ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কিউবার অর্থনীতি নতুন সংকটে, ভিসা ও মাস্টারকার্ডে সব লেনদেন বন্ধ


কিউবার অর্থনীতি নতুন সংকটে, ভিসা ও মাস্টারকার্ডে সব লেনদেন বন্ধ

কিউবার সরকার ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে, ৬ জুন থেকে এই দুই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরো কোনো লেনদেন করা সম্ভব হবে না।

হাভানা জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার সঙ্গে কাজ করা একটি বিদেশি আর্থিক অংশীদার তাদের কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলস্বরূপ আগামী ৬ জুন থেকে কিউবায় ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে লেনদেন চালানোর সুযোগ নেই। বুধবার স্থানীয় সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঘোষণা দেয়। সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে একাধিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিউবার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

আরও পড়ুন: লাহোর বায়ুদূষণে শীর্ষে, ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আগে একটি বিদেশি অংশীদার প্রতিষ্ঠান কিউবার ক্রেডিট কার্ড লেনদেন প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করছিল। কিন্তু ১ মে জারি করা মার্কিন নির্বাহী আদেশের পর তারা কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কিউবার সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

কিউবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বিবৃতিতে বলেছে যে, এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কিউবা আর ভিসা ও মাস্টারকার্ডসহ আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কার্ডের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা বিক্রির আয় গ্রহণ করতে পারবে না।

বিশ্লেষকদের অনুমান, এই সিদ্ধান্ত কিউবার অর্থনীতির জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে চাপে ফেলতে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে, যার ফলস্বরূপ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটি এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন কিউবার পর্যটন খাত পূর্বেই বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

রয়টার্স জানাচ্ছে, ঐতিহাসিকভাবে কিউবার ক্রেডিট কার্ড লেনদেন একটি বিদেশি ব্যাংক এবং ফিনসিমেক্স এসএ পরিচালনা করত। এটি সামরিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী জিএইএসএর আর্থিক শাখা। ট্রাম্প প্রশাসন জিএইএসএ’র ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে জনপ্রশাসনে ন্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, জিএইএসএ দেশের সবচেয়ে লাভজনক খাতগুলি থেকে আসা মুনাফাকে গোপনে নিয়ন্ত্রিত করে এবং তা সামরিক বাহিনী ও কিউবার অভিজাত গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করে।

তবে কিউবা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দাবি করছে যে, জিএইএসএ দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলছে।

কিউবার এই দাবি সত্ত্বেও, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একের পর এক বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিউবার বাজার থেকে সরে গেছে, এর মধ্যে বিদেশি হোটেল প্রতিষ্ঠান, বিমান সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিউবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে বিনিয়োগকারীরা দুরত্ব তৈরি করছেন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও, ভিসা ও মাস্টারকার্ড তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

আরও পড়ুন: ডেমোক্র্যাটশাসিত শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের হুমকি ট্রাম্পের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাইওয়ান সফর করায় নিউজিল্যান্ডের ৪ এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪০ পি.এম


তাইওয়ান সফর করায় নিউজিল্যান্ডের ৪ এমপির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

চীন প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের চারজন সংসদ সদস্যের ওপর এক বছরের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এসব এমপিরা তাইওয়ান সফর করায় এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে বলে খবর জানায় নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেল মে মাসে তাইওয়ান সফর শেষে দেশে ফিরে আসার পর ওই চার সংসদ সদস্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হন। চীনা দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি তারা ক্ষমা চান তবে এই নিষেধাজ্ঞা কমানোর কিংবা প্রত্যাহারের জন্য বিবেচনা হতে পারে।

চীন নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে তাইওয়ানকে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাইওয়ানের সম্পৃক্ততা সীমিত করার প্রচেষ্ঠা করে আসছে তারা।

তবে, এটি নিউজিল্যান্ডের সংসদ সদস্যদের ওপর চীনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রথম ঘটনা, যারা তাইওয়ান সফর করেছেন। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স এই ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে জানিয়েছেন, তিনি এই পদক্ষেপে ‘বিস্মিত’ হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।

ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে নিউজিল্যান্ডের সংসদ সদস্যরা তাইওয়ান সফর করে আসছেন এবং এসব সফর নিউজিল্যান্ডের ওয়ান চায়না নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়।’

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ডের চীনা দূতাবাস জানানো হয়েছে, সংসদ সদস্যরা ‘চীনের গুরুতর উদ্বেগ উপেক্ষা করে’ সংসদ সদস্য হিসেবে তাইওয়ান সফরে অনড় ছিলেন বলেই তাদের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফরটি তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি এবং ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী শক্তিগুলোর’ কাছে ‘ভুল বার্তা’ পাঠিয়েছে। এটি চীনের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’ হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বিবৃতিতে।

মে মাসের ওই সফরে ক্ষমতাসীন জোটের আইনপ্রণেতা মরিন পু, ডেভিড উইলসন ও লরা ম্যাকক্লুর এবং বিরোধী লেবার পার্টির ডানকান ওয়েব অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এ বিষয়ে এটিসি পার্টির সদস্য লরা ম্যাকক্লুর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে জানিয়েছেন, এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এক ধরনের ‘বিদেশি হস্তক্ষেপ’ এবং তিনি ‘তাইওয়ান সফরের জন্য কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের সংসদ সদস্যদের বিশ্বের যেকোনো স্থানে স্বাধীনভাবে ভ্রমণের অধিকার আছে। তিনি বলেন, ‘এটাই একটি মুক্ত গণতান্ত্রিক দেশে বসবাসের অংশ।’

বিবিসি জানাচ্ছে, নিউজিল্যান্ড ১৯৭২ সালে বেইজিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং এরপর থেকে ‘ওয়ান চায়না’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। এই নীতির আওতায় চীনের অবস্থানকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয় যে, একটিই চীনা সরকার রয়েছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক শুধুমাত্র বেইজিংয়ের সঙ্গে রয়েছে, তাইপের সঙ্গে নয়।

তবে বিশ্বের অনেক দেশের মতো নিউজিল্যান্ডও তাইওয়ানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ধরনের বিনিময় কার্যক্রম বজায় রেখেছে।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিষিদ্ধ করল ফিফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৪৬ পি.এম


বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিষিদ্ধ করল ফিফা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে ফিফা স্টেডিয়ামে পানির বোতল বহনের নিয়মে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বকাপের কোনো স্টেডিয়ামে দর্শকরা পুনঃব্যবহারযোগ্য (রিইউজেবল) পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এর আগে ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধিতে বলা হয়েছিল যে, এক লিটার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার খালি ও স্বচ্ছ প্লাস্টিকের পুনঃব্যবহারযোগ্য বোতল স্টেডিয়ামে আনা যাবে। তবে, গত মঙ্গলবার (২ জুন) আচরণবিধি হালনাগাদ করে সেই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

ফিফা ইতোমধ্যে টিকিটধারীদের জানিয়ে দিয়েছে যে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল স্টেডিয়ামে নেওয়া যাবে না। নিরাপত্তার কারণে অন্যান্য ধরনের বোতলও নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দর্শকেরা নিজেদের বোতল নিয়ে এসে স্টেডিয়ামের ভেতরে থাকা পানির ফোয়ারা বা ডিসপেনসার থেকে পানি পূরণ করে ব্যবহার করতে পারবেন না।

গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে তীব্র গরমের মধ্যে স্টেডিয়ামে বোতলজাত পানির দাম ছিল ৪ থেকে ৬ ডলার। ২০২৬ বিশ্বকাপে পানির মূল্য এখনও নির্ধারণ করা হয়নি, তবে ফিফার দীর্ঘদিনের অংশীদার কোকা-কোলার ব্র্যান্ড ‘দাসানি’ স্টেডিয়ামগুলোতে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত হয়েছে: মার্কো রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:৫৫ পি.এম


ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত হয়েছে: মার্কো রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে। গত বুধবার (৩ জুন) মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শুনানিতে তিনি এই ঘোষণাটি দেন।

শুনানিতে আইনপ্রণেতারা চলমান সংঘাত এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছিলেন। রুবিও পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ‘আমরা ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানোর জন্য এর অভ্যন্তরে আর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছি না, কারণ ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখন সমাপ্ত হয়েছে।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘ভবিষ্যতে যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা আর চলমান আক্রমণাত্মক অভিযানের অংশ হিসেবে গণ্য হবে না, বরং এটি কেবল আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হবে।’

রুবিও দাবি করেছেন, ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান তার নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, এই অভিযানে মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা-শিল্প ঘাঁটির একটি বড় অংশ সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং একই সাথে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ও ড্রোনের মজুত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনতে পেরেছে।

এটি এমন সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি অঞ্চলে মার্কিন সেনা মোতায়েন এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণাটি আঞ্চলিক রাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে জমজমাট আমের হাট, দাম নিয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


রাজশাহীতে জমজমাট আমের হাট, দাম নিয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা

গাছের সবুজ পাতার আড়াল থেকে এখন ঝুড়ি বা ক্যারেটে করে পাইকারি বাজারে রসালো আম আসা শুরু করেছে। মধুমাসের চিরায়ত রূপে, গুটি আমের প্রাথমিক কেনাবেচার পরে বাজারে রাজত্ব শুরু করেছে গোপালভোগ, ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া ও লখনার মতো জনপ্রিয় সব জাত।

সুমিষ্ট ঘ্রাণ এবং স্বাদের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা আমের হাটে ছুটে আসছেন। তবে ঈদের পর ক্রেতাদের সমাগম কিছুটা কমে যাওয়ায় আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের আশানুরূপ দাম না পাওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ রয়েছে।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাটে এমন চিত্র দেখা যায়। এই হাটে প্রায় অর্ধশত আড়ত রয়েছে এবং যেখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে আমের জমজমাট বেচাকেনা।

বাগান মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি দশ বছর ধরে আমের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন। তার বাগানে ২২০টি আম গাছ রয়েছে। খরার কারণে গুটি ঝরে গেলেও নিয়মিত সেচ দেয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ আম পেয়েছেন। তবে গোপালভোগ ও ক্ষিরসাপাত আমের কিছুটা চাহিদা থাকলেও গুটি আমের চাহিদা একদমই নেই। তাই গুটি আম বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।

আরেক ব্যবসায়ী মন্টু বলেন, ‘ঈদের ছুটির কারণে হাটে ক্রেতা এবং বাইরের ব্যাপারীর সংখ্যা অনেক কম। তাই লখনা আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ৭০০ টাকায়।’

আম বাগানের মালিক শহিদুল ইসলামের কণ্ঠেও হতাশার সুর শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘আমের বাজার ভালো নয়। সারা বছর পরিচর্যা করে যে খরচ হয়েছে, তা ওঠানোই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি গাছে কীটনাশক ও সেচ বাবদ খরচ হয়েছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। দেড়শো গাছের বাগানটি তিন বছরের জন্য লিজ নিতে খরচ হয়েছে ৫ লাখ টাকা। গত দুই মৌসুমে যে আয় হয়েছে, তা বাগানের পেছনেই খরচ হয়ে গেছে। এবার কিছুটা আয়ের আশা করলেও দাম কম হওয়ায় খুব একটা লাভের মুখ দেখব না।’

বানেশ্বর বাজারের আড়তদার মনিরুল ইসলাম মানিক জানান, ‘মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ট্রাক আম কিনে আড়তে রাখি। কিন্তু এবার বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে এসেছে। চাহিদা কম থাকায় পাইকাররাও অর্ডার দিচ্ছেন কম, তাই আমের দামও কিছুটা কম।’

এদিকে, দাম সস্তা হওয়ায় খুশি হাটে আসা ক্রেতারা। হাটে আসা ক্রেতা প্রাঞ্জল ও কামরুল জানান, গত বছর আমের উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেশ চড়া ছিল। কিন্তু এ বছর দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকায় সাধারণ মানুষ আম কিনে খেতে পারছেন এবং পরিবারের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদেরও আম উপহার দেয়া সম্ভব হচ্ছে।

ক্রেতাদের তথ্যমতে, বানেশ্বর হাটে গোপালভোগ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে। আর ক্ষিরসাপাত আম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। গত মৌসুমে এসব আমের দাম মণপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা বেশি ছিল।

হাট ইজারাদার জাকির হোসেন রাসেল জানান, মৌসুম শুরু হওয়ায় প্রতি দিন এই হাটে গড়ে অর্ধকোটি টাকার আম কেনাবেচা হচ্ছে। পুরোদমে আম নামানো শুরু হলে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার লেনদেন হবে।

আমকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান গড়ে উঠেছে। এদের কেউ আম নামানোর কাজে, কেউ ক্যারেট বা ঝুড়ি সাজানোয়, আবার কেউ কুরিয়ার সার্ভিসে আম পৌঁছে দেয়ার কাজ করছেন। এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকা সচল হয় আমের বাণিজ্যকে কেন্দ্র করেই। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এসব আম চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক পাপিয়া রহমান মৌরী বলেন, ‘প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কঠোর নজরদারির কারণে শতভাগ নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত আম বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে।’

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুর রহমান শান্তন বলেন, ‘আমের পাল্প থেকে আচার, জুস, আমসত্ত্ব বা চকোলেট তৈরির কারখানা গড়ে উঠলে আমের ন্যায্যমূল্য পেতেন বাগান মালিক এবং ব্যবসায়ীরা। এছাড়া আম কিছুদিন সংরক্ষণ করে বাজারে বিক্রি করতে পারলেও ভালো দাম পাওয়া যেত। ভবিষ্যতে আমভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে এবং আম রফতানি প্রক্রিয়া সহজ করা হলে আম চাষিরা বেশি লাভবান হবেন।’

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মৌসুমে শুধু রাজশাহীতেই প্রায় হাজার কোটি টাকার আমের বাণিজ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%