০৪:২১ পি.এম
ভারত এখন আমদানির বিকল্প উৎস খুঁজছে, কারণ ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে, কাতার যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নতুন সরবরাহ চুক্তির আওতায় আনার জন্য ভারতের অনুরোধ বিবেচনা করতে রাজি হয়েছে। মঙ্গলবার, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজির (পিএলএনজি) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের সবচেয়ে বড় গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড ২০২৮ সাল থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কেনার বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার বিবেক মিত্তাল বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক আলোচনায় এ তথ্য প্রকাশ করেন। কাতার বর্তমানে ভারতে সবচেয়ে বেশি এলএনজি সরবরাহ করে।
বর্তমানে পেট্রোনেটের কাছে বছরে ৭৫ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে এটি আরো ২০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে। নতুন চুক্তির আওতায়, কাতার ২০৪৮ সাল পর্যন্ত ভারতকে এলএনজি সরবরাহ করবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে কলকাতার হাসপাতাল ও পর্যটন ব্যবসায় ধস
কাতারের সঙ্গে নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা এলএনজি সরবরাহ করা যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিবেক মিত্তাল জানান, ২০২৮ সালে শুরু হতে যাওয়া নতুন চুক্তিতে গ্যাস সরবরাহের উৎস বাড়ানোর বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভারতের এই প্রস্তাব বিবেচনা করতে রাজি হয়েছে কাতার।
অন্য দেশ থেকে কাতারের কেনা জ্বালানির একটি নির্দিষ্ট অংশ ভারতকে দেওয়ার প্রস্তাবও দিতে পারে দেশটি। গত মাসে, যুক্তরাষ্ট্রের উডসাইডের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বছরে ৩০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কেনার জন্য ২০ বছরমেয়াদি চুক্তি করেছে কাতারএনার্জি। এই সরবরাহ ২০৩০ সাল থেকে শুরু হওয়ার কথা।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের চেনিয়ার এনার্জির সঙ্গে দুটি চুক্তি করেছে কাতারএনার্জি। এসব চুক্তির আওতায় ২০৫৪ সাল পর্যন্ত বছরে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কেনার সুযোগ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবিন পাস ও করপাস ক্রিস্টি স্থাপনা থেকে এসব গ্যাস সরবরাহ করা হবে।
ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় হামলার পর, গত মার্চে চুক্তি অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ করতে না পারার কথা জানায় কাতারএনার্জি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতি আপাতত ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে।
আরও পড়ুন: ভারত বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে। এদিকে, কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় তিনটি গ্যাসবাহী জাহাজের ভাড়া চুক্তিও স্থগিত করেছে পেট্রোনেট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন