০৩:১৩ পি.এম
সোমবার, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে, গিনির একটি ময়লার ভাগাড়ে ধসে পড়া স্তূপের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের সন্ধান করতে উদ্ধারকর্মীরা বিশাল খননযন্ত্র ব্যবহার করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তারা বিপজ্জনক পরিস্থিতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে আগেই সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, বিভিন্ন পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
রাজধানী কনাক্রির দার এস সালাম এলাকার ক্ষুব্ধ বাসিন্দা আবু হামজা জানান, স্থানীয়রা বিপদের বিষয়ে গিনির কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। রোববার ভোরে ধসের ফলে ৩১ জন প্রাণ হারান।
বার্তা সংস্থা এএফপি কনাক্রি থেকে এ খবর প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০
প্রবল বৃষ্টির পর রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত ময়লার ভাগাড়টি ধসে পড়ে। এতে ২০ জনের বেশি আহত হন এবং বেশ কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়।
মৃত্যু, মানুষের চিৎকার এবং স্বজন হারানোর আর্তনাদে দার এস সালামের বাসিন্দাদের জীবনে হঠাৎ করে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে।
আবদুল সুমাহ নামে এক তরুণ জানান, তার মা, দুই ভাই ও এক বোন মারা গেছেন।
আরেক তরুণ বাসিন্দা আলহাসানে কামারা জানান, গভীর রাতে তার বাড়ির ওপর ধস নামার সময় তার ছোট ভাই ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি বলেন, ‘আমি দুই ভাইয়ের সঙ্গে ঘুমাচ্ছিলাম। পেছনে অদ্ভুত শব্দ শুনতে পাই। এরপর জিনিসপত্র ধসে পড়তে দেখি।’
আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা
তিনি আরও বলেন, তাঁর দুই ছোট ভাইয়ের একজন ঘরের ভেতরেই মারা যায়। অন্যজনকে তারা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তার মা, দাদি ও বোনেরাও বেঁচে যান। কামারা বলেন, ‘ঈশ্বরই আমাদের রক্ষা করেছেন।’
সোমবার, ধসের স্থানটি নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে রাখেন। টানা বৃষ্টিতে এলাকাটি আরও কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে।
রোববার, কয়েক ডজন মানুষ, যাদের মধ্যে শিশুও ছিল, বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের ও মৃতদের খুঁজতে খননযন্ত্রের পাশে ময়লার স্তূপের ওপর মরিয়া হয়ে জড়ো হয়েছিলেন। উদ্ধারকারী দলগুলো স্ট্রেচারে করে আহত ও উদ্ধার করা ব্যক্তিদের নিয়ে আসা-যাওয়া করছিল। তাদের সঙ্গে ছিলেন উদ্বিগ্ন স্বজনেরা।
শোকার্ত কয়েক ডজন নারীকে কাঁদতে এবং একে অপরকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
হামজা যুব সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঘটনাস্থলে এএফপিকে বলেন, ‘আমরা তরুণরা এটি ঠেকাতে সবকিছু করেছি। আমরা সভা করেছি এবং কর্মকর্তাদের ডেকেছি। কিন্তু তারা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ময়লার ভাগাড়টি বন্ধ করতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ এক বছর আগে তারা আমাদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।’
বাসিন্দা আবুবাকার কামারা রোববার ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ‘রাত দুইটা বা তিনটার দিকে আমরা ধসের শব্দ শুনতে পাই। বাইরে চিৎকার শুনি। সবাই চিৎকার করছিল।’
তিনি জানান, স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়ই দ্বিতীয় দফা ধস নামে। এতে প্রথম ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে ছুটে যাওয়া এলাকার কয়েকজন তরুণও চাপা পড়েন।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
তিনি বলেন, ‘যারা সাহায্য করতে সেখানে গিয়েছিল, তারা সবাই ধসের নিচে চাপা পড়ে।’
বাসিন্দা প্লেয়ার মাসিরে জানান, প্রথম ধসের পর তাঁর স্বামী মানুষকে উদ্ধারে গিয়েছিলেন। পরে দ্বিতীয় ধসে তিনি প্রাণ হারান।
সিরে কালো এএফপিকে বলেন, তার পাঁচ সন্তান ও স্বামী প্রাণ হারিয়েছেন।
দার এস সালাম যে গবেসিয়া কমিউনের অন্তর্ভুক্ত, তার মেয়র সোমবার জানান, তাঁর এক মেয়ে ও ছোট ছেলে পাশের একটি হাসপাতালে জীবিত আছে।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
জাতীয় মানবিক জরুরি অবস্থা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার (এএনজিইউসিএইচ) মহাপরিচালক লানসেই তোরে সোমবার জানান, ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩৫৮ জন শহরের ডিক্সিন সেন্টার এলাকার একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রায় ৭২টি পরিবার এখনো সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিপজ্জনক এলাকায় বসবাসকারীদের সরে যেতে বলা হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাসস্থান, খাবার, পোশাক ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। একটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি দলও মোতায়েন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে’ এবং ‘এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে’ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সরকার ময়লার ভাগাড়ের আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং এলাকা নিরাপদ করার কার্যক্রমের কথা জানায়।
এ অঞ্চলে বর্ষাকাল বিশেষভাবে দীর্ঘ ও তীব্র।
গিনির বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেলু দালেইন দিয়ালো বর্তমানে নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি বলেন, এটি ‘এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যা আমাদের হতবাক ও গভীরভাবে বিচলিত করেছে।’
নির্বাসিত সাবেক গিনি প্রেসিডেন্ট আলফা কন্দে ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা’ রক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আজ গিনি শোকে মুহ্যমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন