০৭:০১ এম
মৌসুমি ফ্লু, কোভিড-১৯ বা অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণের ফলে সাধারণত জ্বর, শরীরব্যথা ও ক্লান্তি দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা হলো, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ভাইরাস শুধু শ্বাসতন্ত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি হৃদযন্ত্রে প্রদাহ তৈরি করে গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
ভারতের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রিপেন গুপ্তার মতে, ভাইরাসের কারণে মায়োকার্ডাইটিস (হৃদপেশির প্রদাহ) বা পেরিকার্ডাইটিস (হৃদযন্ত্রের বাইরের আবরণের প্রদাহ) হতে পারে। তিনি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত, বুকে তীব্র ব্যথা। বিশেষ করে শুয়ে থাকলে ব্যথা বেড়ে যায় এবং সামনের দিকে ঝুঁকলেই কিছুটা কমে—এটি হৃদযন্ত্রে প্রদাহের লক্ষণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: ৩০ সেকেন্ডের অভ্যাসে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব
দ্বিতীয়ত, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট। হাঁটা, বাথরুমে যাওয়া বা বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয় অথবা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বাসকষ্টের কারণে ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে।
তৃতীয়ত, জ্বর কমে যাওয়ার পরও যদি হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয়, বুক ধড়ফড় করে বা অনিয়মিতভাবে স্পন্দিত হয়, এটি হৃদযন্ত্রের ছন্দের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
চতুর্থত, পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতায় হঠাৎ ফোলাভাব এবং এক-দুই দিনের মধ্যে দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া। এটি শরীরে তরল জমে যাওয়ার লক্ষণ, যা দুর্বল হৃদযন্ত্রের ফল হতে পারে।
পঞ্চমত, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। ভাইরাল সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার সময় ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে আসার কথা। কিন্তু যদি হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দেয়, তবে তা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার নির্দেশক হতে পারে।
আরও পড়ুন: খালি পেটে গরম পানির সঙ্গে মধু খেলে কী উপকারিতা হয়?
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে কোভিড-১৯–এর পর হৃদপেশির প্রদাহের ঝুঁকি ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনায় বেশি। তাই ভাইরাল সংক্রমণের পর এসব লক্ষণ দেখা দিলে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত শনাক্ত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন