০১:০৬ পি.এম
ইন্দোনেশিয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে সোমবার জরুরি সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা স্কুল, পুলিশ স্টেশন এবং সরকারি দপ্তরে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন।
শনিবার ভোরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় ৫৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। উদ্ধার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনো নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি।
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উত্তর উপকূলে অবস্থিত ছোট শহর এমবে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর
ম সোমবার সকাল পর্যন্ত বাড়িঘরে ফিরতে না পারা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১২ হাজার ৮০০-এ পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) এএফপিকে জানিয়েছে, ফ্লোরেস দ্বীপের বিভিন্ন শহরে তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন।
বিএনপিবির মুখপাত্র বার্টন সুয়ার পেলিতা পানজাইতান বলেছেন, ভূমিকম্পের পর বহু বাসিন্দা টানা দ্বিতীয় রাতেও বাড়ির বাইরে কাটাচ্ছেন। তারা বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।
এএফপি ফ্লোরেসের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছের নাজেকেও রিজেন্সির ছোট শহর এমবেতে কয়েকজন বাসিন্দাকে ত্রিপল ও খুঁটি দিয়ে বানানো অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করতে দেখেছে। শহরের ৩২ বছর বয়সী বাসিন্দা জুনাইদিন এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের বাড়িগুলো আর বসবাসের উপযোগী নেই। অনেক বাড়ি ধসে পড়েছে এবং দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। ফলে আমরা আর ভেতরে ঢুকতে পারছি না।’
তিনি জানান, নিজ হাতে তৈরি ওই তাঁবুর বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, সেখানে প্রায় ৩০ জন ঘুমাচ্ছেন। ‘আমরা শুধু পানি, কাপড় ও বালিশ নিতে বাড়িতে যাই। এরপর রাতটা এখানেই কাটাই।’
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি
১৯৯২ সালে ফ্লোরেসে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্পের ভয়াবহ স্মৃতি বাসিন্দাদের মনে এখনও প্রতিভাসিত। ওই ভূমিকম্পের পর সুনামি আঘাত হানে এবং এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
‘এখানে আমরা নিজেদের মতোই আছি,’ বলেন জুনাইদিন। রাজধানী জাকার্তায় জাঁকজমকের সাথে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন চলাকালীন দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জুনাইদিন বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে এখনও কোনো সহায়তা পাইনি। তাঁবু নেই, ওষুধ নেই, খাবার নেই, পান করার পানি নেই—কিছুই নেই।’
‘আমরা কিছুই সঙ্গে নিতে পারিনি’—এই মর্মাহত বিবৃতি দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দুটি হারকিউলিস পরিবহন বিমান এবং একটি বোয়িং বিমানে করে ১৩ টন জরুরি ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারা জানিয়েছে, কুপাংয়ের এল তারি বিমানঘাঁটির কমান্ডার বলেছেন, বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে সরাসরি জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের
ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে খাদ্য, পোশাক, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত। প্রধান প্রধান কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণে সহায়তার জন্য সামরিক সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অগভীর ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ফ্লোরেসের উত্তর উপকূলের নিকটে ছিল। দুর্গত এলাকায় উঁচু ভবন খুব কম, কোথাও নেই বললেই চলে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র বার্টন জানিয়েছেন, দ্বীপটিতে অন্তত ৯১৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও কয়েকশ বাড়ি কম মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি দপ্তরের কয়েক ডজন ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এনজিও সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরে ৮ হাজারের বেশি শিশু ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি ও শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাতের’ মুখোমুখি হয়েছে।
আরও পড়ুন: শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা বুলু, দোয়া চাইলেন পরিবার
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান রয়েছে। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঞ্চলে তীব্র ভূমিকম্পের প্রবণতা রয়েছে এবং তাই ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হয়।
২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলের কাছে ৯ দশমিক ১ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে পুরো অঞ্চলে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়াতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ মারা যায়।
রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
আরও পড়ুন: টিকটক ইলন মাস্কের তথ্যচিত্রের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন