বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৭ পি.এম
জিয়াউর রহমান এ বছর নিজের দুই বিঘা জমিতে শসার চাষ করেছেন। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের বিছালী গ্রামের একজন কৃষক। স্থানীয় দোকান থেকে কীটনাশক কিনে তা শসাক্ষেতে প্রয়োগ করছেন তিনি। কিন্তু এতে কোনো ফল মেলেনি। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ফলনও কমেছে।
জিয়াউরের ভাষ্য, “আগে যেসব ওষুধ ছিল, তা জমিতে দিলে কাজ হতো। কিন্তু এখন যেসব ওষুধ বাইর হইছে, তাতে কাজ হচ্ছে না।” বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ধরেন, শসায় এখন যে ওষুধ দিচ্ছি, তা আগে দিলে পোকামাকড় আসত না, কিন্তু এখন সেই একই ওষুধে কোনো কাজ হচ্ছে না। তিন দিন পরই পোকামাকড় ফিরে আসতেছে।”
তিনি আরো বলেন, “আগে যে ফলন ছিল এহন সে ফলন নেই। আগে দুই বিঘা জমিতে থেকে ১৫ থেকে ১৬ মণ শসা ছিঁড়িছি। এহন দুই মণই ছিঁড়তি পারিনে। এই ফলন কমে যাওয়ার মূল কারণ ওষুধ।”
সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের আগদিয়া গ্রামের কৃষক ইমন খন্দকার ক্ষেতের চারায় কীটপতঙ্গের আক্রমণ দেখলেই স্থানীয় আগদিয়া বাজারে কীটনাশকের দোকানে ছুটে যান। সবজির সমস্যা, পোকামাকড়ের আক্রমণ সম্পর্কে তিনি দোকানদারকে প্রাথমিক ধারণা দেন।
তার কথা অনুযায়ী কী কীটনাশক ব্যবহার করবেন, কতটুকু দেবেন, কতবার দেবেন, সব পরামর্শ দেন ওই কীটনাশক ব্যবসায়ী। ইমন খন্দকার জানান, “এসব বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ওষুধ প্রয়োগ সম্পর্কে তেমন কোনো পরামর্শ পাই না। এ কারণে সমস্যা সমাধানে স্থানীয় দোকানিদের পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ করি।”
জিয়াউর রহমান ও ইমন খন্দকারের মতো নড়াইলের অনেক কৃষকই ফসলে রোগ বা পোকার ধরন না জেনেই কীটনাশক ব্যবহার করছেন। জমিতে পোকা দেখা দিলেই তারা স্থানীয় কীটনাশকের দোকানে ছুটছেন। দোকানদারকে সমস্যার কথা বলে তার পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিনছেন। কোন কীটনাশক কতটুকু দিতে হবে, কতবার প্রয়োগ করতে হবে কিংবা ওই ওষুধ আদৌ ওই পোকার জন্য কার্যকর কি না—এসব না জেনে তা ব্যবহার করছেন অনেকে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নড়াইল জেলা শহরের রূপগঞ্জ এলাকার নড়াইল বীজ ভাণ্ডার নামের কীটনাশকের দোকানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ক্রেতাদের ভিড়। কেউ কিনছেন বীজ, কেউ কিনছেন কীটনাশক। কৃষকরা তাদের ক্ষেতে রোগবালাই ও কীট-পতঙ্গের আক্রমণ সম্পর্কে দোকানদারকে জানাচ্ছেন। দোকানদার সে অনুযায়ী কীটনাশক দিচ্ছেন। তবে দোকানটিতে চেয়ার পেতে বসে থাকতে দেখা যায় কীটনাশক কম্পানির দুই প্রতিনিধি।
কীটনাশক বিক্রি ও এর ব্যবহারবিধি সম্পর্কে কৃষি অফিস তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন দাবি করে নড়াইল বীজ ভাণ্ডারের মালিক ছোটন মোল্যা বলেন, “কীটনাশক বিক্রি সম্পর্কে আমাদের ধারণা রয়েছে। কৃষি অফিস থেকে বছরে দুই-তিনটা প্রশিক্ষণ দেন আমাদের। দোকানে এসেও আমাদের ধারণা দেন তারা। কীটনাশক বিক্রির সঙ্গে আমরা অনেক বছর ধরে জড়িত। কীটনাশক কম্পানির প্রতিনিধিরা থাকেন, তাদের পরামর্শ মতো দিয়ে থাকি। অনেক ক্ষেত্রে চাষিরা আমাদের কাছ থেকে চেয়ে নেন।”
বিছালী ইউনিয়নের আরেক কীটনাশক ব্যবসায়ী বলেন, “কীটনাশক কম্পানির লোকজন আমাদের কাছে ওষুধ দিয়ে যান। চাষিরা চাইলে আমরা তাদের কাছে বিক্রি করি। কম্পানির লোকজন আমাদের কাছে যেভাবে বিক্রি করতে বলেন, সেভাবে বিক্রি করি।”
কিন্তু কৃষকদের কাছে কীটনাশক পৌঁছানো ও ব্যবহারের বিষয়ে কম্পানির নিজস্ব ব্যবস্থাপনার কথা জানিয়ে লারসেল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. মিশন হোসেন বলেন, “আমাদের কীটনাশক কৃষকের হাতে পৌঁছায় পাইকারি সরবরাহকারীর মাধ্যমে। এ ছাড়া আমাদের প্রতিনিধি রয়েছে, তারা কৃষকদের ব্যবস্থাপত্র দেন। আমরা কৃষকদের নিয়ে সভা-সমাবেশ করে কীটনাশক সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।”
নিজেদের কীটনাশক শতভাগ ভালোমানের দাবি করে ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আমাদের কীটনাশকের তালিকা কৃষি অফিসে দিয়ে থাকি। তারা যাচাই-বাছাই করে মানসম্মত হলেই আমাদের ওষুধগুলো কৃষকদের ব্যবহারের জন্য বলে থাকেন। কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট কীটনাশক পাইকারি ব্যবসায়ী রয়েছেন ৩৯ জন, খুচরা ডিলার রয়েছে ৪৩২ জন। এর মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলায় পাইকারি ব্যবসায়ী রয়েছেন ২৭ জন, খুচরা ১৯৫ জন; লোহাগড়ায় পাইকারি তিনজন, খুচরা ডিলার ১০০ জন এবং কালিয়া উপজেলায় পাইকারি ৯ জন এবং খুচরা ডিলার রয়েছেন ১৩৭ জন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) সৌতম কুমার শীল বলেন, “ফসল উৎপাদনে অনেক আগে থেকে আমরা কীটনাশক ব্যবহার করে থাকি। নড়াইলে কীটনাশকের যে মার্কেটটা রয়েছে, সেখানে ১৫০ থেকে ২০০টি কম্পানি তাদের পণ্য বাজারজাত করছে। আমরা নড়াইলের প্রত্যেক উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রতিবছর ভেজাল কীটনাশকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ অভিযান পরিচালনা করি; কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করে প্রধান কার্যালয়ে মাধ্যমে পরীক্ষার ব্যবস্থা করি।”
তিনি বলেন, “কোনো নমুনা ভেজাল এলে সংশ্লিষ্ট কম্পানিসহ যারা বাজারজাত করেন, তাদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের একটা চলমান প্রক্রিয়া। ভেজাল কীটনাশকের বিষয়ে কৃষকদের ভেতর থেকে তেমন কোনো অভিযোগ আসে না।”
উপপরিচালক আরো বলেন, কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকের ভুল হলো, মাঠপর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যেসব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের কাছ থেকে তারা (কৃষক) পরামর্শ নেন না। তারা বেশির ভাগই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কম্পানির মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধির পরামর্শ নেন। তাদের মুখরোচক কথা, প্রলোভনে পড়ে তাদের কথামতো কীটনাশক ব্যবহার করেন। ফলে পোকার বিরুদ্ধে তা কার্যকর হয় না। তবে এ ব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ রাজধানী থেকে পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. অনিরুজ্জামান অনিককে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টা ২০ মিনিটে ভাটারা থানার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া অনিক পিরোজপুর পৌরসভার খামকাটা এলাকার বাসিন্দা মো. আকতারুজ্জামান ফুলু ও শিরিন আক্তারের ছেলে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে ভাটারা থানাধীন কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে মিছিল করে কুড়িল বিশ্বরোডের দিকে আসছেন।
পুলিশের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। খবর পেয়ে দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ কুড়িল সাহারা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে গেলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এর আগে দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে কয়েকজন সেখানে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাটারা থানা এলাকার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে অনিককে একাধিকবার উসকানিমূলক কথাবার্তা বলতে দেখা গেছে।
আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, আসামির সঠিক নাম-ঠিকানা যাচাই এবং ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে অনিককে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
ভাটারা থানার এসআই আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, ‘গ্রেপ্তার অনিরুজ্জামান অনিকের পিসিপিআর (পুলিশ ক্রিমিনাল পেট্রোল রেকর্ড) যাচাই করে তার বিরুদ্ধে মোট ৯টি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালী সরকারি কলেজে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কলেজের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর।
কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সবুজ কুমার রবির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আক্তার, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবীর, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দীন মোহাম্মদ এবং কাউখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বাবু।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহিন।
কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাকিব তালুকদার ও সিনিয়র সহ-সভাপতি সোলায়মান কাজী যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের চর্চাও করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত উপজেলা হালুয়াঘাটের খন্দকপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. রফিক মিয়া (৫৫) উচ্চ রক্তচাপের রোগী। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) কর্নারের নিয়মিত ফলো আপে আসেন এবং প্রাপ্যতা সাপেক্ষে এক মাস করে ঔষধ নিয়ে যান। তিনি উল্লেখ করেন, "আগে এমন কোনো সেবা পাইনি আমরা, রক্তচাপ পরিমাপের নির্দিষ্ট কোনো কক্ষ বরাদ্দ ছিল না। কিন্তু এখন নিয়মিত এনসিডি কর্নারে এসে রক্তচাপ মাপাতে পারেন এবং ডাক্তার ও নার্সের পরামর্শে ঔষধ সেবন করেন।"
বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। মানুষের আয়ু বাড়ছে, জীবনযাত্রা ক্রমেই কম কায়িক পরিশ্রম নির্ভর হচ্ছে, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসছে এবং দ্রুত নগরায়ণ ঘটছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামনে আসছে আরেকটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি, যেটি অসংক্রামক রোগ বা নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি)। দেশের জনসংখ্যার মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে। এর মধ্যে শতকরা ৩৪ ভাগই হৃদরোগ ও স্ট্রোক জনিত কারণে ঘটে। এই বাস্তবতায় উপজেলা পর্যায়ে এনসিডি সেবা জোরদার করার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
২০১৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউণ্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভ’ পরিচালিত হয়ে আসছে। এর আওতায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাঠামোবদ্ধ সেবা জোরদারের কাজ চলছে। রোগীদের নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা, চিকিৎসা অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ, জীবনাচারণ পরিবর্তন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফলোআপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে হৃদরোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পরিবর্তে হৃদরোগ ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আগেই তা শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
উপজেলা পর্যায়ে এনসিডি কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ঔষধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। উচ্চ রক্তচাপের একজন রোগীকে দীর্ঘ সময়, অনেক ক্ষেত্রে সারা জীবন, নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় থাকতে হয়। ফলে প্রয়োজনীয় ঔষধের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি তৈরি হলে রোগীর চিকিৎসা ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এনসিডি কর্নারে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, রোগীকে শুধু শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; তাকে প্রয়োজনীয় ঔষধ, পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং নিয়মিত ফলোআপের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
এনসিডি সেবার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত জনবল। এনসিডি কর্নারগুলোকে 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' সেন্টারে রূপান্তরের কথা বলা হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ জনবল না থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় এনসিডি কর্নারে রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত মানের নিয়মিত ফলোআপ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জাকির হোসাইন জানান, উপজেলা পর্যায়ে এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হওয়ায় রোগীরা তাদের নিজ এলাকার কাছাকাছি নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন। তবে এনসিডি কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে কিছু বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সর্বশেষ ২০২৫ সালের শেষের দিকে ন্যাশনাল প্রোটোকল অনুসারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পাঁচ ধরণের সরকারি ঔষধ বরাদ্দ পেয়েছে যেগুলো প্রায় শেষের দিকে। এনসিডি কর্নারে পর্যাপ্ত ঔষধ না থাকলে এনসিডি কর্নারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ময়মনসিংহ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. ফখরুল হাসান চৌধুরী জানান, ময়মনসিংহ জেলার আওতায় এখন প্রায় ৩৪ হাজার উচ্চ রক্তচাপের রোগী এনসিডি কর্নারের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। এই কার্যক্রমকে সামনে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন মেডিসিন সরবরাহ থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন। এছাড়াও ঔষধের পাশাপাশি রোগীদেরকে স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রদানের ব্যাপারে জোরদান করেন তিনি।
ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা জানান, এখন অপারেশনাল প্ল্যান না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের এমএসআর ফাণ্ড ব্যবহার করে ওষুধ ক্রয়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এমএসআর ফাণ্ডের মাধ্যমে ইনডোরসহ অন্যান্য অনেক কিছু ক্রয় করার কারণে প্রোটোকল অনুসারে পর্যাপ্ত ঔষধ ক্রয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা। তাই এনসিডি ঔষধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে ময়মনসিংহ জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ভীষণভাবে উপকৃত হবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বিশ্ব হার্ট দিবসে যখন সারা বিশ্ব হৃদস্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছে, তখন বাংলাদেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর এনসিডি কর্নারগুলো সেই বার্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের সব বন্দরকে রাজনৈতিক বলয়মুক্ত করে সুস্থ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি উল্লেখ করেছেন, বন্দর পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ থাকবে না। প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পূর্বনির্ধারিত কোনো কর্মসূচি বা প্রটোকল ছাড়াই হঠাৎ বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বন্দরের বিভিন্ন শেড পরিদর্শন করেন এবং বন্দরের কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থলবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বন্দরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্তৃত্ব রয়েছে। এর ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অনেক সময় স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন না। সরকার এ পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়। বন্দরগুলো প্রকৃত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে পরিচালিত হবে। এখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বন্দর কোনো রাজনৈতিক বলয়ের জায়গা নয়। দেশের অর্থনীতির জন্য বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে হলে বন্দরে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
বেনাপোল বন্দরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ বন্দরের গুরুত্ব অনেক। তাই বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’
মো. রাজিব আহসান বলেন, ‘শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না; বন্দরের সেবার মান, পণ্য খালাসের গতি, ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পান, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। বন্দরের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, ‘ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তাদের সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো অনিয়ম, প্রভাব বা স্বার্থের কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেনাপোল বন্দরের উন্নয়নের সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি বড় অংশ জড়িত। তাই এ বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বন্দরের উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী বন্দরের বিভিন্ন শেড ঘুরে দেখেন এবং সেখানে পণ্য সংরক্ষণ ও খালাস কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বন্দরের বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। একই সঙ্গে বন্দরকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
এ সময় বাংলাদেশ স্থলবন্দর চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মাসুম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ