ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপি কি এক সুতোয় গাঁথা! বিভাজনের অভিযোগ কেন?


জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপি কি এক সুতোয় গাঁথা! বিভাজনের অভিযোগ কেন?

২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এ আন্দোলন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শুরু হয়েছিল এবং এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কর্তৃত্ববাদী শাসন, বিরোধী মত দমন, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। দীর্ঘ আন্দোলন, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অনুঘটক হিসেবে সরকারের পতন ঘটে এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতার সৃষ্টি হয়।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতারা জানান, জুলাই আন্দোলনের রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহিতা, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এনসিপির জন্ম হয়। দলের আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেন এবং মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী একাধিক ছাত্রনেতা ও বিভিন্ন পেশাজীবীও দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

এনসিপি প্রতিষ্ঠার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। রাষ্ট্র সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং নির্বাচনকে কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার লক্ষ্য সামনে রেখে দলটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে যোগ দেয় বলেছে দলটির নেতারা। জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে এনসিপি বিভিন্ন আসনে নির্বাচন করে এবং ৬টি আসনে বিজয় অর্জন করে, যা নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে গণ্য হয়।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

এনসিপির সমর্থকদের দাবি অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির বহু সমন্বয়ক, ছাত্রনেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আন্দোলনকারী বর্তমানে এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত আছেন। তাদের মতে, জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক রূপই এনসিপি। ফলে জুলাই যোদ্ধা ও এনসিপিকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। তারা অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বার্থান্বেষী মহলের একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জুলাই আন্দোলনের কর্মী এবং এনসিপির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে আন্দোলনের রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলন ছিল একটি সর্বস্তরের গণআন্দোলন। সেখানে নানা মতাদর্শের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। তাই আন্দোলনের উত্তরাধিকারকে কোনো একক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একীভূত করে দেখার সুযোগ নেই। তাদের মতে, আন্দোলনের চেতনা জাতীয় সম্পদ এবং সেটি সব গণতান্ত্রিক শক্তির জন্য প্রযোজ্য।

বিশ্ব রাজনীতিতেও গণআন্দোলনের পর নতুন রাজনৈতিক শক্তির আত্মপ্রকাশের একাধিক দৃষ্টান্ত রয়েছে। ভারতে ২০১১ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের পর ২০১২ সালে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মনীশ সিসোদিয়া ও সঞ্জয় সিংয়ের নেতৃত্বে আম আদমি পার্টি (AAP) গঠিত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই দিল্লিতে সরকার গঠন করে। পোল্যান্ডে ১৯৮০ সালের সলিডারিটি আন্দোলন কমিউনিস্ট শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC) দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে বর্ণবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৪ সালে নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। তিউনিসিয়ার ২০১০-১১ সালের জেসমিন বিপ্লবও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি করে এবং পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের পথ প্রশস্ত করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসে গণআন্দোলনের পর আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী অংশের রাজনৈতিক দল গঠন অস্বাভাবিক নয়। তবে সেই দলকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সমালোচনা ও জনসমর্থনের পরীক্ষার মধ্য দিয়েই টিকে থাকতে হয়। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জুলাই আন্দোলন, এনসিপির ভূমিকা এবং আন্দোলনের উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী বহু ব্যক্তি বর্তমানে এনসিপির নেতৃত্ব ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তবে আন্দোলনের সকল অংশগ্রহণকারী যে এনসিপির সঙ্গে একমত বা সম্পৃক্ত, এমন দাবি সর্বজনস্বীকৃত নয়; এ বিষয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক মত ও বিশ্লেষণও বিদ্যমান।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈশ্বরদীতে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অটোভ্যানচালক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


ঈশ্বরদীতে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অটোভ্যানচালক আটক

পাবনার ঈশ্বরদীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ মাসুদ রানা মদন (৫০) নামক এক অটোভ্যানচালককে গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাতে উপজেলার বহরপুর কান্দিপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

যিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, মাসুদ রানা মদন পেশায় (৫০) বহরপুর কান্দিপাড়া গ্রামের মৃত রজব আলীর ছেলে। তিনি অটোচালক হিসেবে কাজ করেন। ভুক্তভোগী শিশুটির দূর সম্পর্কের মামা তিনি। তাদের বাড়ি পাশাপাশি অবস্থিত। এছাড়া, শিশুটি অভিযুক্তের মেয়ের কাছে প্রাইভেট পড়তো।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে চকলেটসহ নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে শিশুটি প্রাইভেট পড়তে অভিযুক্তের বাড়িতে যায়। এসময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত শিশটিকে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর সেদিন রাতেই অভিযান চালিয়ে মাসুদ রানা মদনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎ সাতক্ষীরায় সিএইচসিপি আল আমিনকে ঘিরে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১১ পি.এম


‎  সাতক্ষীরায় সিএইচসিপি আল আমিনকে ঘিরে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা ও আশপাশের অঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) আল আমিনকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে উঠে এসেছে। চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এলাকার মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আল আমিন প্রভাব খাটিয়ে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে, তবে সম্প্রতি কয়েকজন ভুক্তভোগী মুখ খোলায় অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে আল আমিন স্থানীয় প্রভাবের মাধ্যমে অসংখ্য বেকার যুবক-যুবতীকে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। চিকিৎসা খাতের নানা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রত্যেকের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শতাধিক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

লাবসা বাইপাসে আল আমিনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। মামুন নামে এক যুবককে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে চাকরি না দিলে ওই যুবকের পরিবারে চরম অশান্তি দেখা দেয়।

শোনা যাচ্ছে যে, মামুনের সঙ্গে আল আমিনের স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মামুনের আল আমিনের স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের ঘটনা ঘটলেও সেই সংসার স্থায়ী হয়নি। তালাকের পরও তাদের মধ্যে সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পাটকেলঘাটার জুজখোলা কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত আল আমিনের বিরুদ্ধে দ্রুত অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, চাকরির নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে অল্প সময়েই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে যে, আল আমিনের জমি-জমা ও স্ত্রীর নামে অন্তত দুটি বহুতল ভবন—একটি চারতলা এবং অন্যটি দুইতলা—নির্মাণ করা হয়েছে। এসব সম্পদের উৎস নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অনেক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে যে, আল আমিন কখনো জেলা পর্যায়ে সিএইচসিপি সংগঠনের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করতেন। ওই পদ ও সাংগঠনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

আল আমিনের স্ত্রীর সরকারি চাকরি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। একটি সূত্রের দাবি, তার স্ত্রী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে ওয়্যারলেস অপারেটর পদে যোগদান করেন। সরকার দলীয় তৎকালীন এক সংসদ সদস্যের ডিও লেটার ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এছাড়া, তার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কয়েকজন স্থানীয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, নিয়োগের সময় বয়সসীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নির্বাচন কমিশন থেকে দ্বিতীয় জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হয়েছিল। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুই সন্তানের মা হয়েও কীভাবে সে এত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ পেয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা উচিত।

একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও এসেছে তাদের পক্ষ থেকে।

সচেতন মহলের অভিমত, এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট আরও বড় হতে পারে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে আল আমিনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:১৮ পি.এম


জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুমামোটো প্রদেশে গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

এখনও হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। রবিবার (২ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যেম আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার কুমামোটো প্রদেশে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ৩৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আরও দুজনের মৃত্যু ভূমিকম্পের কারণে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর ২১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ অবস্থান করছেন।

এছাড়া ৩ হাজার ৪০০টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুমামোটোতে ৬৯ হাজারের বেশি পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এখনও সরবরাহের পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার চেষ্টা করছে।

এদিকে প্রচণ্ড গরমে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। শনিবার হিটস্ট্রোকের উপসর্গ নিয়ে প্রায় ৩০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কুমামোটোর কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন ও মূল্যায়ন অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এর আগে ভূমিকম্প আঘাত হানার কিছুক্ষণ পর কুমামোটোর একটি শপিং মলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সাতজন কর্মী নিহত ও পাঁচজন আহত হন। শনিবার ওই এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলকে রক্ষায় পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন জেনারেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


ইসরায়েলকে রক্ষায় পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা নেই যুক্তরাষ্ট্রের: মার্কিন জেনারেল

মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক জেনারেল সতর্ক করেছেন যে, ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ বলেছেন, যদি ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে একই সময়ে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বাহিনী ও স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

তার এই মন্তব্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং অস্ত্রের মজুত নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে— এই দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করার মতো পর্যাপ্ত নৌ-সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাও থাকতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ।

তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলতে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর ক্রমসই চাপ বাড়ছে। যেহেতু তিনি মনে করেন, এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর আরও একটি ডেস্ট্রয়ার না পাঠানো হলে, মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া হবে, নাকি ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে, সে বিষয়ে একসময় কমান্ডারদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এই সতর্কবার্তার গুরুত্ব শুধুমাত্র সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণেই নয়, বরং এটি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একজন। এ কারণে এটি বেশ গুরুদ্বপূর্ণ।

গ্রিনকেভিচ মার্কিন বাহিনীর বা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোন বিশ্লেষক নন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক দায়িত্ব তদারকির দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একজন। তার বক্তব্যে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগই প্রতিফলিত হয়েছে যে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক দায়িত্ব তাদের বিদ্যমান সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারগুলো বর্তমানে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব যুদ্ধজাহাজ দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে এবং এসএম-৩ ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র চালনা করে সেগুলো ধ্বংস করার সক্ষমতা রয়েছে।

এছাড়াও, এই ডেস্ট্রয়ারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদের মধ্যে একটি। চীনকে মোকাবিলা করতে প্রশান্ত মহাসাগরে, ন্যাটো মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইউরোপে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও নৌপথ সুরক্ষায় এগুলোর প্রয়োজন হয়।

সেই কারণে গ্রিনকেভিচের সতর্কবার্তা একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ইসরায়েলকে রক্ষা করতে পাঠানো প্রতিটি যুদ্ধজাহাজের মানে হলো, অন্য কোন সম্ভাব্য সংকটে ওই যাহাজটি আর ব্যবহার করা যাবে না।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃত পেন্টাগনের মূল্যায়নের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে, যা তাদের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক। পাশাপাশি, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকেও ১০০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

ইসরায়েল নিজস্ব অ্যারো ও ডেভিডস স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। তবে সর্বাধিক তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ইসরায়েল ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভর করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সমস্যা হচ্ছে শুধু কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা নয়। বরং আধুনিক প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এগুলো তৈরি ও সংরক্ষণ করতে কয়েক বছরেরও বেশি সময় লেগে যায়।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন মূল্যায়নে সতর্ক করা হয়েছে যে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুতের ওপর বিশাল চাপ পড়তে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%