ফয়সল আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলওয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২০৩ জন। তবে সম্প্রতি নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের আশুলিয়ায় কবিরপুর অঞ্চলে একটি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি একাধিক ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি এবং একটি চাঁদাবাজি মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া জাহিদ হাসান শিমুলিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকার আওলাদ হোসেনের পুত্র এবং শিমুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
এদিকে, ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পেয়ে শিমুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু থানায় এসে তাকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মশিউর রহমান মিন্টু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এসব বিষয়ে তদবির করার প্রশ্নই ওঠে না। আপনি খবর নেন, ওসিকে ফোন করেন, যে পুলিশ সদস্য ধরছে তাকে ফোন করেন যে আমি ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়াতে কোনো তদবির করেছি কি না?’
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, জাহিদ হাসানকে চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জিয়াউর রহমান এ বছর নিজের দুই বিঘা জমিতে শসার চাষ করেছেন। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের বিছালী গ্রামের একজন কৃষক। স্থানীয় দোকান থেকে কীটনাশক কিনে তা শসাক্ষেতে প্রয়োগ করছেন তিনি। কিন্তু এতে কোনো ফল মেলেনি। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ফলনও কমেছে।
জিয়াউরের ভাষ্য, “আগে যেসব ওষুধ ছিল, তা জমিতে দিলে কাজ হতো। কিন্তু এখন যেসব ওষুধ বাইর হইছে, তাতে কাজ হচ্ছে না।” বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ধরেন, শসায় এখন যে ওষুধ দিচ্ছি, তা আগে দিলে পোকামাকড় আসত না, কিন্তু এখন সেই একই ওষুধে কোনো কাজ হচ্ছে না। তিন দিন পরই পোকামাকড় ফিরে আসতেছে।”
তিনি আরো বলেন, “আগে যে ফলন ছিল এহন সে ফলন নেই। আগে দুই বিঘা জমিতে থেকে ১৫ থেকে ১৬ মণ শসা ছিঁড়িছি। এহন দুই মণই ছিঁড়তি পারিনে। এই ফলন কমে যাওয়ার মূল কারণ ওষুধ।”
সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের আগদিয়া গ্রামের কৃষক ইমন খন্দকার ক্ষেতের চারায় কীটপতঙ্গের আক্রমণ দেখলেই স্থানীয় আগদিয়া বাজারে কীটনাশকের দোকানে ছুটে যান। সবজির সমস্যা, পোকামাকড়ের আক্রমণ সম্পর্কে তিনি দোকানদারকে প্রাথমিক ধারণা দেন।
তার কথা অনুযায়ী কী কীটনাশক ব্যবহার করবেন, কতটুকু দেবেন, কতবার দেবেন, সব পরামর্শ দেন ওই কীটনাশক ব্যবসায়ী। ইমন খন্দকার জানান, “এসব বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ওষুধ প্রয়োগ সম্পর্কে তেমন কোনো পরামর্শ পাই না। এ কারণে সমস্যা সমাধানে স্থানীয় দোকানিদের পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ করি।”
জিয়াউর রহমান ও ইমন খন্দকারের মতো নড়াইলের অনেক কৃষকই ফসলে রোগ বা পোকার ধরন না জেনেই কীটনাশক ব্যবহার করছেন। জমিতে পোকা দেখা দিলেই তারা স্থানীয় কীটনাশকের দোকানে ছুটছেন। দোকানদারকে সমস্যার কথা বলে তার পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিনছেন। কোন কীটনাশক কতটুকু দিতে হবে, কতবার প্রয়োগ করতে হবে কিংবা ওই ওষুধ আদৌ ওই পোকার জন্য কার্যকর কি না—এসব না জেনে তা ব্যবহার করছেন অনেকে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নড়াইল জেলা শহরের রূপগঞ্জ এলাকার নড়াইল বীজ ভাণ্ডার নামের কীটনাশকের দোকানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ক্রেতাদের ভিড়। কেউ কিনছেন বীজ, কেউ কিনছেন কীটনাশক। কৃষকরা তাদের ক্ষেতে রোগবালাই ও কীট-পতঙ্গের আক্রমণ সম্পর্কে দোকানদারকে জানাচ্ছেন। দোকানদার সে অনুযায়ী কীটনাশক দিচ্ছেন। তবে দোকানটিতে চেয়ার পেতে বসে থাকতে দেখা যায় কীটনাশক কম্পানির দুই প্রতিনিধি।
কীটনাশক বিক্রি ও এর ব্যবহারবিধি সম্পর্কে কৃষি অফিস তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন দাবি করে নড়াইল বীজ ভাণ্ডারের মালিক ছোটন মোল্যা বলেন, “কীটনাশক বিক্রি সম্পর্কে আমাদের ধারণা রয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বছরে দুই-তিনটা প্রশিক্ষণ দেন আমাদের। দোকানে এসেও আমাদের ধারণা দেন তারা। কীটনাশক বিক্রির সঙ্গে আমরা অনেক বছর ধরে জড়িত। কীটনাশক কম্পানির প্রতিনিধিরা থাকেন, তাদের পরামর্শ মতো দিয়ে থাকি। অনেক ক্ষেত্রে চাষিরা আমাদের কাছ থেকে চেয়ে নেন।”
বিছালী ইউনিয়নের আরেক কীটনাশক ব্যবসায়ী বলেন, “কীটনাশক কম্পানির লোকজন আমাদের কাছে ওষুধ দিয়ে যান। চাষিরা চাইলে আমরা তাদের কাছে বিক্রি করি। কম্পানির লোকজন আমাদের কাছে যেভাবে বিক্রি করতে বলেন, সেভাবে বিক্রি করি।”
কিন্তু কৃষকদের কাছে কীটনাশক পৌঁছানো ও ব্যবহারের বিষয়ে কম্পানির নিজস্ব ব্যবস্থাপনার কথা জানিয়ে লারসেল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. মিশন হোসেন বলেন, “আমাদের কীটনাশক কৃষকের হাতে পৌঁছায় পাইকারি সরবরাহকারীর মাধ্যমে। এ ছাড়া আমাদের প্রতিনিধি রয়েছে, তারা কৃষকদের ব্যবস্থাপত্র দেন। আমরা কৃষকদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করে কীটনাশক সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।”
নিজেদের কীটনাশক শতভাগ ভালোমানের দাবি করে ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আমাদের কীটনাশকের তালিকা কৃষি অফিসে দিয়ে থাকি। তারা যাচাই-বাছাই করে মানসম্মত হলেই আমাদের ওষুধগুলো কৃষকদের ব্যবহারের জন্য বলে থাকেন। কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট কীটনাশক পাইকারি ব্যবসায়ী রয়েছেন ৩৯ জন, খুচরা ডিলার রয়েছে ৪৩২ জন। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় পাইকারি ব্যবসায়ী রয়েছেন ২৭ জন, খুচরা ১৯৫ জন; লোহাগড়ায় পাইকারি তিনজন, খুচরা ডিলার ১০০ জন এবং কালিয়া উপজেলায় পাইকারি ৯ জন এবং খুচরা ডিলার রয়েছেন ১৩৭ জন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) সৌতম কুমার শীল বলেন, “ফসল উৎপাদনে অনেক আগে থেকে আমরা কীটনাশক ব্যবহার করে থাকি। নড়াইলে কীটনাশকের যে মার্কেটটা রয়েছে, সেখানে ১৫০ থেকে ২০০টি কম্পানি তাদের পণ্য বাজারজাত করছে। আমরা নড়াইলের প্রত্যেক উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রতিবছর ভেজাল কীটনাশকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ অভিযান পরিচালনা করি; কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করে প্রধান কার্যালয়ে মাধ্যমে পরীক্ষার ব্যবস্থা করি।”
তিনি বলেন, “কোনো নমুনা ভেজাল এলে সংশ্লিষ্ট কম্পানিসহ যারা বাজারজাত করেন, তাদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের একটা চলমান প্রক্রিয়া। ভেজাল কীটনাশকের বিষয়ে কৃষকদের ভেতর থেকে তেমন কোনো অভিযোগ আসে না।”
উপপরিচালক আরো বলেন, কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকের ভুল হলো, মাঠপর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যেসব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের কাছ থেকে তারা (কৃষক) পরামর্শ নেন না। তারা বেশির ভাগই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কম্পানির মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধির পরামর্শ নেন। তাদের মুখরোচক কথা, প্রলোভনে পড়ে তাদের কথামতো কীটনাশক ব্যবহার করেন। ফলে পোকার বিরুদ্ধে তা কার্যকর হয় না। তবে এ ব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ রাজধানী থেকে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. অনিরুজ্জামান অনিককে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টা ২০ মিনিটে ভাটারা থানার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া অনিক পিরোজপুর পৌরসভার খামকাটা এলাকার বাসিন্দা মো. আকতারুজ্জামান ফুলু ও শিরিন আক্তারের ছেলে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভাটারা থানাধীন কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে মিছিল করে কুড়িল বিশ্বরোডের দিকে আসছেন।
পুলিশের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। খবর পেয়ে দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ কুড়িল সাহারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে গেলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এর আগে দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন সেখানে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাটারা থানা এলাকার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে অনিককে একাধিকবার উসকানিমূলক কথাবার্তা বলতে দেখা গেছে।
আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, আসামির সঠিক নাম-ঠিকানা যাচাই এবং ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে অনিককে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
ভাটারা থানার এসআই আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, ‘গ্রেপ্তার অনিরুজ্জামান অনিকের পিসিপিআর (পুলিশ ক্রিমিনাল পেট্রোল রেকর্ড) যাচাই করে তার বিরুদ্ধে মোট ৯টি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ