বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৯ পি.এম
যশোরের বড় বাজারে ভারতীয় ইলিশ মাছকে দেশীয় বলে উচ্চমূল্যে বিক্রি করার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক এক আড়তদারকে জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়বাজারের মাছ বাজারে অভিযান পরিচালনা করে কর্ণফুলী ফিস নামক ওই আড়তকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এই অভিযানটি যশোরের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় আড়তদার ভারতীয় ইলিশের নির্ধারিত মূল্য এবং ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এ সময় মাছ বাজারের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি দোকান মনিটরিং করা হয়। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা ভারতীয় ইলিশ বিক্রি করবেন নির্ধারিত মূল্যে এবং আমদানি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করবেন।
অভিযানকালে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ১৯টি আমদানিকারকের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এই আমদানিকৃত ইলিশ দেশের বাজারে ‘বরিশালের ইলিশ’ নামে বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতারা চড়া দামে তা কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি ‘ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করার’ অনুরোধ করবেন।
এই বামপন্থী নেতা মঙ্গলবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বার্ষিক বিশ্বনেতাদের সম্মেলনে ভাষণ দেবেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রাজিলের নির্বাচনে লুলার প্রতিদ্বন্দ্বী ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন রয়েছে।
ব্রাসিলিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ব্রাসিলিয়ার শ্রমজীবী অধ্যুষিত সিলান্দিয়ায় এক নির্বাচনী প্রচারে লুলা বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের বৈঠকে যাচ্ছি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে এবং তাকে বলতে—ব্রাজিলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবেন না।’
ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কার্লোস বিকালহো কোজেনদেই বুধবার জানান, লুলা ও ট্রাম্পের মধ্যে ‘নির্দিষ্ট কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের’ পরিকল্পনা নেই। তবে গত বছরের মতো এবারও তারা ‘অধিবেশনে সম্ভবত মুখোমুখি হবেন।’
জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের পণ্যের ওপর নতুন করে দুই দফা শুল্ক আরোপ করে। লুলা এটিকে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রাজিলের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে নিন্দা করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনা শুরু হয় ২০২৫ সালে। ওই সময় ওয়াশিংটন ব্রাজিলের ওপর প্রথম দফা শুল্ক আরোপ করে। সাবেক উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট এবং ট্রাম্পের মিত্র জইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফ্লাভিও বলসোনারো জইর বলসোনারোর ছেলে। অভ্যুত্থানের চেষ্টা করার দায়ে জইর বলসোনারোকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের প্যারিসে ২০১৬ সালে বন্দুকধারীদের দ্বারা ডাকাতির শিকার হন আমেরিকার বিখ্যাত তারকা কিম কার্দাশিয়ান। প্যারিসের একটি আদালত সেই মামলার রায়ে তাকে প্রতীকীভাবে মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে।
এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিম নিজে যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন, আদালত তাকে ঠিক ততটুকুই প্রদান করেছে।
গত বছর আদালত এই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। সেসময় কিম এই ঘটনার অভিজ্ঞতাকে জীবনের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। রায় ঘোষণার পর কিম কার্দাশিয়ান এবং ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা স্টাইলিস্ট সিমোন হারুচে ফরাসি বিচারব্যবস্থার প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারা যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই ঘটনার ট্রমা আজও আমাদের মনে রয়ে গেছে। আজকের এই রায় টাকার অঙ্কের জন্য নয়, বরং এটি অপরাধের স্বীকৃতি এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়। আদালত এবং যারা আমাদের পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা এখন এই খারাপ সময় পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
যে হোটেলে (হোটেল ডি পুরতালেস) এই ঘটনা ঘটেছিল, সেখানকার একজন সাবেক রিসেপশনিস্টকে আদালত ১,০৯,৫১৬ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১৬ সালের ফ্যাশন উইকের সময় কিমের ৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের গয়না চুরির ঘটনায় তিনি মারাত্মকভাবে ভয় পেয়েছিলেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানা যায়। কিমের আইনজীবী এই রায়কে একটি বড় জয় হিসেবে দেখছেন।
এ ছাড়া, স্টাইলিস্ট সিমোন হারুচে তার চাওয়া অনুযায়ী ১ ইউরো এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ ৫০,০০০ ইউরো ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে।
যা ঘটেছিল সেদিন
২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে পুলিশের রূপ ধরে দুই ডাকাত কিম কার্দাশিয়ানের রুমে ঢুকে পড়ে। এরপর তাকে টেপ ও জিপ টাই দিয়ে বেঁধে তারা প্রায় ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি মূল্যের গহনা ও হীরা লুট করে নিয়ে যায়।
এই ডাকাত দল ফ্রান্সে ‘লে পাপিস ব্রাক্যুর’ বা ‘দাদাদের ডাকাতি দল’ নামে পরিচিতি পায়। কারণ, বিচারের আওতায় আসা ছয়জনের বয়সই ছিল ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। তবে আগে থেকেই হাজতবাস করায় দোষীদের কাউকেই আর নতুন করে জেলে যেতে হয়নি এবং তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণে বিনিয়োগ বা ট্রেজারি সিকিউরিটিজ ধারণের পরিমাণ কমিয়ে ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বন্ড বাজারের অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল হিসেবে বেইজিং ধারাবাহিকভাবে তাদের রিজার্ভ কমাচ্ছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের (ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চীনের ট্রেজারি সিকিউরিটিজ ধারণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে ১৮ বছরের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার পর থেকে বেইজিংয়ের হাতে মার্কিন বন্ডের পরিমাণ এত কম কখনো দেখা যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন মার্কিন ঋণে বিনিয়োগ কমানোর পেছনে বেশ কয়েকটি কৌশলগত কারণ রয়েছে:
১. বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বৈচিত্র্য: চীন তাদের রিজার্ভকে শুধুমাত্র মার্কিন ডলার বা বন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সোনা (Gold) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্পদে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
২. মার্কিন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা: মার্কিন সরকারের ক্রমবর্ধমান জাতীয় ঋণ এবং সুদের হারের ওঠানামা বৈশ্বিক বন্ড বাজারকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
৩. ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব এবং সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে চীন তাদের সম্পদ ডলার-ভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে।
একসময় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতা ছিল চীন। তবে বর্তমানে চীন ক্রমাগত বিক্রি বাড়ানোর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে জাপান এবং যুক্তরাজ্য মার্কিন বন্ডে তাদের ধারণ বৃদ্ধি করছে।
বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দূরত্বের প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক শেয়ারবাজার এবং বিদেশি মুদ্রার বিনিময়ে পড়ছে। বিশেষ করে, চীন মার্কিন ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানোর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য (Deddolarisation) আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি দমন কমিশন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে উঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ দেশ ছাড়তে পারেন বলে দুদক আশঙ্কা করছে। এ কারণে আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দুদকের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে।
আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুদকের এক কর্মকতার বরাত দিয়ে যে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই উদ্দেশ্যে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
দুদকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান চলাকালে তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যেতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদি তিনি দেশ ত্যাগ করেন, তাহলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।"
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এই অভিযোগগুলোর তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নথিপত্রের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
দুদক বিদেশে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ পেয়েছে। দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে এসব অর্থ পাচার করে বিলাসবহুল সম্পদ কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগের অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এগুলো সবই অভিযোগ আকারে রয়েছে। অভিযোগগুলো আমলে নিয়েই তারা অনুসন্ধান শুরু করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ